শিশুর কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা দিচ্ছে যে সকল কারণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোষ্ঠ্যকাঠিন্য একটি কষ্টদায়ক ও বিরক্তিকর সমস্যা।

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে এই সমস্যাটি বেশী দেখা যায়। কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, পাইলস এবং এনাল ফিশারের মত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বলে, সাময়িক এই সমস্যাটিকে অবহেলা করার কিছু নেই। তবে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে নয়, শিশুদের মাঝেও দেখা দিয়ে থাকে।  

পরিচিত শারীরিক এই সমস্যাটি কমপক্ষে ২ শতাংশ ৭ বছর বয়সী শিশুর মাঝে দেখা দেয়। এছাড়া অন্য বয়সীদের ক্ষেত্রেও অনুপাতটা কাছাকাছি। কিন্তু শিশুদের মাঝে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের মত সমস্যাটি তৈরি হবার কারণগুলো সম্পর্কে জানেন না অনেকেই। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

১. কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও অন্ত্রের ক্রিয়া এর জন্য প্রধানত দায়ি।

২. খাদ্য তালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের ঘাটতি ও অপর্যাপ্ত পানি পান করার ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যার মুখোমুখি হয় শিশুরা।

৩. অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া এই সমস্যাকে আরও অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। সময়মত খাবার খেলে অনেকাংশেই এই সমস্যা রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

৪. অসুস্থতা কিংবা গরম আবহাওয়ার কারণেও অনেক সময় শিশুর মল শক্ত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/28/1551354744835.jpg

৫. অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে সবসময় ডায়পার পরিয়ে রাখেন। কমদামী ডায়পারগুলো দীর্ঘসময় ব্যবহারের ফলে মলদ্বার ছিলে যেতে পারে। যে কারণে মলত্যাগের সময় শিশুর বেশ কষ্ট পেতে হয়। এই সমস্যাটি থেকেও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাটি দেখা দেয়।

৬. শিশুদের নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা আবশ্যক। প্রয়োজনমত মল ত্যাগ না করার জন্য মলাশয়ে মল জমে থাকে এবং সেগুলো স্বাভাবিক আকৃতির থেকে বড় হয়ে যায়। মলাশয়ে জমে থাকার জন্য মলাশয়ের পেশী মলের সব রস শোষণ করে নেয় এবং মলকে যতটা সম্ভব শক্ত করে ফেলে। যা থেকে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাটি তৈরি হয়।

৭. স্বাভাবিক মলাশয় মল বের করতে চাপ দেয় এবং স্নায়ুর মাধ্যমে শিশুকে জানান দেয়, মলত্যাগ করার সময় হয়েছে। কিন্তু মল চেপে রাখার কারণে মলাশয়ের পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে ফলে জমে থাকা শক্ত মল বের করতে পর্যাপ্ত চাপ দিতে না পারায় শিশু বুঝতে পারেনা।

৮. মাঝে মাঝে অপেক্ষাকৃত তরল মলগুলো শক্ত মলের আশপাশ দিয়ে বের হয়। মল জমে শক্ত হয়ে যাওয়ায় মলাশয়ের নার্ভ দুর্বল ও কম সক্রিয় হয়ে পড়ে।

৯. স্কুলগামী শিশুদের মাঝে দীর্ঘক্ষণ মল আটকে রাখার প্রবণতা দেখা দেয়। লজ্জা, ভয় কিংবা অস্বস্তির জন্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা এমন করে বলে দেখা যায়।

১০. মলত্যাগে কষ্ট হওয়ায় শিশুরা চাপ দিয়ে মলত্যাগ করতে চায় না। ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা শিশুর চলতেই থাকে।

দেখা যাচ্ছে, একটি সমস্যা থেকেই মূলত আরেকটি সমস্যার সূত্রপাত হয় এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাটি এভাবেই দেখা দেয়। যে কারণে শিশুদের মাঝ থেকে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাটি দূর করতে চাইলে তাদের মল ত্যাগের অভ্যাসের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

আরও পড়ুন: আগ্রহ নিয়ে শিশুও খাবে সবজি!

আরও পড়ুন: পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর এই খাবারগুলো