সিরিজ শুরুর দিন ফিরুক আজ শেষ ম্যাচেও!

আপন তারিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নাগপুর (ভারত) থেকে
অনুশীলনে নির্ভার বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, ছবি: বিসিবি

অনুশীলনে নির্ভার বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, ছবি: বিসিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

ফাইনালের আগে নিজেকে কিছুটা আড়ালেই রাখলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ! এমন কী সিরিজ শেষের ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনেও নিজে না এসে পাঠালেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে। নাগপুরের বিদর্ভ স্টেডিয়ামে পা রেখেই বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন অনুশীলনে । ১০ নভেম্বর, রোববার রাতে ট্রফি জিতেই নাকি কথা বলতে চান তিনি!

সত্যিকার অর্থেই ট্রফি জয়ের বড় আজ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। জিতলেই ভারত জয়ের তৃপ্তিতে লেখা হবে নতুন আরেক ক্রিকেট ইতিহাস। তার আগে দেশ থেকেও মিলেছে স্বস্তির খবর-ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তেমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেনি। মহাবিপদ সঙ্কেত আর নেই!

ঠিক এমনই যখন দৃশ্যপট-তখন আজ সন্ধ্যায় নাগপুরে ক্রিকেট ধামাকা। নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে লড়বে ভারত ও বাংলাদেশ। রোববার অলিখিত এই ফাইনাল শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

সিরিজে এখন ১-১ সমতা। দিল্লিতে ৭ উইকেটে জয়ের পর রাজকোটে অবশ্য হতাশা সঙ্গী হয়েছে মুশফিকদের। ৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে রোহিত শর্মার ভারত। এবার সিরিজ নির্ধারণী লড়াই।

ফাইনালে অবশ্য অনেকটা মনের মতো উইকেটই পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। এই উইকেট কিছুটা স্লো। অনেকটা দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের মতো। মাঠের অতীত রেকর্ডও কিন্তু কিছুটা বোলারদের হয়ে কথা বলে। তবে এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ স্কোর ২১৯। ভারতের বিপক্ষে ২০০৯-১০ মৌসুমে নাগপুরে ব্যাটে ঝড় তুলেছিল লঙ্কানরা। আর এই মাঠে সর্বনিম্ন রান ৭৯। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৯ রানে অলআউট হয় ভারত।

সব মিলিয়ে নাগপুরের মাঠে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে ১১টি। এরমধ্যে রান গড় ১৫৫!

এই মাঠে বাংলাদেশের খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আগেও এসেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আগের দিন হাসিমুখে জানাচ্ছিলেন, 'নাগপুরে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে এসেছিলাম। এখানে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল তিনদিনে। রাজকোটের চেয়ে নাগপুরে রান কম হয়। এখানে গড় স্কোর ১৮৫ থেকে ১৫৫।'

বলা হচ্ছে মাঠে স্পিনাররাই পেতে পারেন বাড়তি সুবিধা। ম্যাচটিতে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হতে পারে মোসাদ্দেক হোসেনকে। কুঁচকিতে চোট তার। শনিবার অনুশীলনেও নামতে পারেননি। শেষ টি-টোয়েন্টিতে তার জায়গায় দেখা যেতে পারে মোহাম্মদ মিঠুনকে। আর পেসার শফিউল ইসলামের বদলে খেলতে পারেন স্পিনার তাইজুল।

এমন কী মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েও আছে শঙ্কা। গোড়ালির ইনজুরিটা সেরে না উঠলে তার বিকল্পও ভাবতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। সেক্ষেত্রে আবু হায়দার রনি সিরিজে তার প্রথম সুযোগটা পেতে পারেন! শনিবার অনুশীলনে বেশ ব্যস্ত দেখা গেছে তাকে!

একাদশটা যাই হোক শিষ্যদের নিয়ে আশার কমতি নেই রাসেল ডমিঙ্গোর-‘আপনারা সবাই জানেন, সফরে আসার আগের সপ্তাহগুলো কঠিন ছিল। এরপর ভারতে এসে দল যা করল তাতে ওদের প্রশংসা করতেই হবে। ছেলেরা দেখিয়েছে- নতুন কিছু করতে প্রস্তুত। সপ্তাহ দুয়েক আগে কেউ যদি বলতো-নাগপুরে ১-১ সমতা নিয়ে আসব, কেউ বিশ্বাসই করতো না। কিন্তু আমরা পেরেছি। সামনে নতুন আরেক সুযোগ! এই চ্যালেঞ্জেও আমরা প্রস্তুত।'

প্রস্তুত আছে ভারতও। অধিনায়ক রোহিত শর্মা সাফল্যের তুঙ্গে। অবশ্য বাংলাদেশ বরাবরই তার প্রিয় প্রতিপক্ষ! আগের ম্যাচেই ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে জিতিয়েছেন দলকে। এর আগে ২০১৮ সালের নিদহাস ট্রফিতে। যেখানে লাল-সবুজদের বিপক্ষে বাংলাদেশকে পেয়েই শুরুতে ৪২ বলে ৫৬ রান। এরপর ৬১ বলে ৮৯। এবার আরেকটু পেছনে চোখ রাখুন-২০১৬ এশিয়া কাপ। রোহিতের ব্যাট ৫৫ বলে তুলে ৮৩ রান। টাইগারদের বিপক্ষে এরইমধ্যে ১০ টি- টোয়েন্টি খেলে পাঁচটিতেই ফিফটি। স্ট্রাইক রেট ৪৫০!

রাজকোটের রোহিত যদি নাগপুরেও কৃতিত্ব দেখান তাহলে নিশ্চিত দুঃসংবাদ টাইগারদের। তবে এটাও ঠিক ২০ ওভারের ক্রিকেটে আগাম বিশ্লেষণ হাস্যকার হয়ে উঠে প্রায়ই। একটা-দুটো ওভারই পাল্টে দেয় ম্যাচের সব চালচিত্র। তিন ঘন্টার লড়াইয়ে ভারতের চেয়ে একটুও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। এখন শুধু মাঠে সেরাটা দিতে পারলেই হয়!

সিরিজ শুরুর দিনটা তাহলে ফিরছে শেষ দিনে আরেকবার?

আপনার মতামত লিখুন :