Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সম্পর্কের নীরব ঘাতক ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’

সম্পর্কের নীরব ঘাতক ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’
বোঝাপড়ার সমস্যাটি শুরু হয় সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট থেকেই, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিটি সম্পর্কেই মনোমালিন্য থাকবে, কথা কাটাকাটি কিংবা ছোট-বড় বিষয়ে তর্ক হবে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসকল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোন কারণে মতের অমিল হলে কিংবা তর্ক দেখা দিলে দুজনে মিলে কথা বলে তার সমাধান না করে চুপ হয়ে যাওয়ার অভ্যাসটি, সম্পর্কের উপর নেতিবাচক ছায়া ব্যতীত ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না।

কোন কারণে চুপ হয়ে যাওয়া, কথাবার্তা বা ভাবের আদানপ্রদান বন্ধ করে দেওয়া এবং সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় না যাওয়াকেই বলা হয়ে থাকে ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’। ‘কম্যুনিকেশন মনোগ্রাফ’ জার্নালের তথ্য মতে, যেকোন ধরণের সম্পর্কে বিবাদের ক্ষেত্রে অন্যতম বহুল ব্যবহৃত এবং সম্পর্ক নষ্টকারী প্রভাবযুক্ত রেসপন্স হলো সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট।

তবে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের বিষয়টি সম্পর্কে থাকা উভয়ের ওপর প্রভাব ফেললেও, মূলত এর জন্য দায়ি থাকে সম্পর্কে থাকা কোন একপক্ষ। সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টকে বলা হয়ে থাকে ‘ডিমান্ড-উইথড্রয়াল প্যাটার্ন’। এতে করে সম্পর্কে থাকা কোন একপক্ষ অপরপক্ষের মনোযোগ পেতে চাইলেও, অপরপক্ষের ক্রমাগত এড়িয়ে যাওয়া ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমেই মূলত সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট এর সূচনা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/18/1552905317628.jpg

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পল স্ক্রডট বলেন, ‘ম্যারিটাল থেরাপিস্টদের এই সমস্যাটি হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে ১৯৩০ সাল থেকেই। তবে ৮০র দশকে এসে গবেষকেরা এই বিষয়ে পড়ালেখা শুরু করেছে’। পল জানান, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের ফলে খুব সহজেই সম্পর্কে দ্বিমুখীতা চলে আসে। তিনি বেশ কিছু কেস স্টাডি করেন এবং ফলাফলে দেখান, যে সম্পর্কের মাঝে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের সমস্যা থাকে তাদের সম্পর্কে বন্ধুত্ব কম থাকে, নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকে এবং একেঅপরের সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা একেবারেই কম হয়।

এর পাশাপাশি খুব সহজেই সম্পর্কে বিরক্তিভাব চলে আসে সম্পর্কে। পরস্পরের মাঝে যোগাযোগের গ্যাপ থেকেই যা দেখা দেয়।

তবে সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট হলো ‘ইমোশনাল এবিউজমেন্ট’। যা খুব সূক্ষ্মভাবে সম্পর্কে থাকা অপরপক্ষের উপর মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা তৈরি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেরাপিস্ট ডাঃ কার্ট স্মিথ বলেন, ‘সাময়িক রাগকে প্রশমিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুপ থাকায় কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে আড়াল করা, সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে রাখা ও যোগাযোগ বন্ধ রাখার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে মানসিক চাপ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই করা হয়’।

ভালোবাসা কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের মতো সমস্যাটির উপস্থিতি দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্কেও এর প্রভাব চলে আসে। তবে যেকোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট কখনোই কাম্য নয়। এতে করে একটি সুন্দর, সুস্থ সম্পর্ক কোনভাবেই গড়ে উঠতে পারবে না।

আরও পড়ুন: সম্পর্কে ‘দূরত্ব’ তৈরি করছে যে আচরণগুলো

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র