বেলাভূমিতে বাড়ছে টুরিস্টদের উৎপাত, করোনার আশঙ্কা উড়িয়ে সাগরে হুল্লোড়



জাওয়াদ হোসাইন, কক্সবাজার থেকে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত/ছবি: বার্তা২৪.কম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পর্যটকদের স্রোত এখন কক্সবাজারমুখী। করোনাকালে ঘরবন্দী মানুষের উড়ুউড়ু মন আর পাঁচমাসের অচলাবস্থার মুখে বাঁধভাঙা জোয়ার এসেছে বাংলাদেশের শীর্ষ ভ্রমণস্পট কক্সবাজারে। করোনার আশঙ্কাকে তুড়ি মেরে ছুটছে সবাই সাগরের নীল জলের দিকে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রেতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারও। ফলে পাঁচমাসের করোনাকালে কোলাহলহীন সৈকত ‘রিস্টার্ট’ নিয়েছে। কিন্তু গত একসপ্তাহের চিত্র ও দুই দিনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ বলছে, সৈকত রাজ্যের সুনসান নীরবতার সবুজ গালিচা ভেঙে দিয়েছে মাতোয়ারা পর্যটকের দল।

 ছুটছে সবাই সাগরের নীল জলের দিকে

আজ থেকে ঠিক পাঁচমাস আগে মার্চের ৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়ায়। সেই করোনাভাইরাস বিশ্ববিপর্যস্ত করে থাবা মেলেছে বাংলাদেশেও। লকডাউন ও হোমকোয়ারিন্টিনের মাধ্যমে করোনার শৃঙ্খল ভাঙা যায়নি, বরং বেড়েছে হু হু করে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৯ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ জন।

শনিবার দুপুরে পুরোদস্তুর করোনার থাবার মধ্যে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে সাগর অভিমুখে অসংখ্য ধাবমান গাড়ি। শোঁ শোঁ শব্দে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে সব গাড়ি। উফ, যেন ভাইরাসের গতিকে টেক্কা দিচ্ছে, পিলে চমকে যায়। করোনাকালে নীরবতার সাগরপাড় আবারো সরব হয়ে উঠেছে। কিন্তু কথা থেকে যায়, সবই ঘটছে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে! এদিকে প্রশাসন বলছে, আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে মনিটরিং টিম করা হবে।


৮ ও ৯ আগস্ট গত দুই দিন কক্সবাজার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সমুদ্র সৈকত খুলে দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই। এমনকি জোয়ার-ভাটার নিয়ম না মেনেও সাগরে নামছেন পর্যটক। সৈকতে পুলিশ ও লাইফগার্ডদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। আশঙ্কা রয়েছে, যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন রোববার নিজ কার্যালয়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ১৭ আগস্টের পর সীমিত আকারে সৈকত খুলে দেয়া হবে। যদিও অনেকেই ভিড় করেছেন। স্থানীয় জনগণদের ওপর আইন প্রয়োগ করতে চাইনি, আমরা মোটিভেট করতে চেয়েছি। ১৭ তারিখের পর নির্দেশনা না মানলে আমরা হোটেল-মোটেলে অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগ করবো।’ তিনি আরো বলেন, আগস্ট মাসে করোনা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ৫ লক্ষ মাস্ক বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চলবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন

প্রসঙ্গত, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা দেয় সরকার। হঠাৎ করে ছুটি পেয়ে সেসময়ে সৈকতে দল বেঁধে পর্যটক আসতে শুরু করে। যদিও পরবর্তীতে সংক্রমণ এড়াতে কয়েক ধাপে সৈকতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোসহ কক্সবাজারের সব হোটেল-মোটেল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। ফলে কিছুটা নিজস্ব ছন্দে ফিরে গিয়েছিলো এই সাগরপাড়। কিন্তু পাঁচ মাস বয়সী করোনাভাইরাসকে ভয় নেই বাঙালির। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে মহাখালী থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.নাসিমা সুলতানা যখন পড়ছেন- দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৪ জন এবং শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮৭ জন’ তখন দেশের সর্বদক্ষিণপ্রান্তে চলছে সাগরপাড়ে মহাকল্লোল!

করোনাকালে কক্সবাজারকে ঘিরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এখানকার হোটেল মালিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের। সে বিষয়টিকে বিবেচানায় রেখে বন্ধের দীর্ঘ সময় পর আগামী ১৭ আগস্ট কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ও আবাসিক হোটেল সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গত ৫ আগস্ট অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘোষণার পর থেকে খোলার নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছে। অধিকাংশ হোটেল গুলোও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তারা তাদের মতো করে পর্যটকদের হোটেল ভাড়া দিচ্ছে।

সুষমা ও সৌন্দর্যরাশি উপেক্ষা করার লোভ সামলানো কঠিন

হোটেল বে মেরিনার পরিচালক আবু নাঈম মুহাম্মদ হারুন প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসনের গাইডলাইন বা নির্দেশনা মানবো। পর্যটকদের শতভাগ নিরাপদ রাখাই আমাদের প্রধান বিবেচ্য। আমরা হোটেলকে যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করে নতুন পর্যটকদের জন্য স্বাগত জানাবো। ১৭ই আগস্টের আগে যেন কোন পর্যটক যেন না আসে সেটার জন্য প্রচার দরকার। আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে ১৭ আগস্টের আগে কোনভাবেই অতিথি গ্রহণ করছি না। কারণ ব্যবসার আগে স্বাস্থ্যের নিরাপত্তটা বেশি জরুরি।’

শনিবার গাড়ি থেকে নেমেই সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে এগিয়ে চললাম হোটেলের দিকে। তীর্থের কাকের মতন অতিথির অপেক্ষা করছে হোটেল মালিকরা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে, কিছুটা ভ্রু কুঁচকালেও, হোটেলে রুম পেতে সমস্যা হয়নি। হোটেল ছেড়ে সাগরপাড়ে ঝাউয়ের বনে পা রাখতেই নোনা বাতাসের শনশন শব্দ শুনতে পেলাম। কিন্তু কাছে যেতেই টের পেলাম, সেই শব্দে ভাগ বসালো জনতার কোলাহল। দামাল ছেলের দল মেতে উঠছে ফুটবল খেলায়। সাগরবেলা কি আবারো মুখর হয়ে উঠেছে? প্রশ্ন উঠেছে, এসময় মোহময় নির্জন সাগরবেলার শান্ত ঢেউ দেখতে আসা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত?

সৈকতে আসা একদল পর্যটক

পুরো দেশ যখন করোনায় আক্রান্ত ও মারা যাওয়া মানুষের হিসাব নিয়ে হিমশিম, সেখানে কক্সবাজারের প্রতি পর্যটকদের যেন উল্টোযাত্রা। বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নয় এমন বহু পর্যটকের দেখা মিলেছে। তেমনিই কয়েকজনকে দেখা গেলো ঢাকার সাভার থেকে আসা একদল পর্যটক। প্রতিবেদকের সাথে ভিডিও ইন্টারভিউ দেয়ার সময়ও ছয়জনকে দেখা যায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে বলছেন, ‘আসলে অনেকদিন পর পুনরায় একত্র হতে পেরেছি আমরা। মনের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন করোনা না হয়।’ ১৭ তারিখ পর্যন্ত সৈকত ব্যবহারের নির্দেশনা প্রসঙ্গে তারা বলেন, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানতেন না।

শুধু কি ঢাকা? না, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকেই মোটামুটি সাগরপাড়ে বেড়াতে আসছে মানুষ। ফের কি শুরু হলো মনুষ্য তাণ্ডব? আড়াল-আবডাল ভেঙ্গে ফের কি জাগরণের খেলা? হোটেল-মোটেলগুলোর নীরবতা ভাঙ্গার আয়োজন দেখে সেটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ নির্জন, কোলাহলমুক্ত পরিবেশে মায়াময় প্রকৃতির মাঝে সুষমা ও সৌন্দর্যরাশি উপেক্ষা করার লোভ সামলানো কঠিন। হোটেল মোটেল কি বিধিসম্মতভাবে প্রস্তুত ছোঁয়াচে ভাইরাস ঠেকাতে?

 লোকে লোকারণ্য সৈকত

শনিবারের সৈকত ছিলো লোকে লোকারণ্য। অধিকাংশের মধ্যেই ছিলো না স্বাস্থ্যবিধি মানার চিহ্ন। মারণ ভাইরাস করোনার ভয়ংকর ছোবলে বিশ্বজুড়ে মানুষ যখন ভীত সন্ত্রস্ত, তখন ত্রাহি রূপ নয়, প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যই হয়ে উঠছে পরম আরাধ্য। কতটুকু নিরাপত্তা রয়েছে বেলাভূমিতে? কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলছেন, ‘লাইফ গার্ড নিয়ে যারা কাজ করছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। যারা পর্যটক আসবেন তাঁদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা এতদূর থেকে কক্সবাজার আসছেন, তারা নিশ্চয়ই জোয়ার ভাটার হিসাব বুঝবেন, সম্ভাব্য বিপদ বুঝে নিজেরা সচেতন হবেন, আমাদেরও সহযোগিতা করবেন।’

চট্টগ্রামের চারদেয়ালে পাঁচমাসের বন্দী দশ থেকে মুক্তি পেয়ে কক্সবাজার ছুটে এসেছন কয়েকজন। কথা হলো প্রতিবেদকের সাথে। যাদের দেখে মনে হয়, শ্রাবণের ‘প্রখর তপন তাপে’ আপাত ক’দিনের গন্তব্য ঠিক করেছেন এই বেলাভূমিতে। সাথে থাকলো ঈদ উল আযহায় অবসরের ঠেক! আবার পেশাগত কাজেও কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন অনেকেই। তেমনিই দুজন সাংবাদিক ঢাকার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম এবং চট্টগ্রামের একটি অনলাইন পোর্টালের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক পার্থ প্রতীম নন্দী। দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পেশাগত কাজ করছেন তারা।

স্থানীয়রা অনেকেই বলছেন, গত পাঁচমাসে সৈকত তার নিজের নিয়মে চলেছে। সকালে গাছগাছালির ছায়া-মায়ায় শোনা গেছে পাখপাখালির কুজন, বেলাভূমিতে ফিরে এসেছে নির্ভিক শুশুক আর ডলফিন। মানুষের টহল থেমে যাওয়ায় জল ফুঁড়ে গলা উঁচিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে বহু কাছিম। কিন্তু গত এক সপ্তাহের লোকারণ্য ও জনকোলাহল ফের পুরানো কক্সবাজারকেই যেন হাজির করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) ‘ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে’ আকাশের পশ্চিমপাড় সেজে উঠেছে সূর্যাস্তের আড়ম্বরে। মায়াবী অনির্বচনীয় আলোয় নিরালা সৈকতে নেমে এসেছে নীরবতা। তাতে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা গেলো কোন কোন দম্পতিকেও! শ্রাবণের ঘরঘোর বরিষণে যেন রবিঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ আওরে একে অন্যকে বলছে- “পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি, আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থী।”

হ্যাঁ, করোনার বিস্তৃত থাবাকে উপেক্ষা করে এভাবেই বেড়ে চলছে বেলাভূমিতে উৎপাত। ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে যে প্রশ্নটি সবার আগে আসবে তা হলো- করোনাকালে বদলে যাওয়া পৃথিবীর ‘নিউ নরমাল’ লাইফে কক্সবাজার কতটুকু প্রস্তুত? ১৭ আগস্টের পর কেমন হবে সৈকতের চেহারা? একসপ্তাহ হাতে রেখে করোনাকে তুরী মেরে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে যেন সাগরকন্যা কক্সবাজার! যদিও নির্জন বালির বেলাভূমিতে বাড়ছে টুরিস্টদের উৎপাত, করোনার আশঙ্কা উড়িয়ে চলছে সাগরপাড়ে তুমুল হুল্লোড়।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;