নজরুল সংগীতের আইকন

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নজরুলের গানের কালজয়ী শিল্পী ফিরোজা বেগম

নজরুলের গানের কালজয়ী শিল্পী ফিরোজা বেগম

  • Font increase
  • Font Decrease

নজরুলের গানের কালজয়ী শিল্পী ফিরোজা বেগম (জন্ম-২৮ জুলাই ১৯৩০ - মৃত্যু- ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪) বিখ্যাত হয়ে আছেন বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনে। সমকাল ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নজরুল সংগীতের আইকন হিসাবে সম্মানিত তিনি। কিংবদন্তির শিল্পীর মর্যাদায় লাখো শ্রোতার হৃদয়ে তিনি চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছেন। 

ফিরোজা বেগমের জন্ম বৃহত্তর ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ জেলার রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মায়ের নাম বেগম কওকাবুন্নেসা।

শৈশবেই সংগীতের প্রতি অনুরাগ জন্মে এ গুণি শিল্পীর।১৯৪০-এর দশকে তিনি সংগীত ভুবনে পদার্পণ করেন। ফিরোজা বেগম ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে ৭৮ আরপিএম ডিস্কে ইসলামী গান নিয়ে তার প্রথম রেকর্ড বের হয়। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড হয়। এ রেকর্ডের গান ছিল- 'ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ' আর 'প্রীত শিখানে আয়া'।

দশ বছর বয়সে ফিরোজা বেগম কাজী নজরুলের সান্নিধ্যে আসেন এবং সরাসরি তার কাছ থেকে তালিম গ্রহণ করেন। নজরুলের গান নিয়ে প্রকাশিত তার প্রথম রেকর্ড বের হয় ১৯৪৯ সালে। কাজী নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ফিরোজা বেগম নজরুলসঙ্গীতের শুদ্ধ স্বরলিপি ও সুর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি ৩৮০টির বেশি একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। নজরুলসঙ্গীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাত-সহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি ১৯৫৪ সাল থেকে কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন এবং ১৯৫৫ সালে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৬৭ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। তার তিন সন্তান তাহসিন, হামিন, শাফিন। হামিন ও শাফিন - উভয়েই রকব্যান্ড দল মাইলসের সদস্য।

সঙ্গীতচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি দেশের 'সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার' হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” অর্জন ছাড়ান। এছাড়াও তিনি একুশে পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র পুরস্কার, সত্যজিৎ রায় পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক,  বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী স্বর্ণপদক, সেরা নজরুল সংগীতশিল্পী পুরস্কার (একাধিকবার, নজরুল আকাদেমি পদক, চুরুলিয়া স্বর্ণপদক, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট লাভ করেন।

তিনি জাপানের অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিবিএস থেকে গোল্ড ডিস্ক, ২০১১ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেন। ১২ এপ্রিল ২০১২ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে "বঙ্গ সম্মান" পুরস্কার গ্রহণ করেন।

২৮ জুলাই ২০১৮ সালে তার ৮৮ তম জন্মদিনে গুগলডুডল তৈরি করে সম্মননা প্রদান করে।কিডনি জটিলতায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :