উত্তর ভারতে সোনালি ত্রিভুজের ডাক



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
পর্যটন আকর্ষণ উত্তর ভারতের গোল্ডেন ট্রায়াংগেল, ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন আকর্ষণ উত্তর ভারতের গোল্ডেন ট্রায়াংগেল, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এলাকাগুলো ত্রিভুজের তিনটি বাহুর মতো তিনটি ঐতিহাসিক জনপদে বিস্তৃত। উত্তর ভারতের দিল্লি, আগ্রা, জয়পুর-আজমির, এই তিনটি অঞ্চল নিয়ে যে ত্রিভুজ গড়ে উঠেছে, তাকে 'গোল্ডেন ট্রায়াংগেল' বা 'সোনালি ত্রিভুজ' নামে ডাকা হয়। পর্যটনের স্বর্গরাজ্য বলা হয় এ অঞ্চলকে।

বিশাল ভারতে আগত বিদেশি পর্যটকদের সিংহভাগ আবর্তিত হন উত্তর ভারতের এই এলাকাগুলোতে। রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি অঞ্চল নিয়ে যে টুরিস্ট সার্কিট, তাতে মুঘল আমলের প্রত্নস্থাপনাই অধিক। আরও আছে মুঘল-পূর্ব প্রথম মুসলিম শাসকদের কীর্তি, রাজপুত স্থাপনা। জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বা বিশ্বঐতিহ্যের অনেকগুলো নিদর্শন রয়েছে এখানে।

বিচিত্র ভারতের বহুবিচিত্র পাহাড়, সমতল, মরুভূমি, উট, ময়ূর ইত্যাদির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জীবনাচার, বর্ণিল পোশাক, লোকগান, খাদ্য ও লোকসংস্কৃতির সমৃদ্ধ উপস্থিতি ভ্রমণের সোনালি ত্রিভুজের অন্যতম সম্পদ। জনপদ ও ভূগোলের মতোই সংস্কৃতি ও লোকজীবনের বর্ণচ্ছটার অপূর্ব বিভা ছড়িয়ে রয়েছে এখানে। বহুবর্ণা ভারতের আত্মার সন্ধান পাওয়া যায় এখানে, যে জায়গার আরেক নাম ‘আর্যাবর্ত’, মানে প্রাচীনকালে আর্য জাতি এসে যে জায়গাটুকুতে আবর্তিত হয়েছিলেন।

দিল্লি-আগ্রা-জয়পুরের এই প্রসিদ্ধ ভ্রমণ ক্ষেত্রকে ঘিরে রয়েছে ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও শহর। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, পাঞ্জাব-হরিয়ানা এবং গুজরাত ছাড়াও এই সোনালি ত্রিভুজের মরুময় জয়সলমীরের পাশে পশ্চিম দিক দিয়ে মিশেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ। বিখ্যাত থর মরুভূমির কিছুটাও পড়েছে এই ত্রিভুজে। রয়েছে মরুময়-পার্বত্য রাজস্থানের একমাত্র শৈলশহর মাউন্ট আবু। আরও উল্লেখযোগ্য দিক হলো, রাজপুত ছাড়াও এখানে বসবাস করেন মাড়োয়ারি, জৈন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধরা।

জৈন সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ও অনেক ধর্মীয় নিদর্শন রাজস্থান ও গুজরাত সীমান্তবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে আছে। বাংলায়, বিশেষত কলকাতায় যে মাড়োয়ারি সম্প্রদায় বেশ ভালো করে ব্যবসা গুছিয়ে বসেছে এবং যাদের পূর্ব-পুরুষ ছিলেন পলাশী ষড়যন্ত্রের অন্যতম হোতা জগৎশেঠ, সেই মাড়োয়ারিদের আদিবাসও এখানে। তাছাড়া ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের সময় যেসব দেশিয় রাজ্য নিয়ে সমস্যা হয়েছিলো, তার মধ্যে কাশ্মীর, হায়দারাবাদ ও জুনাগড় ছিল অন্যতম। জুনাগড় রাজ্যটিও বর্তমানের রাজস্থানের মধ্যে পড়েছে আর কিছুটা পড়েছে গুজরাতে।

ফলে কেবলমাত্র ভ্রমণ বা প্রত্নসম্পদই নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসের অগ্নিস্মৃতিময় অনেকগুলো জনপদও রয়েছে এই সোনালি ত্রিভুজে। বিশেষত সুবিশাল ভারতবর্ষের ইতিহাসের প্রধান প্রধান বাঁকগুলোও এখানেই দেখতে পাওয়া যায়। আর্য, কুশাণ, শক, হুন, গ্রিক, মুসলিম, আফগান, তুর্কি, পাঠান, মুঘল, রাজপুতরাও এসব এলাকাকে কেন্দ্র করেই ইতিহাসের নানা পর্যায়ে ভারতে শাসন বিস্তার করেছিলেন। ফলে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রত্নঅতীত এ জনপদের স্তরে স্তরে মিশে রয়েছে। ভারতের সমাজ, সংস্কৃতি, ভূগোল ও রাজনীতির এই নাভীমূলে গুঞ্জরিত হয় হারানো ইতিহাসের ধ্বনিপুঞ্জ।

বাংলাদেশ থেকে উত্তর ভারত ভ্রমণের সোনালি ত্রিভুজে যেতে তিনটি পথ আছে। ঢাকা থেকে সরাসরি দিল্লি হয়ে, নয়ত কলকাতা হয়ে কিংবা বাংলাদেশের আখাউড়া সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলা হয়ে। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের জন্য কলকাতা বা আগরতলা ছাড়া সরাসরি যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা নেই। কম সময়ে ঘুরে আসার পরিকল্পনা নেওয়ার ফলে আমরা চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় ফ্লাইট নিয়ে যাত্রা শুরু করি।

কলকাতা থেকে দিল্লি বা জয়পুর দিয়ে ভ্রমণের সূচনা করা যায়। তারপর একে একে অন্য জায়গাগুলো ঘুরে আসা সহজ। হাতে সময় থাকলে দিল্লি-আগ্রা-জয়পুর-আজমির ট্রেনে বা বাসে যাতায়াত করা যায়। নইলে কার রিজার্ভ করে স্বল্প সময়ে ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রায় ৭০০ মাইল দীর্ঘ সোনালি ত্রিভুজকে ট্রেনে সংযুক্ত করেছে অত্যাধুনিক শতাব্দী এক্সপ্রেস। তাছাড়া ভারতের সবচেয়ে বিলাসবহুল ও দামি কয়েকটি টুরিস্ট ট্রেন চলে এই তিন জায়গাকে ঘিরে। এসব ট্রেনে পাঁচ তারকা হোটেলের মতো থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত রয়েছে। সাত দিনে ট্রেনে করেই দিল্লি, আগ্রা, জয়পুর, আজমির, যোধপুর, উদয়পুর, জয়সালমীর, পুষ্কর ইত্যাদি ভ্রমণের জন্য খরচ হয় প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি। ট্রেনগুলোর নামও চমৎকার এবং রাজসিক: ‘লাক্সারি অন দ্য হুইল’, ‘মহারাজা এক্সপ্রেস’, ‘রয়েল চ্যারিয়েট’ ইত্যাদি।

কলকাতা থেকে আমাদের সামনে ভ্রমণ শুরুর দুটি পথ খোলা ছিল। একটি দিল্লি থেকে আরেকটি জয়পুর থেকে। জয়পুরে আমার একটি আমন্ত্রণ ছিল। ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ নিয়ে একটি সেমিনারে আমাকে মূল প্রবন্ধ পাঠের জন্য আগেই নিমন্ত্রণ জানানো ছিল। আমি এই সুযোগকে সোনালি ত্রিভুজ ভ্রমণের সঙ্গে সমন্বয় করে নিলাম। ফলে আমাদের ভ্রমণ শুরু হলো জয়পুর থেকে। তারপর আজমির, আগ্রা, দিল্লি ভ্রমণের ছক তৈরি করা হলো।

ভ্রমণে আমাদের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি না হয়ে হলো ‘পিংক সিটি অব ইন্ডিয়া’ বা ‘ভারতের গোলাপি শহর’ নামে খ্যাত জয়পুর থেকে। তবে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ভ্রমণের শুরুতেই একটি বিকেল থেকে সন্ধ্যা কাটানোর সুযোগ হলো কলকাতায়। আমরা ট্রানজিটের ক্ষেত্রে ৬/৭ ঘণ্টার বিরতি বেছে নিলাম, যাতে সেই ফাঁকে এয়ারপোর্টে বিরক্তিকর অপেক্ষার বদলে কলকাতাতেও একটি চক্কর দেওয়া সম্ভব হয়।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;