Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

সঞ্চয়ী হতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি

সঞ্চয়ী হতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

যা আয় করছেন তার সবই খরচ হয়ে যাচ্ছে নানান ধরণের কেনাকাটায়।

মাসের শেষে হাতে থাকছে না একটি টাকাও। এমনটা হবার একমাত্র কারণ হলো- বেহিসেবি খরচ করা, সঞ্চয় না করা। সঞ্চয়ী না হবার ফলে শুধু প্রতি মাসের শেষে নয়, বিপদে পড়তে হতে পারে যে কোন সময়েই।

সঞ্চয়ী হতে প্রয়োজন ছোটখাটো কিছু পরিকল্পনা ও নিজের ইচ্ছাশক্তি। তবেই খুব সহজে নিজেকে সঞ্চয়ী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইচ্ছা ও প্রয়োজনের মাঝে পার্থক্য করা

দোকানে কিংবা অনলাইন সাইটগুলোতে ঘোরাঘুরির ফলে অনেক কিছুই কিনতে ইচ্ছা করে। হাতে টাকা বা কার্ড থাকলেই যে পছন্দের জিনিসগুলো কিনে ফেলতে হবে এমনটা নয়। কোন জিনিসটি প্রয়োজন ও কোন জিনিসটি নিতান্তই পছন্দ, সেটা বুঝতে হবে। প্রয়োজনীয় জিনিসটি কেনার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই, তবে অপ্রয়োজনীয় কিন্তু পছন্দসই জিনিস কেনা থেকে নিজেকে নিবৃত রাখতে হবে যথাসম্ভব। নইলে সঞ্চয় করা সম্ভব হবে না একেবারেই।

বাজেট তৈরি করা

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও, খরচ যেন কোন বাধা মানতেই চায় না। সেক্ষেত্রে একদম মাসের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করে নিতে হবে। কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে, এবং বাড়তি খরচ হিসেবে কত টাকা ধরা হবে- সব কিছুই থাকবে সেই বাজেটের ভেতর। অবশ্যই এই বাজেটে বিভিন্ন ভাড়া ও বিলের সঙ্গে একেবারে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও প্রাধান্য পাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/18/1550479788680.jpg

কার্ড নয় ক্যাশ

ওয়ালেট কম ভারি রাখা কিংবা নিজেকে স্মার্ট করে তোলার জন্য কার্ডের ব্যবহার উপযোগী হলেও, টাকা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কার্ডের ব্যবহার ঠিক সমানুপাতিক হারেই ক্ষতিকর। কার্ড ব্যবহারে বিলের টাকার অংকটি দেখা হলেও নিজ হাতে টাকা খরচ করা হয় না বলে বোঝা যায় না ঠিক কত টাকা অহেতুক খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরাসরি টাকার লেনদেনে বিষয়টি মনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং বোঝা যায় কত টাকা খরচ হচ্ছে।

খুচরা টাকার বিষয়েও নজর রাখা

কেনাকাটার সময় যে সকল ভাংতি টাকা পাওয়া হয় সেগুলো গুছিয়ে রাখা হয় কি? দুই টাকা থেকে শুরু করে দশ-বিশ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন খুচরা নোটগুলো যদি গুছিয়ে রাখা হয় তবে মাসের শেষে দেখা যাবে বেশ বড়সড় অংকের টাকা হয়ে গিয়েছে। সামান্য এই বিষয়ের প্রতি খেয়াল করলেও সঞ্চয়ের হিসাবটা মেলাতে সুবিধা হবে।

কোন কিছু কেনার আগে ‘ডিল’ দেখা

একটু অদ্ভুত শোনালেও এই অভ্যাসটি সঞ্চয় তৈরিতে অনেকটাই প্রভাব ফেলে। ধরুন সামান্য টুথপেস্ট কেনার ক্ষেত্রে আপনি বড়জোর কোম্পানির বিষয়টি লক্ষ করবেন, কিন্তু তার ওজন ও পরিমাণের বিষয়টি কি দেখবেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হবে- না। কিন্তু সামান্য এই বিষয়টিও কেনাকাটা, খরচ ও সঞ্চয়ের উপরে প্রভাব ফেলে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন অফারে দারুণ জিনিস পাওয়া যায় অথবা দুইটি জিনিস একসাথে পাওয়া যায় তুলনামূলক কম দামে। এই বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখতে হবে।

ছোট থেকেই শুরু করা

সঞ্চয়ের জন্য একেবারে বড় অংকের টাকা দিয়েই সঞ্চয় শুরু করতে হবে এমন কোন কথা নেই। পঞ্চাশ কি একশত টাকা দিয়েই সঞ্চয়ের শুরুটা করা যায়। একবার যদি শুরুটা করা যায় তবে একটা নির্দিষ্ট সময় পরে সেটা ঠিকই একটি সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন: নতুন বছর আসুক সঞ্চয়ের প্রতিজ্ঞায়

আরও পড়ুন: অমনোযোগে বেশি খাওয়া হচ্ছে?

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র