Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শিশুর সুস্বাস্থ্যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

শিশুর সুস্বাস্থ্যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
প্রতিবার আঁকাআঁকির পর হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু নিজের সুস্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখাই যথেষ্ট নয়, শিশুদের সুস্বাস্থ্যে দিকেও সমানভাবে নজর দিতে হবে।

শিশুদের প্রতি যতই বাড়তি যত্ন নেওয়া হোক না কেন, চেষ্টা করতে হবে হবে একদম ছোট থেকেই তাদের মাঝে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলানোর জন্য। একদম সাধারণ এই অভ্যাসগুলো শিশুদের মাঝে একদম শুরু থেকেই গড়ে তুলতে পারলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/28/1561703181139.jpg

শিশুরা সহজে খাবার খেতে চায় না। প্রায় প্রতিটি মায়ের একই অভিযোগ, কোন খাবারই সন্তান খেতে চায় না একদম। নিত্যদিন ভিন্ন ঘরানার খাবার তৈরি করেও শিশুদের পছন্দ বোঝা সম্ভব হয় না।

এহেন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপায়ন্তর না পেয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার তুলে দেন অনেকেই সন্তানদের হাতে। চিপস, কেক, সুইট বান, জ্যুস মোটেও স্বাস্থ্যকর কোন খাবার নয়। এতে পুষ্টিগুণ তো একেবারেই থাকে না, উল্টো অস্বাস্থ্যকর নানা উপাদানে ভরা থাকে এই মুখরোচক খাবারগুলো।

সন্তান খাবার খেতে না চাইলেও প্রাকৃতিক উপাদান তৈরি বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরি করে শিশুদের খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ধরুন আপনি শিশুকে ফুলকপি খাওয়াচ্ছেন। গল্পের ছলে তাকে ফুলকপির পুষ্টিগুণের কথা বলুন। ফুলকপি তার শরীরের জন্য কেন ভালো, খেলে কি হবে- এইগুলো জানান। দেখবেন শিশুর আগ্রহ তৈরি হবে ও খেতে চাইবে।

নিয়মিত দাঁত মাজার অভ্যাস

শিশুদের একটা-দুটো দাঁত ওঠার পর থেকেই দাঁত মাজার অভ্যাসটা তৈরি করতে হয়। বিশেষত নিজে হাতে ব্রাশ ধরে দাঁত মাজার মতো বড় হয়ে গেলে এই অভ্যাসটি অবশ্যই ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। স্বাভাবিকভাবে এই কাজটিও শিশুদের কাছে বিরক্তিকর লাগে এবং তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে দাঁত মাজার জন্য জোর না করে একসাথে দাঁত মাজতে হবে। দাঁত ও টুথপেস্টের ছোট গল্প তৈরি করতে হবে। একসাথে দাঁত মাজার সময় মজা করতে হবে। আনন্দময় পরিবেশে দাঁত মাজার মতো একঘেয়ে কাজ সারতে পারলে শিশুরা নিজ থেকেই আগ্রহী হবে দাঁত মাজার ক্ষেত্রে।

দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/28/1561703168588.jpg

বেশিরভাগ শিশু রাতে ঘুমাতে চায় না একদম। রাত জাগার অভ্যাস দেখা দেয় একদম ছোট সময় থেকেই। এতে করে শিশুর সাথে তার বাবা-মায়ের ঘুমের সাইকেলেও ব্যাঘাত ঘটে। ঘুমের সাইকেল দ্রুত ঠিক করতে না পারলে, বড় হলে সমস্যা তৈরি হবে। বিশেষত যখন স্কুলে যাওয়ার সময় চলে আসবে, তখন সকালে ঘুম থেকে ওঠা শিশুর জন্য বিভীষিকার মতো মনে হবে।

তাই শিশুর ঘুমের সাইকেল ঠিক করার জন্যে নিজের ঘুমের সাইকেলটিও এগিয়ে নিন। সকল কাজ দ্রুত শেষ করে দশটার মাঝেই রাতে ঘুমের আয়োজন করে ফেলুন। টানা কয়েকদিন এমন করতে পারলে নিজ থেকেই ঘুমের সাইকেল ঠিক হয়ে যাবে।

বাইরে খেলার অভ্যাস

শিশুদের জন্য বাইরে খেলা যতটা জরুরি, ততটাই সত্যি হলো- বাইরে খেলার মতো স্থান এখন একেবারেই নেই। তবে বাসার চেয়ে কিছুটা দূরে কোন পার্ক বা স্থানীয় খেলার মাঠ থাকলে সেখানেই নিয়ে যান শিশুকে। উন্মুক্ত স্থানে খেলাধুলা শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান সহায়ক। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে বারান্দা অথবা ছাদে নিরাপদ স্থানে খেলা করতে নিয়ে যেতে হবে।

টেবিলে বসে নিজ হাতে খাওয়ার অভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/28/1561703144406.jpg

অবশ্যই শিশুদের মুখে তুলে খাওয়ানো হলে পেট ভরে খাওয়ানো হয়। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর প্রতিটি শিশুর নিজ হাতে খাওয়ার অভ্যাসটি গড়ে তোলা প্রয়োজন। পরিবারের বাকি সদস্যদের মতো তাকেও টেবিলে বসিয়ে তার সামনে খাবার দিয়ে নিজ হাতে খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে। এতে করে খাবার খাওয়ার সময় শিশুরা আপনপনে খাবার খাবে ও মাকে জ্বালাতন করবে না।

হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস

এই অভ্যাসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের যতই চোখে চোখে রাখা হোক না কেন, ময়লা জিনিসে তারা হাত দেবেই। এছাড়া খেলাধুলার সময়, আগ্রহবশত কোন জিনিস ধরার সময়, আঁকাআঁকির সময় হাত নোংরা হয়েই যায়। পরে এই নোংরা হাতে কিছু খেলে কিংবা মুখে দিলেই বিপত্তি। তাই শিশুদের শেখাতে হবে, যেকোন কাজ, খেলা ও জিনিস ধরার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাসটি। এতে করে শিশুর সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে অনেকখানি।

আরও পড়ুন: শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র