হাসনাত ভাই



ড. মহীবুল আজিজ
আবুল হাসনাত

আবুল হাসনাত

  • Font increase
  • Font Decrease

অল্প কিছুদিনের মধ্যে একে-একে দেশের বহু গুণিজন চলে গেলেন। সেই যাত্রায় এবারে সামিল হলেন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পাদক আবুল হাসনাত। সত্যি কথা বলতে কি, তাঁর চলে যাওয়ার সংবাদটি শোনার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। নিরব সাধকের মত কর্মের চাঞ্চল্য দিয়ে সময়ের বিরাট গহ্বর পূরণ করবার এক অসাধারণ কারিগর ছিলেন তিনি।

আবুল হাসনাত নামটির সঙ্গে কখন প্রথম পরিচয় সেটা খানিক গবেষণা করেই বলতে হয়। আমি তখন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র। এক গ্রীষ্মের ছুটিতে ঢাকা আজিমপুর নানাবাড়ি বেড়াতে গেলে মেজো মামা’র (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহমুদুর রহমান) সংগ্রহে বেশকিছু পত্রিকা দেখতে পেলাম। এখনও মনে আছে কয়েকটির নাম- সমকাল, বিপ্রতীক, ছোটগল্প, সাম্প্রতিক, টিপসহি এবং আবুল হাসনাত সম্পাদিত গণসাহিত্য পত্রিকাটি। মুগ্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবয়ব, যেমন বিষয়ের ঋদ্ধতায়, তেমনি মুদ্রণের পারিপাট্যে।

প্রথমটায় ভেবেছিলাম বিখ্যাত ‘যৌনবিজ্ঞান’ রচয়িতা আবুল হাসনাত না তো। মামা বললেন, না ইনি, দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক। আর ভুলি নি। প্রায় সমিল নামের আরেকজনকে পাই, কথাশিল্পী আবুল হাসানাত। মামা’র কথায় উৎসাহিত বোধ করেই দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকী পড়তে শুরু করি এবং সেই মুগ্ধতার রেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

যে-কোনো বিচারে আবুল হাসনাত সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী ছিল দেশের সেরা সাহিত্যের পাতা। আর, সম্পাদনার কথা বললে, সেখানেও তিনি অগ্রগণ্য। সন্ধানী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গল্প এবং কবিতার গ্রন্থসংগ্রহ তাঁর অনবদ্য সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর। মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যের অনেক সংগ্রহ বেরিয়েছে পরে কিন্তু আবুল হাসনাত ছিলেন এক্ষেত্রে নকিব।

সংবাদ-এ আমার লেখা প্রথম বেরোয় যখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। হাসনাত ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। কিছুকাল পরে বাংলা একাডেমি বইমেলায় পরিচয়। কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে। তখনই জানলাম তিনি কবি মাহমুদ আল জামান-ও। সৃজনশীল লেখালেখি করেন এই নামেই। আর সম্পাদনা ও অন্যান্য কাজের জন্যে আবুল হাসনাত। জেনে বেশ পুলকিত বোধ করি।

প্রথম দেখায় তাঁর রাশভারি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে একটা ঝাপসা ভাব আমার মনের মধ্যে গড়ে ওঠে। মনে হয়েছিল, ভদ্রলোক অতিরিক্ত গম্ভীর। পরের বার দেখা হলে হয়তো চিনবেনই না।

আমার ধারণা ভুল ছিল। যাঁকে মনে রাখা দরকার তাঁকে তিনি ঠিকই মনে রাখতেন। ২০০৩ সালে কালি ও কলম পত্রিকার যাত্রা শুরু, এটির সম্পাদক আবুল হাসনাত এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি আমাদের আনিস স্যার, ড. আনিসুজ্জামান। প্রথম সংখ্যাতেই লেখা দিয়েছিলাম, বিষয় ছিল সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ। আনিস স্যার এবং হাসনাত ভাই দু’জনেই ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন এবং আমাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন (না, দিলেও চলতো, আনিস স্যারের আমি ছাত্র, আর হাসনাত ভাই লেখা চাওয়া মানে নির্দেশই।) এটা বললাম এজন্যে, তিনি যখন লেখা চেয়ে ফোন করতেন তখন কোনো অযুহাতই চলতো না।

লেখা চাইতেনই এমনভাবে যেন আমি তাঁর সূচিপত্রে অ-বিকল্প। লেখককে কীভাবে সম্মান করতে হয় সেটা তাঁকে দেখে শেখা যায়। ২০০৪-এ কালি ও কলম পত্রিকার প্রকাশনা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনিস স্যার এবং হাসনাত ভাই দু’জনেই দায়িত্ব দেন আমাকে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে আমরা অনুষ্ঠানটি করি। অনুষ্ঠান সম্পর্কিত পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো ছিল অনুপ্রেরণামূলক। ঢাকায় ফিরে ফোনে ধন্যবাদ জানালেন আমার শ্রদ্ধাভাজন দু’জনই।

আমার তৃতীয় উপন্যাস ‘বর্ণসন্তান’ সংক্রান্ত একটি স্মৃতিকথন এ-প্রসঙ্গে আবশ্যিক হয়ে পড়ে। একটি সংখ্যার জন্যে লেখা চেয়ে ফোন করেছিলেন তিনি। কথাপ্রসঙ্গে বললাম, আমার তৃতীয় উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছি। শুনেই বললেন, পাঠিয়ে দিন, আমরা ‘বেঙ্গল’ থেকে ছাপবো। দিলাম পাঠিয়ে। পাঠাবার পর খানিকটা দ্বিধা-সংকোচ আমাকে পেয়ে বসে। উপন্যাসটি ১৯৯৬/৯৭ সালের ইংল্যান্ডের প্রেক্ষাপটে লেখা। এতে বেশ খানিকটা জায়গার বর্ণনা বিচিছন্নভাবে পড়লে মনে হবে পর্নোগ্রাফি লেখা হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গাটাকে আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে অতি প্রয়োজনীয় অংশ- বাদ দেওয়া চলবে না কোনোভাবেই। মনে মনে ভাবি, দেখা যাক হাসনাত ভাই কি বলেন।

তারপর একদিন ফোন করলাম, বললেন, উপন্যাসটা তো প্রেসে, ছাপার কাজও প্রায় শেষ, বেরিয়ে যাবে দিনকয়েকের মধ্যেই। শুনেই আমি থ। বলেন কী হাসনাত ভাই। তাহলে নিশ্চয়ই কেটেছেটে বাদ দিয়ে ছাপছেন বই! উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলাম তাঁকেই। অতি নান্দনিক প্রচ্ছদটি করেছিলেন শিবু কুমার শীল। কপি হাতে এলে দেখলাম, হ্যাঁ, বাদ সেটুকুই দিয়েছেন যেটুকু তাঁর সম্মানে উৎসর্গপত্রে লেখা হয়েছিল। নিজের সম্পর্কে সুভাষণেও তাঁর আপত্তি ছিল। আমার পাণ্ডুলিপি থেকে একটি শব্দও তিনি বাদ দেন নি।

বেঙ্গল প্রকাশনী বাংলাদেশের পুস্তক-প্রকাশনার জগতে অল্পদিনের মধ্যেই দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করেছে। শুনেছি, গ্রন্থ প্রকাশনার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অসম্ভব ধরনের মনোযোগী পরীক্ষক এবং নিরীক্ষক। একটি গ্রন্থকে সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করবার জন্যে যা-যা দরকার সবই তার প্রযত্নে হতো সুচারুরূপে।

উপন্যাস প্রকাশের কিছুকাল পরে আবার তাঁর সঙ্গে কথা হয় ফোনে। বললাম, ইতালো ক্যালভিনো’র গল্প অনুবাদ করেছি। বললেন, ক’টা গল্প? বললাম, ষোলোটা। এবারেও বললেন, পাঠিয়ে দিন আমার ই-মেইলে। দিলাম পাঠিয়ে। কিছুকাল পরে ফোন করি খবর নেওয়ার জন্যে। জানতে পেলাম, তিনি দেশে নেই, আমেরিকা গেছেন তাঁর একমাত্র কন্যাকে দেখতে। ফিরে আসবার পর আবার যোগাযোগ হলো। হাসনাত ভাই বললেন, আপনার ক্যালভিনো প্রেসে। এটির প্রচ্ছদ এবং অভ্যন্তরীণ অলংকরণের দায়িত্বে রয়েছে নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। নি্র্ঝরের সঙ্গেও কথা হয় ফোনে।

বই বেরোলে দেখলাম, এ এক অসাধারণ আয়োজন হাসনাত ভাইয়ের বদৌলতে এবং শিল্পীর অপূর্ব্ নান্দনিক অবদানে। একটি গ্রন্থ কতটা চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা যায় আমার কাছে ইতালো ক্যালভিনোর বইটি তারই এক অনন্য নজীর। বলতে দ্বিধা নেই, আমার অনুবাদে যদি কোনো অপূর্ণতা থেকেও থাকে তা উধাও হয়ে গেছে এমন ঐশ্বর্য্ময় আবেদনের কারণে।

আমাদের সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব আনিস স্যারের প্রয়াণে আমরা সবাই শোকগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আনিস স্যার শিক্ষক ছিলেন আবুল হাসনাতেরও। কালি ও কলম আনিসুজ্জামান সংখ্যার জন্যে লেখা চেয়ে ফোন করলেন হাসনাত ভাই। শুধু তা-ই নয়, আনিস স্যারের ওপর তাঁর লেখাটি আমাকে পাঠালেন যদি কোন অসঙ্গতি চোখে পড়ে। বলাবাহুল্য, কোনো অসঙ্গতি ছিল না সে-রচনায়। লেখাটি আমাকে না-দেখালেও তাঁর চলতো কিন্তু এটি তাঁর মনের উদারতারই পরিচয়।

মাত্র কিছুদিন আগে শেষবার তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হলো। বললাম, একটু সাবধানে থাকবেন, যতটা সম্ভব দূরত্ব মেনে চলবেন। উত্তরে তাঁর স্বভাবসুলভ মিতকথনের ভঙ্গিতে বললেন, চেষ্টা করি। বলছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ওপর একটি প্রবন্ধ দিতে হবে কালি ও কলম বিদ্যাসাগর সংখ্যার জন্যে।

বিষয়টা বেশ মজারই। তাঁর যোগাযোগের দিনকয়েক আগেই আমি বিদ্যাসাগরের ওপর একটি প্রবন্ধ লিখে শেষ করেছি। পাঠিয়ে দিলাম তাঁকে সেই লেখা। তারপর আর কথা হয় নি। আজ রোববার (১ নভেম্বর) জানলাম, হাসনাত ভাই পরপারের যাত্রী। চোখের সামনে চকিতে ভেসে উঠতে থাকে চলচ্চিত্রের মতন- সেই আজিমপুরে গণসাহিত্য পত্রিকাটি হাতে তুলে নেওয়া থেকে এই সেদিনের বিদ্যাসাগর সম্পর্কিত সংযোগের ঘটনা পর্যন্ত, একটার পর একটা- সবই হয় লেখা সংক্রান্ত নয় গ্রন্থ সংক্রান্ত।

আরেকটি ঘটনা দিয়ে লেখাটা শেষ করি। সম্ভবত ২০১৬ সালের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ আমন্ত্রিত ড. শহীদুল্লাহ্ স্মারক বক্তৃতা দেই আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘সংকট মোকাবিলায় সাহিত্য' শিরোনামে। পর্বটির সভাপতি ছিলেন আনিস স্যার। অনুষ্ঠান শেষে স্যার বললেন, হাসনাত ফোন করেছিল, আজকের বক্তৃতাটি কালি ও কলম-এ ছাপতে দেওয়ার জন্যে চাইছে। আমি বললাম, নিশ্চয়ই। যেহেতু সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের আমন্ত্রণে রচিত, আমি তখনই তৎকালীন সভাপতি শ্রদ্ধেয় বেগম আকতার কামালের সম্মতি আদায় করে নেই আনিস স্যারকে সাক্ষী মেনে। আনিস স্যার বললেন, লেখাটা বেশ বড়। সম্পাদনার প্রয়োজন হলে হাসনাত তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। প্রবন্ধটি কালি ও কলম কলকাতা-সংস্করণে মুদ্রিত হয় এবং কোনো প্রকারের পরিবর্তন-পরিমার্জনা ব্যতিরেকেই। ছাপা হলে ঢাকা থেকে হাসনাত ভাই ফোন করে জানান প্রকাশনার কথা।

আটান্ন বছরের জীবনে যত মানুষের দেখা পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে আবুল হাসনাত নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমার আকাশ থেকে খসে পড়েছে একটি নক্ষত্র। মাহমুদ আল জামান নামে লেখা হাসনাত ভাইয়ের অনেক লেখা পড়েছি- বিশেষ করে কবিতা, শিশু-কিশোর সাহিত্য এবং প্রবন্ধ। তাঁর লেখা মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক একটি কবিতার কথা মনে পড়ে। ‘যখন ফিরছি’ শিরোনামের কবিতাটি থেকে ছোট-ছোট কয়েকটি পংক্তির উদ্ধৃতি – যখন ফিরছি/ সরে যায় সমস্ত ঘরবাড়ি, আনন্দের/ পূর্ণতার ছবি/ যখন ফিরছি/ যখন ফিরছি।

হাসনাত ভাই, জানি না, কোথায় ফিরে যাচ্ছেন আপনি, পেছনে পড়ে রইলাম আমরা- ঋণী।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;