Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইসলামী রাষ্ট্র সব নাগরিকের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা দেয়

ইসলামী রাষ্ট্র সব নাগরিকের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা দেয়
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত সংখ্যালঘুর মানবাধিকারের দাবিতে সোচ্চার বিশ্ব সম্প্রদায় আইনগত ও সামরিক-বেসামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেও বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানবতার আহাজারি থামাতে পারছে না। বরং ইসলামে সংখ্যালঘুর অধিকার সংরক্ষণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত থাকার পরেও মুসলিমরাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। ‘ইসলামে সংখ্যালঘুর অধিকার’ সম্পর্কে ঐতিহাসিক পর্যালোচনা: পর্ব- ৩

পবিত্র কোরআন মানুষকে কোনো সমাজ, রাষ্ট্র, এমনকি মহাবিশ্বের প্রকৃত লক্ষ্যরূপে বিবেচনা করা হয়েছে। সব কিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যা আছে নভোমণ্ডলে এবং যা আছে ভূমণ্ডলে, তার পক্ষ থেকে সব কিছু তোমাদের আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন।’ –সূরা আল জাসিয়া: ১৩

পবিত্র কোরআনে ‘রাষ্ট্র’ শব্দটি নেই, তবে দেশ এবং তা পরিচালনার ধারণা আছে তাতে। হজরত রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই ঘোষণা করেন, ‘আমরা অবশ্যই এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবো, যাতে সুন্দরী তরুণীও অলঙ্কার পরিবেষ্টিত অবস্থায় একাকী ইয়েমেন থেকে বসরা (প্রায় ২০০ মাইল) সফর করতে পারে। কিন্তু আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না সে।’ –সহিহ বোখারি

এর মানে হচ্ছে, কোনো ইসলামী রাষ্ট্রে তার সকল নাগরিকের জীবন, সম্মান ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে। এভাবে ইসলাম সূচনাকাল থেকেই সকলের জন্য সর্বান্তকরণে শান্তি, আইনের শাসন, মর্যাদা ও অধিকারের প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা বিধান করে আসছে। হজরত রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশাতেই এ মহান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে গেছেন। ইসলামী রাষ্ট্রে নেতা নির্বাচন চূড়ান্তভাবে সমাজের উপর নির্ভরশীল। ইসলামের ঐতিহ্যবাহী ধ্যান-ধারণায় এই ধরণের প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র পালিত হয়। ফলে এ রাষ্ট্র জনঅংশগ্রহণমূলক, গণতান্ত্রিক এবং গতিশীল।

হজরত রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরিত ঐশী বার্তায় মানব রচিত ও নির্মিত সকল মূর্তি, প্রতিরূপ, চেতনা ও আদর্শ ধ্বংস করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বভৌমত্বের কোরআনিক ধারণাও এ কারণেই অন্য সব মানবরচিত মতবাদ, আদর্শ ও ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন। বাস্তবতা হল, কিছু লোককে কোনো মতবাদ বা আদর্শের নামে অন্যদের উপর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, যার ফলাফল ভয়ঙ্কর এবং পরিণতি স্বৈরতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র, দলতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ইত্যাদি অমানবিকতায় প্রতিফলিত। পবিত্র কোরআন মানবরচিত সার্বভৌমত্বের ধারণাকে অত্যন্ত সঙ্গতভাবেই মানবতার জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর বিবেচনা করে এবং একে অগ্রহণযোগ্য মনে করে। সার্বভৌমত্ব শুধুমাত্র আল্লাহতায়ালার এবং তা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নয়। এ ব্যাখ্যাকে না বুঝার কারণে অনেকে মনে করতে পারেন যে, ধর্মের নামে কিছু ধর্মীয় নেতার হাতে থাকবে সার্বভৌমত্ব। এটা বড় ভুল ও অজ্ঞতা।

মনে রাখা ভালো, সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ এবং এটা দেখা যায় না। আমাদেরকে নিদের্শনা দিতে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে নেমে আসবেন না। তার বাণী অবতীর্ণ হয় তার বার্তাবাহকদের মাধ্যমে। আর এ কারণেই পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, বার্তাবাহককে মান্য করা মানে আল্লাহকে মান্য করা। পালন করার জন্যই ঐশী বিধানগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। আর ঐশী নিদের্শের কোনো পরিবর্তনের অধিকার কাউকে, এমনকি, তার বার্তাবাহকদেরও দেওয়া হয়নি। ‘আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সে অনুযায়ী ফয়সালা করার।’ –সূরা আল মায়েদা: ৪৮

ঘোষণায় সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্যভাবে আরও বলা হয়েছে, ‘একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়।’ –সূরা ইউনুস: ১৫

ফলে খোদ বার্তাবাহকরাই প্রথমে এবং পরিপূর্ণভাবে ঐশী নিদের্শের প্রতি আনুগত্য করেছেন। এটা এমন এক ব্যবস্থা যাতে কেউ শাসক হবে না, আবার কেউ শাসিতও হবে না। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, হজরত রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো নিজেকে শাসক, রাজা বা সম্রাট হিসাবে অভিহিত করেননি। যদিও লাখ লাখ বর্গমাইল এলাকায় তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার ওফাতের পর ব্যবস্থাটি খলিফাদের মাধ্যমে কার্যকর ছিল এবং তাদের আনুগত্য করার অর্থ আল্লাহর বিধানের প্রতিই আনুগত্য করা। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসনের পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠিত কেবলমাত্র ঐশী বিধান অনুযায়ী।

ইসলাম রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, ব্যক্তিতন্ত্র অনুমোদন করে না। ইসলামের বিধি-বিধানকে ধর্ম বা আচরণ হিসাবে পালন করা হয় এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা বা দ্বীন হিসাবে আল্লাহ প্রবর্তিত ব্যবস্থায় মানব ব্যক্তিত্বকে নিরাপদ, বিস্তৃত ও বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে জান, মাল, সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে এবং আশ্রয়, খাবারসহ সকল মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। সর্বপরি সমাজে থাকবে ন্যায়বিচার, সাম্য, মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও সকলের সম্মানজনক অধিকার।

অমুসলমান ও সংখ্যালঘুদের প্রতি ইসলাম ও মুসলমান শাসকদের ন্যায়ানুগ, সম্মানজনক, মর্যাদাপূর্ণ ও সমানাচরণের পেছনে সর্বদাই কাজ করেছে সুস্পষ্ট আদর্শিক ও নৈতিক ভিত্তি আর নির্দেশনা। সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত ইসলাম সব সময় অনন্য লক্ষ্য হিসাবে সামনে রেখেছে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচারিত আল্লাহর অর্থাৎ ঐশ্বরিক, একত্ব আর মানুষের সাম্যের শিক্ষা। যতক্ষণ আল্লাহর একত্ব আর রাসূলের (সা.) বাণীর মূল সত্যটি স্বীকৃত ও গৃহীত হচ্ছে, ততক্ষণ ইসলাম মানুষের বিবেকের ও অধিকারের সবচেয়ে বিস্তৃত স্বাধীনতা দান করেছে।

ফলে মুসলমানরা যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই পদদলিত জনসাধারণ আর নির্যাতিত বিরুদ্ধবাদীরাও সাদরে বরণ করেছে। ইসলামকে তারা পেয়েছে তাদের যন্ত্রণাদায়ক দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা আর মুক্তির অগ্রদূত হিসাবে। ইসলাম তাদেরকে দিয়েছে আইনের চোখে বাস্তব সমতা আর স্থায়ী নিরাপত্তা, সম্মান, অধিকার ও শান্তি; যা পূর্বের স্বেচ্ছাচারের চেয়ে বিস্তর সুশাসন ও সমানাধিকারের নিশ্চয়তা এনে দিয়েছে অমুসলমান, সংখ্যালঘু ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে। বিশ্বের দেশে দেশে ইসলামের আগমন এজন্যই স্বতস্ফূর্ত, কাম্য, জন-কল্যাণধর্মী এবং নিবর্তনের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সমতার আলোকবাহী; যা আধুনিক উপনিবেশবাদ, ভোগবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের সঙ্গে ইসলামের মৌলিক পার্থক্য নিদের্শ করে।

কাদিসিয়ার যুদ্ধে ইসলামের অউপনিবেশবাদী, অসাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের বিপরীতে মানব-সাম্যের প্রকৃত রূপটি চিত্রিত্র হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে কাদিসিয়ার যুদ্ধ বিশাল পারস্য সাম্রাজ্যকে ইসলামের অধীনস্থ করে। কিন্তু এরচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে, কাদিসিয়ার যুদ্ধ ছিল পারসিকদের মুক্তির সনদ।

যেমন ইয়ারমুক আর আজনাদাইনের যুদ্ধ ছিল সিরিয়া, গ্রীস আর মিসরের অধিবাসীদের মুক্তির সঙ্কেত। ইহুদিরা, যাদেরকে পারস্যে প্রতিষ্ঠিত অগ্নি-উপাসক যরথুস্ত্রীয়রা মাঝে মাঝে কচু-কাটা করত, আর খ্রিস্টানরা ইহুদিদের দেশে দেশে শিকার করে বেড়াত, সবাই মুক্তির সুবাতাস পেল হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তার মহত্তম অনুসারীগণ (রা.)-এর শাসনাধীনে, যেখানে ধর্মবিশ্বাসের মূল কথাই ছিল মানুষের ভ্রাতৃত্ব। অমুসলমান ও সংখ্যালঘুদের প্রতিও ভ্রাতৃত্বের এই সম্মানজনক দ্বার খোলা রয়েছে বলেই ইসলাম ও মুসলমানদেরকে পৃথিবীর ইতিহাসে পাওয়া যাচ্ছে মানবতার মুক্তিদাতা হিসাবে।

ফলে ইসলামের অগ্রযাত্রায় যদি কোথাও প্রতিরোধ এসে থাকে, তবে তা করেছে সুবিধাভোগী পুরোহিত ও অভিজাত সম্প্রদায়গুলো। চিরস্থায়ী সত্যের একটি কলেমার সরল স্বীকৃতি সাধারণ মানুষ আর শ্রমিক শ্রেণীকে দাঁড় করায় অধীনতা থেকে বিজয়ীর সারিতে; মুসলিম মুক্তিদাতাদের সম-মর্যদায়। এমন কি, উপজাতি আর গ্রামের সামন্ত দলগুলোর সমস্ত সুবিধা, সম্মান আর প্রতিপত্তি অক্ষুন্ন থাকে।

আরও পড়ুন: পর্ব-২: সংখ্যালঘুর সমানাধিকার ও সম্মানের শিক্ষা দেয় ইসলাম

আপনার মতামত লিখুন :

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা
মসজিদে হারামের প্রবেশ পথ◢

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালনের নিমিত্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান মক্কাসহ মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ প্রভৃতি স্থানে একত্র হন প্রতি বছর জিলহজ মাসে। লাখ লাখ মানুষের সমাগম, তাদের চলাফেরা, নিরাপত্তা, আবাসন ও খাওয়া-দাওয়াসহ সব বিষয়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হয়।

হজ ব্যবস্থাপনাকে সুন্দর, আধুনিক ও গতিশীল করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে চেষ্টা করছে। তার পরও যেহেতু বিপুল সংখ্যক মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজসমূহ সমাধা করে থাকেন। এ বিষয়টি সামনে রেখে সৌদি কর্তৃপক্ষের হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুন্দর, সহজ ও হাজিদের জন্য উপকারী হয় এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175762105.jpg
মসজিদে হারামের দ্বিতীয় তলায় নামাজের সময় ফাঁকা কাতার◢

 

মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহার না করা: মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জুতা ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কেউ জুতা ব্যবহার করেন, কেউ করেন না। তবে দেখা গেছে, অনেক হাজি টয়লেট থেকে ফিরে কিংবা রাস্তা থেকে এসে ওই জুতা পায়ে দিয়ে চলাফেরা করেন। এটা দৃষ্টিকটু বিষয়। অনেকের মনে এটা নিয়ে পবিত্রতার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করে। আমরা আশা করি বিষয়টি হাজিরা মনোযোগ দিয়ে ভাববেন। অথবা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট এলাকায় জুতা ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারেন।

মসজিদে হারাম এলাকায় ধূমপান: অনেকেই মসজিদে হারামের প্রবেশ পথে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। আমরা মনে করি, এ এলাকা সম্পূর্ণভাবে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা দরকার।

জমজমের পানি নেওয়ার স্থানগুলো পিচ্ছিল: কাবা চত্বর থেকে শুরু করে মসজিদের হারামের বাইরে ও ভেতরে জমজমের সুপেয় বরকতময় পানি পান করার জন্য অসংখ্য জায়গায় পানির কন্টেইনার এবং পানির কল দেওয়া আছে। আল্লাহর মেহমানরা প্রাণভরে সেখান থেকে পানি পান করেন এবং বিভিন্ন পাত্রে ভরে নিয়ে যান। পানি পান ও নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত আশপাশে পানি পড়ে অনেক জায়গা পিচ্ছিল হয়ে যায়। পানি পরিষ্কারের জন্য কর্মী নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পরিষ্কার করার আগে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং আহত হন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পানি নেওয়ার স্থানগুলোতে পিচ্ছিলরোধক পাথর বসানো জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175865903.jpg
কাবা চত্বর◢

 

নামাজের আগে দরজা বন্ধ করে দেওয়া: বায়তুল্লাহর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক হাজির একান্ত ইচ্ছা। বায়তুল্লাহর শৃঙ্খলা রক্ষায় অসংখ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, মসজিদের অভ্যন্তরভাগ পূর্ণ হওয়ার আগেই মসজিদের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইদানিং তো অনেক দূরের প্রবশেপথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক পথ ঘুরে মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে হয়। তাতে বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ হাজিদের ভীষণ কষ্ট হয়। কোনো নিয়মনীতি বা সময় ছাড়া এভাবে চলাচলের গেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে অনেক হাজি মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এক্ষেত্রে মসজিদের অভ্যন্তরভাগ মুসল্লিদের দ্বারা পূর্ণ হওয়ার পর ঘোষণা দিয়ে গেট বন্ধ করা হলে কেউ আপত্তি করবে না। এক্ষেত্রে প্রবেশ পথসমূহে মসজিদের ভেতরের দৃশ্য মনিটরে দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন হারাম একটু দূরে, সেখানে মুসল্লিরা যেতে চান না, তাই রাস্তা বন্ধ করে মুসল্লিদের সেখানে নেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন ব্যবস্থা করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566175946603.jpg
মসজিদে হারামের ভেতরের অংশ◢

 

মসজিদে নববীর মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা: সৌদি আরবের তীব্র গরমে আল্লাহর মেহমানরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মসজিদে হারামের বাইরের অংশে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই গরমের প্রচণ্ডতা উপলব্ধি করে মসজিদে নববীর বাইরের অংশের মতো স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা করা করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে বায়তুল্লাহর খোলা চত্বরের (মাতাফ) চারদিকে স্বয়ংক্রিয় ছাতার ব্যবস্থা হলে আল্লাহর মেহমানরা প্রশান্তির সঙ্গে নামাজ আদায় ও অন্যান্য ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

মিনা ও আরাফাতে পর্যাপ্ত টয়লেটের অভাব: মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফায় হাজিদের অবস্থান হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব স্থানে সাধারণ হাজিদের জন্য ব্যবহৃত টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। তার ওপর যা আছে তাতে অনেক সময় পানি না থাকায় নোংরা হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। এ সময় হাজিরা ইহরাম অবস্থায় থাকেন। তাই সময় বিবেচনায় এসব স্থানে আরও টয়লেট বাড়ানো দরকার।

আরাফাতের ময়দানে গোসল করলে অতিরিক্ত সওয়াব মেলে। কিন্তু এখানে গোসলের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই হাজিসাহেবদের সুবিধার্থে পৃথকভাবে পর্যাপ্ত টয়লেট এবং গোসলখানার ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176004186.jpg
দোতলা দিয় তাওয়াফ করছেন হাজিরা◢

 

আরাফাতের ভাষণ শোনার ব্যবস্থা করা: মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- মসজিদের নামিরার কাছাকাছি উপস্থিত হাজি ব্যতীত কেউ তা শুনতে পান না। যদি গোটা ময়দানব্যাপী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তবে কাছে ও দূরের হাজিরা একযোগে হজের খুতবা শুনতে পাবেন। এ ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে গোটা ময়দানের লোক একযোগে এক জামাতে হজের খতিবের সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবেন। তাতে করে আরাফাতের তাবুতে নামাজ নিয়ে জটিলতা কমবে, আরাফাতের ময়দানে একটা ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যে যার তো মাসয়ালা বলা ও আমল করার প্রবণতা বন্ধ হবে।

পরিবহন সংকট: হজের দিনগুলোতে মক্কা থেকে মিনা, মিনা থেকে আরাফাত, আরাফাত থেকে মুজদালিফা, মুজদালিফা থেকে জামারা, জামারা থেকে মক্কা এলাকায় পরিবহন সংকট দেখা দেয়। ফলে হাজিদের অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। একে সুযোগ মনে করে স্থানীয় গাড়ির মালিকরা ২০ রিয়ালের ভাড়া ১০০ রিয়াল পর্যন্ত আদায় করতে দ্বিধা করেন না। আবার অনেক ড্রাইভার রাস্তা না চেনা হাজিদের এক জায়গায় নামানোর কথা বলে অন্য জায়গায় নামিয়ে দেন। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেই সঙ্গে হাজিদের চলাচলের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক বাসসেবা চালু রাখা এবং গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566176073028.jpg
মধ্যরাতে মসজিদে হারামে প্রবেশের জন্য হাজিদের অপেক্ষা◢

 

হারাম এলাকার মসজিদের মাইকের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা: মসজিদে হারামের কাছাকাছি মিসফালা রোড, হিজরা রোড, দাখেলা রোড থেকে শুরু চারপাশে প্রচুর ছোট ছোট মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদের নিয়মিত আজান ও জামাতে নামাজ হয়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এসব মসজিদের নামাজের তাকবির, কেরাত- মসজিদের হারামের কেরাতে ও তাকবিরের আওয়াজের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ফলে মসজিদের হারামের জামাতে শরিক হওয়া রাস্তায় দাড়ানো মুসল্লিরা দ্বিধায় পরে যান। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো- ছোট ছোট এসব মসজিদের আওয়াজ নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা জামাতের সময় একটু আগে-পিছে করে দেওয়া।

রাস্তায় নামাজ: মসজিদে হারামের জামাতে অংশ নিতে বহুদূর থেকে হাজিরা আসেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ কিংবা জামাতের সময় ঘনিয়ে আসার কারণে অনেকেই রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। তবে কিছু মানুষ ইচ্ছা করেই, শুধুমাত্র হাটার ভয়ে রাস্তায় নামাজের জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েন, দেখা যায়, তার সাথে প্রচুর জায়গা ফাঁকা এমতাবস্থায় রাস্তাও বন্ধ থাকে, জামাতের কাতারের ধারাবাহিকতাও থাকে না। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

মোবাইল বিড়ম্বনা: তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। ফলে হজপালনে আসা সবাই চান পরিবারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে। কিন্তু সৌদি আরবে এসে হাজি মোবাইল রিচার্জ নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একে তো অনেক কোম্পানী, প্রচুর অফার। কে কোন কোন অফার নেবেন তা স্পষ্টভাবে বুঝা মুশিকল হয় ভাষাগত জটিলতার কারণে। ফলে ইন্টারনেট রিচার্জ, টকটাইম রিচার্জ নিয়ে এক ধরণের জটিলতায় ভুগতে হয় অনেককে। এ সুযোগে অনেক রোহিঙ্গা (আগে থেকে সৌদিতে থাকা) ও পাকিস্তানি দোকানদার ১৫ রিয়ালের কার্ড ১৭ রিয়ালে, ৫০ রিয়ালের কার্ড ৬০ রিয়ালে বিক্রি করে। মোবাইল নিয়ে জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।

নামাজের কাতার সোজা করার ঘোষণা আরও আগে দেওয়া: মসজিদে হারামে ইকামতের পর কাতার সোজা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর আর সময় তেমন দেওয়া হয় না। তাকবির বলে নামাজ শুরু করে দেওয়া হয়। তাতে উপস্থিত মুসল্লিরা কাতার সোজা করার তেমন সুযোগ পান না। ফলে কাতারের মাঝে বেশ ফাঁকা থাকে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের ভাবা দরকার।

উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়া কাবা চত্বর থেকে শুরু করে দোতলা, তিনতলায় দাড়িয়ে সেলফি কিংবা ছবি উঠানো, মূল মাতাফে হুইল চেয়ারে তাওয়াফের বিষয়েও ভাবা দরকার। এক্ষেত্রে মসজিদে হারাম কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধের পাশাপাশি হজপালনকারীদের সচেতনতা কাম্য। 

হজ পৃথিবীর সব অঞ্চল, বর্ণ ও ভাষার মুসলমানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। তাই মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবন প্রতিষ্ঠায় হজের বিকল্প নেই। সে হিসেবে বর্ণিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সম্মানিত হাজিরা উপকৃত হবেন বলে আমরা আশা করি।

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি

হজ শেষে ধূমপান ছাড়লেন ৩১৩ হাজি
হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে কাফা, ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে ধূমপান নিষিদ্ধ। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান মাকরুহ তথা চরম অবাঞ্ছিত কাজ। তারপরও মক্কায় দেখা যায় অনেকেই মসজিদে হারামের বাইরের চত্বরে ধূমপান করেন। রাস্তাঘাটেও ধূমপান করতে দেখা যায় অনেককে। এমনকি ইহরাম পরিহিত অনেককে মিনা, মুজাদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে ধূমপান করতে দেখা গেছে।

ধূমপানের এমন ব্যাপকতা থেকে হজযাত্রীদের নিরুতসাহ করতে সৌদি আরবের তামাক, ধূমপান ও মাদক প্রতিরোধ সংস্থা ‘কাফা’ (The Tobacco and Narcotics Combat Charity Society-Kafa) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ধূমপায়ীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

সংস্থাটি হজের আনুষ্ঠানিকতার জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে। সেখান থেকে ধূমপায়ীদের মাঝে ধূমপান বিরোধী প্রচারপত্র বিলির পাশাপাশি কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়তে হজযাত্রীদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে থাকেন। ধূমপানের ক্ষতির বিষয়ে সচেতন করতে হাজিদের মাঝে পুস্তিকা, লিফলেট ও মিসওয়াক বিতরণ করা হয়। এভাবে ভ্রাম্যমাণ সেবাকেন্দ্র থেকে এবার ১১ হাজার ৪৮০ ধূমপায়ীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কাফার ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে ধূমপানের বিপত্তি ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে অনেকে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। চলতি হজ মৌসুমের ধূমপান ত্যাগীর সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফার সেবাকেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে তার ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন।

মক্কায় ধূমপানের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য গঠিত কমিটির প্রধান আবু গাজালাহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের দাতব্য মন্ত্রণালয়, হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাফা ধূমপান বিরোধী নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করে থাকে। সেই সঙ্গে কাফা মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতসহ মক্কায় হজযাত্রীদের ধূমপান বিরোধী চিকিতসা দেয়।

চার বছর ধরে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অবশ্য অনেক ধূমপায়ী পবিত্র হজপালন শেষে নিজ থেকেই ধূমপান ছেড়ে দেন। তাদের হিসাব এখানে আসেনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র