চট্টগ্রামে চা বাগানে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার হাতছানি



আবদুস সাত্তার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি চা বাগান/ ছবি: বার্তা২৪.কম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি চা বাগান/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চা বাগানকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে চট্টগ্রামে। এই অঞ্চলের চা বাগানগুলোতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটে। চা বাগানগুলোকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে চা উৎপাদনের পাশাপাশি পর্যটনখাত থেকেও সরকার রাজস্ব আয় করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি ও সবুজের সমারোহ চট্টগ্রামের চা বাগানগুলোতে বছরের সব সময়ই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। প্রত্যেকটি বাগানেই রয়েছে দর্শনীয় লেক, নিজস্ব বাংলো, শ্রমিক শেড। সেই সাথে চা বাগানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বৈচিত্র্য যে কাউকে মুগ্ধ করে।

জানা যায়, দেশের ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে ২১টি রয়েছে চট্টগ্রামে। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ১৮টি, বাশঁখালিতে ১টি, রাঙ্গুনিয়ায় ১টি ও রাঙ্গামাটিতে ১টি রয়েছে। এ ২১টি চা বাগান জাতীয় অর্থনীতিতে অন্যন্য ভূমিকা রাখছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/27/1538038100330.jpg

প্রত্যেক চা বাগানে রয়েছে সবুজের সমারোহ সারি সারি চা গাছের ভ্যালি। যা যে কোন দর্শনার্থীর মনকে নাড়া দেয়। চা বাগান গুলোতে দেখার মতো অনেক দর্শনীয় স্থান থাকলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব ও পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষিত না হওয়ায় এখান থেকে পর্যটনখাতে আয় করা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের চা বাগানগুলোকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার মতো রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যের দর্শনীয় স্থান। সবুজের বিস্তীর্ণ সমারোহে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সাজিয়েছে এসব চা বাগানকে। তার ভিতর আরো সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে চা বাগান, রাবার বাগান বৃক্ষ বাগানসহ চিরযৌবনা খাল, নদী, ছড়া, সবুজে ঘেরা পাহাড় ও পুরনো স্থাপত্যসমূহ। 

চট্টগ্রামের ২১টি চা বাগানের প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। প্রতিটি চা বাগানই আপন আপন সৌন্দর্য্যে সমৃদ্ধ। চা পাতা তোলার অপরূপ দৃশ্য, নজরকাড়া বাংলো, লেক, বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মৎস্য খামার সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এশিয়ার বৃহত্তম রাবার বাগানসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি রাবার বাগান। বাগানের সারিবদ্ধ গাছ, রাবার গাছের নির্যাস পড়ার দৃশ্য খুব সহজে মনকে রাঙ্গিয়ে তোলে। সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বৃক্ষ বাগান। যেগুলো দেখলে নিমিষেই চোখ জুড়িয়ে যায়। তাছাড়া রয়েছে পাহাড়, পর্বত ও সবুজে ঘেরা বৃক্ষরাজি। নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রকৃতির একান্ত সুর এখানে পাওয়া যায়। 

কৃষক-কৃষাণীদের মাঠে কাজ করার দৃশ্য, রাখালের বাঁশির সুর ও গরুর পাল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য, নৌকা ভাসিয়ে মাঝির ভাটিয়ালী গান সব মিলিয়ে বাংলার প্রকৃত রূপ এখানে ফুটে উঠেছে। রয়েছে বিভিন্ন জাতের মানুষের বসবাস। বিশেষ করে উপজাতীয়দের বৈচিত্রময় জীবন মনকে নাড়া দেয়।

সবকিছু মিলিয়ে সৌন্দর্য্যের আধার চা বাগান গুলো। পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠার এক সম্ভাবনাময় স্থান এসব বাগান। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, হোটেল-মোটেল, নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/27/1538038135619.jpg

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবীব রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই ফটিকছড়ির কর্ণফুলী চা বাগানে গিয়ে বেশ ভালোই লেগেছে। চা বাগানে গেলে যে কারোরই বিষণ্ন মন ভালো হয়ে যাবে। তবে এসব চা বাগানকে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণা দিলে সরকারের আয় বৃদ্ধি করা যেত।’

ফটিকছড়ির হালদাভ্যালি চা বাগানের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এমনিতেই সারা বছর দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে চা বাগানগুলো। অনেক বিদেশি মেহমান বাংলাদেশে আসলে চা বাগান দেখার জন্য এখানে আসেন। দেশি দর্শনার্থী তো আছেই। চা বাগানকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিতে হলে এখানে সরকারিভাবেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।’  

চা বাগানের মালিক নাদের খান বলেন, ‘চা বাগানগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে। প্রতি বছর স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে বাগান দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। সরকার এই খাতকে পর্যটন খাত হিসেবেও ঘোষণা দিতে পারে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলে বিদেশিদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (অবকাশ) জাকির হোসেন সিকদার বার্তা২৪কে বলেন, ‘চা বাগানগুলো এমনিতেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। বিনোদন পাওয়ার জন্য দর্শানির্থীরা চা বাগানে যায়। কিন্তু এটিকে করপোরেশনের আওতায় আনতে হবে এমন কোন কথা নেই। করপোরেশনের সেই সক্ষমতাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘চা বাগানগুলো সরকার লিজ দিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দিয়েছে। সুতরাং মালিক পক্ষ ইচ্ছে করলে টুরিষ্টদের আকৃষ্টের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।’

বর্তমানে বাংলাদেশের ১৬২টি চা বাগানে বিশ্বের ৩ শতাংশ চা উৎপন্ন হয়। এই খাত ৪০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।

   

সাভার ট্যানারিতে ঢুকেছে সাড়ে চার লাখের বেশি কাঁচা চামড়া, পোস্তায় দেড় লাখ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে দুই দিনে সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া ঢুকছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ৪ লাখ ৬০ হাজার ও পোস্তায় দেড় লাখের মতো চামড়া ঢুকেছে। এসব তথ্য বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক।

এরআগে, সোমবার দুপুরের দিক থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া ঢুকতে শুরু করে।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, চামড়াবাহী ট্রাক ঢুকছে শিল্পনগরীতে। আর ট্যানারিগুলোতে চলছে কর্মব্যস্ততা। কাঁচা চামড়ায় লবন মাখাচ্ছেন অনেকেই। থরে থরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে এসব লবন মাখানো চামড়া।

সাজেদুল হক নামে এক ট্যানারি শ্রমিক বলেন, গতকাল থেকেই চামড়া আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পরিষ্কার করে লবন মাখাচ্ছি।

ট্যানারি মালিকরা জানান, সোমবার দুপুরের দিক থেকেই বিভিন্ন মাদরাসা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে আসা শুরু করেন।

সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে অবস্থিত আজমির লেদারের মালিক মো. শহীদুল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখানে লবন ছাড়া কাঁচা চামড়া ঢুকছে। এগুলো লবন দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এভাবে অন্তত দুই আড়াই মাস রাখা যাবে। আমরা সরাসরি মাদরাসা থেকে চামড়া কিনছি। আগেই কথা বলা ছিল। সেগুলোই নিচ্ছি। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, লবন যুক্ত চামড়া ১২০০ টাকা করে। লবন মাখাতে ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এই খরচ বাদ দিয়ে কাঁচা চামড়া কেনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সালমা ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ঈদের দিন ও আজ যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

চামড়া শিল্পনগরীর প্রস্তুতির বিষয়ে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান রিজোয়ান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ চামড়া ঢুকেছে ট্যানারিতে। আরও চামড়া ঢোকার সম্ভাবনা আছে।

বিসিক চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বার্তা ২৪.কমকে বলেন, সর্বশেষ আমাদের সাভার ট্যানারিতে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস চামড়া প্রবেশ করছে। এবার সারাদেশের রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে প্রত্যেক জেলায় ডিলারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেছি এবং লবণের মূল্য গতবারের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে কোথাও লবণ সংকটে পড়েছে আমরা এরকম রিপোর্ট পাইনি। চামড়ার মূল্যের বিষয়টা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নির্ধারণ করে ভোক্তা নিজেকেও আজকেও আমি বলেছি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি।

;

সিলেটে পানিবন্দি ৬ লক্ষাধিক মানুষ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেটে পানিবন্দি রয়েছেন ৬ লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সময় যত যাচ্ছে বানভাসি মানুষের মাঝে ভয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে কিছু সংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে, বেশির ভাগই মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাড়াপ্রতিবেশিদের উঁচু বাসায় বা আত্মীয় স্বজনের বাসায়। ইতোমধ্যে সিলেটের সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির ফলে সুরমা নদীর পানি ছাড়াও নালা উপচে প্রবেশ করছে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘর থেকে বাইরে বের হতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। সিলেট মহানগরীতে ৫০ হাজার মানুষ রয়েছেন পানি বন্দি। এছাড়াও সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৭ জন পানি বন্দি রয়েছেন।

এমনটাই মঙ্গলবার দিবাগত জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসনের সূত্র।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, অমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ৪৭ সেন্টিমিটার ও একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জে ৮৮ সেন্টিমিটার নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে। এছাড়াও সারি গোয়াইনের পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮জুন) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো.সজীব হোসাইন।

জানা যায়, গত ২৭ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এতে জেলার অন্তত সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে ঈদের আগের দিন রোববার (১৬মে) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে আবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। এতে করে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, বরইকান্দি, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

এছাড়াও জেলার গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আর্তমানবতার তাগিদে বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি।

তিনি মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ও দশঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও বানভাসি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

মঙ্গলবার (১৮জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেট মহানগরীসহ ১৩টি উপজেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টি ওয়ার্ডের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৬২৭ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন ১৭ হাজার২৮৫জন। ১৩টি উপজেলায় ১৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ,জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা।

;

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মুকুল হোসেন (৫০) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কিরণগাছিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মুকুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ঘাটপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাত আলী মন্ডল বলেন, মুকুল হোসেন মোটরসাইকেলে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। মুকুল হোসেন সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মুকুল নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজ হোসেন নামের এক কলেজছাত্র নিহত হন। এ নিয়ে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে দুজনের মৃত্যু হলো।

;

নাম ধরে ডাকায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মনির হোসেন (১৮) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

নিহত জাহিদুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ (২০) উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কুতুবপুর গ্রামের ওয়ারিশ হাজী বাড়ির হারুনুর রশীদ ওরফে কালামিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার একটি ব্যাগ তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের কামলারটেক বাজারের হাশেমের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে একই গ্রামের আলাবক্স বেপারী বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে হামলাকারী মো.রিয়াজকে (২০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম জাহিদুল ও আটককৃত আসামি রিয়াজ উভয়ে প্রতিবেশী এবং একসাথে চলাফেরা করত। ভিকটিমের সাথে ৪-৫ দিন আগে আসামি রিয়াজের খেলাধুলা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহিদুল তার কয়েকজন বন্ধুসহ স্থানীয় কামলারটেক বাজারের হাশেমের চা দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় কিশোর গ্যাং সদস্য বখাটে রিয়াজ তার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গসহ জাহিদুলের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাকে বাঁচাতে তার বন্ধু মনির এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুত্বর জখম করা হয়। আহত মনির ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তারা পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের পাশাপাশি বাড়ি। ছোটকাল থেকে তারা এক সাথে চলাফেরা করত। নিহত জাহিদুল আসামি রিয়াজকে নাম ধরে ডাকে। তখন আসামি রিয়াজ ভিকটিমকে বলে আমি কি তোর ছোট নাকি। এরপর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাতে করলে ভিকটিম ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই একজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;