সিয়েরভা মারিয়ার স্মৃতি



এনামুল রেজা
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শহুরে সন্ধ্যার অনেকগুলো নিজস্ব আলো আছে। লালাভ, উজ্জ্বল ছাইবর্ণ, সবুজ। প্রায় অভ্যেসে পরিণত হয়ে যাওয়া নিত্য জীবনে সেই আলোর দিকে আলাদা করে তাকাবার অবসর মেলে কই? আজ তাই গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে কাঁপতে থাকা নগরী যখন দিবস শেষের ক্ষীণ আলোটুকুতে ঝিমুচ্ছে, আকাশের দিকে চেয়ে মনে হলো, বেশ, এমন গাঢ় নীল কি হয় কোনো কোনো সন্ধ্যা?

প্লাস্টারবিহীন ছ’তলা-চারতলা দালানগুলোর শরীরে ঝরে পড়ছে নীলের গুঁড়ো, একটু একটু করে আঁধার হচ্ছে চারধার। নীল থেকে কালো হবে পৃথিবী। মিরপুর সি ব্লকের বাস্তুহারা গলিটা দিয়ে আমি মুসলিম বাজারের দিকে যাচ্ছি। আম্মার জন্য পান কিনব। দেখলাম ঘোলাটে নীলাভ আলোয় ঘাড় কাত করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে একটা কুকুর। ঘিয়ে হবে গায়ের রঙ। ও কাছাকাছি আসতে আমি থেমে গেলাম। লুঙ্গিতে নাক ঠেকিয়ে কিছু শুঁকতে চেষ্টা করল কুকুরটা। তারপর যেখান থেকে এসেছিল সেই পুরনো আমলের মিরপুরীয় একতলা টিনশেড ঘরটার দিকে চারপায়ে তেরছা ভঙ্গিতে ফিরে গেল, লোহার বন্ধ দরজার সামনে থাবা গেড়ে বসে ধুঁকতে লাগল জিভ বের করে।

পান কিনতে কিনতে মনে হলো, শৈশবে এমন সামান্য একটা ঘটনারও ক্ষমতা ছিল আমার কয়েক রাতের ঘুম শুষে নেবার। কুকুরভীতি ছিল আমার, কুকুর কামড়ে দিলেই নিশ্চয়ই জলাতঙ্ক হবে। যে প্রাণঘাতী অসুখে আস্ত একটা মানুষ কুকুরে রূপান্তরিত হয়। পানির তৃষ্ণায় চিৎকার করে, কেউ পানি এগিয়ে দিলেই ভয়ে কুঁকড়ে ওঠে আর আশপাশে যাকেই পায় আক্রমণ করে। গ্রামসূত্রে আমার এক চাচার বউ অমন অসুখে মারা গিয়েছিলেন। কোন এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কুকুরের কামড় খেয়েছিলেন সেই চাচী, কেউই গুরুত্ব দেয়নি। অনেকে ধারণা করেছিল, কামড়ের মাস দুয়েক পরেই জলাতঙ্ক থাবা গেড়ে বসেছিল তার শরীরে। মৃত্যুর বহুদিন পরেও যাকে নিয়ে আলাপ করত সবাই। গ্রামে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল নিরীহ গোবেচারা কুকুরের দল।

মুসলিম বাজার থেকে ঘরে ফিরেও কুকুর ও জলাতঙ্ক বিষয়ক ভাবনা মন থেকে সরল না। বরং মনে হলো, সিয়েরভা মারিয়ার স্মৃতি এখনো সতেজ আছে আমার হৃদয়ে। দিন কয়েক আগেই পড়ে শেষ করেছি মার্কেসের উপন্যাস ‘প্রেম ও অন্যান্য দানব’ (১৯৯৪ সালে এসপানিওল থেকে Edith Grossman কৃত ইংরেজি অনুবাদ হওয়া বই, বাংলা অনুবাদক আলী আহমদ)

মানুষের পৃথিবীতে কে আসল দানব? ছোট্ট বইটায় এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল শব্দের পর শব্দে। উপন্যাসটির শুরু হয় র‍্যাবিজ আক্রান্ত এক কুকুরের কামড় থেকে। অমন গল্পে ঘোর তৈরি না হবার কোনো কারণ আসলে নেই।

পড়তে পড়তেই দেখতে পাওয়া যায় আঠারশো শতকের সেই সমুদ্রলাগোয়া জনবহুল বন্দর শহরটি। দাস বেচাকেনা হচ্ছে। বহু আকাঙ্ক্ষিত দাসবাহী এক জাহাজের অনেকেই মারা গিয়েছে অজ্ঞাত কারণে, সেসব মৃত নিগ্রো আর তাদের প্রভুদের ফুলে ওঠা দেহ ও দূষিত রক্তে লাল হয়ে উঠেছে সমুদ্রের জল। ওসবের মাঝখানেই নিজের দ্বাদশতম জন্মদিন উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা সিয়েরভা মারিয়াকে দেখতে পেলাম, উন্মত্ত একটা কুকুর আরো তিনজন মানুষসহ তাকেও কামড় দিল। বাজার ভর্তি লোকজন দেখল ক্ষীয়মান তবু ক্ষমতাশীল এক জমিদারের কন্যা সিয়েরভা মারিয়ার এই দুর্ঘটনা। র‍্যাবিজ আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে বাকি তিনজন একে একে মারা গেলেও সিয়েরভা মারিয়ার কিছু হলো না, কোনো অসুখের চিহ্নই দেখা দিল না তার মধ্যে। মধ্যযুগের শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো শহরবাসী, প্রবল প্রতাপশালী চার্চ, যে দুজন নর-নারীর ঘৃণাজর্জর সঙ্গমে মেয়েটির জন্ম, তারা সবাই কি এই অস্বাভাবিক সুস্থতা মেনে নিতে পারবে?

২.
লেখকের অন্যান্য বইয়ের মতোই কাহিনীটা বলা হচ্ছে উঁচু থেকে। নইলে একটা গ্রামোফোন রেকর্ডে বেজে চলেছে দূরবর্তী এক রহস্যময় পুরুষকণ্ঠ। যিনি পড়ে যাচ্ছেন এমন এক কিশোরীর শোকগাথা, যার লালচে ঝাঁকড়া চুল জন্মের পর আর কাটা হয়নি। বড় হতে হতে যে বিস্ময়কর চুলের রাশি মাটি ছুঁয়েছে, যার মা জন্মের পর থেকেই তাকে ঘৃণা করেছে, মেয়েটা বড় হয়েছে কৃতদাসদের তত্ত্বাবধানে, তাদের সঙ্গেই। সমাজের চোখে মানুষ বা মানুষের চোখে সমাজ, দুটোই দুটির কাছে যে বন্দী, তার নিদারুণ জলরঙ আঁকতে চেষ্টা করে এই উপন্যাস।

সময়টা আঠারশো শতক, এ তো আগেই বলেছি। সিয়েরভা মারিয়ার বাবা একজন মার্কিস বা জমিদার। যদি সমাজের শীর্ষস্থানীয় একজন লোকের মেয়ে জলাতঙ্কে মারা যায়, গোটা শহরের কাছে পরিবারটি অপমানিত হবে ও ছোট হয়ে যাবে, এই তাদের ধারণা। সম্মান ধরে রাখতে অনেক কিছুই করতে হয় মার্কিসকে, অথচ এমন নয় যে কিছু না করে থাকাটা অসম্ভব ছিল তার পক্ষে।

প্রথমত, মার্কিস চিকিৎসকের কাছে যান গোপনে। জানতে পারেন কুকুরে কামড়াবার কয়েকদিনের মধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে ভিকটিমেরা। একে একে মারাও গিয়েছে সবাই। এমনও হতে পারে সিয়েরভা মারিয়ার হবেই না জলাতঙ্ক। চিকিৎসক আব্রেনুনসিওর কথাতে ভরসা মেলে না তার। ধীরে ধীরে মার্কিসের সুস্থ মেয়েটিকে প্রায় অসুস্থ করে তুলতে চায় স্থানীয় চিকিৎসক ও কবিরাজের দল। কেন এই মেয়েটি অসুস্থ হচ্ছে না? কুকুরের কামড়াবার পর অবশ্যই জলাতঙ্ক হবার দরকার ছিল তার, যেহেতু তা হয়নি, শহরের মানুষেরা বিশ্বাস করতে শুরু করে দীর্ঘ চুলের রহস্যময় কিশোরিটি স্বাভাবিক কেউ না, নিশ্চয়ই সে একটা অশুভ শক্তি বা অশুভ কোনো কিছুই তার ওপরে ভর করেছে। এমন অবস্থাতেই কাহিনীতে প্রবল বিক্রমে প্রবেশ করে চার্চ। বিশপ। নান। কনভেন্ট।

৩.
লেখক হিসেবে মার্কেস তার চরিত্রগুলো কিভাবে নির্মাণ করেছেন?
এখানে স্বভাবতই লোকটা ব্যবহার করেছেন তার চিরচেনা কৌশল। চরিত্রগুলোকে অনবরত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের খণ্ডখণ্ড গল্প। উপন্যাসের একমাত্র প্রগতিশীল চরিত্র আব্রেনুনসিও। এই চিকিৎসক শহরটিতে কিংবদন্তি এবং চার্চ ও স্থানীয় অন্যান্য চিকিৎসকেরা তাকে শত্রু মনে করে। এর পেছনে কারণ হিসেবে আমরা জানতে পারি রোগী কখন মারা যাবে তার ঠিকঠিক ঘোষণা দেন আব্রেনুনসিও। তিনি এমন একটা ট্যাবলেট আবিষ্কার করেন যেটা খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা যায়। কিন্তু সেবনের প্রথম কয়েকদিন রোগী হয়ে যাবে উন্মাদ। যে কারণে ওই বিদঘুটে ট্যাবলেট আব্রুনেনসিও নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই খাওয়াতে পারেন না।

সিয়েরভা মারিয়া যাদের মাধ্যমে পৃথিবীতে এলো, সেই মার্কিস আর তার দ্বিতীয় স্ত্রী বের্নাদা-র পটভূমি প্রায় নারকীয়। যার রেশ পুরো উপন্যাস জুড়েই চলতে থাকে, আমরা অনুমান করতে পারি কেন বের্নাদা নিজের জন্ম দেওয়া কন্যা সন্তানকে এত ঘৃণা করেন, আর মার্কিসই বা কেন নিজের মেয়েকে স্বাভাবিক ভালোবাসাটুকু দিতে না পারার যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত দগ্ধ হন।

আরো পড়ুন ➥ গেরাসিম কেন মুমুকে হত্যা করে?

পিতা-মাতার ঘৃণ্য দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় চার্চের গ্রন্থাগারিক কায়েতানো দেলাউরার সঙ্গে সিয়ের্ভা মারিয়ার প্রেম। চার্চ মনে করে কনভেন্টে বন্দী মারিয়ার ওপর ভর করেছে এক দানব, আর সেই দানব তাড়ুয়া হিসেবে নিয়োগ পায় দেলাউরা। চরিত্র হিসেবে দেলাউরা নিজের অর্জিত বিবেক আর নিয়তির সঙ্গে অনবরত সংগ্রামরত এক যুবক। সম্ভবত চিকিৎসক আব্রেনুনসিওর পর এ উপন্যাসে সে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। ছত্রিশ বছর বয়সী এ যুবক একই সঙ্গে যুক্তিবাদী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। দুটি বিষয়ের একটা চিরন্তন দ্বন্দ্বে প্রতি মুহূর্তে বিধ্বস্ত হতে থাকে সে। ধর্মে বিশ্বাসী যে হৃদয় নিয়ে সে ভাবে প্রেম হলো আদিমতম পাপ, আবার প্রেমের সুতীব্র তাড়না তাকে করে তুলতে চায় বিদ্রোহী, হয়তো করেও তোলে শেষের দিকে?

আর সিয়েরভা মারিয়া? সে বুনো একটা ঝড়ের মতো। মিথ্যে বলার ওস্তাদ। সৌন্দর্যে অলৌকিক। ক্রীতদাসদের সঙ্গে বড় হয়ে উঠবার কারণে যে কোনো স্বাভাবিক আদপ-কেতা জানে না, বড়দের শত্রু মনে করে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়েও মেয়েটা ভালোবাসার কাঙাল। তাকে মনে হয় প্রকৃতির একটা বন্য শক্তি, প্রাণের উৎস। বয়স যাকে বড় করে তোলে প্রতিদিন, আর সৌন্দর্য করে তোলে রহস্যময়। যে রহস্য তার আশপাশের কেউই স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

৪.
প্রেমের গল্পের আবরণে হয়তো মার্কেস কুসংস্কারের কুড়ালে ছিন্নমস্তক সব হতাভাগ্য মানুষের গল্পই করতে চেয়েছেন ছোট আকারের এই আখ্যানে। নর-নারীর প্রেম, গুরু-শিষ্যের প্রেম, জ্ঞানের সঙ্গে জ্ঞানীর প্রেম।

প্রত্যেকটি প্রেমের গল্পেই আমাদের এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, প্রেমই কি সেই দানব যা মানব জীবনকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়? নাকি আসল দানবেরা লুকিয়ে আছে মানুষের মাঝেই, যারা প্রেমের মতো স্বর্গীয় ব্যাপারটিকে চিরকাল অপবিত্র করতে চেয়েছে, ধ্বংসের পক্ষ নিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে?

পুরাতন শিষ্য কায়েতানোকে কুষ্ঠরোগীদের হাসপাতালে পাঠান বিশপ, প্রেম হেরে যায়। চার্চের আদেশে প্রিয় কন্যাকে কনভেন্টে পাঠান মার্কিস, প্রেম হেরে যায়। কিন্তু দেলাউরা আর সিয়ের্ভা মারিয়া? তাদের প্রেমের পরিণতি চিরন্তন। সেখানে কল্পনার কোনো আশ্রয় নিতে হয় না।

৫.
সবশেষে তাহলে কী অবশিষ্ট থাকে? নিখাদ গল্পই। চার্চ তার পূর্বেকার ক্ষমতা হারায়। প্রাচীন সেই কনভেন্ট পরিণত হয় হাসপাতালে, তারপর যা ভেঙে তৈরি হবে সুপার মার্কেট।

এক তরুণ সাংবাদিক কনভেন্টের নিচে ঘুমিয়ে থাকা অজস্র কঙ্কালের মাঝে আবিষ্কার করেন সিয়েরভা মারিয়াকে, যাকে সময় পুরোপুরি গিলে নিতে পারেনি, রয়ে গেছে তার আগুনরঙা ও শতাব্দীর দীর্ঘতম চুলের বহর। কবর খুঁড়তে থাকা আবেগহীন শ্রমিকদের ফোরম্যান সাংবাদিকটিকে জানান, ‘সে কি আপনি জানেন না? মৃত্যুর পর প্রতি মাসেই তো মানুষের চুল এক সেন্টিমিটার করে বাড়ে?’

যা নেই তাকে ফিরিয়ে আনতে মানুষ অনন্ত সংগ্রাম করে। আর যা আছে, তাকে বিলুপ্ত করতেও মানুষের প্রচেষ্টা তুলনাহীন। কথাগুলো অনবরত মাথার ভেতরে শাফল হয় আর সুদূর দ্বীপের হতভাগ্য রাজকন্যা সিয়েরভা মারিয়ার জন্য আমার মন কেমন করে।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;