Alexa

যশোরে মঞ্চায়িত নৃত্যনাটিকা তাসের দেশ

যশোরে মঞ্চায়িত নৃত্যনাটিকা তাসের দেশ

ছবি: সংগৃহীত

সন্ধ্যা নেমেছে। জমে উঠছে মাঘের শীত। রওশন আলী মে মূর্ছনা তুলেছে তবলার লহরি। সেখানে নাচ ধরেছে রঙবেরঙের সব তাসেরা। টেক্কা, সাহেব, হরতরন, রুইতন, গোলাম, বিবি। তাসেদের অভূতপূর্ব নৃত্যের মুদ্রা। মে  রঙিন আলোর ঝলকানি। নাচিয়েরা সব সেজেছে নানান তাসের সাজে। বর্ণিল আলোকে মঞ্চায়ন হচ্ছে কবি গুরুর নৃত্যনাটিকা তাসের দেশ।

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর শহরের রওশন আলী মে তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে নৃত্য সংগঠন নৃত্যবিতান। এটির সূচনায় ফুটে ওঠে যান্ত্রিক এক একঘেয়ে বিষাদময় জীবন। এই নিরানন্দ জীবনকে মেনে নিতে পারে না মুক্তিপ্রিয় রাজপুত্র। তাই বন্ধু সওদাগর পুত্রকে নিয়ে রাজপুত্র বেরিয়ে পড়েন বৈচিত্র্যের সন্ধানে, অজনার উদ্দেশ্যে। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তারা চলে যায় তাসের দেশে। যেখানে সবকিছুই নিয়ম মতো চলে। একেবারে শৃঙ্খলিত। রাজা হ্যাঁ বললে হ্যাঁ, না বললে সবাই না। রাজপুত্রের চলমন, নিয়ম না মানার ভাবধারা প্রভাব ফেলে তাসের দেশে। রাজপুত্রের নিয়ম না মানার চিন্তাধারায় সংক্রমিত হয় তাদের দেশের নারী পুরুষরা। এক পর্যায়ে বিদ্রোহ করে তাদের দেশের জনতা। রানিও যোগ দেন বিদ্রোহে। ফলে এক পর্যায়ে জনমত মেনে নেন রাজা। নিয়মকানুনের জটাজাল ভেঙে মুক্তির সুর বেজে ওঠে তাসের দেশে।

নৃত্যনাট্যটির পরিচালক নৃত্যগুরু সঞ্জীব চক্রবর্তী জন বলেন, আধুনিক জীবনে যান্ত্রিক মানুষ হারিয়ে ফেলে প্রাণশক্তি। কি করে নতুন ও তারণ্যের উদ্দীপনা তাদের এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি এনে দেয়, তারই ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ ‘তাসের দেশ’।

এটির পরিবেশন শুরুর আগে বেশ কয়েকটি ভিন্ন স্বাদের নাচ করেন নৃত্যবিতানের শিল্পীরা।

এরপর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করেন যশোরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। শিল্পকলা একাডেমী সহসভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু, নৃত্যবিতানের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার বাবু, বির্বতন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, শেকড়ের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু প্রমুখ।

 

আপনার মতামত লিখুন :