মক্কায় ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটাচ্ছেন হজযাত্রীরা

মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে মসজিদে হারামে যাচ্ছেন মুসল্লিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে মসজিদে হারামে যাচ্ছেন মুসল্লিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: স্থানীয় সময় রাত তিনটা। কিন্তু মক্কা শরিফে প্রবেশের অন্যতম পথ শারে ইবরাহিম (মিসফালা) দিয়ে দলে দলে মানুষ যাচ্ছেন কাবার দিকে। নানা বর্ণের, নানা বয়সী মানুষ। কেউ ইহরাম পরিহিত, কেউ আবার স্বাভাবিক পোশাকে। খুব কাছাকাছি হাঁটছেন, কিন্তু কারো মুখে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই। তবে নীরব একটা প্রতিযোগিতা আছে, আগে হাটার, দ্রুত পৌঁছানোর। সবার লক্ষ্য কাবার কাছাকাছি যেয়ে নামাজ আদায় করা, জীবনের আরাধ্য কাবাকে কাছে থেকে দেখা।

মক্কায় তাহাজ্জুদের জন্য আলাদা আজান দেওয়া হয়, যারা নতুন মক্কায় এসেছেন, তারা ওই আজান শুনে দ্বিধায় পড়ে যান, এতো আগে ফজরের আজান হয়েছে বলে। কিন্তু যারা জানেন, তারা ওই আজান শুনে তাহাজ্জুদের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু অনেকেই আছেন, তারা গভীর রাতে চলে যান কাবার চত্বরে। এই মধ্যরাতে যাওয়া মানুষগুলো এই কাতারের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/30/1564478753364.jpg

সৌদি আরবে আজ ২৭ জিলকদ। আর দুইদিন পর অর্থাৎ ২৯ জিলকদ তারিখে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে জানা যাবে হজের তারিখ। হজ উপলক্ষে মক্কায় বিভিন্ন দেশ থেকে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত সাড়ে দশ লাখ হজপালনকারী সৌদি আরব এসে পৌঁছেছেন। এসব হজযাত্রীর কিছু অংশ মদিনায় অবস্থান করছেন, অন্যরা মক্কায়। সৌদি আরবের স্থানীয় ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হজযাত্রীরা আগামী সপ্তাহ থেকে আসা শুরু করবেন। তখন মক্কায় আরও ভিড় বাড়বে।

আরও পড়ুন: হজের সফরে যাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা দরকার

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এক লাখ হজযাত্রী সৌদি আরব এসে পৌঁছেছেন বলে হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রী ড. সালেহ তাহের বিন বানতেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হজের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে, পরিবহন ব্যবস্থা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে তাবু স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের দেখাশোনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/30/1564478774483.jpg

কাবাঘরকে ঘিরে বানানো নামাজের স্থানকে মসজিদে হারাম বলে। মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে এক লাখ রাকাতের সওয়াব পাওয়া যায়। এমনকি শুধু কাবার দিকে চেয়ে থাকলেও সওয়াব লেখা হয় বান্দার আমলনামায়। তাই হজযাত্রীরা মক্কায় অবস্থানকালে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন, কাবায় উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করতে।

আরও পড়ুন: হজরত হাওয়া আ.-এর কবর

প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে মিসফালা কিংবা আজিজিয়া দিয়ে মসজিদে হারামে প্রবেশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর মসজিদে হারামের প্রবেশ পথগুলো ভিড় সাপেক্ষে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিদের কিছু পথ ঘুরে মসজিদে হারামের বর্ধিত অংশে যেয়ে নামাজে অংশ নিতে হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে (১০ আগস্ট) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কায় অবস্থানরত হজযাত্রীরা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে ইহরাম বেঁধে ৮ জিলহজ মিনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। মিনার উদ্দেশে যাত্রার মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

তাই হজের আগের এই দিনগুলো হজের অপেক্ষায় হজযাত্রীরা ইবাদত-বন্দেগি তথা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ মসজিদে হারামে আদায়ের পাশাপাশি নফল ওমরা, তাওয়াফ, মসজিদে হারামে বসে কোরআন তেলাওয়াত ও নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাচ্ছেন। কেউ আবার দিনের অবসরে মক্কার ঐতিহাসিক জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কিন্তু নামাজের সময় চলে আসছেন মসজিদে হারামে।

হজ সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন 'হজ'