'দলিত চর্চা' সমাচার



ড. রূপকুমার বর্মণ
'দলিত চর্চা' সমাচার

'দলিত চর্চা' সমাচার

  • Font increase
  • Font Decrease

বিগত কয়েক দশকে, বিশেষত ভারতের পটভূমিতে, সমাজবিজ্ঞান, সংবাদ মাধ্যম ও সাধারণ জনমানসে ‘দলিত প্রতর্ক’ (Dalit Discourse) ও ‘দলিত চর্চা’ (Dalit Studies) সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একটি সামাজিক ধারণা হিসাবে ‘দলিত’ শব্দটির বহুকৌণিক ব্যাখ্যা ‘দলিত চর্চায়’অবাঞ্ছিত বিতর্ক ও পক্ষপাতদুষ্টতার জন্ম দিয়েছে। ‘দলিত চর্চায়’ ‘দলিত’ নিষ্পেষিত জনগণের ব্যক্তি বা সমষ্টিগত ধারনার বহিঃপ্রকাশ হলেও ‘দলিতবাদের’ (Dalitology) দলিত কিন্তু অনেকবেশি শক্তিশালী, যারা নিজেদের কথা দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে চান।

সাধারণভাবে দলিত বলতে বোঝায় ‘নিগৃহীত, শোষিত, নিষ্পেষিত ও সামাজিকভাবে নিপীড়িত মানুষদের, যাদেরকে কেবলমাত্র জন্মগত কারণে জাত-ব্যাবস্থার পাদদেশে স্থান দেওয়া হয়’। এদের আবার কখনও কখনও অস্পৃশ্য, অন্তজঃ, ইতর, চন্ডাল বা মনুষ্যেত্বের জীবরূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘দলিত চর্চায়’ নিযুক্ত ঐতিহাসিক বা সমাজবিজ্ঞানীগণ দক্ষিণ এশীয় সমাজের তপশিলি জাতি, জনজাতি বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জনগণকে সমষ্টিগতভাবে দলিত বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের ‘দলিত প্যান্থারদের’ কাছে দলিতের ধারণা অতি স্পষ্ট। ১৯৭০ ও ১৯৮০র দশকে ‘দলিত প্যান্থার’ আন্দোলনে বিশ্বাসী ও সমর্থকগণ মনে করতেন “দলিত হল সামাজিক পরিবর্ত ও বিপ্লবের একটি প্রতীক, যারা মানবতাবাদে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে তাঁরা সেইসব ধর্মীয়গ্রন্থ ও শাস্ত্রের বিরোধী, যা সমাজে বিভেদমূলক সামাজিক ও ধর্মীয় আচার আচরণ তথা সামাজিক অন্যায়ের প্রচার করে।”অর্থাৎ ‘দলিতবাদ’হলো সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

দলিতপন্থীদের কাছে দলিতবাদের অর্থ দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ নয় বরং নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদই তাঁদের পাথেয় ও উদ্দেশ্য। তাঁরা প্রথম দিকে মহারাষ্ট্রের মাহারদের (একটি তপশিলি জাতি) সম্পর্কে দলিত শব্দটির প্রয়োগ করেছিলেন। ধীরে ধীরে দলিতের ধারণার মধ্যে সমস্ত তপশিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (Other Backward Classes) ও সমাজের অন্যান্য দুর্বল অংশকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দলিতের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ১৯৯০-এর দশকে যখন দলিতদের ভারতীয় সমাজের ‘মূল উৎপাদক’(primary producers)হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৯০-এর দশকের ভারতের বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ‘দলিত প্রতর্ক’ বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর জন্ম শতবর্ষে ড. বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে ‘ভারতরত্ন’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া। এর সঙ্গে তপশিলি জাতি থেকে ভারতের নবম উপরাষ্ট্রপতি (১৯৯২-১৯৯৭) ও দশম রাষ্ট্রপতিরূপে (১৯৯৭-২০০২) ড. কে. আর. নারায়ননকে নির্বাচন দলিত প্রতর্কের জন্য সদর্থক পরিবেশ তৈরি করেছিল। তৃতীয়ত, মন্ডল কমিশনের সুপারিশ মেনে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থাকে সুপ্রীম কোর্টের স্বীকৃতি (১৯৯৩) সারা ভারতে দলিত আন্দোলনের মূল বক্তব্যকে উদ্দীপিত করে তোলে। একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশে কুমারী মায়াবতীর নেতৃত্বে বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) সরকার গঠন দলিতবাদকে আশাবাদী করে তুলেছিল। ফলত: দলিতবাদ সম্পর্কিত রচনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই ধারা দক্ষিণভারতের দলিত খ্রিস্টানদের হাতে শক্তিশালী রূপ ধারণ করে।

কিন্তু দলিতবাদের সদর্থক ব্যাখ্যা প্রায়ই অ-দলিতদের (non-Dalits) দলিত চর্চায় নেতিবাচক ধারনায় পরিণত হয়, যখন তাঁরা ‘দলিত’ বলতে কেবলমাত্র পূর্বতন অস্পৃশ্যদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। ১৯৮০-এর দশক থেকে অ-দলিতদের দলিত চর্চায় ঔপনিবেশিক আমলের দলিত আন্দোলনগুলোর সামাজিক ন্যায় (Social Justice) প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদী রূপটিকে চেপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই দলিতবাদের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করার সঙ্গে সঙ্গে ‘দলিত প্রতর্ক’ সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলা আবশ্যক।

দলিত প্রতর্কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন হল দলিত প্রতর্কের ‘দলিত’কারা? দলিত প্রতর্কের দলিত শুধুই ‘দলিত’ হয়েছেন/ হচ্ছেন এমন নয়। ‘বঞ্চিত, দলিত, অত্যাচারিত বা শোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উস্থাপন করতে বা প্রতিবাদ করতে ভুলে যান না তাঁরা।ঁরাই এই দলিত প্রতর্কের দলিত’। অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের অবস্থান ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সক্ষম। এই প্রতিবাদী স্বরই হল দলিত প্রতর্কের চালিকা শক্তি যা ‘দলিত চর্চায়’ হয় উহ্য থাকে না হয় স্বীকার করা হয় না।

দলিত প্রতর্কের দ্বিতীয় প্রশ্নটি আরোও বেশি শক্তিশালী। এটা হল দলিতরা কেন লেখেন? কেনই বা প্রশ্ন উত্থাপন করেন? প্রশ্নগুলো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও বাস্তবে এর উত্তর অতি সহজ। তাঁরা লেখেন কারণ তাঁরা চান কেবলমাত্র কোন নিদির্ষ্ট পরিবার/সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করায় তাঁরা যে সামাজিক বঞ্চনা, নিষ্পেষণ, অত্যাচার, পক্ষপাত ও অসাম্যের শিকার হন বা বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তা যেন বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশিত হয়। তাঁদের ব্যথারও যেন সমব্যাথী যেন খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁদের লেখা যেন অসাম্য, অন্যায় ও মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তাই মহারাষ্ট্রের দলিতপ্যান্থারপন্থী নামদেও দাসাল থেকে শুরু করে হিন্দি জগতে ড. তুলসীরাম ও ওমপ্রকাশ বাল্মিকী, বাংলার হরিশংকর জলদাস,  যতীন বালা,  মনোহর মৌলি বিশ্বাস, মনোরঞ্জন ব্যাপারী এঁরা সবাই কলম তুলে নিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতাকে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য। তাঁরা যা দেখেছেন, উপলব্ধি করেছেন, তাঁদের মনে হয়েছে প্রকাশ হওয়া দরকার তাঁরা তাই লিখে চলেছেন। এ লেখার ধারা বিরামহীন। সাহিত্যধর্মী লেখার সঙ্গে শুরু হয়েছে সমালোচনাধর্মী, গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশের ধারা। সমাজবিজ্ঞানের কলাকুশলে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ক্ষুরধার যুক্তির স্পর্শে শক্তিশালী এই ধারা কাঞ্চা ইলিইয়া, গোপাল গুরু, সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। সাম্প্রতিককালে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষায় এই ধরনের গবেষণা দলিত প্রতর্ককে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

দলিত প্রতর্কের তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটা হল “তাঁরা কি লেখেন ?” এর উত্তরে বলা যায় যে তাঁরা লেখেন, তাঁদের কথা যা এত দিন লেখা হয়নি। নিত্যদিনের লাঞ্চনা, দলিত হওয়ার বঞ্চনা, লাঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রনা, অমর্যাদা, অপমান ও অবজ্ঞার গ্লানি, এবং অযৌক্তিক প্রথা ও Prejudice এর বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্ছার হন। তাই তাঁরা গল্প, কবিতা, উপন্যাস, আত্মজীবনী ও গবেষণা মূলক প্রবন্ধে নিজেদের কথা অবলীলায় বলে চলেছেন। আবার তাঁরা লেখেন দলিতদের হয়ে অন্য দলিতদের কথা। অর্থাৎ দলিত লেখনীগুচ্ছ হল “of the Dalits, on the Dalits by the Dalits through creative writings, autobiographies and researches.”

যাইহোক, দলিত প্রতর্কের যে প্রশ্নটি আমাকে সবচেয়ে ভাবিয়েছে সেটি হল দলিত প্রতর্কের দলিত লেখকরা কখন লেখেন? তাঁরা কি সময় পেলেই লেখেন? না কি তাঁদেরও লেখার একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। তাঁরা কি যখন নির্যাতিত হচ্ছেন তখন লিখছেন না যখন তাঁরা সামাজিক আঘাত পেড়িয়ে এসে লিখছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি দেখেছি  যে, উৎকৃষ্টমানের দলিতপন্থী লেখাগুলোর বেশিরভাগ সৃষ্টি হচ্ছে যখন তাঁরা নিজেদের কথাগুলোকে প্রকাশ করার পর্যায়ে উন্নীত হচ্ছেন অথবা তাঁরা মনে করেছেন তাঁদের নিজের বক্তব্যগুলো তুলে ধরার উপযুক্ত সময় এসেছে। দলিতপন্থী লেখকগণ যখন লিখছেন তখন তাঁরা আর নিম্নবর্গীয় (Subaltern) থাকছেন না কারণ তাঁরা লাঞ্চনার সময়কে ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছেন। বাংলার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গত বলা যায়-- যে সমস্ত দলিত আত্মজীবনীমূলক লেখাগুলো আমাদের নজরে এসেছে তার প্রায় সবকটিই আত্মজীবনীকারদের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে লেখা। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা কেবলমাত্র জীবন সায়াহ্নে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বরং আমরা লক্ষ করি নবীন দলিত কবি, সাহিত্যিক বা গবেষক-শিক্ষক লিখতে থাকেন তাঁদের মনে জেগে ওঠা প্রশ্নগুলিকে সমাজের বুকে ছুড়ে দিতে।

তবে লেখাগুলো যখনই সৃষ্টি হোক না কেন বাস্তবে দলিতদের লেখা প্রকাশ করা খুব কঠিন ব্যাপার। তথাকথিত অভিজাত প্রকাশক বা প্রতিষ্ঠান কখনই দলিতদের প্রথম দিকের লেখা প্রকাশে আগ্রহী হন না । তাই দলিতদের প্রথম দিকের লেখা প্রকাশ করতে খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হতো/হয়। স্বভাবতই প্রকাশনার অভিজ্ঞতার অভাবের জন্য তাঁদের লেখাগুলোতে মুদ্রন-জনিতত্রুটিসহ নানাবিধ অবাঞ্ছিত প্রমাদ থেকে যায়। এই ত্রুটি তাঁদের প্রাথমিক স্তরের লেখাগুলোকে সর্বজন্যগ্রাহ্য করে তোলার পক্ষে বড় বাধার সৃষ্টি করে।

কিন্তু তাঁদের সব লেখাই মূদ্রন জনিত ত্রুটির শিকার হয় না। বরং ছোট প্রত্রিকা, সাময়িক পত্র পত্রিকা বা উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত ম্যাগাজিন বা স্মরনিকায় প্রকাশিত অনেক সৃজনশীল লেখাই পরবর্তীকালে পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়। একবার সমাদৃত হলে তথাকথিত অভিজাত প্রকাশক-ব্যবসায়ীগণ দলিতদের লেখা প্রকাশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। আমরা এখানে একটা উদাহরণ তুলে ধরছি। ধরা যাক অদ্বৈত মল্লবর্মনের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’এর কথা। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪০ দশকে ‘মোহম্মদী’ প্রত্রিকায় একটি ধারাবাহিক হিসাবে। পুর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসাবে এটি প্রকাশিত হয় অদ্বৈতর মৃত্যুর পরে। ১৯৯০ এর দশকে দলিত প্রতর্কের বিকাশের সময় ক্যলিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বার্কলে) থেকে এর ইংরাজী অনুবাদ প্রকাশিত হয়।  অর্থাৎ অদ্বৈতের জীবদ্দশায় তাঁর মূল্যবান সৃষ্টি প্রকাশের জন্য জগৎ সংসারের প্রতিষ্ঠিত কোন প্রকাশক এগিয়ে আসেননি। কিন্তু আজকে তাঁর লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে। একইভাবে অন্যান্য দলিত লেখকদের রচনাও অভিজাত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বাজার জনিত চাহিদাপূরণ তথা জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্তে নতুনভাবে পুরানো বিষয়কে ব্যাখ্যা করার তাগিদ থেকে।

দলিত প্রতর্কের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর ‘গ্রহনযোগ্যতার’ প্রশ্ন। দলিত সাহিত্য যখন দলিত সংস্থা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে তখন অ-দলিত পাঠক তাকে কিভাবে গ্রহণ করেছেন? দলিত সাহিত্য স্বাভাবিকভাবেই তথাকথিত অ-দলিত/ প্রভাবশালী গোষ্ঠির কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছে না। এমনকি কোন একটি দলিত গোষ্ঠির সাহিত্যিক প্রয়াস অন্য গোষ্ঠির কাছেও সমাদৃত হচ্ছে না। তাই দলিতরা নিজেই তাঁদের প্রাথমিক স্তরের সাহিত্যিক প্রয়াসের মূল পাঠক। কিন্তু দলিত সাহিত্যের যে সব সৃষ্টির নন্দনতত্ব, সর্ব্বজনীন আবেদন ও চিন্তাচেতনায় অনেকবেশি বৃহত্তর বা অন্ন্য তাদের পরিমার্জিত রূপ দলিত–অ-দলিত নির্বিশেষে বৃহত্তর পাঠক সমাজে স্থান করে নিচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে অ-দলিত গবেষক ও শিক্ষকদের উদ্দ্যোগে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দলিতচর্চার হাত ধরে। ফলে লক্ষ করা যায় দলিত সাহিত্য প্রাথমিক স্তরে দলিতদের মধ্যে অথবা তাদের নিকট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও দলিত-চর্চার সূত্র ধরে তা ক্রমশ বৃহৎ আকার ধারণ করে। তাই এক্ষেত্রে ‘দলিতপন্থী’ রচনা ও ‘দলিতচর্চা’ পরস্পরের পরিপূরক!

ড. রূপ কুমার বর্মণ, কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও  আম্বেদকর চর্চা কেন্দ্রের সমন্বয়ক ।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;