Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শপথ নেওয়ায় বহিষ্কার হবেন জাহিদুর, বলছে বিএনপি

শপথ নেওয়ায় বহিষ্কার হবেন জাহিদুর, বলছে বিএনপি
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হঠাৎ করেই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান। এতে বিক্ষুব্ধ দলের নেতাকর্মীরা। দল থেকে তিনি বহিষ্কৃত হতে পারেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তিনি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন। এ জন্য দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তই রয়েছে। এর মধ্যেও শপথ নেওয়ায় জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বহিষ্কৃত হবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর কার্যালয়ে বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমানকে শপথ পাঠ করান।

শপথ গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার বিষয়ে দল যেন কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। সেটা তো জেনেশুনেই শপথ গ্রহণ করেছি। দল যদি মনে করে বহিষ্কার করবে, করতেই পরে। বহিষ্কার করলেও কিন্তু আমি দলে আছি। আমি এই দলের একজন নিবেদিত প্রাণ। সেই ছাত্র জীবন থেকে দীর্ঘ ৩৮ বছর এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কাজেই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি তো বিএনপি থেকে বহিষ্কার হবো না। আমি আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাব। আমার নেত্রী একজন বয়স্ক নারী, ৭৩ বছর বয়স। উনাকে যেন গণতন্ত্রের স্বার্থে মুক্তি দেওয়া হয়, এ আহ্বানও আমি রাখব। এটাই আমার প্রথম অঙ্গীকার।’

এদিকে জাহিদুর রহমানের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত যে আমরা পার্লামেন্টে যাবো না। দলের সিদ্ধান্ত যিনি অমান্য করবেন তারা দলের লোক হিসেবে বিবেচিত হবে না। এই সহজ কথাটি আপনারা বুঝে নেন। এতে আমরা ক্লান্ত নই, ভীত নই। ৩০০ আসনই যেখানে নির্বাচিত নয়। এর সবাই যদি এক সঙ্গে হয়ে বলে, আমরা নির্বাচিত, তাহলে জনগণ যে থুতু মারবে, সেই থুতুর ঢলে তারা একসময় ভেসে যাবে। সেদিন বুঝতে পারবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পরিণতি কি।’

আরও পড়ুন:

শপথ গ্রহণকারীরা জনগণের থুতুর ঢলে ভেসে যাবেন: গয়েশ্বর

জাহিদুরের শপথগ্রহণ: ধরা দিল ২৭ বছরের স্বপ্ন

‘মানুষের চাপে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরেই শপথ নিয়েছি’

 

আপনার মতামত লিখুন :

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন
জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান নন বলে বিবৃতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ সহ দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত না নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।  

বিবৃতির বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম।

বিবৃতিতে রওশন এরশাদ সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, জিএম কাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছেন। তিনি দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু হুট করে আলাপ-আলোচনা ছাড়া তাকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা। কারণ, তাকে জাপার চেয়ারম্যান করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি রওশনপন্থি নেতারা আহ্বান জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ঘোষণার পর থেকেই বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এরশাদের নির্ধারিত কক্ষে বসতে দেখা গেছে জিএম কাদেরকে। তিনি সে সময় উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

জাতীয় পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে নিজের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এরশাদ। পরবর্তীতে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন তিনি নিজেই।

JAPA

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন নির্দেশনার পর থেকে এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জিএম কাদের পালন করে আসছিলেন।

জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত বাতিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম সোমবারের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরদিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা ঘোষণা করা হয় রওশন এরশাদকে।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশনপন্থিদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন তিনি।

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
প্রতীকী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত দেশব্যাপী আবারও নতুন কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সরকার বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বার্তাটোয়ন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে বর্তমানে বড় কোন ইস্যু নেই। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের মেগা প্রকল্প জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কোন সাধারণ নাগরিক নয়। এদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো ঘিরে গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এই চক্রটি আবার ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দিয়ে গণপিটুনির নামে নিরীহ মানুষকে খুন করাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের চলমান ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার শুরু করেছে। এরা আবারও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

এই পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির তদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এদের ইন্ধনদাতা বা সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদোহের শামিল। তাছাড়া গণপিটুনির নামে কাউকে হত্যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।

সন্দেহের তালিকায় কারা আছে, এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গোয়ন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন সময়মত সব জানানো হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার (২২ জুলাই) নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে ছেলেধরা গুজবে মানুষকে যেভাবে পেটানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। আপনারা জানেন যে, পদ্মা সেতুতে মাথা চাই—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব ঘটনা ঘটছে।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব রটানো হয়। এর পরই নেত্রকোনা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে এক শিশুর মাথা পাওয়ার পর তাকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়।

এর পরই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনি। এই গুজবে গত চারদিনে প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র