Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ঈদে ঘর গোছাতে ফেলে দিন অপ্রয়োজনীয় জিনিস

ঈদে ঘর গোছাতে ফেলে দিন অপ্রয়োজনীয় জিনিস
পুরনো পুতুল ও খেলনা সরিয়ে ফেলতে হবে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ঘরদোর পরিষ্কার ও গোছগাছের সময় ততই এগিয়ে আসবে।

ঈদের দিন পুরো বাড়ি যেন তকতকে থাকে সেই প্রচেষ্টা থাকে সবার মাঝে। আত্মীয় ও মেহমানেরা যেন বাসায় ঢুকেই প্রশান্তি অনুভব করেন, এমনটাই চাওয়া থাকে সকলের।

কিন্তু বাসাবাড়ি পরিষ্কার করা ও গোছানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। এমনকি অল্প সময়ের মাঝেও শেষ করা সম্ভব নয়। হাতে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে তবেই পুরো বাসাবাড়ি গুছিয়ে তোলা সম্ভব হয়।

আজকের ফিচারে তাই তুলে ধরা হলো এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিসের নাম, যা আপনার বাড়িতে প্রয়োজনে পরে রয়েছে এবং ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এই সকল জিনিসগুলো আলাদাভাবে গুছিয়ে ফেলে দিলেও, ঘরে অনেকটা খালি জায়গা তৈরি হবে।

খালি বোতল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/29/1559117258042.jpg

অবশ্যই প্রথমেই এই জিনিসটি ঘরের আনাচেকানাচে থেকে খুঁজে বের করুন। একদম ছোট-বড় সকল সাইজের কোমল পানীয় ও জ্যুসের খালি বোতল পাওয়া যাবে বাসাতে। এই বোতলগুলো বেশিরভাগ সময়েই রিইউজেবল থাকে না এবং প্লাস্টিকের বোতল হওয়ার দরুন এগুলো ব্যবহার করাও উচিৎ হবে না। তাই এগুলো আগে ফেলে দিন।

পুরনো খেলনা-পুতুল

ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য অনেকেই স্টাফড টয় তথা বিভিন্ন ধরনের পুতুল কিনে থাকেন। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে এই পুতুলগুলো পুরনো ও নষ্ট হয়ে যায়। বহু দিনের পুরনো পুতুলগুলো ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিবর্তে ঘরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকটাই কেড়ে নেয়। তাই এগুলোও ফেলে দিতে হবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য

কোনভাবেই মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করা উচিৎ হবে না। এই জিনিসগুলো সংগ্রহে রাখলে অহেতুক জায়গা দখল করে থাকে এবং এই সকল জিনিস ব্যবহারে ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। ঈদের গোছগাছে মেয়াদোত্তীর্ণ যেকোন ধরনের পণ্য ফেলে দিন। সেটা হতে পারে খাদ্যদ্রব্য, মেকআপ পণ্য, ওষুধ কিংবা ক্লিনিং পণ্য।

রেফ্রিজারেটরের জিনিসপত্র

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/29/1559117387277.jpg

বাসার ফ্রিজটি খুলে দেখুন একবার। কতদিন আগের সস, মেয়নেজ কিংবা চিজ পরে রয়েছে। খুঁজলে মাস দুয়েক আগের জ্যুসের কার্টুনও হয়তো পাওয়া যাবে। শুধু ফ্রিজ নয়, রান্নাঘরে কিংবা খাওয়ার টেবিলেও এমন অসংখ্য মশলার কৌটা পরে রয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা বহুদিন হয়ে গেছে বিধায় নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো সরিয়ে ফেলুন।

পুরনো পেপার ও ম্যাগাজিন

বসার ঘরেই হয়তো স্তুপ আকারে জমে আছে পুরনো খবরের কাগজ ও ম্যাগাজিন। যেগুলা কোন কাজে তো আসেই না, বরং ঘরে বাড়তি স্থান দখল করে রয়েছে। এমন ধরনের জিনিসগুলো ঘরে জঞ্জাল তৈরি করে। এই খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, খাতা বা বই পুরো বাসা খুঁজে একত্রে করে বিক্রি করে দিন এর মাঝেই।

ভাঙা ও পুরনো শো-পিস

খুব প্রিয় কোন শো-পিস হালকা ভেঙে গেলেও আমরা সেটা রেখে দেই। ফেলে দিতে মায়া লাগে যে! কিন্তু এই ভাঙাচোরা জিনিসগুলো খুব সন্তর্পণে ঘরের সৌন্দর্যকে কমিয়ে দেয়। তবে এমন ধরনের জিনিসগুলোকে বিদায় জানানোই শ্রেয়।

আরও পড়ুন: চিনির বিকল্পে চার উপাদান

আরও পড়ুন: হিমশিম খাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে?

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র