প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, ৮ শিক্ষক বরখাস্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নেত্রকোনা
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটককৃত শিক্ষকরা, ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটককৃত শিক্ষকরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা হলে সরবরাহ করার অপরাধে নেত্রকোনার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বরখাস্তের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্তকৃত শিক্ষকরা হলেন, কেন্দুয়া পৌরসভার দিগদাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান, নওপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাওয়া বেগম, লিপা মুনালিসা, বলাইশিমুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাহমিনা আক্তার, মদন উপজেলার জঙ্গলটেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবুন্নাহার ডলি, খাগরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাকি আক্তার ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্মৃতি খানম।

এর আগে গত শনিবার (২৯ জুন) বরখাস্তকৃত আট শিক্ষকসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনসহ মোট ৯৭ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে একটি মামলা দায়ের করেন এসআই আবুল বাশার।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘আমার আওতাধীন কেন্দুয়া, মদন ও আটপাড়া উপজেলার আটজন সহকারী শিক্ষককে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাকি ও পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন আক্তারকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আবেদন জানিয়ে উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ময়মনসিংহ অঞ্চল বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহ করছিল একটি চক্র। তারা কেন্দুয়া পৌর এলাকার টেঙ্গুরী ছয়আনি মহল্লার মনিরুজ্জামান শামিমের বাড়িতে বসে এ কাজ করছিল।

খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে শিক্ষকসহ ৩৪ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশ দুটি ল্যাপটপ, একটি ব্যাটারি, দুটি মডেম, সাতটি মোবাইল, একটি চার্জার ও অন্যান্য বইসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল জব্দ করে।

আপনার মতামত লিখুন :