Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খাবারের ভিন্নতায় সঙ্গী ওটস

খাবারের ভিন্নতায় সঙ্গী ওটস
ওটসের তৈরি মুখরোচক বিভিন্ন খাবার, ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিদিন সন্ধ্যায় চিন্তা করতে হয়, নাশতায় কী তৈরি করলে ভালো হবে।

বেশিরভাগ সময় নাশতায় বেছে নেয়া হয় ভাজাপোড়া ধরনের খাবার। সবসময় যদি তা-ই খাওয়া হয় তাহলে দেখা যেতে থাকে নানান ধরণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা।

সন্ধ্যায় খাওয়ার জন্য তাই বেছে নেয়া উচিৎ হালকা ঘরানার মজাদার ও পুষ্টিমানের খাবার। তেমন একটি খাদ্য উপাদান হলো ওটস।

ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন ‘বি’ সহ একগুচ্ছ পুষ্টি উপাদান। বিশেষত এতে বিদ্যমান ভিটামিন বি শরীরে কার্বোহাইড্রেট শোষণে সাহায্য করে।

ওটসে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, থায়ামিন ইত্যাদি রয়েছে, যা অন্যান্য শস্যজাতীয় খাবারের তুলনায় বেশি। এছাড়া কম পরিমাণ ফ্যাট থাকায়, ওটস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে সাহায্যকারী।

প্রতিদিনের বিকাল কিংবা সকালের নাশতায় খেতে দেখে নিন ওটসের তৈরি মজাদার, স্বাস্থ্যকর ও অভিনব খাবার তৈরি আইডিয়া।  

ওটসের ক্ষীর

স্বাভাবিকভাবে ভাতের চাল দিয়ে তৈরি হয় ক্ষীর এবং এতে ব্যবহৃত চাল শরীরে শর্করার পরিমান বাড়িয়ে দেয় অনেকটা। সেজন্য বেছে নিন ওটস। ক্ষীর তৈরির নিয়মেই তৈরি করতে পারেন ওটসের ক্ষীর। এছাড়া ফ্লেভারের জন্য যোগ করতে পারেন ড্রাই ফ্রুটস।

ওটসের লাড্ডু

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560947506366.jpg

আটা, চিনি, গুঁড়া দুধের মিশ্রণে তৈরি হয়ে থাকে লাড্ডু। এর পরিবর্তে নতুনভাবে করতে পারেন ওটস দিয়ে। ওটসের ময়দা বা গুঁড়া বাজারেই পাওয়া যায়। আটার পরিমান কিছুটা কমিয়ে বাড়তি দিতে পারেন ওটসের গুঁড়া এবং সাথে তিলের বীজ ও নারকেলের মিশ্রণ।

ওটসের মাফিন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560947492833.JPG

ময়দা, চিনি, মাখন, চকলেট ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি করা হয় মাফিন। চাইলে পুষ্টির মান বৃদ্ধির জন্য যুক্ত করতে পারেন ওটসের গুঁড়া বা ময়দা। এছাড়া ক্রিমের সাথে ওটস মিশিয়ে ওভেনে বেক করে নিতে পারেন। এতে স্বাদে কিছুটা নতুনত্ব আসবে।

ওটসের প্যানকেক

অনেকেই প্যানকেক পছন্দ করেন। সেটিও ময়দা, ডিম, দুধ, চিনির মিশ্রণে তৈরি করা হয়। শরীরের ফিটনেস বজায় রাখতে ও সুস্থ থাকতে প্যানকেকে ময়দার পরিমান কমিয়ে ওটসের পরিমান বেশি দিয়ে খেতে পারেন ওটস প্যানকেক।

ওটসের উত্তাপাম

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560947479863.jpg

এটি দক্ষিন ভারতের একটি জনপ্রিয় খাবার। সুজি, ময়দা, হিং, লাল মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, টকদই ও পানি মিশিয়ে, সেটি তাওয়া বা প্যানে গরম ভাপে রান্না করা হয়। আপনি চাইলে এর সাথে ওটসের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন।

ওটসের কুকিজ

কুকিজ তৈরির ক্ষেত্রে ময়দা, মাখন, চিনি, চকলেট, ডিম, বেকিং পাউডার সাথে একটু বেশি করে ওটস দিতে পারেন। এতে ওটসের ফ্লেভার আসবে, খেতেও  সুস্বাদ হবে।

ফ্রুটমিক্স ওটস  

ওজন কমানোর জন্য সালাদ বা ফ্রুটমিক্স করে খেয়ে থাকেন অনেকেই। নানা রকম ফল, দই, খেজুর, বাদাম মিক্স করে তার সাথে ওটস মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি শরীরে শক্তি বাড়াবে এবং পুষ্টির মানও সমৃদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন: গরমে খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখার তিন তরিকা

আরও পড়ুন: মাখনের বিকল্পে কী ব্যবহার করা যাবে?

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র