Alexa

উইলিয়াম হোলম্যান হান্ট

উইলিয়াম হোলম্যান হান্ট

আত্মপ্রতিকৃতি

‘মানুষের অন্তরের দরজা কেবল ভেতর থেকে খোলা যায়’—এই কথাটি শিল্পী উইলিয়াম হোলম্যান হান্টই বলেছেন। সর্বাঙ্গ সুন্দর ছবি তখনই দেখা যাবে যখন শিল্পী অন্তরের দরজা ভেতর থেকে খুলবেন। হান্ট আরো বলেছেন, আমাদের পৃথিবীর পাশাপাশি আরো একটি পৃথিবীর উপস্থিতি আমাদের জন্য প্রাচীনতম সত্য, সেখানে কোনো মরণশীল মানুষ নেই: আছে আত্মা, আছে পরী। সবই আমাদের আশেপাশে রয়েছে, কেবল চোখ খুলে দেখতে হয়।

১৮২৭ | জন্ম ২ এপ্রিল, লন্ডনের চিপসাইড
১৮৩৯ | ১২ বছর বয়সে স্টেট অফিসের কেরানি পদে যোগদান
১৮৪৪ | রয়াল একাডেমিতে ভর্তি হবার সুযোগ লাভ
১৮৪৮ | প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড গঠন
১৮৪৯ | রসেটির সাথে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম সফর
১৮৫৪ | বন্ধু ও শিল্পী টমাস সেডনের সাথে যোগ দিতে মিশর গমন, জেরুসালেম ভ্রমণ
১৮৫৬ | রয়াল একাডেমির অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ প্রত্যাখ্যান
১৮৬৫ | ফ্যানি ওয়াফের সাথে বিয়ে
১৮৬৬ | ২৬ অক্টোবর ছেলের জন্ম, ২০ ডিসেম্বর ম্যালেরিয়ায় স্ত্রীর মৃত্যু
১৮৬৮-৬৯ | ফ্লোরেন্স ও জেরুসালেম অবস্থান
১৮৭৫ | ইতালিতে শ্যালিকা এডিথ ওয়াহকে বিয়ে
১৮৭৬ | ২০ সেপ্টেম্বর কন্যার জন্ম
১৯০৫ | অর্ডার অব মেরিট, অক্সফোর্ডের সম্মাননা লাভ
প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড নিয়ে লেখা ও আত্মজীবনী প্রকাশ
১৯১০ | ৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে মৃত্যুবরণ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535411902703.jpg
অ্যাওয়েকেনিং কনসান্স ১৮৫৩

শিশু উইলিয়াম হোলম্যান হান্ট ছেলেখেলার বয়সে হাতে তুলে নেন পেন্সিল, বয়স যখন চার তখন চমৎকার স্কেচ এঁকে তাক লাগিয়ে দিতে পারতেন। তাঁর বাবা যদিও ছবি পছন্দ করতেন, কিন্তু নিজেদের ছেলে ছবি এঁকে বখে যাবে এটা বাবা-মা কেউই চাইলেন না, বরং দ্রুত তাকে ব্যবসায়ে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টা করলেন।

১২ বছর বয়স থেকেই স্বনির্ভর
স্বনির্ভর হতে এবং নিজের ইচ্ছে পূরণ করতে তিনি ১২ বছর বয়সে স্টেট এজেন্ট জেমস ল্যাব্রামের অফিসে কেরানির চাকরি নিলেন। পুরোদমে চাকরি করার পর যে সময়টুকু হাতে থেকেছে কেবল ছবি আঁকছেন। জেমস ল্যাব্রাম চিত্রকলার সমঝদার ছিলেন। তিনি তার কিশোর কেরানিকে তৈল রং-এর সাথে পরিচিত করান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535412101442.jpg
দ্য হায়ারলিং শেপার্ড ১৮৫১

চিত্রশিল্পীই হতে হবে
উইলিয়াম হোলম্যান হান্ট চিত্রশিল্পীই হবেন। ব্যবসায়ে যোগ দেওয়াবার উপুর্যুপরি চেষ্টা ব্যর্থ। কিছুকাল শিক্ষানবিশী করার পরও রয়াল একাডেমি তাকে ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হলো না। কিন্তু তিনি হাল ছাড়ার নন, পরের বছর প্রাণ-কাড়ানিয়া ছবি এঁকে একাডেমিকে মুগ্ধ করলেন এবং এবার ভর্তি হবার সুযোগ পেলেন। তাঁর ছবি আঁকার স্বপ্নকে বাস্তবের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন তাঁর চেয়ে বয়সে কিছুটা বড় শিল্পী ও বন্ধু জন এভারেট মিলাইস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535412235576.jpg
আওয়ার ইংলিশ কোস্ট ১৮৫২

প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড
তিন শিল্পীবন্ধু উইলিয়াম হোলম্যান হান্ট, জন এভারেট মিলাইস এবং দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটি মিলে ঠিক করলেন তাঁদের ছবি হতে হবে সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি। তাঁরা আরো কজনকে নিয়ে গড়ে তুললেন প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড। প্রকৃতি থেকে উৎসারিত দৃশ্য ও বিষয়কে জীবন্ত করে তুলতে হবে, আলো ও রং প্রকৃতির সত্যকে উজ্জ্বল করে তুলবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535412324180.jpg
ইসাবেলা আন্ড দ্য পট অর ব্যাসিল ১৮৬৮

কবিতা থেকে ছবি
নারীঘটিত দ্বন্দ্ব ও নিজেদের শিল্পভাবনা নিয়ে অনৈক্য প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড-এ ফাটল ধরায়, একে একে সবাই বিচ্যুত হলেও হান্ট রয়ে গেলেন প্রতিশ্রুত ধারাতেই। হান্ট ছিলেন বাইবেলের একনিষ্ঠ পাঠক। তার ছবি উঠে আসত বাইবেলের চরিত্র ও কাহিনী থেকে। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তিনি খ্রিস্টিয় ধর্মাচার থেকে দূরেই থাকতেন। খ্রিস্টিয় ছবিতে যথার্থতা আনার জন্য তিনি বহুবার জেরুসালেম সফর করেছেন। কার্লাইল ও রাস্কিন মনে করেন, ১৮৫৪ সালে আঁকা দ্য লাইট অব দ্য ওয়ার্ল্ড তখন পর্যন্ত ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আঁকা শ্রেষ্ঠ ছবি। তিনি এঁকেছেন স্কেইপগোট যেখানে জেসাস নিজে মানুষের পাপে হয়ে উঠেছেন স্কেইপগোট। তিনি সাহিত্যের সাথে চিত্রশিল্পের নিবিড় সম্পর্ক খোঁজেন, কবিতা থেকে ছবি তুলে আনেন, আঁকেন টেনিসনের দ্য লেডি অব শ্যালট।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535412415659.jpg
দ্য লেডি অব শ্যালট ১৯০৫

এডিথের জন্য ভালোবাসা
ডবয়ের দ্বিতীয় বছরেই তাঁর স্ত্রী ফ্যানি ওয়াফের মৃত্যুর পর শ্যালিকা এডিথকে বিয়ে করতে চান, কিন্তু তখনকার ব্রিটিশ আইনে তা সম্ভব ছিল না বলে তাকে ইতালি নিয়ে যান এবং সেখানে বিয়ে করেন। এডিথকে নিয়ে তাঁর স্মরণীয় ছবি বার্থডে। প্রি-র‌্যাফালাইট ব্রাদারহুড-এর শিল্পী টমাস ওলমার তাঁর ওপর ক্ষেপে যান কারণ এক সময় এডিথের সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হান্টের আঁকা ছবি যারা দেখেছেন, তারা জানেন সে ছবি কতটা মনে গেঁথে যায়, অসংখ্য ছবির মধ্যে হান্টের কাজ ম্লান করে দেয় তাঁর সমকালের অনেককেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/28/1535412518642.jpg
দ্য বার্থডে  (পোর্ট্রেট অব এডিথ ১৮৬৮, শিল্পীর দ্বিতীয় স্ত্রী)

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি
অ্যাওয়েকেনিং কনসান্স, দ্য লাইট অব দ্য ওয়ার্ল্ড,  স্কেইপগোট, ভ্যালেন্টাইন রেসকিউয়িং, সিলভিয়া অ্যান্ড প্রোটিয়াস, দ্য শ্যাডো অব ডেথ, দ্য মিরাকল অব ফায়ার, দ্য ইমপরটুনেট নেইবার, দ্য লেডি অব শ্যালট, দ্য ট্রাম্প অব ইনোসেন্স, ইসাবেলা আন্ড দ্য পট অব ব্যাসিল, আওয়ার ইংলিশ কোস্ট, দ্য হায়ারলিং শেপার্ড, দ্য বার্থডে।

আপনার মতামত লিখুন :