Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রশান্তিতে তরমুজ

প্রশান্তিতে তরমুজ
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশাখের শুরু থেকেই গরমের প্রচণ্ডতা দেখা দেওয়া শুরু হয়।

গরমে ঘাম হয় যতটা, ক্লান্তিও দেখা দেয় ততখানি। গরমের মাঝে প্রাণ জুড়াতে ও প্রশান্তি আনতে হাতের কাছেই পাওয়া যাবে চমৎকার ফল তরমুজ।

মৌসুমি এই ফলটি অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় বলেই, পুরো মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও স্বল্প ক্যালোরিযুক্ত মিষ্টি এই ফলটি দুশ্চিন্তা ছাড়াই খাওয়া যাবে পেট ভরে। শুধু সুস্বাদ কিংবা প্রশান্তির জন্যেই নয়, দারুণ স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যেও নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন তরমুজ।

পানির ঘাটতি পূরণ করে

শরীরে পানি স্বল্পতা প্রতিরোধে পানি পান আবশ্যক। তবে যাদের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পান করা হয় না, তরমুজ সেক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে কাজ করবে। ৯২ শতাংশ জলীয় অংশ পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ফল তরমুজ, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি পূরণে কাজ করে।

রয়েছে নানাবিধ পুষ্টি উপকারিতা

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর ফলের মাঝে তরমুজের ক্যালোরি সবচাইতে কম। ১৫৫ গ্রাম (এক কাপ) তরমুজে রয়েছে মাত্র ৪৬ ক্যালোরি। যা সবচেয়ে কম চিনিযুক্ত ফল বেরির থেকেও কম। ফলে পেট ভরে খাওয়া যাবে এই ফলটি। ক্যালোরির মাত্রা কম হলেও, পুষ্টিতে ভরপুর তরমুজ থেকে পাওয়া যাবে- ভিটামিন-সি, এ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-বি১, বি৫ ও বি৬। এছাড়া আরও রয়েছে ক্যারোটেনয়েডস, বেটা- ক্যারোটিন, লাইকোপেন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরি অ্যামিনো অ্যাসিড।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555308124663.jpg

সুস্থ রাখে হৃদযন্ত্র

পুরো বিশ্বে হৃদরোগের সমস্যাটি অবস্থান করছে শীর্ষে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে গুরুত্বর এই সমস্যাটির ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কোলেস্টেরল এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে অহরহ।

সেক্ষেত্রে গবেষণা জানাচ্ছে তরমুজে থাকা লাইকোপেন কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপের মাত্রা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বাড়তি কোলেস্টেরলের ফলে অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমাতে কাজ করে।

এছাড়া উপকারী এই ফলে থাকে সাইট্রালিন (Citrulline), এক প্রকারের অ্যামিনো অ্যাসিড। যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি করে রক্তনালীকাগুলোকে প্রশস্ত করতে কাজ করে।

হজমজনিত সমস্যা কমায়

নতুন করে বলার কিছু নেই যে, তরমুজ থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি। তবে পানির সঙ্গে আরও পাওয়া যায় খাদ্যআঁশ। পানি ও আঁশ, উভয় উপাদানই খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555308151869.jpg

ত্বক ও চুল সুস্থ রাখে

তরমুজে থাকা ভিটামিন এ ও সি ত্বক ও চুলের সুস্থতার জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সমূহ। যা তরমুজ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। ভিতামিন-সি শরীরে কোলাজেন তৈরি করে। কোলাজেন এক প্রকারের প্রোটিন উপাদান, যা চুল ও ত্বকের সুস্থতা প্রদানে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন-এ ত্বক ও চুলের ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে।

পেশীর ব্যাথাভাব কমায়

স্বল্প ক্যালোরির এই ফলটিতে রয়েছে সাইট্রালিন (Citrulline) নামক অ্যামিনো অ্যাসিড। এই পুষ্টি উপাদানটি পেশীর ব্যাথাভাবকে কমাতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে তরমুজ, তরমুজের জ্যুস দুর্বল হার্টবিট ও পেশীর ব্যাথাভাবকে কমায় এতে থাকা সাইট্রালিনের উপস্থিতির জন্য।

আরও পড়ুন: ভিটামিন-সি পাওয়া যাবে অন্যান্য যে সকল ফলে

আরও পড়ুন: কাঁচা খেলে পুষ্টি মিলবে সম্পূর্ণ!

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র