চিলারায় গড়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব



ড. রূপ কুমার বর্মণ
চিলারায় গড়ে স্থাপিত চিলারায়ের মূর্তি

চিলারায় গড়ে স্থাপিত চিলারায়ের মূর্তি

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় একশ বছর পূর্বে সিন্ধু অববাহিকার প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক সুপ্রাচীন সভ্যতার সন্ধান দিয়েছিল। তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর এই সভ্যতা নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, ঐতিহাসিক গবেষণা ও তর্ক-​বিতর্কের ধারাবাহিকতা পাকিস্তান ও ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের পুনঃনির্মাণের সহায়ক হয়েছে। এই ধারাবাহিকতার ফলে সিন্ধু, বালুচিস্তান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও গুজরাটে আবিষ্কৃত হয়েছে বহু প্রত্নক্ষেত্রের। পরিত্যক্ত ঢিবি ও ঝোপ-জঙ্গলে আচ্ছাদিত ধ্বংসস্তূপের খননকার্য যে প্রাচীন সভ্যতার ও সংস্কৃতির ইতিহাস নির্মাণের সহায়ক হবে, সে বিষয়ে গবেষকদের মনে সন্দেহ নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশ তাদের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান সংস্থা স্থাপন, প্রত্নসমীক্ষা ও খননকার্য চালানোর সঙ্গে সঙ্গে এই দেশগুলি তাদের প্রত্নসামগ্রী ও প্রত্নক্ষেত্রগুলিকে রক্ষা করার জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়ম বা মানুষের অজ্ঞতা, অসচেতনতা ও অদূরদর্শিতায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বহু সম্ভাবনাময় প্রত্নক্ষেত্র ও ধ্বংসাবশেষের ঐতিহাসিক গুরুত্ব। কোথাও কোথাও অবহেলায় পড়ে আছে বহু প্রত্নক্ষেত্র।

দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ বিশেষ করে ভুটান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এমনই একটি অবহেলিত কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রত্নক্ষেত্র হলো চিলারায় গড় (চিলারায় কোট বা চিলারায় দূর্গ)।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার (পূর্বতন দেশীয় রাজ্য) তুফানগঞ্জ শহর সংলগ্ন চিলারায় গড় তৈরি করেছিলেন কোচ রাজা নর নারায়ণ (১৫৪০-১৫৮১) ও কোচ সেনাপতি চিলারায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, কোচ রাজ্যের মূলস্থপতি বিশ্বসিংহ (১৫১৫-১৫৪০) তৎকালীন তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যে রাজ্য স্থাপন করেছিলেন তাকে রক্ষা করার জন্য তাঁর নিজ ভ্রাতা শিষ্যসিংহকে তাঁর রাজ্যের পশ্চিমাংশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল (বর্তমান জলপাইগুড়ি জেলা এবং বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও নীলফামারী) দান করেছিলেন। শিষ্যসিংহ নিয়োজিত হয়েছিলেন কোচ রাজ্যের রক্ষক বা ‘রায়কত’ হিসেবে। বিশ্বসিংহ পশ্চিম আসামের ‘চিকিনা’ অঞ্চল ছেড়ে প্রথমে হিঙ্গুলাবাসে (বর্তমান আলিপুরদুয়ার জেলার মহাকালগুড়ি) রাজধানী স্থাপন করেন ও পরে কামতাপুরে তাঁর রাজধানী স্থানান্তরিত হয়।

বিশ্বসিংহের মতই নর নারায়ণ ও তাঁর ভ্রাতা চিলারায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের উত্তরাংশ সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কোচ রাজ্যের সীমানা বিস্তার লাভ করেছিল। উত্তরদিকে ভুটান, পূর্বে অহোম রাজ্য ও দক্ষিণে বাংলার মুঘল শক্তির দ্বারা পরিবেষ্টিত কোচ রাজ্যের সুরক্ষার জন্য নর নারায়ণ (মল্লদেব) ও চিলারায় (শুক্লধ্বজ) বেশ কয়েকটি দূর্গ তৈরি করেছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চিলাপাতার (বর্তমান আলিপুরদুয়ার জেলার চিলাপাতার জঙ্গল) নররাজার গড় (নর নারায়ণ গড়/নলরাজার গড়) ও ফুলবাড়ির (বর্তমান তুফানগঞ্জ) চিলারায় গড়।

ভুটান ও অহোম রাজাদের আক্রমণ প্রতিহত করা ও উত্তর-পূর্ব ভারতে রাজ্য বিস্তারের সুরক্ষিত সামরিক দূর্গ হিসেবে চিলারায় গড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রায়ডাক নদীর সঙ্গে খালের (খোড়া) দ্বারা সরাসরি যুক্ত চিলারায় গড় কোচ নৌবাহিনীর ঘাঁটি হিসেবেও গুরুত্ব অর্জন করেছিল। নদীপথে এই দূর্গ থেকে কুড়িগ্রাম, পাঙ্গা, উত্তরকূল, দক্ষিণকূল, ধুবরী ও গোয়ালপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষিত হয়। আবার চিলারায় গড়ের পাশ দিয়েই নির্মিত হয়েছিল ‘গোহাই কমল মহাপথ’ (‘গোহাই কমল আলি’ বা বর্তমানে ভারতের ৩১এ জাতীয় সড়ক)। ফলে রাজ্যবিস্তার ও কোচ রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ও শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে তৎকালীন ফুলবাড়ির চিলারায় গড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সেনাপতি চিলারায়ের মৃত্যুর পর নর নারায়ণ ও চিলারায়-পুত্র রঘুদেব নারায়ণের মধ্যে কোচ রাজ্য বিভক্ত হয়ে গেলেও (১৫৮১) চিলারায় দূর্গ কোচবিহারের মূলকেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মহারাজা প্রাণ নারায়ণের (১৬৩২-১৬৬৫) পরবর্তীকালে উত্তর দিক থেকে ভুটানের আক্রমণ, পূর্ব দিক থেকে অহোম রাজাদের প্রতিপত্তির বিস্তার ও দক্ষিণ দিক থেকে মুঘল আক্রমণের ফলে কোচ রাজ্যের সীমা সংকুচিত হতে থাকে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সামরিক দুর্বলতার প্রকটের সঙ্গে সঙ্গে চিলাপাতার নররাজার গড় ও ফুলবাড়ির চিলারায় গড়, উভয়ই ধ্বংস হতে থাকে। একই সঙ্গে রায়ডাক নদীর গতিপথের পরিবর্তন চিলারায় গড়ের গুরুত্ব হ্রাস করেছিলো। বিশ শতকের গোড়ায় চিলারায় গড় একটি পরিত্যক্ত ঢিবিতে পরিণত হয়।

১৯৪৭ এর ভারত বিভাজন ও ১৯৪৯ সালে কোচবিহার রাজ্যের ভারত-ভুক্তির পরবর্তীকালে চিলারায় গড় অঞ্চলে জনবিন্যাসের বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। পূর্ববাংলা থেকে আগত সহায়-সম্বলহীন উদ্বাস্তুদের এখানে সরকারি উদ্যোগে পুর্নবাসন দেওয়া হয়েছিল। উদ্বাস্তু উপনিবেশ স্থাপনের ফলে পরিত্যক্ত গড়ের একটা অংশ ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া গড়ের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রকল্প। স্বাভাবিকভাবেই একটি বিশাল গড় আজ সংকুচিত হতে হতে একটি ছোট্ট উঁচু মাঠে পরিণত হয়েছে।

বর্তমান রায়ডাক নদী থেকে প্রায় দুই কিমি দূরে অবস্থিত চিলারায় গড়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত জলের ধারা আজও বর্ষাকালে কানায় কানায় ভর্তি হয়ে ওঠে। বাড়িঘর তৈরি বা গড়ের বসতির রাস্তা নির্মাণের সময় মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে বিশেষ ধরনের ইট ও খোদাই-করা পাথর। ‘পদ্মছাপ’ যুক্ত বিশেষ ধরনের ইট ও গড় নির্মাণে ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির পাথরের চাঁই গড়ের আশে পাশে এখনও দেখতে পাওয়া যায়। ইতিহাস চেতনার অভাবে এই মূল্যবান প্রত্নসামগ্রীগুলো অবহেলায় ও অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তবে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে গড়ের উত্তর-পশ্চিম কোণায় স্থাপিত হয়েছে চিলারায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি। এই মূর্তি চিলারায়, নর নারায়ণ ও পূর্বতন কোচবিহার রাজ্য সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের জনস্মৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাই আশা করা যায় গবেষকদের অনুসন্ধিৎসা বৃদ্ধি পেলে ভুটান, বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাসের নির্মাণে চিলারায় গড়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্বীকৃতি পাবে।

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার: ক্ষেত্র সমীক্ষার ব্যয়ভার বহনের জন্য লেখক ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ (নয়াদিল্লি)’ এর কাছে ঋণী।)

ড. রূপ কুমার বর্মণ, কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও আম্বেদকর চর্চা কেন্দ্রের সমন্বয়ক ।

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;