কবি আল মুজাহিদী ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছেন উভয় বাংলায়



সাঈদ চৌধুরী
কবি আল মুজাহিদী

কবি আল মুজাহিদী

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা ভাষায় আমার পছন্দের লেখকদের একজন কবি আল মুজাহিদী। তিনি একজন বিশুদ্ধ লেখক ও গবেষক। শিল্প-সাহিত্যের সর্বাঙ্গ স্পর্শ করেছেন সমান দক্ষতায়। কবিতার পাশাপাশি লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ। তার লেখা আমাকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে। তিন দশকেরও অধিক কাল তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন পরে সহকারী সম্পাদক হলেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হয়েছেন।

দশক বিবেচনায় আল মুজাহিদী ষাটের দশকের কবি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও কথাশিল্পী আল মাহমুদের পর কবি আল মুজাহিদী ও কবি আসাদ চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এই সৌভাগ্য কবি শামসুর রহমান সহ সমকালীন অনেকের হয়নি।

আল মুজাহিদী সমাজ বিকাশে সামনের কাতারের সৈনিক। কাল ও সমাজ সচেতন বিশ্ববীক্ষণের কবি। স্বভূমি, স্বদেশ এই সমতটের লোকায়িত ঐতিহ্য বন্দিশে আত্মমগ্ন তিনি। ৬০ এর দশকে ছিলেন ছাত্র রাজনীতির অন্যতম পুরোধা পুরুষ। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে রাজবন্দী হয়েছেন। সশস্ত্র এবং বুদ্ধিভিত্তিক সংগ্রাম করেছেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাজ্ঞ তাত্ত্বিক হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়।

আমাদের ভাষা আন্দোলনের চেতনা, স্বাধীনতা ও মানবিকতা আল মুজাহিদীর কবিতায় নানা ভাবে উচ্চারিত, উচ্চকিত হয়েছে। প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল এই কবির চিত্রকল্প, উপমা, উৎপ্রেক্ষা স্বতন্ত্র ধারায় বহমান। বিস্ময়কর জাগরণের, আবিস্কারের, উদ্ভাবনের জন্য তিনি অগ্রসর পাঠকের হৃদয় ছুয়েছেন।

কবি আল মুজাহিদী

সমাজমনস্ক ও স্বদেশ-আত্মার মানুষ আল মুজাহিদী লেখক হিসেবে ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়েছেন উভয় বাংলায়। অসম্ভব শক্তিশালি তার কল্পনার জগৎ। পৃথিবীর শুভতর, অধুনাতন বার্তা বয়ে বেড়ান তিনি। মানব সম্প্রীতির সমুজ্জ্বল সম্ভাষে স্ফুর্ত। যুদ্ধ বিরোধী, ভালোবাসা, জীবন ও মৃত্তিকা তার কবিতার মূল বিষয়। নির্মাণ শৈলীর দিক থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যেরে ক্রমবিবর্তন ধারায় এক উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন। কলকাতায় কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা আমি প্রগাঢ় ভাবে লক্ষ্য করেছি। এমনকি বিলেতেও পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের মধ্যে তার বইয়ের কদর রয়েছে।

কবি আল মুজাহিদী সর্ব অঙ্গে কবি। তার শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যের প্রাগ্রসর পাঠকের কাছে আনন্দের সংবাদ। মৃত্তিকা এবং মৃত্তিকার মর্মন্তলে চলে যান সাবধানী সন্ধানীর মতো। কবিতার পঙ্ক্তি মালা যেন তার জীবনেরই অঙ্গ। ’হেমলকের পেয়ালা’, ’ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ’দূত পারাবত’, ’মৃত্তিকা অতিমৃত্তিকা’, ’সমুদ্র মেখলা’, ’কালের বন্দিশে’, ’কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’, ’যুদ্ধ নাস্তি’, ’ঈভের হ্যামলেট’, ’সহস্র দিবস সহস্র রজনী’ ’যুদ্ধ বিরোধী কবিতা ও অন্যন্য’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে স্পর্শ করেছেন উজ্জ্বল কাব্য রবি। ’ইস্টিশানে হুইসেল’, ’সোনার মাটি রূপোর মাটি’, ’পালকি চলে দুলকি তালে’ কিশোর কবিতার পাশাপাশি ’হালুম হুলুম’ ও ’তালপাতার সেপাই’ ছড়ার বই পাঠকমন জয় করেছে।

কবি আল মুজাহিদী

‘অন্ধকার হয়ে গেল পৃথিবীটা‘ কবিতাটি আল মুজাহিদীর সেই শক্তিশালী জ্যোতির্ময় কাব্যসত্তার প্রতিনিধিত্ব করছে। ’অন্ধকার হয়ে গেলো/ অন্ধকার হয়ে গেলো পৃথিবীটা/ এই গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেলো মানুষের মুখ/ তবুও উন্মুখ আলোকণা জন্ম নেয়- এই মৃত ভস্মাধারে।/ আগুনের ঝাঁজরা পোড়া মানুষের করোটি-রা/ পড়ে থাকে প্রদোষের নিচে/ এখনো দিগন্ত লাল/ বেলাভূমে ছায়া নামে/ ‘নিসিকি’ সী-বীচে।/ হিরোশিমা কাঁপে। কেঁপে ওঠে/ বারবার। সভ্যতাও ফ্যালে অশ্রুজল;/ নায়াগ্রার প্রপাতের/ চেয়ে, আহা! আরো বেশি অবিশ্রান্ত/ এ শোক প্রবাহি!/ তবু থেমে নেই গান-/ মানুষের পদপাতে/ প্রগতির পথের নির্মাণ;/ তুমি কি আসবে কাল?/ হেসে ক্ষণকাল?/ ভাঙবে এ অন্তরাল?/ দিনের প্রথম আলো হাতে/ দাঁড়াবে উঠোনে/ ধ্বংস্তূপ পড়ে থাক দূরে, বহুদূরে/ আলোকণা আছে আরও এই অন্তপুরে/ প্রিয় প্রকৃতিকা,/ কোথাও যেও না আর ‘অসুর-সংঘাতে’।/ আমি জানি, পৃথিবীতে/ প্রতিদিন সূর্যমুখী ফোটে/ তোমার সূর্যও আশায় আশায়/ জাগে। শুধু জেগে ওঠে। ’

‘আগুন নেভেনি, আগুন নেভেনা ‘ আল মুজাহিদীর হৃদয়স্পর্শী কালজয়ী কবিতা

‘আগুন নেভেনি, আগুন নেভেনা ‘ আল মুজাহিদীর হৃদয়স্পর্শী কালজয়ী কবিতা। ’শান্তিবাদী বললেন, ‘শান্তিই যুদ্ধ থামাতে পারে।’/ যুদ্ধংদেহী দানব বললে, ‘শান্তি নিস্ক্রিয় নিদানপত্র।’/ কবি বললেন, ‘শান্তি একটা ইমেজ।’/ তুমি বললে, ‘শান্তি একটি প্রতিমা।’/ আমরা সকলে ভাঙতে ও গড়তে পারি।/ শিশুরা বললে, ‘তোমরা আগুন নেভাও,/ আমরা ভুল করে আগুনে হাত দিতে পারি।’/ কতিপয় কাপালিক ভীষণ দ্রংষ্টাঘাত করলো/ শিশুটির কোমল শরীরে।/ ঘরে-ঘরে, ভেতর-বাইরে, পৃথিবীর প্রতিটি উনুনে/ হিরোশিমায়, ফিলিস্তিন, কসোভায় আগুন জ্বলছে। / আগুন নেভেনি ব্যাবিলনে।/ আগুন নেভেনা। / আণবিক চুল্লি জ্বলে দিনরাত / ধিকিধিকি।’

’নাগাসাকি সভ্যতার শেষকৃত্যে’ আল মুজাহিদী অসাধারণ সৃজনশীলতা দেখিয়েছেন। ‘আমরা কি সূর্যকে আবার বলতে পারবো, ‘আমরা এখনও সেই নরকের জ্বলন্ত অঙ্গারে জেগে আছি।’/ মানুষের মড়ার খুলিতে ধ্বংসের আগুন/ আমাদের করোটিতে দজ্জালের খড়গ তুলে ধরা/ আমাদের হৃৎপিণ্ডে দানব বাজাচ্ছে যুদ্ধের দামামা/ তুমি কিন্তু এখনও জ্বলছো মাথার উপর আগের মতোই/ সভ্যতার শেষকৃত্যে তুমি এখনও জ্বলছো।/ প্রেয়সীর পোড়ানো শরীরে কিংবা স্তনবৃন্তে ঝরে পড়েছিলো/ তোমার শেষ রশ্মি। আমি শুধু তোমার আলোর চিহ্ন থেকে চিনে নিতে/ পেরেছিলাম আমার প্রিয়তমার আদল।

সূর্য, আমরা কি তোমাকে আবার বলতে পারবো, ‘আমরা এখনও/ সেই নরকের জ্বলন্ত অঙ্গারে জেগে আছি।’/ আমাদের নির্বাক করোটি/ আমাদের অসহায় হৃৎপিণ্ড/ আমাদের নির্বাসিত স্বাধীনতা/ পৃথিবীর ঘরে ঘরে নিসর্গের লোকালয়ে/ একেকটি মমির মতো জেগে আছে। নাগাসাকি,/তুমি আমার আত্মার ফলক চিহ্নিত সেনোটাফ/ আমাদের শোক আমাদের দুঃখ জেগে থাকে এখানেই/ শোকের মর্মরে নির্মিত এ ম্যুসলিয়াম।/ পৃথিবী, আজ দেখছি তোমার নিজের মঙ্গল চেতনায় তুমি মগ্ন/ আর আমি? প্রেয়সীর জন্য বিলাপ করছি/ আর আমার পিতৃপুরুষের ফসিলের জন্য।/ নাগাসাকি, তুমি বাংলার মৃত্তিকা থেকে কুড়িয়ে নাও/ শতাব্দীর ঝরাপাতা/ এলিজিগুচ্ছ।’

কবি আল মুজাহিদী

সাম্য ও মানবতার জয়গানে বিদ্রোহী কবি নজরুলের চেতনায় আল মুজাহিদী নতুন বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। যুদ্ধ বিগ্রহের বিরুদ্ধে তিনি এবং আধুনিক বাংলা কবিতার আরেক দিকপাল শহীদ কাদরী ছিলেন বজ্রকন্ঠ। আল মুজাহিদী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রক্তঝরা সংঘাতের সহৃদয় ব্যাখ্যাদাতাও। তার কবিতা পাঠকের মানস দিগন্তে নতুন আলোর উদ্ভাস। মানবপ্রেমীদের হৃদয়ে তার এই পঙিক্তিমালা বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা প্রসঙ্গে কবি আল মুজাহিদী বলেন, হিরোশিমা নাগাসাকি এই শব্দযুগল আমার কৈশোর স্মৃতির অন্তর্গত। ষাটের দশকের ফেরারি সময় থেকেই বিশ্বযুদ্ধের বর্বরোচিত ধ্বংস ও রক্তযজ্ঞ সম্পর্কে আমি সচেতন হয়ে উঠতে থাকি। ঐ সময় রাজনৈতিক কারাবাসের মূহুর্তে ‘কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি’ কবিতাটি রচনা করি। কারামুক্তির পর যুদ্ধের ইমেজের ওপর আরও কবিতা লিখতে শুরু করি। এমনি করে অনেক ক'টা বছরে অনেক ক'টা কবিতা লেখা হয়ে গেলো। ঐ যে বলছিলাম, রাজনৈতিক ফেরারি সময়ে লেখাগুলো খোয়া যায়। আবারও প্রচেষ্টা করি একটি পূর্ণাঙ্গ পান্ডুলিপি তৈরি করতে। উনিশ শ’ একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী আমার টাঙ্গাইলের বাসভবন তছনছ করে দেয়।

আর পান্ডুলিপিটি আবার পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়। ধ্বংস্তুপ থেকে আর কোনো কিছুই উদ্ধার করা সম্ভবপর হয়নি তখন। এ সহস্রাব্দের শুরুতেই পান্ডুলিপিটির কাজ শেষ করতে সমর্থ হই। আগেই বলেছি, হিরোশিমা নাগাসাকি আমার মানসপটভূমিতে আলোড়ন তোলে। জীবনের প্রায় প্রতি পদক্ষেপেই। বাইরের বস্তুবিশ্বের থেকে কবির জগত কি আলাদা? কখনোই নয়। চেতনা, অবচেতনা নিয়েই কবির জগত। আত্মার অনন্ত নির্দেশেই কবির জীবনযাত্রা। কবি এই পৃথিবীর ভিতরই আরেক পৃথিবী নির্মাণ করেন। নান্দনিক, সুন্দরতর, শুভতর পৃথিবীলোক। কবি সে উজ্জ্বল প্রজ্বল পটদিগন্তলোকের বাসিন্দা করতে চান পৃথিবীবাসিদেরও। প্রতিটি মানুষই যেন নিজ নিজ পৃথিবীর সৃষ্টির স্রষ্টা। আর সেই সঙ্গে এর বাসিন্দাও।

জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, এই মনের ও মহাপ্রাণনের পৃথিবীর অস্তিত্ব তাদের কাব্যের ভিতর। আমরা বাস্তব বিশ্ব ও সমাজ পরিসর থেকে বিমুখ হতে পারিনা। বস্তুপুঞ্জ ও সময়ের মুখোমুখি আমরা সকলেই নিরন্তর। পৃথিবীর অন্ধকার যেমন আচ্ছন্ন করে, পৃথিবীর আলো আভা, উজ্জ্বলতাও তেমনি উচ্চকিত করে আমাদের। দৈশিক ও বৈশ্বিক অবক্ষয়, ধ্বংস, বিনাশ আক্রান্ত করে। এ গ্রহে, এ মর্ত্যজীবনে সুন্দর ও শুভতাই তো প্রার্থিত, আকাঙ্ক্ষিত।

পৃথিবীর ঘনঘটাঘোর অন্ধকার ও অশুভ অসুরের বিরোধাভাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়- অখণ্ড, অবিভাজ্য মানবতার রক্ষা করার তাগিদে। অসমাপ্ত সুদীর্ঘ বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হয়। দাঁড়াতেই হবে শান্তি, সভ্যতা ও প্রগতির নামে। অনিঃশেষ উজ্জ্বল মানবতা ও মানবিকতার স্পন্দন তুলতে হবে। পৃথিবীর মানুষের শিরায় শিরায়, অস্থি মজ্জায়, রক্ত মাংসে। এই অখণ্ড অনুভব থেকেই আমার এই বিনীত প্রয়াস। হিরোশিমা নাগাসাকি ধ্বংসের নৃশংসতায় এ আমার প্রতিবাদ।

সাম্রাজ্যবাদীদের বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা ও বর্বরতার বিবর কোটর থেকে মনুষ্যত্বকে রক্ষা করার অনুভব মাত্র এটা। এ আমার কাব্যিক অনুভূতি ও অভিব্যক্তি। পারমানবিক বোমা ফাটানোর বিরুদ্ধে অসন্তোষবহ্নি। ভিতরের কৃষ্ণাগ্নি বলা যেতে পারে। পারমাণবিক, আণবিক অনিশ্চয়তার বিপরীত মেরুতে আমরা দাঁড়াবো চিরদিন, চিরকাল। হিরোশিমার অন্ধকার নাগাসাকির অভ্রভেদী আর্তির পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো হয়না। পৃথিবী ও পৃথিবীবাসীর স্থায়ী শান্তি ও অবস্থানের আকাঙ্খায় আবার প্রাণিত হবো আমরা। যুদ্ধের বর্বরতা বন্ধ করতে অটল হিমাচল হবো আমরা। আমরা মা শিশু সহোদর সহোদররা স্বপ্ন ও সান্নিধ্য অনুভব করবো। মনুষ্যত্বের অমরতার জয়গান গাইবো। একত্রে, একই কণ্ঠে।

আল মুজাহিদী একজন সফল কথাসাহিত্যিক। ’প্রপঞ্চের পাখ’ ও ’বাতাবরণ’ গল্প গ্রন্থে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। ‘মানব বসতি’, ’সনেট’, ’আর্কিওপটেরিক্স’, ’সোনাটা স্যোনাটা ও সিলুএট’ এবং ’কালমিতি’ উপন্যাস লিখে কথা সাহিত্যের সব পথই করেছেন মসৃণ। ‘লালবাড়ির হরিণ’ আর টু’পুনের ডায়েরি’র মত কিশোর উপন্যাস নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে। ’কালের করোটি’, ’মেরুমৈত্রী’, ’যুগান্তরের যাত্রী’, ’নৈতিকতা ও নান্দনিকতা’ প্রবন্ধ গ্রন্থের মাধ্যমে পাঠককে অনায়াসে চেতনার গভীরে টেনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

যৌবন ও পৌরুষ শাসিত অভিজ্ঞতার কথা সমুদ্র শঙ্খের মত বেজে ওঠে আল মুজাহিদীর কাব্যে এবং গদ্য রচনার পরতে পরতে। ’নৈতিকতা ও নান্দনিকতা’ প্রবন্ধ গন্থে সেই স্বাক্ষর ভাস্বর। বাংলা গদ্য সাহিত্যে এসবই অনন্য সংযোজন।

কবি ও কথাসাহিত্যিক আল মুজাহিদী সাহিত্যের সব শাখাতেই অঘোষিত সম্রাট। সব্যসাচী লেখক হিসেবে সময়কে ধারণ করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে লিখেছেন। দলবাজি তার লেখায় প্রাধান্য পায়নি কখনো। ইতিহাস-নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। বরং বোধের জগতে নাড়া দিয়েছে।

কবি আল মুজাহিদী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তার দীপ্ত তারুণ্যেই। ১৯৬৯ সালের প্রাদেশিক সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগকে বাংলা ছাত্রলীগে রূপান্তরিত করেন। বাংলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আল মুজাহিদী আইয়ুবের কালো দশকে কারাবরণ করেন বহুবার। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

ভ্রমণপ্রিয় আল মুজাহিদী পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন। তিনি যুদ্ধ বিরোধী শান্তি সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। যদিও দেশভ্রমণও তার প্রিয় বিষয়। বহু ভাষায় অভিজ্ঞ আল মুজাহিদীর ব্যক্তিগত শখ বিভিন্ন ভাষা শেখা। উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, নেপালি এসব ভাষা তিনি চর্চা করেন নিয়মিত।

কবি আল মুজাহিদী জাতীয়ভাবে বহু পুরষ্কার অর্জন করেছেন। ২০০৩ সালে একুশে পদক ও ২০১৮ সালে বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক লাভ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পেয়েছেন, জীবনানন্দ দাশ একাডেমী পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমী পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমী পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার।

কবি আল মুজাহিদী ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল হালিম জামালী ও মাতা সাখিনা খান জামালী।

আল মুজাহিদী ১৯৭৩ সালের ২২ জুলাই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী পলিন পারভীন। পুত্র শাবিব জামালী আল মুজাহিদী ও কন্যা মারিয়ামা জীবান আল মুজাহিদীকে নিয়ে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন।

ছাত্র জীবনে কবি আল মুজাহিদী নারুচি ফ্রি বোর্ড প্রাইমারী স্কুলে পড়েছেন। তারপর টাংগাইল বিন্দুবাসিনী গভর্নমেন্ট হাই স্কুল ও সিরাজগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলে। কলেজ জীবনে করটিয়া সাদৎ কলেজ, ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। সমাজবিজ্ঞান এবং বাংলা ও সাহিত্যে মাস্টার্স করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কবি আল মুজাহিদী বর্তমানে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দৈনিক আ্যডর পত্রিকার আঞ্চলিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারী কবিদের মতামতের ভিত্তিতে কবিতা বাংলাদেশের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

কবি আল মুজাহিদী লিখে যাচ্ছেন অবিরাম। তার ভাষায়, আমি লিখছি আর ভাবছি। পৃথিবীজুড়ে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে এতো নির্যাতন কেন? কী তাদের অপরাধ? আমি লিখছি আর জেগে উঠছি বারবার। হে নবীন, জেগে উঠার সময় এসেছে, নাও হাতে কলম, লিখো মানবতার গান।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী। সময় সম্পাদক। কবি ও কথা সাহিত্যিক।

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;

স্বপ্নের পদ্মা সেতু



রিঝুম ইতি
স্বপ্নের পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি জন্মেছি বাংলায়-

গর্বিত আমি,
শেখ হাসিনার মহিমায়।
পেয়েছি আমি,
স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
একদিন যেটা,
স্বপ্নই ছিলো শুধু।
আজ, পদ্মাসেতুর প্রয়োজন -
বুঝবে সেই,
ভুক্তভুগী যেজন।
মাঝরাতে-
বেড়েছিলো মায়ের অসুখ।
ফেরিঘাটে-
গুণেছি শুধু প্রহর।
অবশেষে -
পারিনি মাকে বাঁচাতে,
পেরেছো কি দায় এড়াতে?
অভাবের সংসার-
একটা চাকরি,খুব দরকার।
একদিন-
ডাক পড়লো আমার,
ইন্টারভিউ দেবার।
পড়লাম এসে-
ফেরিঘাটের জ্যামে,
স্বপ্ন নষ্ট-
কিছু সময়ের দামে।
বাংলাদেশে-
হয়নি কোন চাকরি,
ভেবেছি তাই-
বিদেশ দেবো পাড়ি।
ভিটেমাটি সব বেঁচে,
সব টাকা যোগাড় করে।
রওনা দিলাম ভোরে,
চারপাশের-
কুয়াশা ঘিরে ধরে।
ফেরি চলাচল বন্ধ,
হারালো,জীবনের ছন্দ।
সারা বছর-
হাড়ভাংগা পরিশ্রমে,
জন্মাই ফসল-বাংলার মাটির বুকে।
পাইনা ভালো দাম,
এই কি তবে-
আমার ঘামের দাম।
শহরে আমি-
সবজি বেঁঁচবো দামে,
কিন্তু-
ঘাটে সবজি যাবে পঁচে।
শুধু-
পাইনি সুবিধা আমি,
পেয়েছে আরো-
তিন কোটি বাঙালি।
হাজারো-
ব্যর্থতার গল্প,
এভাবেই-
রচনা হতো।
হয়েছে স্বপ্ন পূরণ,
পদ্ম সেতুর দরুণ।

লেখক-রিঝুম ইতি, অনার্স- ১ম বর্ষ, প্রাণীবিদ্যা, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

;