সমকালের ইজাজ মিলনসহ ৪ তরুণ লেখক পাচ্ছেন কালি ও কলম পুরস্কার



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সমকালের ইজাজ মিলনসহ ৪ তরুণ লেখক পাচ্ছেন কালি ও কলম পুরস্কার

সমকালের ইজাজ মিলনসহ ৪ তরুণ লেখক পাচ্ছেন কালি ও কলম পুরস্কার

  • Font increase
  • Font Decrease

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য দুই দুইবার ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’ পাওয়ার পর এবার আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ পাচ্ছেন ইজাজ আহমেদ মিলন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্য শাখায় ‘১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং’ গ্রন্থের জন্য ইজাজ মিলনকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বলে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল কামাল চৌধুরীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কথাসাহিত্যে ‘তিমিরযাত্রা’গ্রন্থের জন্য মোজাফফর হোসেন, গবেষণায় ‘চলচ্চিত্রনামা’গ্রন্থের জন্য মাসুদ পারভেজ ও শিশু-কিশোরসাহিত্যে ‘স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল’ গ্রন্থের জন্য রণজিৎ সরকারকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিচাকম-লীর সিদ্ধান্ত অনুসারে এবার কবিতা বিভাগে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ জমা না পড়ায় শুধু চার শাখায় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

দেশের তরুণ লেখকদের সাহিত্যচর্চাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার প্রদান করে আসছে। নির্বাচিত প্রত্যেক লেকককে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

আগামী ১৮ জুন সন্ধ্যা ৭টায় অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী লেখদের হাতে আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত ‘ কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার প্রদান করা হবে।  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বিশিষ্ট্য কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ ও পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পবিত্র সরকার।

আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’ প্রাপ্ত ইজাজ আহমেদ মিলন দৈনিক সমকালের গাজীপুর প্রতিনিধি। ২০১০ সাল থেকে তিনি সমকালে কর্মরত।এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিয়ষক সাংবাদিকতার জন্য প্রবর্তিত বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পেয়েছেন দুই দুইবার। ২০০৯ সালে পেয়েছেন সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার।

শাখামুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্য

লেখক: ইজাজ আহমেদ মিলন

বই: ১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং

প্রকাশক: অন্যপ্রকাশ।

মুক্তিযুদ্ধ শাখায় ১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করে আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার-২০২০ অর্জন করেছেন কবি ও সাংবাদিক ইজাজ আহমেদ মিলন। হাজার বছরের বাঙালির রাজনৈতিক জীবনের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালির ঐতিহাসিক এই মুক্তিসংগ্রাম এদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়কে অমলিন আবেগে স্পর্শ করে। বাংলার পথে-প্রান্তরে এবং জনমানসে ছড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য অশ্রুত আবেগমথিত ও বেদনাদীর্ন কাহিনি। ইজাজ আহমেদ মিলনের ১৯৭১: বিধ্বস্ত বাড়িয়ায় শুধুই লাশ এবং শীর্ষক গ্রন্থটি বাংলাদেশের গাজীপুরের বাড়িয়া এলাকায় ছড়িয়ে থাকা সেইসব কাহিনির অন্তরঙ্গ রূপচিত্র। ১৯৭১ সালের ১৪ মে হানাদার পাকবাহিনী তিনদিকে বেলাই বিলবেষ্টিত গাজীপুরের হিন্দু অধ্যুষিত বাড়িয়ায় নির্বিচার গণহত্যা চালায়। সাঁতরে কিংবা নৌকা করে কোনোভাবেই কেউ হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পাকিস্তানি নরপশুদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে এ-এলাকায় শহিদ হন অন্তত দুশো নিরীহ গ্রামবাসী। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাদের ঘরবাড়ি। এছাড়া এ-গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে লেখক হানাদারদের হাতে নৃশংসভাবে শহিদ পঁচিশজন নারী-পুরুষের অজানা কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এ-গ্রন্থের সবটাই লেখকের নিবিড় অনুসন্ধানের ফল।

ইজাজ আহমেদ মিলন নতুন লেখক নন- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অনুসন্ধিৎসু। বতর্মান গ্রন্থটি তাঁর সেই অনুসন্ধিৎসু চেতনার পরিচয় বহন করছে। তাঁর লেখার মান বেশ ভালো- বর্ণনা চিত্তাকর্ষক। এ-বই আমাদের তরুণ গবেষকদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

শাখা: কথাসাহিত্যে

লেখক: মোজাফ্ফর হোসেন

বই: তিমিরযাত্রা

প্রকাশক: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি

কথাসাহিত্য শাখায় তিমিরযাত্রা উপন্যাসের জন্য আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার-২০২০ অর্জন করেছেন তরুণ কথাকার মোজাফ্ফর হোসেন।

মোজাফ্ফর হোসেন প্রতিশ্রুতিশীল নবীন কথাকার- তিমিরযাত্রা তার প্রথম উপন্যাস। প্রথম উপন্যাসেই তিনি রেখেছেন প্রাতিস্বিকতার স্বাক্ষর। উনিশশো একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবিক সম্পর্কের অবক্ষয় ও ব্যক্তিক হতাশা-বিচ্ছিন্নতার চালচিত্র নিয়ে নির্মিত হয়েছে মোজাফ্ফরের তিমিরযাত্রা। সমাজ ও পরিবারে আবদ্ধ থেকেও নানামাত্রিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিক মানসতার কারণে মানুষ এখন পরস্পরবিচ্ছিন্ন- নৈঃসঙ্গ্যের অতলে মানুষের মনোলোক এখন গভীরভাবে আচ্ছন্ন। তিমিরযাত্রা উপন্যাসের নায়ক এবং অন্য লোকসকল এই গহন-গভীর নৈঃসঙ্গ্যের সংক্রামে আক্রান্ত। মোজাফ্ফর হোসেন জটিল তাত্ত্বিক কাঠামোর আধারে রচনা করেছেন বক্ষ্যমাণ উপন্যাস। তিমিরযাত্রা কেবল কাহিনিবর্ণন নয়- এ-উপন্যাস পাঠককে চিন্তামগ্ন করে, এর পাঠ বুঝে উঠতে দাবি করে পাঠকের মনন ও প্রজ্ঞা। মোজাফ্ফর হোসেনের নির্মেদ গদ্য, সাবলীল ভাষা, আখ্যানে জাদুবাস্তবতা আর পরাবাস্তবতার ছোঁয়া, নিরীক্ষাধর্মী নির্মাণকলা- সব মিলিয়ে কৌতূহলী পাঠককে এ-উপন্যাস নিয়ে যাবে নতুন এক অভিজ্ঞতার আঙিনায়।

শাখা: প্রবন্ধ গবেষণা নাটক

লেখক: মাসুদ পারভেজ

বই: চলচ্চিত্রনামা

প্রকাশক: অক্ষর প্রকাশনী

চলচ্চিত্রনামা গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ-গবেষণা শাখায় আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার-২০২০ অর্জন করেছেন মাসুদ পারভেজ।

চলচ্চিত্র-বিষয়ক তেরোটি প্রবন্ধের সংকলন মাসুদ পারভেজের চলচ্চিত্রনামা। ইতিহাস, ব্যক্তি ও চলচ্চিত্র- এই ত্রিমাত্রিক উপধারায় বিন্যস্ত প্রবন্ধগুচ্ছে উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের নানা বিষয় ও প্রবণতা। অতীতে কেমন চলচ্চিত্র নির্মিত হতো বাংলাদেশে, চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান অবস্থা কেমন, কেমন হতে পারে আগামীর চলচ্চিত্র - এসব বিষয় বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে চমৎকার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এখানে আছে ইরানি, কোরিয়ান ও রুশ চলচ্চিত্র সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা - আছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন ফরীদির অভিনয়রীতি এবং আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পে সৈয়দ শামসুল হক ও তারেক মাসুদের অবদান-বিষয়ক আলোচনা। চলচ্চিত্র নির্মাণের বিশেষ কিছু কৌশল নিয়েও চলচ্চিত্রনামায় কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাখ্যা সন্নিবেশিত হয়েছে। মাসুদ পারভেজের ভাষা বিশ্লেষণাত্মক, ব্যাখ্যা মৌলিকতার পরিচয়বাহী। কৌতূহলী পাঠক এবং চলচ্চিত্র বিষয়ে বিদ্যায়তনিক পর্যায়ে যারা অধ্যয়ন করেন, তাদের কাছে চলচ্চিত্রনামা আদরণীয় হবে বলে আমাদের গভীর বিশ্বাস।

শাখা: শিশু-কিশোর সাহিত্য

লেখক: রণজিৎ সরকার

বই: স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল

প্রকাশক: অধ্যয়ন

স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল উপন্যাসের জন্য শিশু-কিশোর সাহিত্য শাখায় আইএফআইসি ব্যাংক নিবেদিত কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার-২০২০ অর্জন করেছেন রণজিৎ সরকার।

রায়না নামের এক প্রবাসী বাঙালি কিশোরীর বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন আর সম্ভাবনার অনেকান্ত কথায় মুখর রণজিৎ সরকারের স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রামের একটা স্কুলে ক্যাম্প করে মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার করে- হত্যা করে বহু গ্রামবাসীকে। অবশেষে গ্রামে আসে মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা- ধ্বংস করে পাকিস্তানি বাহিনী - স্কুলে উড়িয়ে দেয় বিজয় পতাকা। কৌতূহলোদ্দীপক এই গল্পাংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল উপন্যাস। বক্ষ্যমাণ উপন্যাস কৌতূহলী শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে বিস্তার করবে সহযোগের হাত। রায়নার অবয়বে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে বাংলাদেশের অগণন শিশু-কিশোরের স্বপ্নরঙিন মুখচ্ছবি- তাদের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার কথা। স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল উপন্যাস বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সদর্থক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে সঞ্চার করবে সহযোগ- এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;