Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গেরাসিম কেন মুমুকে হত্যা করে?

গেরাসিম কেন মুমুকে হত্যা করে?
শিল্পীর অঙ্কনে গেরাসিম ও মুমু
এনামুল রেজা


  • Font increase
  • Font Decrease

মহান রুশ কথাশিল্পী ইভান তুর্গেনেভের ছোটগল্প মুমু পাঠান্তে যে কোনো সংবেদী পাঠকের মনে এ প্রশ্ন তৈরি হবে। আমরা প্রশ্নটির জবাব খুঁজতে চেষ্টা করব, একবিংশ শতকেও বা গল্পটি পাঠের জরুরত কতটুকু?

১৮৫৪ সনে গল্পটি প্রকাশের পর থেকেই এর অভিঘাতময় বার্তা চারদিকে আলোড়ন তোলে। জার শাসনামলের শেষের সেই দিনগুলোয় অন্যান্য প্রগতিশীল নাগরিকের মতো তুর্গেনেভ নিজেও ছিলেন ভূমিদাস প্রথার কঠোর সমালোচক। জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন, বেড়ে উঠেছিলেন নিজের মাকে একজন অত্যাচারী জমিদারনি হিসেবে দেখে দেখে।  ভূমিদাসদের ওপরে যথেচ্ছ অত্যাচার চালাতে পারদর্শী এ মহিলাটি তুর্গেনেভের শৈশবকে বড় বিবর্ণ করে তুলেছিলেন। সুতরাং তার রচনায় ঘুরেফিরে মানবতার এই বেদনা উঠে এসেছে নানান দৃষ্টিকোণে।

মুমু গল্পটিতে দেখা যায়, গেরাসিম নামের এক দৈত্যাকৃতি ভূমিদাসকে গ্রাম থেকে শহরে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এক বৃদ্ধা জমিদারনি। প্রচণ্ড শারীরিক শক্তিধর গেরাসিম একাই চারজনের কাজ করতে পারে কিন্তু সে বোবা-কালা, বলতে গেলে সবাই তাকে ভয় পেয়ে চলে। শহরে এসে তাকে ভারী কোনো কাজ করতে হয় না। মালকিনের বাড়িটির আঙিনা ঝকঝকে তকতকে রাখা আর রাত্তিরে পাহারা দেওয়া, এই শুধু তার দায়িত্ব। মোটামুটি নিরুপদ্রব চলে যাচ্ছিল তার দিন। এর মাঝেই তাতিয়ানা নামের এক পরিচারিকাকে ভালো লেগে যায় তার। বোবা, কিছু বলতে পারে না। কিন্তু আকারে ইঙ্গিতে গেরাসিম সবাইকে বুঝিয়ে দিতে চায় যে, তাতিয়ানার ওপরে শুধু তার অধিকার। গল্পের বৃদ্ধা জমিদারনিকে বর্ণনা করা হয় পুরান প্রথার সমর্থক হিসেবে। অর্থাৎ সেই বৃদ্ধা পছন্দ করে অজস্র চাকর-বাকর পরিবেষ্টিত হয়ে দিন কাটাতে। এবং নিজের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত ওদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা ছিল তার এক পদের বিনোদন। সেরকম একটি বিনোদন হিসেবেই বৃদ্ধা তার চাকরদের মাঝে এক মুচি—কাপিতন ক্লিমভের সঙ্গে তাতিয়ানার বিয়ে ঠিক করে। বাড়িটিতে হল্লা পড়ে যায় গোপনে, এবার বুঝি আর গেরাসিমকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। তাতিয়ানাকে সে পছন্দ করে, এমনকি তার সঙ্গে কেউ কথা বলতে এলে পর্যন্ত অসুরের মতো লোকটা তাকে শাসিয়ে দেয়। আর এখন একদম কাপিতনের সঙ্গে তার বিয়ে? যদিও যথাসময়ে বিয়েটা হয়ে যায়, আর গেরাসিম কিছুই করে না, তাতিয়ানাও নিজের পছন্দ বিসর্জন দেয়—যেহেতু মালকিনের হুকুম। বিষণ্ণ হয়ে নিজের ঘরে পড়ে থাকে গেরাসিম, একা একা চলে যায় নদীর তীরে। তার হৃদয় ভেঙেছে এটা বোঝা চলে।

এ নদীর তীরেই একটি কুকুরছানাকে কুড়িয়ে পায় সে, অর্ধমৃত অবস্থায়—ঘরে তুলে এনে সন্তানের মতো যত্ন করে।  গেরাসিমের একাকিত্ব কেটে যায় কুকুরছানাটিকে পেয়ে, ওর নাম সে রাখে মুমু। ধীরে ধীরে চারপেয়ে প্রাণীটি বড় হয়ে ওঠে এবং দেখা যায় চাকর-বাকর মহলে ওর কদর অনেক, ও যেন গেরাসিমের সন্তান। দু’কান লম্বা ও বড় বড় ভাবালু চোখের মুমু দিনমান আঙিনায় খেলে বেড়ায়, গেরাসিম যেখানে, সেখানেই মুমু—এমন হয় অবস্থা। কিন্তু বৃদ্ধা জমিদারনি পুনরায় হানা দেয় গেরাসিমের রাজ্যে। মুমুকে তুলে নিয়ে যায় আদর করবার জন্য। কিন্তু কুকুরের চেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী আর কী আছে? মালিক হিসেবে গেরাসিমকেই তার পছন্দ। একটি চাকরের কুকুর নিজের বশে আসছে না, এই ক্রোধে বৃদ্ধা হুকুম দিয়ে বসেন, ওকে যেন মেরে ফেলা হয়, ওর চিৎকারে রাতে তিনি ঘুমাতে পারেন না।

গল্পটা আসলে শুরু হয় এখান থেকেই।

প্রথমত গেরাসিম চেষ্টা করে মুমুকে লুকিয়ে রাখতে। ওতে স্বাভাবিক অসফলতা তার জন্য ভিন্ন কোনো পথ খোলা রাখে না। ভূমিদাসপ্রথা মানবতাকে কীরূপ হুকুমের শেকলে বন্দি করে ফেলেছিল, একজন ভূমিদাস চাইলেই সে শৃংখল ভাঙবার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠত না—গেরাসিমের কর্মকাণ্ড তার উজ্জ্বল প্রমাণ। মালকিন তাকে গ্রাম থেকে শহরে এনেছেন, এটা হুকুম, সে অমান্য করেনি—শহরবাসে তার প্রথমদিকে কষ্ট হলেও মেনে নিয়েছে। মালকিন যখন তাতিয়ানার বিয়ে অন্য কারো সঙ্গে ঠিক করেছেন, সেটির প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও সে অসাড় ছিল একই কারণে। পরবর্তী সময়ে যখন মুমুকে হত্যার হুকুম দেওয়া হয়, তখন ভিন্ন আচরণ গেরাসিম কিভাবে করতে পারত?

গেরাসিমরা তো একটা ছাঁচে তৈরি মানুষ, দাসপ্রথার কারাগারে যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা—তারা নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেবার কথা জানে না কিংবা হয়তো বোঝেও না, কর্তার হুকুমই তাদের জীবনকে তাড়িয়ে নেয়। সেদিক থেকে ভাবলে গেরাসিম কিন্তু একদিক দিয়ে শেকল ভেঙেছে, মনিবের হুকুম সে মেনেছে যেহেতু এর বাইরে কী করতে হয় তার জানা নেই, মুমুকে—নিজের একমাত্র ভালোবাসাকে সে হত্যা করেছে নিজ হাতে, আর কাউকে কাজটা সে করতে দেয়নি। কিন্তু শহরের আবাসটিতে সে আর ফেরে না—গ্রামে পালিয়ে যায়। তখন প্রশ্নটা আবার উঠে আসে : গ্রামেই যদি পালাবে, মুমুকে সঙ্গে করেই কি পলায়নটা অধিক ভালো হতো না? নিশ্চয় ভালো হতো। কিন্তু আমাদের নায়ক যে গেরাসিম। মালকিনের যদি হুকুম থাকত শহর ছেড়ে আর গ্রামে ফেরা যাবে না, নিশ্চয় আমরা দেখতাম মুমুকে হত্যা করে নিজের বিলীন হৃদয় নিয়ে সে পুনরায় ফিরে গিয়েছে নিজের গুমটি ঘরে।

এই যে পালিয়েছে, ওটুকু গেরাসিমের প্রতি লেখকের কৃপা।

দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, জমিদারি আমল ফুরিয়েছে—কিন্তু অজস্র ভূমিদাসের সমব্যাথীগণ কি দুনিয়ার কোণায় কোণায় এখনো দিন পার করছে না? এই একুশ শতকের আধুনিক গেরাসিমরা তো নিজের অজান্তেই এক অদৃশ্য দাসপ্রথার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে চলেছে।  গেরাসিমরা জানত তারা দাস, কিন্তু আজকের মানুষেরা নিজেদের স্বাধীন জেনেই এক অদৃশ্য দাসত্ব মেনে নিয়েছে বেনিয়াতন্ত্রের কাছে। এই যদি সত্য হয়, দেড়শ বছর আগে লেখা তুর্গেনেভের মুমু কখনোই তার প্রাসঙ্গিকতা হারাবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র