ক্যামেলিয়া, তুমিই তাহলে চা!



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস।  সংগৃহীত

২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২১শে মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। সারা বিশ্ব জুড়ে চায়ের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক মূল্যবোধ বোঝাতেই এই দিনটি পালন করা হয়। চা ( বৈজ্ঞানিক নাম- ক্যামেলিয়া সুনেনসিস) হলো এমন এক উদ্ভিদ, যা সাদা চা, সবুজ চা, উওলং, কালো চা, হলুদ চা এবং পু-এহের মতো চা তৈরি করে।

চীনের ইউনান অঞ্চলের কাছাকাছি সর্বপ্রথম  চা উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়েছে বলে মনে করা হয়। কামেলিয়া সিনেনসিস নামটি 'চীনা ক্যামেলিয়া '-এর ল্যাটিন নাম, যা একটি চিরহরিৎ ঝরঝরে গাছ, যা বনের এলাকায় প্রসারিত হয়। পাতাগুলো সারিবদ্ধ প্রান্ত দিয়ে একটি চকচকে সবুজ এবং একটি উপসাগরের আকৃতি ও আকারের অনুরূপ।

চা এর জন্য উদ্ভিদ দুটি প্রকারের হয়। এক) ক্যামেলিয়া সিনেনসিস সিনেনসিস (চীনা চা)। এটি চীনের নেটিভ উদ্ভিদ এবং ঠান্ডা তাপমাত্রা এবং উচ্চ উচ্চতায় উজ্জ্বল হয়ে জন্মায়। এটা সাধারণত পর্বত ঢাল উপর উত্থিত হয় এই জাতটি মিষ্টি, হালকা চা, সবুজ চা এবং সাদা চা উৎপন্ন করে। দুই) ক্যামেলিয়া সিনেনসিস আসামিকা। যা, জনপ্রিয়ভাবে আসাম চা বা ভারতীয় চা হিসাবে পরিচিত হয়। এটি উত্তর ভারতে আসাম অঞ্চল থেকে উৎপন্ন। এখানকার জলবায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং উষ্ণ তাপমাত্রার সাথে ক্রান্তীয় হওয়ায় বড় উদ্ভিদ উৎপাদক এবং কালো চা, উলং এবং পি-এহের মত শক্ত বা কড়া স্বাদের চা উৎপন্ন করে।

তবে চা এর ক্ষেত্রে একটি তৃতীয় ধরণের উদ্ভিদ আছে, যা শঙ্কর জাতের। নাম ক্যামেলিয়া সিনসেথিস কম্বোডিয়েন্সস, যা 'জাভা বুশ হিসাবেও পরিচিত। এটি সাধারণত চা জন্য ব্যবহার করা হয় না, যদিও এটি ক্রসব্রেড উদ্ভিদ cultivars ব্যবহার করা হয়েছে

চায়ের জন্মপুরাকথা বা অরিজিন মিথ বলেছেন সারা রোজ নামের এক গবেষক। তার উপস্থাপিত দুটি গল্পের মধ্যে প্রথমটির সঙ্গে সম্রাট সেনঙের নাম জড়িয়ে। কথিত আছে, একটি ক্যামেলিয়া(চা-র বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া) গাছের পর্ণছায়ে বিশ্রাম করছিলেন সেনঙ, হেনকালে তার হাতে ধরা ফুটন্ত জল ভরা পাত্রে এসে পড়ল চকচকে একটা পাতা। জলের দানাগুলো পাতা থেকে আলাদা হয়ে গেলে দেখা গেল জলের মাথায় ভাসন্ত পাতা ঘিরে ফিকে সবুজ তরল তৈরি হচ্ছে। গাছ বিষয়ে যা যা জানার সেনঙ জানতেন, এই পাতা আর তরল বিষাক্ত নয়, মুহূর্তে বুঝলেন। পাতাসুদ্ধ জলে চুমুক দিয়ে দেখলেন, আহা! সুগন্ধি, ঈষৎ তিতকুটে, প্রাণদায়ী, বলবর্ধক।

গবেষক রোজ বলছেন, চীনা বৌদ্ধদের মধ্যে দ্বিতীয় এক কাহিনি প্রচলিত, যার সঙ্গে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধ জড়িত। প্ৰব্রজ্যায় বেরিয়েছেন তরুণ সিদ্ধার্থ, ঘুরতে ঘুরতে এক পর্বতে পৌঁছালেন। ক্লান্ত মানুষটি গাছের তলায় বসেছেন ধ্যান করবেন বলে, মোক্ষলাভের নানা উপায় নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লেন। জেগে উঠে নিজের উপর চূড়ান্ত ক্রুদ্ধ হলেন, নিজের শরীর প্রতারণা করছে, চোখ ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছে, এমতাবস্থায় কী করে করবেন তিনি নির্বাণ-সন্ধান? ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নিজের ভ্রুপল্লব টেনে ছিঁড়ে ফেললেন সিদ্ধার্থ। সত্য ও আলোকলাভের পথে যাত্রায় কোনও বাধা তিনি স্বীকার করবেন না। ছিন্ন ভ্রুপল্লব ছুঁড়ে দিলেন হাওয়ায়, যেখানে যেখানে তা গিয়ে পড়ল, সুগন্ধি পুষ্পল গাছ জন্মাল, তা-ই চা। শ্রেষ্ঠ জাতের চা পাতার উল্টোপিঠে যে সূক্ষ্ম রুপালি লোম থাকে, তাকে এখনো দেখতে লাগে অবিকল ভ্রুপত্রের মতো।

রবার্ট ফরচুন নামের এক অভিযাত্রী চীন থেকে 'শিকার' করে এই চা নিয়ে এলেন ভারতবর্ষে, দার্জিলিং-এ। চা অর্থে সেই আবহমান, যা জন্ম নিচ্ছে অলৌকিকে, জন্মাবধি যাকে ঘিরে রেখেছে ইন্দ্রজাল, মায়া, রহস্য। ব্রিটিশ কোম্পানির মুনাফালোলুপ বেনিয়াসায়েবদের হাতে পড়ে চায়ের জন্মান্তর গোত্রান্তর  ঘটলো, দেবকূলোদ্ভব অথচ সর্বজনভোগ্য চা আধুনিক সময়ের লুটেরাদের হাতে পড়ে জমিজমা, লাভলোকসান, উৎপাদন আর সস্তা শ্রম লুণ্ঠনের মধ্যে ঢুকে গেল।

অবশ্য এমন নয় যে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি যখন ফরচুন চীনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেটি স্বর্গরাজ্যবিশেষ ছিল, কিম্বা সেখানকার বাগানগুলো মায়াকানন। ক্ষয়িষ্ণু সামন্তশাসন, অপদার্থ নৃপতি, অপরিমিত শোষণ আর দারিদ্র, সব অর্থেই আফিম-লিপ্ত সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন আর অবক্ষয়, এই হচ্ছে আঠেরো-উনিশ শতকের চীন। বিশ শতকের গোড়ায় গিয়ে যা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে এবং আসবে বিপ্লব। ফরচুন-কাহিনিতে ও সমসাময়িক বহু বিবরণে এই পচন ও অবক্ষয়ের বর্ণনা মেলে।

তবে, চা, অর্থাৎ আসল চৈনিক 'জাতের' চা, তা তখনো জন্মাত, তৈরি হত, শহুরে শাসনকেন্দ্র বা সমতল বাজারগ্রাম থেকে বহু দূরে, উঁচু উঁচু পাহাড়ের কুণ্ডলির ভিতর। সে পাহাড়ে মেঘকুয়াশার চিরস্থায়ী আবরণ, বহু গাছের চিরসবুজ ভিড়। এখনও জন্মায় হিমালয়ের ঢালে আসামে, দার্জিলিং-এ, পাহাড়ি কেরালায়, টিলাময় সিলেটে এবং চট্টগ্রামের টিকছড়ির কোনও কোনও অংশে।

মেঘমেদুর ভেজা প্রকৃতিতে ক্যামেলিয়া নামের রোমাঞ্চ লুকিয়ে চা উষ্ণ আবহে হাজির হয় পৃথিবীর দেশে দেশে, ঘরে ঘরে, টেবিলে টেবিলে, কোটি মানুষের তৃপ্তির চুমুকে। এভাবেই বিশুদ্ধ-পানির পরেই পৃথিবীর সর্বাধিক ভোগ্য-পানীয় রূপে চা নেশা ও আকর্ষণে মাতিয়ে রেখেছে কোটি কোটি বিশ্ববাসীকে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১১ বিভাগে ১৫ জন এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির সদস্য সচিব এ এইচ এ লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:

কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথা সাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণায় হোসেন উদ্দিন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক উম মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু বিষয় গবেষণায় হারুন-অর-রশীদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতানা।

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি অথবা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

;

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আহমদ রফিক ও মাসরুর আরেফিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

  • Font increase
  • Font Decrease

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিক।

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন। ‘ভাষা আন্দোলন: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ প্রবন্ধের জন্য আহমদ রফিককে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট আবছায়া’ উপন্যাসের জন্য মাসরুর আরেফিনের নামের পাশে যোগ হয়েছে পুরস্কারটি।

করোনা মহামারির কারণে এবার অনলাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিককে সম্মাননা জানানো হয়। গত ১৫ জানুয়ারি এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এছাড়া ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সমসাময়িক লেখকদের স্বীকৃতি দিতে আইএফআইসি ব্যাংক ২০১১ সালে চালু করে ‘আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’। প্রতিবছর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয় সেরা দুটি বই। নির্বাচিত প্রত্যেক লেখককে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র পেয়ে থাকেন।

;

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;