Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ছুটি নির্বিঘ্নে কাটাতে বাজার করে ফেলুন আজই!

ছুটি নির্বিঘ্নে কাটাতে বাজার করে ফেলুন আজই!
আগে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহে থাকলে সমস্যায় পড়তে হবে না, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হয়ে গেলো লম্বা সময়ের ঈদ ছুটি।

কাঙ্ক্ষিত এই ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিকল্পনা করেছেন দেশের বাড়ি যাওয়ার কিংবা ভ্রমণে বের হওয়ার। তবে পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ বাসাতে রিল্যাক্সে সময় কাটানো দলের মানুষও নেহাত কম নয়। আরামপ্রিয় মানুষেরা এমন একটা ছুটির জন্যেই অপেক্ষা করে থাকেন। ছুটিতে প্রিয় মানুষদের সাথে একান্তে, পছন্দের বই ও সিনেমার সাথে সময়গুলো পার করে দেওয়ার লোভ এড়িয়ে যাওয়া কষ্টকর বটে।

তবে শুধুই বিশ্রাম, বই ও সিনেমার সাথে এতগুলো দিন পার করে দেওয়া সম্ভব নয় নিশ্চয়। খাওয়াদাওয়াও তো করা চাই। সাথে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ও নিত্যদিনের চাহিদাও তো রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে কি!

যেহেতু লম্বা সময়ের ছুটি পাচ্ছেন সকলে, মুদি দোকান, বাজার, সুপার শপ কিংবা ভ্রাম্যমান ফল-সবজি ও অন্যান্য জিনিসের বিক্রেতারাও এ সময়ে তাদের অবকাশ পালনে থাকবেন। ফলে বন্ধ থাকবে এলাকার ছোটখাটো দোকান থেকে বড় সুপার শপগুলোও। সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

আজকের দিনে তালিকা তৈরি করে আগামী ১০ দিনের জন্য বাজার করে ফেললে কোন রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না। চলুন তাহলে একটু আলোচনা করা যাক, কোন জিনিসগুলো কেনা প্রয়োজন হতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559279922665.jpg

প্রথমেই কাঁচাবাজারের দিকে নজর দিন। ফল, সবজি, শাক, মাংস, মাছের মতো উপাদানগুলো কিনে রাখুন। ফল, শাক, সবজি ফ্রিজে সংরক্ষণ করলেও এতো লম্বা সময় ভালো থাকবে না। সেক্ষেত্রে এগুলো পরিষ্কার করে কেটে ডিপ ফ্রিজ সংরক্ষণ করতে হবে। এদিকে ঈদের এই লম্বা বন্ধে বরাবরের মতোই তরল দুধের সংকট দেখা দিবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে চেষ্টা করুন যতটা বেশি সম্ভব তরল দুধের প্যাকেট কিনে রাখতে।

এরপরে আসা যাক মশলা ও অন্যান্য উপাদানের বিষয়ে। চাইলেই এই বন্ধের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মশলা, বাদাম প্রভৃতি পাওয়া যাবে না। তাই রান্নাঘর ঘুরে প্রয়োজনীয় প্রতিটি মশলা ও এ ধরনের উপাদান, তথা- আদা, রসুন, পেঁয়াজ, ধনিয়া-পুদিনার পাতা প্রভৃতি তালিকায় যোগ করে নিন।

ঈদের প্রথম দুই-তিনদিন ঈদের নানান পদ খাওয়া হবে। এরপরে হালকা কিছু খাওয়ার জন্য বিস্কুট, টোস্ট বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো খাবারগুলো কিনে রাখতে পারেন। সাথে বাড়তি চা পাতা কিনে রাখতে পারেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559280219926.jpg

এর মধ্যে সবচেয়ে জরুরি হলো প্রয়োজনীয় ওষুধ। সাধারণত এলাকার ওষুধের দোকান বন্ধের সময়েও খোলা থাকে। তবে ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে রাখুন। সেই সাথে স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুদের ডায়পার মতো জিনিসগুলোও সংগ্রহে রাখুন।

যেহেতু গ্রীষ্মকালে পড়েছে এবারের ঈদ, লোডশেডিং এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে মোমবাতিও কিনে রাখুন। যে কোন প্রয়োজনে কাজে আসবে।

সাথে বক্স টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, কিচেন টিস্যু, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু-সাবানের মতো টুকিটাকি জিনিসগুলোও সংগ্রহে রাখুন। হুট করে যদি দেখেন প্রয়োজনের সময়ে কোন একটি জিনিস শেষ হয়ে গেছে তবে সমস্যায় পড়তে হবে।

এছাড়া আপনার ব্যক্তিগত কোন জিনিসটি প্রয়োজন সেটার দিকেও নজর দিন। সকল প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থাকলে ছুটির সময়টিতে নির্বিঘ্নে কাটানো যাবে।

আরও পড়ুন: ঈদ ছুটিতে লাগেজ গোছাতে...

আরও পড়ুন: ছুটির মাঝে গাছ কীভাবে ভালো থাকবে?

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র