কোরবানি পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় সাত নিয়ম

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
কোরবানির পর ঘর ও ঘর সংলগ্ন স্থান স্যাভলন মিশ্রিত পানিতে মুছে নিতে হবে

কোরবানির পর ঘর ও ঘর সংলগ্ন স্থান স্যাভলন মিশ্রিত পানিতে মুছে নিতে হবে

  • Font increase
  • Font Decrease

হাতে গুণে মাত্র দু’দিন পরেই কোরবানির ঈদ।

প্রতি বছরের মতো এ বছরেও ঈদ নিয়ে চলছে আয়োজনের তোড়জোড়। তবে এবারে আনন্দ আয়োজনের তোড়জোড়ের সাথে যুক্ত হয়েছে সচেতনতাও।

চলতি সময়ে পুরো দেশ জুড়েই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বিরাজ করছে। কোরবানি পরবর্তী সময়ে এর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আতঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণও। কোরবানির পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়িসহ বাড়ির চারপাশ বেশ নোংরা হয়ে থাকে। এছাড়া স্থানে স্থানে পানি জমে থাকে। যা ডেঙ্গু মশার লার্ভার জন্ম ও বিস্তারের জন্যে দারুণ উপযোগী।

সেক্ষেত্রে কোরবানি পরবর্তী সময়ে কিছু নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্নতার কাজ করলে, একইসাথে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব হবে। হাতে ঈদের একদিন বাকি থাকতেই জেনে নিন কোরবানি পরবর্তী সময়ের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়।

১. কোরবানি শেষে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব চারপাশের অংশ নিজ থেকে পরিষ্কার করে ফেলতে। চামড়া, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, ময়লা ও পানি যতখানি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে ততই ভালো। বিশেষত রক্ত ও পানি যেন কোথাও জমাটবদ্ধ হয়ে থাকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. রক্ত ও পানি সরানোর জন্য শলার ঝাড়ু ব্যবহার করতে হবে। পশু কোরবানি দেওয়ার আশেপাশের স্থানে রক্ত ও পানি জমবেই। সেগুলো ঝাড়ুর সাহায্যে নিকটস্থ ড্রেনে ফেলে দিতে হবে।

৩. আশেপাশের স্থান পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে। ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের জন্মে বাধাদান করবে।

৪. ঘরে কোরবানির মাংস নেওয়ার পর দীর্ঘসময় বাইরে না রেখে দ্রুত ভাগ বাটোয়ারা করে ফেলতে হবে। বাইরে রাখা হলে মাংস নিঃসৃত রক্ত ও অন্যান্য আবর্জনা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করবে।

৫. মাংস, হাড়, ভুঁড়ি, চর্বি ও কোরবানির পশুর অন্যান্য অংশ পরিষ্কার করে রেফ্রিজারেটরে রাখার পর মাংস কাটার যন্ত্রাংশের দিকে খেয়াল করতে হবে। এগুলো কোন অবস্থাতেই নোংরা অবস্থায় রাখা যাবে না। যথাসম্ভব পরিষ্কার করে গুছিয়ে তুলে রাখতে হবে।

৬. চেষ্টা করতে হবে বিকালের আগেই কোরবানির মাংস গুছিয়ে ফেলতে। এরপর পুরো বাড়ি, বারান্দা ও সংযুক্ত সিঁড়ি স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে মুছে নিতে হবে। খেয়াল করতে হবে, ঘর ও বারান্দার কোথাও রক্ত বা পানি জমে আছে কিনা।

৭. সকল গোছগাছ শেষে জমাকৃত ময়লা-আবর্জনা একটি নির্দিষ্ট বড় ব্যাগে জমা করতে হবে। যত্রতত্র ও উন্মুক্ত স্থানে ময়লা একদম রাখা যাবে না। ময়লা জমা করার পর ব্যাগের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে ময়লা ফেলার স্থানে ফেলতে হবে।

এমন সহজ কিছু নিয়ম খেয়াল রাখতে পারলে কোরবানি পরবর্তী সময়ে খুব দ্রুততম সময়ের মাঝে নিজ বাড়িসহ চারপাশ পরিষ্কার করে নেওয়া যাবে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যাবে।

আরও পড়ুন: ঈদ অবসর ভ্রমণে কী রাখবেন সাথে?

আরও পড়ুন: ঝেড়ে ফেলুন পুরনো জঞ্জাল

আপনার মতামত লিখুন :