পত্রিকা নেই কাঙাল হরিনাথ জাদুঘরে!

এস এম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, কুষ্টিয়া
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘর

গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘর

  • Font increase
  • Font Decrease

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। অভাব অনটনের মাঝে বড় হলেও অবহেলিত সমাজের বৈষম্য তুলে ধরতে এবং তৎকালীন জমিদারদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করতে ১৮৬৩ সালে ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন তিনি।

সেই পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমেই অবহেলিত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। সংগ্রাম করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। পত্রিকাটি প্রথমে মাসিক প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি দীর্ঘ ২৫ বছর প্রকাশিত হয়। এ সময় কাঙাল হরিনাথ একাধারে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা এবং পত্রিকা প্রকাশ করতেন। আবার নিজেই পত্রিকা পাঠকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতেন।

তার স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু সেই জাদুঘরে কোন দৈনিক পত্রিকা পাওয়া যায় না। অথচ পত্রিকার রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত পেয়েছে এই কুষ্টিয়া জেলা। ছোট এই জেলা থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ৫৬টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক কিংবা মাসিক পত্রিকার একটি কপিও পৌঁছায় না সাংবাদিক গুরু কাঙাল হরিনাথের এই জাদুঘরে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা সংলগ্নে গড়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘর। দর্শনীয় নির্মাণশৈলীর দুইতলা ভবনে জাদুঘরের গ্যালারিতে ১৬৬টি নিদর্শন রয়েছে। মনোরম নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা রয়েছে প্রায় পাঁচশ। এছাড়াও রয়েছে একটি আধুনিক মিলনায়তন, যার আসন সংখ্যা শতাধিক।

সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের দুইতলা দৃষ্টিনন্দন ভবনে ছোট বড় ১৫টি কক্ষ রয়েছে। সামনে রয়েছে সান বাঁধানো মুক্তমঞ্চ, সেখানে সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ভাস্কর্য জাদুঘরের শোভা বাড়িয়েছে। এছাড়াও কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ঐতিহাসিক ছাপার যন্ত্র এমএন প্রেসের মডেল, কিছু যন্ত্রাংশ, বাংলা টাইপ অক্ষর, ছবি ও কিছু পাণ্ডুলিপিসহ বেশকিছু কালের সাক্ষী স্মৃতি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।

কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ভাস্কর্য

পুরো জাদুঘর সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টরের সাহায্যে সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ওপর ভিডিও দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে আসেন।

ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের একজন এখানে কোন দৈনিক পত্রিকা পড়ার মতো কোন কাগজ আছে কিনা এমন কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের মিউজিয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানালে তাদের সাফ জবাব এখানে কোন পত্রিকা আসে না। বা কেউই পত্রিকা পাঠায় না।

আবু রাসেল নামে এক দর্শনার্থী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বন্ধুদের নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছি। সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম।’ তবে কুষ্টিয়া থেকে যেসব পত্রিকা প্রকাশ হয় সেসব পত্রিকা পাঠকদের কিংবা দর্শনার্থীদের পড়ার ব্যবস্থা রাখলে ভালো হতো।

কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরের মিউজিয়ামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ এহসানুল হক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এই স্মৃতি জাদুঘরটি দেখভাল করে জাতীয় জাদুঘর। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী পরিদর্শন করতে আসেন। তবে দুঃখের বিষয় এই যে, কুষ্টিয়া থেকে এতোগুলো পত্রিকা প্রকাশিত হলেও এখানে কোন পত্রিকাই আসেনা।

কাঙাল হরিনাথ জাদুঘর

কাঙ্গাল হরিনাথ প্রেসক্লাব সভাপতি কেএমআর শাহীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এই জাদুঘরে কোন পত্রিকা না আসাটা খুবই দুঃখজনক। তবে কুষ্টিয়া জেলা থেকে যে কয়টা দৈনিক পত্রিকা আসতো তা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়াও পত্রিকা বিতরণের জন্য আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম নামের একজন পত্রিকা বিলি করতো তিনি (প্যারালাইজড) অসুস্থ হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। তবে কাঙ্গাল হরিনাথ প্রেসক্লাব সভাপতি হিসেবে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে স্থানীয় পত্রিকা পাঠানোর ব্যবস্থা করবো বলেও জানান তিনি।

লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কুমারখালীর ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ। সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তিনি। এই কুষ্টিয়া থেকে এতোগুলো পত্রিকা প্রকাশিত হলেও কোন পত্রিকা সেখানে না থাকাটা বেদনাদায়ক। তবে একটি করে দৈনিক পত্রিকা সেখানে রেখে কাঙালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি।

আপনার মতামত লিখুন :