Alexa

সম্পর্কের নীরব ঘাতক ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’

সম্পর্কের নীরব ঘাতক ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’

বোঝাপড়ার সমস্যাটি শুরু হয় সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট থেকেই, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি সম্পর্কেই মনোমালিন্য থাকবে, কথা কাটাকাটি কিংবা ছোট-বড় বিষয়ে তর্ক হবে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসকল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোন কারণে মতের অমিল হলে কিংবা তর্ক দেখা দিলে দুজনে মিলে কথা বলে তার সমাধান না করে চুপ হয়ে যাওয়ার অভ্যাসটি, সম্পর্কের উপর নেতিবাচক ছায়া ব্যতীত ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না।

কোন কারণে চুপ হয়ে যাওয়া, কথাবার্তা বা ভাবের আদানপ্রদান বন্ধ করে দেওয়া এবং সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় না যাওয়াকেই বলা হয়ে থাকে ‘সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট’। ‘কম্যুনিকেশন মনোগ্রাফ’ জার্নালের তথ্য মতে, যেকোন ধরণের সম্পর্কে বিবাদের ক্ষেত্রে অন্যতম বহুল ব্যবহৃত এবং সম্পর্ক নষ্টকারী প্রভাবযুক্ত রেসপন্স হলো সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট।

তবে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের বিষয়টি সম্পর্কে থাকা উভয়ের ওপর প্রভাব ফেললেও, মূলত এর জন্য দায়ি থাকে সম্পর্কে থাকা কোন একপক্ষ। সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টকে বলা হয়ে থাকে ‘ডিমান্ড-উইথড্রয়াল প্যাটার্ন’। এতে করে সম্পর্কে থাকা কোন একপক্ষ অপরপক্ষের মনোযোগ পেতে চাইলেও, অপরপক্ষের ক্রমাগত এড়িয়ে যাওয়া ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমেই মূলত সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট এর সূচনা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/18/1552905317628.jpg

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পল স্ক্রডট বলেন, ‘ম্যারিটাল থেরাপিস্টদের এই সমস্যাটি হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে ১৯৩০ সাল থেকেই। তবে ৮০র দশকে এসে গবেষকেরা এই বিষয়ে পড়ালেখা শুরু করেছে’। পল জানান, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের ফলে খুব সহজেই সম্পর্কে দ্বিমুখীতা চলে আসে। তিনি বেশ কিছু কেস স্টাডি করেন এবং ফলাফলে দেখান, যে সম্পর্কের মাঝে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের সমস্যা থাকে তাদের সম্পর্কে বন্ধুত্ব কম থাকে, নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকে এবং একেঅপরের সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা একেবারেই কম হয়।

এর পাশাপাশি খুব সহজেই সম্পর্কে বিরক্তিভাব চলে আসে সম্পর্কে। পরস্পরের মাঝে যোগাযোগের গ্যাপ থেকেই যা দেখা দেয়।

তবে সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট হলো ‘ইমোশনাল এবিউজমেন্ট’। যা খুব সূক্ষ্মভাবে সম্পর্কে থাকা অপরপক্ষের উপর মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা তৈরি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেরাপিস্ট ডাঃ কার্ট স্মিথ বলেন, ‘সাময়িক রাগকে প্রশমিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুপ থাকায় কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে আড়াল করা, সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে রাখা ও যোগাযোগ বন্ধ রাখার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে মানসিক চাপ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই করা হয়’।

ভালোবাসা কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাইলেন্ট ট্রিটমেন্টের মতো সমস্যাটির উপস্থিতি দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সম্পর্কেও এর প্রভাব চলে আসে। তবে যেকোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই হোক না কেন, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট কখনোই কাম্য নয়। এতে করে একটি সুন্দর, সুস্থ সম্পর্ক কোনভাবেই গড়ে উঠতে পারবে না।

আরও পড়ুন: সম্পর্কে ‘দূরত্ব’ তৈরি করছে যে আচরণগুলো

আপনার মতামত লিখুন :