'দলিত চর্চা' সমাচার



ড. রূপকুমার বর্মণ
'দলিত চর্চা' সমাচার

'দলিত চর্চা' সমাচার

  • Font increase
  • Font Decrease

বিগত কয়েক দশকে, বিশেষত ভারতের পটভূমিতে, সমাজবিজ্ঞান, সংবাদ মাধ্যম ও সাধারণ জনমানসে ‘দলিত প্রতর্ক’ (Dalit Discourse) ও ‘দলিত চর্চা’ (Dalit Studies) সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একটি সামাজিক ধারণা হিসাবে ‘দলিত’ শব্দটির বহুকৌণিক ব্যাখ্যা ‘দলিত চর্চায়’অবাঞ্ছিত বিতর্ক ও পক্ষপাতদুষ্টতার জন্ম দিয়েছে। ‘দলিত চর্চায়’ ‘দলিত’ নিষ্পেষিত জনগণের ব্যক্তি বা সমষ্টিগত ধারনার বহিঃপ্রকাশ হলেও ‘দলিতবাদের’ (Dalitology) দলিত কিন্তু অনেকবেশি শক্তিশালী, যারা নিজেদের কথা দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে চান।

সাধারণভাবে দলিত বলতে বোঝায় ‘নিগৃহীত, শোষিত, নিষ্পেষিত ও সামাজিকভাবে নিপীড়িত মানুষদের, যাদেরকে কেবলমাত্র জন্মগত কারণে জাত-ব্যাবস্থার পাদদেশে স্থান দেওয়া হয়’। এদের আবার কখনও কখনও অস্পৃশ্য, অন্তজঃ, ইতর, চন্ডাল বা মনুষ্যেত্বের জীবরূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘দলিত চর্চায়’ নিযুক্ত ঐতিহাসিক বা সমাজবিজ্ঞানীগণ দক্ষিণ এশীয় সমাজের তপশিলি জাতি, জনজাতি বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জনগণকে সমষ্টিগতভাবে দলিত বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের ‘দলিত প্যান্থারদের’ কাছে দলিতের ধারণা অতি স্পষ্ট। ১৯৭০ ও ১৯৮০র দশকে ‘দলিত প্যান্থার’ আন্দোলনে বিশ্বাসী ও সমর্থকগণ মনে করতেন “দলিত হল সামাজিক পরিবর্ত ও বিপ্লবের একটি প্রতীক, যারা মানবতাবাদে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তাঁরা সেইসব ধর্মীয়গ্রন্থ ও শাস্ত্রের বিরোধী, যা সমাজে বিভেদমূলক সামাজিক ও ধর্মীয় আচার আচরণ তথা সামাজিক অন্যায়ের প্রচার করে।”অর্থাৎ ‘দলিতবাদ’হলো সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

দলিতপন্থীদের কাছে দলিতবাদের অর্থ দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ নয় বরং নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদই তাঁদের পাথেয় ও উদ্দেশ্য। তাঁরা প্রথম দিকে মহারাষ্ট্রের মাহারদের (একটি তপশিলি জাতি) সম্পর্কে দলিত শব্দটির প্রয়োগ করেছিলেন। ধীরে ধীরে দলিতের ধারণার মধ্যে সমস্ত তপশিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (Other Backward Classes) ও সমাজের অন্যান্য দুর্বল অংশকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দলিতের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ১৯৯০-এর দশকে যখন দলিতদের ভারতীয় সমাজের ‘মূল উৎপাদক’(primary producers)হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৯০-এর দশকের ভারতের বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ‘দলিত প্রতর্ক’ বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর জন্ম শতবর্ষে ড. বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে ‘ভারতরত্ন’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর সঙ্গে তপশিলি জাতি থেকে ভারতের নবম উপরাষ্ট্রপতি (১৯৯২-১৯৯৭) ও দশম রাষ্ট্রপতিরূপে (১৯৯৭-২০০২) ড. কে. আর. নারায়ননকে নির্বাচন দলিত প্রতর্কের জন্য সদর্থক পরিবেশ তৈরি করেছিল। তৃতীয়ত, মন্ডল কমিশনের সুপারিশ মেনে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থাকে সুপ্রীম কোর্টের স্বীকৃতি (১৯৯৩) সারা ভারতে দলিত আন্দোলনের মূল বক্তব্যকে উদ্দীপিত করে তোলে। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশে কুমারী মায়াবতীর নেতৃত্বে বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) সরকার গঠন দলিতবাদকে আশাবাদী করে তুলেছিল। ফলত: দলিতবাদ সম্পর্কিত রচনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই ধারা দক্ষিণভারতের দলিত খ্রিস্টানদের হাতে শক্তিশালী রূপ ধারণ করে।

কিন্তু দলিতবাদের সদর্থক ব্যাখ্যা প্রায়ই অ-দলিতদের (non-Dalits) দলিত চর্চায় নেতিবাচক ধারনায় পরিণত হয়, যখন তাঁরা ‘দলিত’ বলতে কেবলমাত্র পূর্বতন অস্পৃশ্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। ১৯৮০-এর দশক থেকে অ-দলিতদের দলিত চর্চায় ঔপনিবেশিক আমলের দলিত আন্দোলনগুলোর সামাজিক ন্যায় (Social Justice) প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদী রূপটিকে চেপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই দলিতবাদের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করার সঙ্গে সঙ্গে ‘দলিত প্রতর্ক’ সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলা আবশ্যক।

দলিত প্রতর্কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন হল দলিত প্রতর্কের ‘দলিত’কারা? দলিত প্রতর্কের দলিত শুধুই ‘দলিত’ হয়েছেন/ হচ্ছেন এমন নয়। ‘বঞ্চিত, দলিত, অত্যাচারিত বা শোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উস্থাপন করতে বা প্রতিবাদ করতে ভুলে যান না তাঁরা।ঁরাই এই দলিত প্রতর্কের দলিত’। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের অবস্থান ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সক্ষম। এই প্রতিবাদী স্বরই হল দলিত প্রতর্কের চালিকা শক্তি যা ‘দলিত চর্চায়’ হয় উহ্য থাকে না হয় স্বীকার করা হয় না।

দলিত প্রতর্কের দ্বিতীয় প্রশ্নটি আরোও বেশি শক্তিশালী। এটা হল দলিতরা কেন লেখেন? কেনই বা প্রশ্ন উত্থাপন করেন? প্রশ্নগুলো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও বাস্তবে এর উত্তর অতি সহজ। তাঁরা লেখেন কারণ তাঁরা চান কেবলমাত্র কোন নিদির্ষ্ট পরিবার/সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করায় তাঁরা যে সামাজিক বঞ্চনা, নিষ্পেষণ, অত্যাচার, পক্ষপাত ও অসাম্যের শিকার হন বা বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তা যেন বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশিত হয়। তাঁদের ব্যথারও যেন সমব্যাথী যেন খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁদের লেখা যেন অসাম্য, অন্যায় ও মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তাই মহারাষ্ট্রের দলিতপ্যান্থারপন্থী নামদেও দাসাল থেকে শুরু করে হিন্দি জগতে ড. তুলসীরাম ও ওমপ্রকাশ বাল্মিকী, বাংলার হরিশংকর জলদাস,  যতীন বালা,  মনোহর মৌলি বিশ্বাস, মনোরঞ্জন ব্যাপারী এঁরা সবাই কলম তুলে নিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতাকে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য। তাঁরা যা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন, তাঁদের মনে হয়েছে প্রকাশ হওয়া দরকার তাঁরা তাই লিখে চলেছেন। এ লেখার ধারা বিরামহীন। সাহিত্যধর্মী লেখার সঙ্গে শুরু হয়েছে সমালোচনাধর্মী, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশের ধারা। সমাজবিজ্ঞানের কলাকুশলে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ক্ষুরধার যুক্তির স্পর্শে শক্তিশালী এই ধারা কাঞ্চা ইলিইয়া, গোপাল গুরু, সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। সাম্প্রতিককালে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষায় এই ধরনের গবেষণা দলিত প্রতর্ককে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

দলিত প্রতর্কের তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটা হল “তাঁরা কি লেখেন ?” এর উত্তরে বলা যায় যে তাঁরা লেখেন, তাঁদের কথা যা এত দিন লেখা হয়নি। নিত্যদিনের লাঞ্চনা, দলিত হওয়ার বঞ্চনা, লাঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রনা, অমর্যাদা, অপমান ও অবজ্ঞার গ্লানি, এবং অযৌক্তিক প্রথা ও Prejudice এর বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্ছার হন। তাই তাঁরা গল্প, কবিতা, উপন্যাস, আত্মজীবনী ও গবেষণা মূলক প্রবন্ধে নিজেদের কথা অবলীলায় বলে চলেছেন। আবার তাঁরা লেখেন দলিতদের হয়ে অন্য দলিতদের কথা। অর্থাৎ দলিত লেখনীগুচ্ছ হল “of the Dalits, on the Dalits by the Dalits through creative writings, autobiographies and researches.”

যাইহোক, দলিত প্রতর্কের যে প্রশ্নটি আমাকে সবচেয়ে ভাবিয়েছে সেটি হল দলিত প্রতর্কের দলিত লেখকরা কখন লেখেন? তাঁরা কি সময় পেলেই লেখেন? না কি তাঁদেরও লেখার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। তাঁরা কি যখন নির্যাতিত হচ্ছেন তখন লিখছেন না যখন তাঁরা সামাজিক আঘাত পেড়িয়ে এসে লিখছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি দেখেছি  যে, উৎকৃষ্টমানের দলিতপন্থী লেখাগুলোর বেশিরভাগ সৃষ্টি হচ্ছে যখন তাঁরা নিজেদের কথাগুলোকে প্রকাশ করার পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছেন অথবা তাঁরা মনে করেছেন তাঁদের নিজের বক্তব্যগুলো তুলে ধরার উপযুক্ত সময় এসেছে। দলিতপন্থী লেখকগণ যখন লিখছেন তখন তাঁরা আর নিম্নবর্গীয় (Subaltern) থাকছেন না কারণ তাঁরা লাঞ্চনার সময়কে ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছেন। বাংলার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গত বলা যায়-- যে সমস্ত দলিত আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো আমাদের নজরে এসেছে তার প্রায় সবকটিই আত্মজীবনীকারদের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে লেখা। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা কেবলমাত্র জীবন সায়াহ্নে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বরং আমরা লক্ষ করি নবীন দলিত কবি, সাহিত্যিক বা গবেষক-শিক্ষক লিখতে থাকেন তাঁদের মনে জেগে ওঠা প্রশ্নগুলিকে সমাজের বুকে ছুড়ে দিতে।

তবে লেখাগুলো যখনই সৃষ্টি হোক না কেন বাস্তবে দলিতদের লেখা প্রকাশ করা খুব কঠিন ব্যাপার। তথাকথিত অভিজাত প্রকাশক বা প্রতিষ্ঠান কখনই দলিতদের প্রথম দিকের লেখা প্রকাশে আগ্রহী হন না । তাই দলিতদের প্রথম দিকের লেখা প্রকাশ করতে খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতো/হয়। স্বভাবতই প্রকাশনার অভিজ্ঞতার অভাবের জন্য তাঁদের লেখাগুলোতে মুদ্রন-জনিতত্রুটিসহ নানাবিধ অবাঞ্ছিত প্রমাদ থেকে যায়। এই ত্রুটি তাঁদের প্রাথমিক স্তরের লেখাগুলোকে সর্বজন্যগ্রাহ্য করে তোলার পক্ষে বড় বাধার সৃষ্টি করে।

কিন্তু তাঁদের সব লেখাই মূদ্রন জনিত ত্রুটির শিকার হয় না। বরং ছোট প্রত্রিকা, সাময়িক পত্র পত্রিকা বা উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিন বা স্মরনিকায় প্রকাশিত অনেক সৃজনশীল লেখাই পরবর্তীকালে পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়। একবার সমাদৃত হলে তথাকথিত অভিজাত প্রকাশক-ব্যবসায়ীগণ দলিতদের লেখা প্রকাশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। আমরা এখানে একটা উদাহরণ তুলে ধরছি। ধরা যাক অদ্বৈত মল্লবর্মনের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’এর কথা। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪০ দশকে ‘মোহম্মদী’ প্রত্রিকায় একটি ধারাবাহিক হিসাবে। পুর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসাবে এটি প্রকাশিত হয় অদ্বৈতর মৃত্যুর পরে। ১৯৯০ এর দশকে দলিত প্রতর্কের বিকাশের সময় ক্যলিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বার্কলে) থেকে এর ইংরাজী অনুবাদ প্রকাশিত হয়।  অর্থাৎ অদ্বৈতের জীবদ্দশায় তাঁর মূল্যবান সৃষ্টি প্রকাশের জন্য জগৎ সংসারের প্রতিষ্ঠিত কোন প্রকাশক এগিয়ে আসেননি। কিন্তু আজকে তাঁর লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে। একইভাবে অন্যান্য দলিত লেখকদের রচনাও অভিজাত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বাজার জনিত চাহিদাপূরণ তথা জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্তে নতুনভাবে পুরানো বিষয়কে ব্যাখ্যা করার তাগিদ থেকে।

দলিত প্রতর্কের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর ‘গ্রহনযোগ্যতার’ প্রশ্ন। দলিত সাহিত্য যখন দলিত সংস্থা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে তখন অ-দলিত পাঠক তাকে কিভাবে গ্রহণ করেছেন? দলিত সাহিত্য স্বাভাবিকভাবেই তথাকথিত অ-দলিত/ প্রভাবশালী গোষ্ঠির কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছে না। এমনকি কোন একটি দলিত গোষ্ঠির সাহিত্যিক প্রয়াস অন্য গোষ্ঠির কাছেও সমাদৃত হচ্ছে না। তাই দলিতরা নিজেই তাঁদের প্রাথমিক স্তরের সাহিত্যিক প্রয়াসের মূল পাঠক। কিন্তু দলিত সাহিত্যের যে সব সৃষ্টির নন্দনতত্ব, সর্ব্বজনীন আবেদন ও চিন্তাচেতনায় অনেকবেশি বৃহত্তর বা অন্ন্য তাদের পরিমার্জিত রূপ দলিত–অ-দলিত নির্বিশেষে বৃহত্তর পাঠক সমাজে স্থান করে নিচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে অ-দলিত গবেষক ও শিক্ষকদের উদ্দ্যোগে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দলিতচর্চার হাত ধরে। ফলে লক্ষ করা যায় দলিত সাহিত্য প্রাথমিক স্তরে দলিতদের মধ্যে অথবা তাদের নিকট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও দলিত-চর্চার সূত্র ধরে তা ক্রমশ বৃহৎ আকার ধারণ করে। তাই এক্ষেত্রে ‘দলিতপন্থী’ রচনা ও ‘দলিতচর্চা’ পরস্পরের পরিপূরক!

ড. রূপ কুমার বর্মণ, কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও  আম্বেদকর চর্চা কেন্দ্রের সমন্বয়ক ।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;