Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, স্বস্তিতে রাজধানীবাসী

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, স্বস্তিতে রাজধানীবাসী
রাজধানীতে মাঝারি বৃষ্টি / ছবি: বার্তা২৪
শাদরুল আবেদীন
নিউজরুম এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পরবর্তী সময় থেকে তীব্র দাবদাহের পর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কমেছে তাপমাত্রাও। এতে অতিষ্ঠ জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি। এছাড়া রমজান মাস হওয়ায় রোজাদারদের মধ্যেও ফিরেছে প্রশান্তি।

সোমবার (১৩ মে) রাত ১১ টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। থেমে থেমে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে।

এদিকে রাস্তায় থাকা ব্যস্ত মানুষরা বৃষ্টির কারণে আটকে যান। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আপাশের দোকানপাটে ছুটে যায় মানুষ।

এর আগে সকালে রাজধানীতে রোদের তাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের ফাঁকে ফাঁকে মেঘও চোখে পড়ে। ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া বাতাস কোনো কোনো সময় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557768005601.jpg

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোববার রংপুর বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা বিভাগে বৃষ্টি চলছে। কোথাও শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ কমে আসছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বুধবার (১৫ মে) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এরপর আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখন গ্রীষ্মকাল হওয়ায় দেশে গরম বিরাজমান থাকবে।’ 

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এমরান হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত কয়েকদিনের গরমে খুব অস্বস্তি লাগছিল। এ বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।’ 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557769235566.jpg

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা রনি আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘একেতো গরম আবার ঠিক মতো বিদ্যুৎও থাকে না। এতে একেবারে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখন কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে। শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারব।’

সোমবারের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557768022322.jpg

রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, মাঈজদীকোর্ট ও রাঙামাটি অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে।

অপরদিকে, ঢাকায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ১৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টায ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নদীবন্দরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়ায় অবরুদ্ধ একটি পরিবার

জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়ায় অবরুদ্ধ একটি পরিবার
জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়া অবরুদ্ধ পরিবার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ী গ্রামে জামির তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শনিবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের বসতভিটায় বসবাস করছেন তিনি। তার বসতভিটায় প্রায় ৩০ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতক নিজের কেনা জমি এবং পাঁচ শতক মায়ের পাওয়া জমি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কামারগ্রামে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করার জন্য তিনি লোহাগড়ার জমি তিন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেছেন। ভূমি অফিসে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই শেষে গত ৩১ জুলাই ওই জমি লোহাগড়ায় রেজিস্ট্রি হয়। এছাড়া গত ৮ আগস্ট বিলের প্রায় ২১ শতক জমি তরিকুলের প্রতিবেশী শিমুল মোল্যার কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু জমি বেচাকেনার বিষয়টি তরিকুলের মামা পাশের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজার রহমান জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090538315.jpg

এ ঘটনায় হাফিজার শনিবার (১৭ আগস্ট) সকালে হঠাৎ তরিকুলের ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেন। এতে জমির ক্রেতাদের জমিতে আসতে দিবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর ধরে কুচিয়াবাড়ির জমিতে বসবাস করছি। আর বাবা আছেন ফরিদপুরের বাড়িতে। তিনি মাঝে-মধ্যে আমাদের খোঁজখবর নেন। এখন নিজের বাড়ি ফরিদপুরের কামারগ্রামে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এখানকার (কুচিয়াবাড়ী) জমি বিক্রি করেছি। অথচ আমার মামা ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান আমাদের পরিবারকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এ কারণে ঘরের মালামাল নিয়ে ফরিদপুরে যেতে পারছি না, যেন বন্দিশালার মধ্যে আছি।’

তরিকুলের মা স্বরুপজান বলেন, ‘আমি এবং আমার ছেলে, বেটার বউ ও দুই পুতনি (ছেলের মেয়ে) ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বৈধ জমি বিক্রির পরও আমরা হুমকির মধ্যে আছি।’

অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পৈতৃকসূত্রে ওই জমিতে আমার অংশ রয়েছে। তাই আমি বেড়া দিয়েছি।’

এদিকে, বিষয়টি জানার পরও শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী তরিকুলের পরিবার।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, ছবি:; বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পবিত্র ঈদুল আজহা পালন শেষে রাজধানী শহর ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ছাড়ছেন কয়েক লাখ মানুষ।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বরিশাল নৌবন্দরে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর থেকেই বরিশালের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লঞ্চ যাত্রীরা ভিড় করছে নোঙর করা লঞ্চগুলোতে।

বিকেল শেষ না হতেই লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর কেবিনের বারান্দার কানায় কানায়ও পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যার কারণে, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশে নৌ দুর্ঘটনা ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই অপরাধ এড়াতে অন্যান্য দিনের চাইতে ২/১ ঘণ্টা আগেই বরিশাল লঞ্চঘাট ছাড়ে কয়েকটি বিলাসবহুল লঞ্চ।

গত শুক্রবারও ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ওই দিনেও নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই বরিশাল নদীবন্দর ছেড়েছিল ঢাকাগামী বিলাশ বহুল কয়েকটি লঞ্চ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566075739275.JPG

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কোরবানির ছুটি শেষে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগ দিতে বরিশাল ছাড়ছে কয়েক লাখ মানুষ। কোরবানির দ্বিতীয় দিন থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চযোগে বরিশাল নৌ বন্দর থেকে যাচ্ছে লঞ্চযাত্রীরা। তবে কয়েকদিনের চেয়ে শুক্রবার ও শনিবার যাত্রী চাপ অনেকটা বেশি ছিল।

তিনি আরেও জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিয়ে বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে কোনো লঞ্চই ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে লোড লাইন দেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চগুলোকে ঘাট ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে নিষেধ করা হচ্ছে। একই সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সরকারি জাহাজগুলোতেও। লঞ্চযাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য গত ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস। থাকছে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। এর আওতায় পাঁচটি সরকারি জাহাজসহ ব্যক্তি মালিকানা ২০টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাতায়াত করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র