কোনো চিন্তাশীল আছে কি, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?

কোনো চিন্তাশীল আছে কি, যে উপদেশ গ্রহণ করবে, ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

‘অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। যেদিন আহবানকারী আহবান করবে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে, তারা তখন প্রবল ভয়ের কারণে চোখ নামিয়ে রেখে কবর থেকে বের হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মতো। তারা আহবানকারীর দিকে দৌঁড়াতে থাকবে। কাফেররা বলবে, এটা কঠিন দিন।’ -সূরা কামার: ৬-৮

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা কিয়ামত ও বিচার দিবসে মানুষের কাজকর্মের বিচারের বিষয়ে বলেছেন। এ আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, কিয়ামতের ঘটনাগুলো এতোই ভয়াবহ যে, তা তাকিয়ে দেখার সাহস কারোই নেই। তাই মানুষ সেসব ঘটনার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে দৃষ্টিকে নিচের দিকে রাখবে। কিয়ামত শুরু হওয়ার পর ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষকে পঙ্গপালের সঙ্গে তুলনার কারণ হলো- বহু ধরনের পাখির বিপরীতে পঙ্গপালরা কোনো ধরনের শৃঙ্খলা ও লাইন বজায় রেখে এগিয়ে চলে না। বরং এসব পতঙ্গ জগাখিচুড়ির মতো তালগোল পাকিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে।

অন্ধকার হৃদয় এবং পাপ ও খোদাদ্রোহিতায় নিমজ্জিত লোকেরা কিয়ামতের দিন এতই ভীত-সন্ত্রস্ত হবে যে তারা আত্মঅচেতন মাতালের মতো সবদিকে ছোটাছুটি করবে। ফলে তাদের পরস্পরের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কাধাক্কি হতে থাকবে। আর এ জন্যই আল্লাহতায়ালা বলছেন, যখন তারা আহ্বানকারীর আহ্বানে তথা শিঙ্গায় ফু দেওয়ার ফলে সৃষ্ট শব্দ শুনে কবর থেকে বেরিয়ে আসবে তখন তারা ভয়ানক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ঘাড় নামিয়ে খুব দ্রুত আহ্বানকারীর দিকে ছুটে আসবে। সেদিনের কঠিন অবস্থায় ভয়ে কাফেরদের সমস্ত অস্তিত্ব জড়সড় হয়ে পড়বে এবং তারা বলবে, আজকের দিনটি খুবই কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক দিবস।

এই আয়াতগুলোর পর ধারাবাহিকভাবে খোদাদ্রোহী ও কাফের-মুশরিকদেরকে একগুয়েমির বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। ওই সব আয়াতে বলা হয়েছে, সত্য অস্বীকারের পরিণতি প্রত্যেক জাতিকেই ভোগ করতে হয়েছে। বিশেষ করে হজরক নুহ আলাইহিস সালামের সময়কার বন্যা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ঘটনাকে শিক্ষা গ্রহণের নিদর্শন বলা হয়েছে কোরআনে কারিমে। অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি; যে শিক্ষা নেবে ও সতর্ক হবে?

সূরা কামারে হজরত নুহ আলাইহিস সালামের ঘটনা তুলে ধরার পর আদ, সামুদ, লুত জাতির এবং ফেরাউন ও তার দলবলের ধ্বংস হওয়ার কাহিনী বলা হয়েছে। শিক্ষণীয় এসব কাহিনীর পর অত্যন্ত আবেদনময় একটি বিশেষ ও অভিন্ন বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। আর তা হলো- আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে তথা উপদেশ গ্রহণের সুবিধার্থে। অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি যে উপদেশ গ্রহণ করবে?

উপদেশ গ্রহণ না করার পরিণতিও এ সূরার শেষে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সেদিন অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদেরকে মুখ হিঁচড়ে টেনে নেওয়া হবে জাহান্নামে, বলা হবে- আগুনের তৈরি খাবারের স্বাদ আস্বাদন করো। আমি প্রত্যেক বস্তুকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় বা পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। আমার কাজ তো এক মুহূর্তে চোখের পলকের মতো। আমি তোমাদের সমমনা লোকদেরকে ধ্বংস করেছি, অতএব, কোনো চিন্তাশীল আছে কি, যে উপদেশ গ্রহণ করবে? তারা যা কিছু করেছে, সবই আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ।’ –সূরা কামার: ৪৭-৫৩

এরপর কাফেরদের পরিণতি তুলে ধরার পর বিশ্বাসী ও ধার্মিকদের আনন্দায়ক ও মহাসুখময় পরিণতি সম্পর্কে সূরা কামারে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘খোদাভীরুরা থাকবে উদ্যান তথা জান্নাতে ও নির্ঝরিণীর পাশে। যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি মহাসম্রাটের সান্নিধ্যে।’ –সূরা কামার: ৫৪-৫৫

এর পরে অন্য আয়াতে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য মুমিনকে চরম প্রশান্তি ও পূলক। আল্লাহতায়ালা সবাইকে এই প্রশান্তি দান করুন। আমিন।

ইসলাম এর আরও খবর