শামসুর রাহমানের শবযাত্রায়



সৈয়দ কামরুল হাসান
অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

অলঙ্করণ: কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

শহীদ মিনার, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০০৬, বেলা ১০-৩০ মি :

মানুষের এই দীর্ঘ সারিতে সবাই এসে দাঁড়িয়েছেন। যুবক, যুবতী, শিশু-কিশোর, মাঝবয়সী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাও। হুইল চেয়ারে বসে প্রতিবন্ধীও লাইনে শামিল। কারো হাতে ফুল, কারুর বা মালা। যারা যুথবদ্ধ তারা ফুলের ডালি সাজিয়েছেন। শরতের ফিনফিনে নীল আকাশের নিচে ভাদ্রের উত্তপ্ত রৌদ্র শহীদ মিনারটায় আছড়ে পড়লেও তাকে কেউই আমলে নিচ্ছেন না। শহীদ মিনারটার একপাশে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছিলাম এই মৌন জনস্রোত। ভাবছিলাম মানুষের এই মিছিল যেন শামসুর রাহমানের রচিত কোনো এলিজি, হতে পারত তাঁরই কবিতার কোনো বিষয়বস্তু, যেখানে নিজেই তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন : ‘আমরা সবাই এখানে এসেছি কেন?/ এখানে কী কাজ আমাদের?’ মিছিল ধীরে এগিয়ে যায়। একসময় আমারো পালা আসে। রজনীগন্ধার ডাঁটাটি তাঁর পাশ দিয়ে শুইয়ে দিই। ফর্সা, ধবধবে কফিনে-মোড়ানো অবয়ব থেকে একটা জ্যোতির্ময় আভা যেন ঠিকরে পড়ছে। কবি নয়, শুয়ে আছেন যেন এক সন্তপুরুষ, মৃত নয় জীবন্ত যেন বা পুস্পকুণ্ডের ঘেরাটোপ থেকে তাকিয়ে আছেন তিনি। চারদিকে ছড়িয়ে-পড়া টিভি চ্যানেলের যত মাতামাতি, মাইকে কবির কবিতার পংক্তিমালায় নানান স্বরের ওঠানামা, শোকপুস্তকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষের দীর্ঘ সারিতে দু’চরণ লেখার আকুতি—এ-সবকিছু তাঁর সামনে দিয়ে মেঘের মত ভেসে যায়। এক সফেদ শূন্যতায় শুয়ে আছেন কবি, যেন তাঁর ঠোঁট নড়ছে আর ঝরে পড়ছে উজ্জল পংক্তিমালা : “এখানে দরজা ছিল, দরজার ওপর মাধবী-লতার একান্ত শোভা।/ এখন এখানে কিছু নেই, কিচ্ছু নেই।/ শুধু এক বেকুব দেয়াল, শেল-খাওয়া, কেমন দাঁড়ানো, একা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে তাঁর জানাজা হবে। জানাজা পড়ার উদ্দেশ্যে মিনারের বেদী থেকে নেমে এবার আমরা মিছিল নিয়ে রাজপথে এসে দাঁড়ালাম। শামসুর রাহমানের শবযাত্রার মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মাঝ দিয়ে টিএসসিকে ডানে রেখে এগিয়ে চলল। এই পথ দিয়ে অনেক হেঁটেছেন তিনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়, বটতলা, লাইব্রেরী, মধুর ক্যান্টিন, চারুকলা, রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (রেসকোর্স), হাকিম চত্বর তাঁর পদস্পর্শের স্মৃতিতে এখনো সজীব। ওইতো টিএসসি কিংবা হাকিম চত্বর। এখানে জাতীয় কবিতা পরিষদের অনেক অনুষ্ঠানই উদ্বোধন করেছেন তিনি। কবিতা পড়েছেন দূর মফস্বল থেকে আসা অচেনা একেবারে অতি তরুণদের সাথে বসে একই মঞ্চে। তাদের পাশে থেকে অভয় দিয়েছেন রাজপথের গনগনে রোদ্দুরে, বর্ষায়, প্রতিবাদী মিছিলে। রাজপথের সেই তরুণটিকে তিনি এঁকেছেন তাঁর কবিতায়; ‘ছেলেটা পাগল নাকি ?’— প্রতিবেশী বুড়ো বললেন খনখনে কণ্ঠে তাঁর।/ ‘পাগল নিশ্চয় , নইলে ঘরের নির্জনে কেন দেয়নি সে ধরা’ ভাবেন লাঠিতে ভর দিয়ে বুড়ো,/ ‘নইলে কেউ বুঝি মিটিং-মিছিলে যায় যখন তখন? সব পুঁজি খোয়ায়, ঘরের খেয়ে তাড়ায় বনের মোষ?/ জীবনের সকালবেলায় গোলাপের মতো প্রাণ জনপথে হারায় হেলায়?’

সেই রাজপথে পা ফেলতেই পথ আমাকে টেনে নিয়ে গেল আরো পেছনের দিনগুলোতে।

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ, আমরা যারা মফস্বল শহরের নবীন লিখিয়ে আধুনিক কবিতার খোঁজখবর করতে শুরু করেছি, চাঁদা তুলে ছাপছি একুশের সংকলন, হাতে লিখে বের করছি দেয়াল পত্রিকা—সেসকল দিনে একদা ছোট্ট কিশোরগঞ্জ শহরে ঈশা খাঁর উত্তর পুরুষদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত পাবলিক লাইব্রেরীর বিপুল সংগ্রহশালায় খুঁজে পাই শামসুর রাহমানের দু’টি কবিতার বই ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,’ এবং ‘রৌদ্র করোটিতে’। পরে জেনেছি এ দুটি কবির প্রথম প্রকাশিত বই। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার ওপর হাসান হাফিজুর রহমানের বিখ্যাত আলোচনা পড়ে ফেলেছি, কিন্তু এত প্রশংসা যে শামসুর রাহমানকে নিয়ে তাকেই পড়া হয়নি। তখনও পড়িনি আল মাহমুদ কিংবা শহীদ কাদরী। শামসুর রাহমানের ওই দুটি বই পড়ার পর মনে হলো একেবারে নতুন স্বাদের কবিতা ভিন্ন এক কাব্য ভাষায়। কেমন একটা ঘোর-লাগা জগত্— মধ্যবিত্তের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের অনুষঙ্গে কাব্যময় সেই জগত্—যেখানে নিয়ত খেলা করে রোদ ও জ্যোছনা, পার্কের নি:সঙ্গ বেঞ্চ, সেখানে ভাগাভাগি করে ঘুমায় এক নি:সঙ্গ খঞ্জ, রোঁওয়া-ওঠা-কুকুর আর ঝরাপাতা। মাথা থেকে কিছুতেই তাড়াতে পারি না যে দৃশ্যাবলী এঁকেছেন তিনি কবিতায়; ‘রোয়াওঠা কুকুরের সাহচর্য্যে গ্রীষ্মের গোধূলি হয়তো লাগবে ভালো / রাত্রি এলে চাঁদ হয়তো অদ্ভুত স্বপ্ন দেবে তার সত্তার মাটিতে / বিষাদের ঘরে কেউ জাগাবেনা তাকে/ পার্কের নি:সঙ্গ খঞ্জটাকে।’ মনের মধ্যে আজো দাগ কেটে বসে আছে রৌদ্র করোটির সেই বিখ্যাত চরণ; ‘আমাদের বারান্দায় ঘরের চৌকাঠে / কড়িকাঠে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে/ দু:খ তার লেখে নাম’। শামসুর রাহমানের ওই দুটি কাব্যগ্রন্থ পড়ার সুবাদে একালের কবিতার প্রাসাদে উঠবার একটা সিঁড়ি পেয়ে গেলাম, তিনি যেন অঙ্গুলি নির্দেশে দেখিয়ে দিলেন আধুনিক কবিতার যাত্রাপথটা। একে একে তাঁর বইগুলি পড়তে থাকি— ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’, ‘নিজ বাসভূমে’, ‘বন্দী শিবির থেকে’, ‘ইকারুসের আকাশ’, ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি’, ‘মাতাল ঋত্তিক’, ‘উদভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’, ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা’—যা কিছু প্রকাশ পাচ্ছে তার সবকিছু। পড়লাম তাঁর লেখা অনবদ্য স্মৃতিগদ্য—‘স্মৃতির শহর’, এমনকি বই হয়ে বাজারে আসার আগেই কোনো এক ঈদসংখ্যায় পড়ে ফেললাম তাঁর উপন্যাস ‘অক্টোপাস’। ততদিনে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কলাভবনের করিডোরে আমাদের প্রথম যৌবন উচ্চকিত উন্মাদনায় নতুন নতুন ব্যঞ্জনায় শামসুর রাহমানকে আবিষ্কার করছে। হরতাল, মিছিল, দাবী-দাওয়া, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ভরা শামসুর রাহমানের কবিতা। ২-৪ টে নয়, অসংখ্য উজ্জ্বল পঙ্ক্তিমালা তাঁর হাতে কবিতার দুর্লভ লালিত্যে ধরা দিয়েছে। তিনি যেন আমাদের নেরুদা, আমাদের নাজিম হিকমত। বর্ণমালা, আমার দু:খিনী বর্ণমালায় তিনি বর্ণমালাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন : ‘তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে কী থাকে আমার ?’ মুক্তিযুদ্ধের অবরুদ্ধ দিনে ‘বন্দি শিবির থেকে’ সেই শব্দকে তিনি দেখেছেন: ‘আমার প্রতিটি শব্দ পিষ্ট ফৌজি ট্রাকের তলায়,/ প্রতিটি অক্ষরে গোলা বারুদের/ গাড়ির ঘর্ঘর,/ দাঁতের তুমুল ঘষ্টানি,/ প্রতিটি পঙ্ক্তিতে শব্দে প্রতিটি অক্ষরে/ কর্কশ সবুজ ট্যাঙ্ক চরে, যেনবা ডাইনোসর।’ তাঁর চারপাশের সে-সময়কার চিত্র তিনি যেভাবে এঁকেছেন, তা হয়ে উঠেছে নৃশংস নরহত্যার অমোচনীয় ছবি : ‘সমস্ত শহরে সৈন্যেরা টহল দিচ্ছে,/ যথেচ্ছ করছে গুলি, দাগছে কামান/ এবং চালাচ্ছে ট্যাংক যত্রতত্র। মরছে মানুষ,/ পথে ঘাটে ঘরে, যেন প্লেগবিদ্ধ রক্তাক্ত ইঁদুর।’ কিন্তু যে কোনো মহৎ কবির মত তিনি মানুষের আত্মাহুতিতে দেখেছেন অবিনশ্বর প্রেরণার আভাস। তিনিইতো ‘আসাদের শার্র্ট’-এ লিখেছেন—‘ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত / মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট/ শহরের প্রধান সড়কে/ কারখানার চিমনি-চূড়োয়/ গমগমে এভেন্যুর আনাচে-কানাচে/ উড়ছে, উড়ছে অবিরাম।’ আর স্বাধীনতা নিয়ে এতদঞ্চলের মানুষের হাজার বছরের যে স্বপ্ন, যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে একদা নজরুল ‘বিদ্রোহী’ লিখেছিলেন, সেই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাসাহিত্যের সেরা আধুনিক কবিতাটি তো তারঁই হাত দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলো। পাঠকের পক্ষে (কিংবা স্বাধীনতাকামী যে কারুর পক্ষেই) এই দীর্ঘ কবিতার মোহ অগ্রাহ্য করা কঠিন: ‘স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন/ স্বাধীনতা তুমি উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন,/ স্বাধীনতা তুমি বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদির রঙ।… স্বাধীনতা তুমি বাগানের ঘর, কোকিলের গান/ বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,/ যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।’

কবির সাথে মুখোমুখি সাক্ষাতের সুযোগ ঘটলো এর পরপরই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায়ই অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীতে (গাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত) সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করার সুবাদে একেবারে যেন সংস্কৃতির বৈঠকখানায় এসে পা রাখলাম। সেখানে এসে সবাইকে পাওয়া গেলো শওকত ওসমান কি পটুয়া কামরুল হাসান; কে নেই সেখানে? দেখলাম সেখানেও দিব্যি আলো ছড়িয়ে আছেন এই রাজসিক কবি। হ্যাঁ সন্ধানীর বিশেষ সংখ্যার জন্য লেখা সংগ্রহের ছুতোয় তাঁর ওখানে যাওয়ার সুযোগ ঘটলো প্রথম, দৈনিক বাংলায় তাঁর বিশাল সম্পাদকীয় কক্ষে। চেহারা ছবি তো মুখস্থই ছিল, কিন্তু তাঁর অপূর্ব গৌরকান্তি, রুচিশীল পরিপাটি বেশভূষা আর নম্র, সুরেলা কাঁপা কাঁপা গলার আওয়াজ কাছ থেকে উপভোগ করলাম। নির্ধারিত তারিখে লেখা দিয়ে দিয়েছেন তিনি, কখনোই তারিখ ভুল হয়নি তাঁর। পরে সাক্ষাৎকারও নিয়েছি পুরনো ঢাকায় সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেনের বাসায় গিয়ে। একদিন তাঁর শ্যামলীর বাসায়ও গিয়েছিলাম। পিজি হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের দিনগুলিতে দেশবাসীর মতো আমিও কাটিয়েছি উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভরা প্রতিটি প্রহর। কে জানে শেষ শয্যায় তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিলো কিনা! তিনিই তো লিখেছিলেন : ‘কবির অশ্রুর চেয়ে দামি মায়াময় অন্য কিছু আছে কি জগতে?’

শবযাত্রার মিছিলটি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে এসে শেষ হলো। বিশাল মসজিদ উপচানো মুসল্লীরা সবুজ লন ছাপিয়ে রাস্তায়, জানাজায় শরীক। তাঁর কফিনের ফুলবাহী বিশাল ট্রাকবহর মিছিলের পিছু পিছু এসেছে। জানাজা শেষে বনানী যাবে, মায়ের পাশে কবির শেষ শয্যায়।

অপরাহ্নের আলো এসে তীর্যক হয়ে ছুঁয়েছে জনাকীর্ণ শাহবাগের রাজপথ। সে আলোয় জনস্রোতে নিজেকে মিশিয়ে দিই। ঘোর-লাগা চেতনায় টাপুর টুপুর ঝরে পড়ে কবির অমর পংক্তিমালা : ‘আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে/ কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা/ একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়—ফুল নয়, ওরা/ শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপূর।’ ফিসফিসিয়ে বললাম—‘বিদায় রাহমান ভাই’।

[আধুনিক বাংলা কবিতার বরপুত্র, স্বাধীনতা ও মুক্তি চেতনার কবি শামসুর রাহমান ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ইহলোক ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে পিজি হাসপাতালে দীর্ঘ ১২ দিন তিনি কোমায় ছিলেন। পরদিন ১৮ আগস্ট বেলা ১০টায় তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনারে আনা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজা শেষে বনানী গোরস্থানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন। কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেদিন শহীদ মিনার ছিল লোকে লোকারণ্য, শবমিছিলে মানুষের ঢল নেমেছিলো। অন্যান্যদের সাথে লেখক ছিলেন সেই শবযাত্রায়। সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে এই স্মৃতিচারণা। ]

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;