কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও কোরআনের নির্দেশনা

কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও কোরআনের নির্দেশনা, ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের সূরা বাকারার ৮৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ভাষায় কথা বলো।’ মানুষ যাতে কথা বলার সময় সংযত ও শালীন থাকে, ভালো ও উত্তম কথা বলে; সে কারণে আল্লাহতায়ালা নামাজ-রোজার মতো কথা বলার ক্ষেত্রে মানুষ যেন উত্তম ভাষায় কথা বলে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলার ক্ষেত্রে এর সঠিক ব্যবহারকারীর জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আমাকে তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নিশ্চয়তা দান করবে; আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দান করবো।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করে বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তা (সত্যতা যাচাই-বাচাই না করে) বলে বেড়ায়।’

ইসলামের দাবি হলো, মানুষ যখন কথা বলবে; অবশ্যই ভালো কথা বলবে। যে কথা বললে মানুষের নেকি অর্জন হয়। কারণ কোনো মানুষ কর্কষ কণ্ঠের কথা শুনতে চায় না, আমল করতে চায় না- সে কথা যতই ভালো হোক।

সর্বোপরি ভালো কথা বলার সময় প্রত্যেককেই বিনম্র ও শালীন হতে হবে। তবেই মানুষের কথা হবে গ্রহণযোগ্য। সুতরাং এমন কোনো কথা বলা যাবে না, যা শুনতে ভালো লাগে কিন্তু হাসিঠাট্টা, কৌতুকসহ অযথা বেশি বেশি রসালো কথা বললে তা হবে গোনাহের কারণ। আর কথা বেশি হলে সেখানে মিথ্যা ও গিবতের আশংকা থাকে। তাই বেশি কথা বলা পরিহার করতে হবে।

কথা বলার ক্ষেত্রে কোরআনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার অন্যতম হলো-

ক. কথা বলার পূর্বে সালাম দেওয়া। -সূরা আন নূর: ৬১

খ. সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা (কেননা প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়)। -সূরা ক্বফ: ১৮

গ. সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা। -সূরা বাকারা: ৮৩

ঘ. অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা। -সূরা আন নূর: ৩

ঙ. কন্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা। -সূরা লুকমান: ১৯ ও সূরা হুজুরাত: ২-৩

চ. বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলা। -সূরা নামল: ১২৫

ছ. সঠিক কথা বলা ও পাপ মোচনের দোয়ার উন্মুক্ত করা। -সূরা আহজাব: ৭১-৭২

জ. গাধার মতো কর্কশ স্বরে কথা না বলা। -সূরা লুকমান: ১৯

ঝ. উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করা। -সূরা হামিম সাজদা: ৩৪

ঞ. উত্তম কথায় দাওয়াত দেওয়া। -সূরা হামিম সাজদা: ৩৪

ট. ঈমানদারদের কথা ও কাজ এক হওয়া। -সূরা সফ: ২

ঠ. পরিবারের সদস্যদের প্রতি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা। -সূরা আরাফ: ১৯৯

ড. মেয়েরা পর পুরুষের সঙ্গে আকর্ষণীয় ও কোমল ভাষায় কথা না বলা। -সূরা আহজাব: ৩২

ঢ. মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমতো এড়িয়ে চলা। -সূরা ফুরকান: ৬৩

ইসলাম এর আরও খবর

//election count down