Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

রান্না দ্রুত হবে কীভাবে?

রান্না দ্রুত হবে কীভাবে?
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রান্নাবান্নার বিষয়টি যেমন মজার, তেমনি খাটুনির।

পছন্দসই খাবার রান্না করতে গেলে হাতে বেশ অনেকখানি সময় রাখা প্রয়োজন হয়। তবে সঠিক কৌশল যদি জানা থাকে, লম্বা সময়ের রান্নাও অল্প সময়ের মাঝে শেষ করে ফেলা সম্ভব হয়। পরিচিত এমন অনেকেই আছেন, খুব অল্প সময়ের মাঝেই মজাদার খাবার রেঁধে ফেলতে পারেন। এখানে কোন জাদু নেই, আছে সঠিক কৌশলের ব্যবহার।

আসন্ন কোরবানির ঈদে স্বাভাবিকবভাবেই রান্নার আয়োজন হবে অনেক বেশি। নানান পদের খাবার রান্নার আয়োজন করতে গিয়ে অনেকেই হয়তো হিমশিম খাবেন। সেক্ষেত্রে আজকের ফিচারের টিপসগুলো রান্নার কাজ দ্রুত শেষ করতে দারুণ সাহায্য করবে।

পরিকল্পনা

রান্না শুরু করার আগে থেকেই মনে মনে রান্নার পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে। কী কী খাবার রাঁধা হবে, তার জন্য কোন ধরনের জিনিস প্রয়োজন হবে, কীভাবে ও কোন কাজটি আগে করতে হবে- এইসকল বিষয় ভালোভাবে মাথায় গুছিয়ে নিলে কাজের ক্ষেত্রে এলোমেলো হবে না।

প্রি-হিট

এখনকার সময়ে ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক ওভেন। ফলে বেশিরভাগ খাবার ওভেনে খুব সহজেই রেঁধে নেওয়া যায়। ওভেনে রান্নার ক্ষেত্রে ওভেন প্রি-হিট করা আবশ্যিক। এই কাজটি আগে থেকেই করে রাখতে হবে। নতুবা ওভেন প্রি-হিট করতেই অনেকখানি সময় পার হয়ে যাবে।

পানি গরম

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565069063010.jpg

পোলাও বা খিচুড়ি রান্না করার ক্ষেত্রে ফুটন্ত গরম পানির প্রয়োজন হয়। এছাড়া মাংসসহ অন্যান্য খাবার রান্নার ক্ষেত্রেও রান্নায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হয় গরম পানি। যে সকল খাবার রান্না করা হবে, তার জন্য পরিমাণমতো পানি আগে থেকে গরম করতে চুলায় বসিয়ে রাখতে হবে।

মসলাপাতির আয়োজন

যে সকল খাবার রাঁধবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন, সে খাবারগুলো তৈরিতে মসলাসহ অন্যান্য যে উপাদানগুলো প্রয়োজন হবে তা আগে থেকেই গুছিয়ে হাতের কাছে রাখতে হবে। এতে করে রান্নার সময় দ্রুত জিনিসগুলো পাওয়া যাবে।

কাটাবাছা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565069001440.jpg

পাঁচটি ভিন্ন পদের খাবার রান্না করার জন্য কতটুকু পরিমাণ পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচামরিচ, লেবু ও অন্যান্য সবজি প্রয়োজন হবে, সেটা হিসেব করে সহজেই বের করা যায়। সব রান্নার জন্য একবারেই পেঁয়াজসহ অন্যান্য জিনিস কেটে নিতে হবে। এতে করে রান্নার সময় বাড়তি সময় নষ্ট হবে না।

যন্ত্রাংশের ব্যবহার

আমাদের ঘরে রান্নার অনুষঙ্গ এমন অনেক যন্ত্র পরে থাকে যা কখনোই ব্যবহার করা হয় না। অথচ এই সকল যন্ত্রের ব্যবহারে রান্না খুঁটিনাটি বিষয় খুব সহজ হয়ে যায়। গ্রেটারের কথাই ধরা যাক এক্ষেত্রে। গ্রেটারে শুধু সবজি নয়, প্রয়োজনে শক্ত মাখন কিংবা পনিরও গ্রেট করা যায়।

ছোট টুকরা

সবজি, মাছ বা মাংসের টুকরা যথাসম্ভব ছোট ও পাতলা করে কাটতে হবে। এতে করে খুব দ্রুত সিদ্ধ হয়ে রান্না হয়ে যাবে। এই সব খাবারের টুকরা যত বড় হবে, রান্না হতে ততই সময় নেবে।

আরও পড়ুন: গরমে খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখার তিন তরিকা

আরও পড়ুন: কোরবানির মাংস সংরক্ষণে সহজ সচেতনতা

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র