Alexa

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, স্বস্তিতে রাজধানীবাসী

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, স্বস্তিতে রাজধানীবাসী

রাজধানীতে মাঝারি বৃষ্টি / ছবি: বার্তা২৪

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পরবর্তী সময় থেকে তীব্র দাবদাহের পর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। কমেছে তাপমাত্রাও। এতে অতিষ্ঠ জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি। এছাড়া রমজান মাস হওয়ায় রোজাদারদের মধ্যেও ফিরেছে প্রশান্তি।

সোমবার (১৩ মে) রাত ১১ টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। থেমে থেমে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে।

এদিকে রাস্তায় থাকা ব্যস্ত মানুষরা বৃষ্টির কারণে আটকে যান। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আপাশের দোকানপাটে ছুটে যায় মানুষ।

এর আগে সকালে রাজধানীতে রোদের তাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের ফাঁকে ফাঁকে মেঘও চোখে পড়ে। ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া বাতাস কোনো কোনো সময় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557768005601.jpg

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোববার রংপুর বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা বিভাগে বৃষ্টি চলছে। কোথাও শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ কমে আসছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বুধবার (১৫ মে) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এরপর আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখন গ্রীষ্মকাল হওয়ায় দেশে গরম বিরাজমান থাকবে।’ 

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এমরান হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত কয়েকদিনের গরমে খুব অস্বস্তি লাগছিল। এ বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।’ 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557769235566.jpg

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা রনি আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘একেতো গরম আবার ঠিক মতো বিদ্যুৎও থাকে না। এতে একেবারে অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখন কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে। শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারব।’

সোমবারের আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557768022322.jpg

রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, মাঈজদীকোর্ট ও রাঙামাটি অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গায় প্রশমিত হতে পারে।

অপরদিকে, ঢাকায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বাতাসের গতি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ১৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টায ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নদীবন্দরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :