আসল চেহারার অপেক্ষায় বইমেলা



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আসল চেহারার অপেক্ষায় বইমেলা। ছবি: বার্তা২৪.কম

আসল চেহারার অপেক্ষায় বইমেলা। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার বিরূপ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়েই বইয়ের পসরা সাজিয়ে হাজির হয়েছেন প্রকাশকরা। তবে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও সবাই পুরোপুরি তৈরি হতে পারেন নি। চিরচেনা বইমেলার প্রাণ জাগানিয়া অবয়বের অপেক্ষা করছেন প্রকাশক, লেখক, পাঠক তথা সংশ্লিষ্ট সবাই। পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন যাবতীয় আয়োজন ও তৎপরতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক ও 'পরানকথা' প্রকাশনীর কর্ণধার ড. তাশরিক-ই-হাবিব বার্তা২৪.কম'কে জানান, 'শুক্রবার (১৯ মার্চ) থেকে বইমেলার আসল চেহারা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে। গতকাল প্রথম দিন উদ্বোধনের পর স্টলে বসলেও সাজসজ্জা আর অন্য স্টলের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়েই কেটেছে বিকেল থেকে সন্ধ্যা। আজ শুক্রবার, বইপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে অনেকেই আসবেন, বইমেলার পুরো আয়োজনে সামিল হতে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে যারা এবার অংশ নিচ্ছেন, তাদের একটু সময় লাগছে।'

বরাদ্দকৃত স্টলের প্রায়- সবাই ইতিমধ্যেই পসরা সাজিয়েছে। তবে, শেষ মুহূর্তের কিছু প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে কোনো স্টলে। বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে স্বাস্থবিধি ও সুরক্ষার বিষয়ে। মেলায় টুকটাক প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালেও।

'বর্ষা দুপুর' সত্ত্বাধিকারী মুশফিক তন্ময় বার্তা২৪.কম'কে বলেন, 'বইমেলার সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব মিশে আছে। লেখক, পাঠক, প্রকাশকের এমন নিবিড় মিলনমেলা ভাষা ও সাহিত্যে গতি সঞ্চার করে। ফলে বইমেলার বাণিজ্যিক গুরুত্বের চেয়ে সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অপরিসীম।'

এবারের করোনাকালীন বইমেলায় বিক্রি কেমন হবে, তা নিয়ে কোনো কোনো প্রকাশক সন্দিহান। তবে, সবাই আশা করছেন শুক্রবার থেকে জমজমাট হবে মেলার প্রাঙ্গণ। মানুষের পদভারে মুখরিত হবে প্রাণের মেলা। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে বইমেলা পরিণত হবে উৎসবের বর্ণাঢ্য আঙিনায়।

কর্তৃপক্ষ এবারের মেলায় স্বাস্থবিধি পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মাস্ক পরিধান ছাড়া মেলায় প্রবেশ করা যাবে না। মানতে হবে সামাজিক দূরত্বও।

একাধিক প্রকাশক বার্তা২৪.কম'কে জানিয়েছেন যে, এ বছর তুলনামূলক বেশি বই প্রকাশ পাবে। করোনার কারণে গৃহবন্দিত্ব ও সঙ্গরোধের সুযোগে অনেকেই লেখালেখি করেছেন। বেশ কয়েকজন নতুন লেখকের দেখা পাওয়া যাবে এবার।

তার বলেন, পরিকল্পিত বইয়ের ৭০% বের হয়ে গেছে। কিছু বই ছাপাখানা ও বাইন্ডারের কাছে আছে। এ মাসের মধ্যেই সবগুলো বই তারা মেলায় হাজির করতে পারবেন।