Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে
গড়ে তুলতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শারীরিক অসুস্থতা সবসময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত।

সেটা যদি হয় ক্যানসারের মতো রোগ, সেখানে নিশ্চয় কোন প্রশ্নই আসে না। কোন রোগই বলে কয়ে আসে না- এই বিষয়টি যতখানি সত্য, ঠিক ততখানিই সত্য হলো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা ও সঠিক অভ্যাস যেকোন ধরনের ছোট-বড় রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা কখনোই স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে না। সামান্যতম অনিয়ম থেকেও দেখা দিতে পারে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি রোগ। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৩,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ছোবলে।

জেনে খুশি হবেন, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারকে দূরে রাখা সম্ভব হয়। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো এমন কয়েকটি নিয়ম যা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি ক্যানসারকেও দূরে রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

ধূমপান পরিহার করা

ক্যানসার তৈরি জন্য প্রধান যে অভ্যাসটিকে দায়ী করা হবে, নিঃসন্দেহে সেটা হলো ধূমপান। থ্রোট ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, কিডনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের পেছনে দায়ী থাকে ধূমপান। এমনকি ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা ব্যক্তিরাও ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকে বলেই, জনসম্মুখে ধূমপান করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন, ধূমপানের ফলে শুধু আপনি নন, আপনার আশেপাশের মানুষও ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এই বাজে অভ্যাসটি বাদ দিতে হবে পুরোপুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555500221599.jpg
প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে।

 

সুস্বাস্থ্যের উপর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। সবুজ শাক-সবজি ও ফলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ শরীরে টক্সিন পদার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

তাই চেষ্টা করতে হবে, প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ সবজি ও ফল খাওয়ার। উপকারী খাবারের পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পানের বিষয়েও সচেষ্ট থাকতে হবে।

সেই সাথে মনে রাখতে হবে, প্রসেসড ফুড থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার। ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি করে।

নিয়মতি শরীরচর্চা করা

গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, ধূমপানের পর বাড়তি ওজনের কারণে সবচেয়ে সংখ্যক মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। বাড়তি ওজনের ফলে হরমোনে তারতম্য দেখা দেয়। যা থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রচণ্ড রোদের আলো এড়িয়ে চলা

বেশ কয়েকটি ইন্সটিটিউশনের গবেষণা লব্ধ ফলাফল থেকে দেখা গেছে যে, প্রখর রোদের অতি বেগুনী রশ্মি স্কিন তথা ত্বকের ক্যানসারের জন্য দায়ী। সুস্বাস্থ্যের জন্য রোদের আলো প্রয়োজন হলেও, সকালে ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোদের আলো এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ এ সময়ের রোদের আলোতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে অবস্থানকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে ছাতা রাখতে হবে মনে করে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে প্রাত্যহিক যে সকল কাজে

আরও পড়ুন: ব্যস্ততা ও সুস্থতা থাকবে একসাথে!

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র