Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার: মিলের মাঝেও যত অমিল

বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার: মিলের মাঝেও যত অমিল
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

দুটো জিনিসের নাম প্রায় কাছাকাছি হওয়ায়, অনেকেই এই দুটো জিনিস কেনার সময় ভুল করে ফেলেন।

বেকিং সোডার পরিবর্তে বেকিং পাউডার কেনা হয়ে যায় প্রায় সময়। রান্না বা বেকিং এর ক্ষেত্রে কয়েকবার করে নিশ্চিত হয়ে নিতে হয় বেকিং পাউডার নাকি বেকিং সোডা, কোনটা ব্যবহার করতে হবে।

নামে মিল থাকলেও আদতে এই দুটো জিনিস একেবারেই ভিন্ন। খেয়াল করে দেখবেন, এই দুটো জিনিস দেখতেও এক নয়। পার্থক্য রয়েছে তাদের পাউডারের ঘনত্বেও। ভালোমতো জানা থাকলে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হয় বলেই আজকের ফিচার থেকে জেনে নিতে পারবেন, কোনটি বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার এবং কি তাদের ব্যবহার ও কার্যকারিতা।

বেকিং সোডা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555903174445.jpg
বেকিং সোডা

বেকিং সোডা দেখতে অনেকটাই অস্বচ্ছ স্ফটিক দানাদার। যা এক ধরনের অ্যালকালাইন লবণ। বেকিং সোডা মূলত বেকিং পাউডার, ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও অ্যান্টাসিডে ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত বিশুদ্ধ সোডিয়াম বাইকার্বোনেট। বেকিং সোডা আর্দ্রতাপূর্ণ ও অ্যাসিডিক উপাদান তথা দই, চকলেট, মধুর সাথে মিশ্রিত করা হলে কেলিক্যাল রিঅ্যাকশনে কার্বন ডাই অক্সাইডের উৎপত্তি হয়। যা উচ্চ তাপমাত্রায় ওভেন বেকড খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তবে বেকিং সোডা ব্যবহারে সাথে সাথেই তার কার্যকারিতা শুরু হয়। এ কারণে যে সকল খাদ্য তৈরির রেসিপিতে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে বলা হয়, সে খাবারগুলো দ্রুত বেক করে ফেলতে হবে। নয়তো বেকিং সোডার কার্যকারিতা হারাবে।

বেকিং পাউডার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555903214398.jpg
বেকিং পাউডার

বেকিং পাউডার মূলত তিনটি উপাদানে তৈরি হয়- অ্যাসিড, বেইস ও ফিলার। যেখানে বেকিং সোডা বেইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেকিং পাউডার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাবল-অ্যাকটিং বেকিং পাউডার হিসেবে পাওয়া যায়। যা মূলত দুইটি ধাপে তার কার্যকারিতা প্রকাশ করে। রেসিপি অনুযায়ি খাদ্যদ্রব্যের সাথে মেশানোর পর একবার তার কার্যকারিতা দেখা যায় এবং পরবর্তিতে উচ্চ তাপে পুনরায় তার কার্যকারিতা প্রকাশ পায়। এতে করে ময়দা ময়ান দেওয়ার সময় বেকিং পাউডার ব্যবহার করে কিছুক্ষণ রেখে দেওয়া হয়। এ সময়ে মাঝে তা বেশ খানিকটা ফুলে ওঠে। পরবর্তীতে উচ্চ তাপে তা বেশ খানিকটা ফোলে। এ কারণেই কোন খাবার বেক করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়, যেন খাবারটি সুন্দরভাবে ফোলে।

কোন খাবারে কোনটি ব্যবহার করতে হবে?

মূলত খাবার তৈরির রেসিপির উপরে নির্ভর করে, বেকিং সোডা নাকি বেকিং পাউডার প্রয়োজন হবে। বেকিং সোডার পরিবর্তে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে পরিমাণে একটু বেশি ব্যবহার করতে হবে। তবে বেকিং পাউডারের পরিবর্তে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বেকিং সোডায় অ্যাসিডিটির মাত্রা কম থাকে, যা খাবারকে ফোলাতে পারবে না। তাই খাবারের রেসিপি অনুযায়ি বেকিং সোডা ও পাউডারের ব্যবহার করলে খাবার ভালোভাবে তৈরি করা যাবে।

আরও পড়ুন: বেকিং সোডার চমৎকার ছয় ব্যবহার

আরও পড়ুন: বেক করতে ঘরোয়া তাপমাত্রার ডিম!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র