Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল’ উন্নয়নে কাজ করবে সুমিতমো করপোরেশন ও বেজা

‘জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল’ উন্নয়নে কাজ করবে সুমিতমো করপোরেশন ও বেজা
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের কাজ জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে। জাপানের সুমিতমো করপোরেশন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) যৌথভাবে এ কাজ সম্পন্ন করবে।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সরাসরি বিদেশে বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম বৈঠকে অংশ নেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি (জাইকা)। ওই বৈঠকে এই সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাপানের সুমিতমো করপোরেশন গত ৩০ বছরে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার এবং ভারতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন করে আসছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে জঙ্গি হামলা ও নাশকতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। নাশকতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লে সুমিতমো করপোরেশন চুক্তি বাতিল করতে পারবে। এছাড়া বৈঠকে আরো ৩টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কাছ থেকে যৌথ মালিকানায় কোম্পানিটির অনুমোদন নিতে হবে। কোম্পানির ৭৬ শতাংশ শেয়ার সুমিতমো করপোরেশনের এবং বাকি অংশের মালিক বেজা।

যৌথ কোম্পানিটি এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা, খাল ও পুকুর খনন, পানি নিষ্কাশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, গ্যাস পাইপ লাইন ও তথ্য প্রযুক্তি যোগাযোগ লাইন স্থাপনের কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। পরের বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ২০১৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০১৭ সালের গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বেজা ও সুমিতমো করপোরেশন সমঝোতা  চুক্তি সই হয়। বেজার পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও সুমিতমোর পক্ষে আকিতো শিরায়িশি চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি শেষে পবন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, জমি অধিগ্রহণের পর আগামী ডিসেম্বরে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। আর আগামী বছর সুমিতমো করপোরেশন সেখানে উন্নয়নকাজ শুরু করবে। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা খুব ক্ষতি করেছে। জাপানিরা এ ধরনের অস্থিরতা পছন্দ করে না। তাই এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বিলম্ব হয়েছে।

বেজার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাস হয়েছে। তবে ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইন স্থাপন এবং ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকার কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

জাইকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছিল। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশি উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জকে। সেখানে মোট এক হাজার ১০ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। চলতি মাসে ৪৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। এর মধ্যে ৭৬টির স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল পেয়েছে ৩টি দেশ। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৭৪ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। ভারত মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০৫৪ একর জমি চেয়েছে। সৌদি আরবও সেখানে বিনিয়োগের জন্য দুই হাজার একর জমি চেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক।

সম্প্রতি, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এএনএম মাহফুজ এবং উত্তরা মোটরস-এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবিএম হুমায়ুন কবির, এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস যৌথভাবে মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সেবা ও সুবিধা প্রদান করবে। উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে ভারতের বাজাজ অটো লিমিটেড-এর একমাত্র পরিবেশক।

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সভা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবে, তার একটি পরিকল্পনা পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে ই বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে বিকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর তাদের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার বসে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও সংখ্যা চারটি কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের অবস্থান বড়। যেমন আমানত খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এ চারটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার ব্যাংকের কাছে সরকারের চাহিদা হলো খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারবে না। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। তারা যে ঋণ দেবে, তার জামানতগুলো যেন এনক্যাশেবল হয় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করবে।’

তিনি জানান, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ খাতে আজ পর্যন্ত আমাদের তারল্য প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের জন্য যে এক্সিট প্লানটা দিয়েছিলাম সেটি এখনো কার্যকর করতে পারিনি। কিছুটা জটিলতা আছে।’

আগামীতে রফতানি কমার শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি কোনো সংকট আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপার এন্ডগুলো। মিড ও লোয়ার এন্ড ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমাদের অর্থনীতিকে মিড ও লোয়ার এন্ডে দেখি। এজন্য এখানে ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। আমাদের পুঁজি বাজারেও বাইরের কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং আমাদের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা নেই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ-সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র