কালের স্বর্ণে লেখা দ্যুতিময় নাম শামসুর রাহমান



ধ্রুব সাদিক
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের ধুলোয় লেখা-র পূর্বলেখে লিখেছেন, কস্মিনকালেও সন্ন্যাসী কিংবা দরবেশ হওয়ার কথা ভাবেন নি তিনি, আমরণ তাঁর বিশ্বাস ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়’ পঙক্তিতে। উল্লেখ করেছেন আরো, প্রত্যেক মানুষের জীবনই একটি ওডেসি, কারো ওডেসি ঘটনাবহুল, বৈচিত্র্যময়, বর্ণাঢ্য, কারো সেই পরিমাণ নয়। শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকায় আবার বলেছেন, শুধু দরবেশরাই পারেন পুরোপুরি নির্মোহ হতে, তাই নিজের কবিতা বাছাইয়ের কাজ এত কঠিন।

২০০৬ সালের ১৭ই আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে মহানগরী ঢাকার শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যেদিন শেষ নিঃশ্বাস তিনি ত্যাগ করেন, এক নিরবতা এবং কেমন নিস্তব্ধতা কি নেমে এসেছিল সে-সন্ধ্যায় রাষ্ট্র বাংলাদেশে? যেন একজন শেরপার মহাপ্রয়াণ হয়েছিল সেদিন, যিনি, বাংলা সাহিত্যের কাব্যকাঠামোর নববিন্যাস মানেই যার কবিতা, সেদিন বিদায় জানিয়েছিলেন মাতৃসমা পৃথিবীকে। যিনি জীবদ্দশায়ই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত ছিলেন।

কালের পথ পরিক্রমায় জীবন ঘষে যারা আগুন জ্বেলেছেন সেইসব আলোর পথযাত্রীদের একজন শামসুর রাহমান। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোর গুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায় ‘ঊনিশশ ঊনপঞ্চাশ’ নামে, ১৯৪৯ সালে। এরপর বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় ‘রূপালি স্নান’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে শামসুর রাহমানের। বিভিন্ন পত্রিকায় এ-সময় তাঁর কবিতা ছাপা হতে থাকে। তবে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় কবি হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক পরে, ১৯৬০ সালে, ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ শিরোনামে। জীবনানন্দের ঈষৎ ছায়া পরিলক্ষিত হলেও কবিতার বইটিতে তাঁর মৌলিক কবিপ্রতিভার ছাপ স্পষ্ট ছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘রৌদ্র করোটিতে’ প্রকাশিত হলে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়। বরিশালের এবং রূপসী বাংলার কবির প্রতি হয়তো একধরনের গভীর ভালো লাগা ছিলো কবির, যার কারণে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের বইটির নামই ছিল ‘আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ’।

প্রগতির সূর্যসন্তান শামসুর রাহমান ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে লিখেন ‘হাতির শুঁড়’ কবিতা। কারাগারে অন্তরীণ শেখ মুজিবকে উদ্দেশ্য করে লিখেন ‘টেলেমেকাস’ কবিতাটি। ১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী রেডিও পাকিস্তানে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্প্রচার নিষিদ্ধ করলে সরকার নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ কর্মরত থাকার পরও পেশাগত অনিশ্চয়তার তোয়াক্কা না করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শামসুর রাহমান। ১৯৬৮ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পাকিস্তানের সকল ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালু করার প্রস্তাব করলে শামসুর রাহমান মাতৃভাষার উপর শোষকের খড়গের বিরুদ্ধে শুধু বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখেন ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’-র মত হৃদয়স্পর্শী কবিতা। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে ‘আসাদের শার্ট’-এর মতো স্বজাতির করোটিতে গুলিবিদ্ধ চির-অমর কবিতাও লিখেছেন।

সাহিত্যে কবিতার চিরন্তনতার ব্যাপারটি চলে আসে। ফলত অপশাসন, অপশাসকদেরকে সমুচিত জবাব দেওয়ার চিরন্তন একটি অনুষঙ্গ হিসেবে কবিতা চলে আসে। যেসকল কবি শুধু মাটি, মানুষ, সুন্দর ও স্বদেশকে আপন জ্ঞান করে জড়ভরত হয়ে থাকেন, নিজেকে সেরকম জড়ভরত করে রাখেননি শামসুর রাহমান। একজন দায়বদ্ধ কবির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ফলত কবির দায়বদ্ধতা থেকে অপশাসকদের অপশাসনের সমুচিত জবাব দেওয়ার এক মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে শামসুর রাহমানের ‘মেষতন্ত্র’ কবিতাটি আমাদের চোখে ধরা দেয়। ‘মেষতন্ত্র’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই: শাসক ও জনতাকে কেন্দ্র করে মেষ ও মালিক বিষয় দুটি এসেছে। জনতা কথা বলতে পারে না; তাদের মুখ বোবা; তারা শুধু শাসকের হুকুম পালন করে, অথচ তারাই কিনা আবার উজ্জ্বল করে রাষ্ট্রের মুখ। কিন্তু কী নির্মম পরিস্থিতি! দিন-রাত-মাস-বছর চলে যায় জনতা টুঁ-শব্দটিও করতে পারে না। শাসকের শোষণে জনতা যেন অতিষ্ট ও নিরুপায় হয়ে দিনাতিপাত করে।

‘দিনদুপুরে ডাকাত পড়ে
পাড়ায় রাহাজানি,
দশের দশায় ধেড়ে কুমির
ফেলছে চোখের পানি।’
[মেষতন্ত্র]

এদিকে যে দেশের আপামর জনগণ যুদ্ধ করেছে নিজস্ব ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি, জাতিসত্তা, অথর্নীতি ও অধিকারের আশায়, সে রাষ্ট্রে কিভাবে গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিক নীল ব্লেজারে চারিদিক আচ্ছাদিত থাকে নিশিদিন; স্বৈরাচারী আচরণ বহাল রেখে কিভাবে গণতন্ত্রের নামে হরণ করা হয় মানুষের অধিকার; শামসুর রাহমান লিখলেন:

‘ভোরবেলা ঘন
কুয়াশার তাঁবুতে আচ্ছন্ন চোখ কিছুটা আটকে গেলে তার
মনে হয় যেন সে উঠেছে জেগে সুদূর বিদেশে
যেখানে এখন কেউ কারো চেনা নয়, কেউ কারো
ভাষা ব্যবহার আদৌ বোঝে না; দেখে সে
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বিরানায়; মুক্তিযুদ্ধ,
হায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়।’
[উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ]

পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের কবিতা ও সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানি-জ্ঞান করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলতে চেয়েছিলো, তার বিপরীতে কবিতায় শামসুর রাহমানের মিথের ব্যবহার এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা কবির অদম্য সাহসকে প্রতিনিধিত্ব করে। শামসুর রাহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতার বইটির পুরাণ ব্যবহারের ধরনে স্পষ্টত দেখা যায়, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িকতার চিহ্নসূত্র লুপ্ত করতে পেরেছিল। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,/ তোমাকে পাওয়ার জন্যে/ আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?/ আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?’ ‘খাণ্ডবদাহন’ মিথটির ব্যবহার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্তর্গত সৌরভ-সুগন্ধির স্মারক হয়ে উঠেছে। এছাড়া ‘প্রবেশাধিকার নেই’ কবিতায় ‘দুর্বাসা’ মুনি আর ‘প্রাত্যহিক’ কবিতায় ‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’-এর মিথ ব্যবহারের মধ্যেও। যে চেতনা জাতির অধিকাংশ মানুষকে একই আবেগ আর স্বপ্নের ছায়ার নিচে নিয়ে এসেছিলো, ১৯৭১-এ দ্বিধাহীন চিত্তে প্রায় অস্ত্র ছাড়াই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছিলো, আকুল স্বাধীনতার যে পিপাসা সর্বস্তরের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল, সবাইকে একই স্বপ্নে শামিল করানোর এই কাজটি করেছিল মূলত জাতীয়তাবাদী চেতনার মধ্যকার শ্রেণিচেতনা। ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতার বইয়ে কবি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য কারা কারা অপেক্ষা করছে বা আত্মত্যাগের জন্য ঘর ছেড়েছে। কবি তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেছেন ‘হাড্ডিসার অনাথ কিশোরী’, ‘সগীর আলী, শাহবাজপুরের জোয়ান কৃষক’, ‘কেষ্টদাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা’, ‘মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি’, ‘রুস্তম শেখ, ঢাকার রিক্শাওয়ালা’ আর ‘রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো সেই তেজী তরুণ’। একই প্রবণতা লক্ষ করা যায়, তিনি যখন স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন ‘গ্রাম্য মেয়ে’ থেকে শুরু করে ‘মেধাবী শিক্ষার্থী’ হয়ে ‘মজুর যুবা’ পর্যন্ত।

নাগরিক জীবনের পরাঙ্মুখ ছায়া শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় উন্মোচন করেছেন। আধুনিক কবিতার প্রধানসব বৈশিষ্ট্য: নাগরিক জীবনের হতাশা, বিচ্ছিন্নতা, নৈরাশ্য, সংগ্রাম মনস্কতা, মানসিক ক্লান্তি, শহুরে জল ও গরলের পাশাপাশি সমকালীন রাজনীতিও বহুমাত্রিকতায় তাঁর কবিতার ছত্রেছত্রে ধরা দিয়েছে। এছাড়া, নাগরিকতার অনুষঙ্গ হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর কবিতায় শহুরে প্রেম, প্রকৃতি, পরিবেশ-পরিস্থিতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ। এমনকি কবি নিজেও ‘ইকারুশের আকাশ’ কবিতার বইটিতে নিজেকে নাগরিক কবি হিসেবে তুলেও ধরেছেন। ফলতঃ শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি হিসেবে আখ্যায়িত করাটা সমীচীন। কিন্তু শুধুই নাগরিক কবি হিসেবে তাঁকে গণ্ডিবদ্ধ করাটা অসমীচীন শুধু নয় একদম অনুচিত। ‘মাতাল ঋত্বিক’-র সনেটগুচ্ছের ‘আমিও বনের ধারে’, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘আমার তৃষ্ণার জল’ সনেটগুলি ছাড়াও যার স্পষ্টত প্রমাণ পাওয়া যায় ‘রূপালি স্নান’, ‘কবিকে দিও না দুঃখ’, ‘দুঃখ পেতে থাকি’, ‘রেনেসাঁস’, ‘চাঁদ সদাগর’ প্রভৃতি কবিতায়।

‘আমিও বনের ধারে মধ্যে-মধ্যে একা চলে আসি
শহর পেছনে ফেলে। কোলাহলহীন বেলা কাটে
ঘাসে বসে ঝিলের ঝিলিক আর বীতশস্য মাঠে
পাখি দেখে, শিস বাজে ঘন ঘন; ক্লান্ত শীর্ণ চাষী,
সূর্যসেঁকা, বৃক্ষতলে স্বপ্ন শোঁকে, আশ্রয়-প্রত্যাশী
পান্থজল লম্বা পায়ে বসতির দিকে পথ হাঁটে
এবং সূর্যের চোখ বুজে আসে মেঘাচ্ছন্ন খাঁটে।’
[আমিও বনের ধারে]

যেসকল বৈশিষ্ট্য থাকলে একজন কবি তাঁর ভাষার ও জাতির বড় কবি বলে পরিগনিত হয়ে থাকেন, সেসব বৈশিষ্ট্যের অধিকাংশই শামসুর রাহমানের ছিল। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত যে বৈশিষ্ট্যটি খালি চোখে ধরা পড়ে সেটা হলো, তাঁর কবিতার একটি বড় অংশের রূপ-রূপান্তরের ইতিহাস রাষ্ট্র বাংলাদেশের রূপ-রূপান্তরের ইতিহাসের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলেছে।

শামসুর রাহমানকে নিয়ে একটি প্রবন্ধে হুমায়ূন আজাদও উপরের নির্মোহ সত্যটি তুলেও ধরেছেন- “আধুনিক কবি শামসুর রাহমান আত্মপ্রকাশে তিরিশের উত্তরসূরি আধুনিক কবি ও কবিতাকে অক্ষুন্ন রেখেছেন। শামসুর রাহমানতো পঞ্চাশের কাব্যপ্রতিভা তাই তাঁর স্বাতন্ত্র্য অবশ্যম্ভাবী। তিরিশের কবিতার কাব্যপ্রতিভার মধ্যে শামসুর রাহমান তার সঙ্গে গেঁথেছেন বাস্তবতা ও অব্যবহিত প্রতিবেশ ও সময়। শামসুর রাহমান সমকালে বিস্তৃত ও বাস্তবতাকে ধারণ করেছেন। তার কবিতায় উঠে এসেছে জাতীয় চেতনার প্রতিটি দ্রোহ, উন্মাতাল, আবহ, উত্তাপ, গণমুক্তির মূখর শব্দামালা। শামসুর রাহমানের কৃতিত্ব এখানেই যে তিনি বাস্তব প্রতিবেশকে ব্যাপক বিস্তৃত বাস্তবতাকে তাঁর কবিতায় ধারণ করেছেন নিজ স্বভাবে। তাইতো তিনি বাংলাদেশের একমাত্র প্রধান কবি রূপে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। পঞ্চাশের দশক থেকে নতুন শতাব্দীর শুন্য দশক পর্যন্ত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শামসুর রাহমানের কবিতা যে চেতনা ও আকর্ষণের জোরেও দীপ্যমান তা হলো তার কাব্যশৈলী, উপমা, প্রতীক, শিল্পরূপ ভাষার সারল্য, আধুনিক কবিতার শব্দ ও চিত্রকল্প কাব্য ভাষার গেীরবময় এতিহ্যে ও গভীর ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি তার কবিতাকে যুগে যুগে মানুষের সুখ ও দুঃখের সাথী করেছে।”

শামসুর রাহমানের জন্ম পুরনো ঢাকার মাহুতটুলি এলাকায় নানাবাড়িতে, ২৩ অক্টোবর ১৯২৯ সালে। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। প্রয়াণের ১৪ বছর পরে ফিরে তাকালে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে, যে ৭৭ বছরের এক জীবনে কি লিখেননি শামসুর রাহমান! কবিতা ছাড়াও শিশুসাহিত্য, অনুবাদ, গল্প, উপন্যাস, আত্মজীবনী, প্রবন্ধসহ সাংবাদিক ও সাহিত্য-গদ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সবমিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ। জনপ্রিয় কিছু গানের গীতিকারও তিনি। তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায়। অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননাও লাভ করেছেন শামসুর রাহমান। অনেক প্রতিষ্ঠানই তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে নিজেরাই এমনকি সম্মানিত বোধ করেছে। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভূষিত করে কবিকে সম্মান সূচক ডি.লিট উপাধিতে।


সহায়ক গ্রন্থ ও পত্রিকা
১। শামসুর রাহমান নিঃসঙ্গ শেরপা, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা একাডেমি, ১৯৮৩।
২। আধুনিক কবি ও কবিতা, হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমি, ১৯৭৩।
৩। মুক্তিযুদ্ধের কবিতা, রফিকুল ইসলাম, সাহিত্য পত্রিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।