নিজাম উদ্দিন সালেহ’র ভোকেশনাল এক্সেলেন্সি এওয়ার্ড লাভ



সাঈদ চৌধুরী
এওয়ার্ড নিচ্ছেন নিজাম উদ্দিন সালেহ

এওয়ার্ড নিচ্ছেন নিজাম উদ্দিন সালেহ

  • Font increase
  • Font Decrease

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য দৈনিক জালালাবাদের সহকারী সম্পাদক কবি-সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সালেহ ‘ভোকেশনাল এক্সেলেন্সি এওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। গত সোমবার রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের ব্যবস্থাপনায় সিলেট অঞ্চলের ১৬টি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ব্যবসায়িক ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে উঠা বিশ্বব্যাপী সেবামূলক সংগঠন। উচ্চস্তরের মানদণ্ড, সমাজ সেবা ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ায় এ সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় শাখাসমূহ কেন্দ্রের নীতিমালার আলোকে বহুমুখি কর্মকান্ড পরিচালনা করে। মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভোকেশনাল এক্সেলেন্সি এওয়ার্ড প্রদান তাদের কর্মসূচির অংশ।

নিজাম উদ্দীন সালেহকে এই এক্সেলেন্সি এওয়ার্ড প্রদান খুবই যথার্থ হয়েছে। রোটারি ক্লাব সমূহ থেকে একজন গুণী লেখককে সম্মান জানাতে পেরে রোটারি ক্লাব অব সিলেট সিটির চাটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমিও গর্ববোধ করছি।

নিজাম উদ্দীন সালেহ কবি, গবেষক, সাংবাদিক ও শিক্ষক। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় রয়েছে অবাধ বিচরণ। বাংলা ও ইংরেজিতে সমান পারদর্শী এই লেখক আধুনিক বাংলা কবিতায় অন্যরকম নান্দনিকতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে রোমান্টিকতা যেমন আছে, তেমনি মৃত্যুচেতনাও রয়েছে। দেশ প্রেমের পাশাপাশি বিশ্বজনীনতা ও মানবিকতা উঠে এসেছে তার সাহিত্য ও সাংবাদিকতায়। এই সৃজনকর্ম প্রবীনদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও উজ্জীবিত করে।

নিজাম উদ্দীন সালেহ আমার একজন প্রিয় লেখক। প্রায় তিন দশক ধরে তাকে আমি কাছে থেকে দেখছি। বিভিন্ন সময় বহু প্রকল্পে একসাথে কাজ করেছি। শৈশব থেকেই সংগ্রামী চেতনার মানুষ তিনি। তার মেধা এবং নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের প্রশংসা করতে হয়।

সিলেটের আলোকিত সাংবাদিক মুকতাবিস-উন-নূর সম্পাদিত দৈনিক জালালাবাদে আমরা একত্রে কাজ করেছি। সেখানে ছিলেন শক্তিমান লেখক-সাংবাদিক আব্দুল হামিদ মানিক ও নিজাম উদ্দীন সালেহ। সালেহ ভাই বয়সে বড় হলেও এক ধরণের বন্ধুবৎসল আচরণ করতেন। আমি তখন জাতীয় দৈনিকের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি। ঢাকার খবর পাঠিয়ে জালালাবাদে যেতাম এবং শেষরাত অবদি দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ তৈরীতে এক সাথে কাজ করতাম।

সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্টেও নিজাম উদ্দীন সালেহ সম্পৃক্ত ছিলেন। আমি সংলাপের সেক্রেটারি জেনারেল থাকাকালে আমাদের অনেক অনুষ্ঠানে তিনি মুখ্য আলোচক হিসেবে সাহিত্য আসরে পঠিত লেখার প্রাণবন্ত মূল্যায়ন করতেন। উপস্থিত নবীন-প্রবীন লেখিয়েরা এতে মুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হতেন।

প্রবাসীদের উদ্যোগে সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও রিসোর্ট প্রতিষ্ঠার পর সেখানেও একত্রে কাজ করেছি। প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে আমি তাকে অনুরোধ করলে তিনি পাবলিক রিলেশনস অফিসার (পিআরও) হিসেবে যোগ দেন। এসময় ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মিডিয়াতে তার চমৎকার বর্ণনায় সিলেটের ট্যুরিজম দারুণভাবে বিকশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাবে হালাল ট্যুরিজম নিয়েও আমরা একসাথে কাজ করেছি।

এসময় আমার অনুপ্রেরণায় তিনি ফেইসবুকে বেশ সক্রিয় হন এবং আপন প্রতিভা গুণে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন। ২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়ে 'পারসোনাল জার্নালিজম ইন সোশ্যাল মিডিয়া: এ নিউ হরাইজন অব জার্নালিজম’ (PERSONAL JOURNALISM IN SOCIAL MEDIA: A NEW HORIZON OF JOURNALISM) শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করি। আমার (সাঈদ চৌধুরী) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি অসাধারণ গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার খালেদ আহমদের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বর্তমান সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি আহমেদ নূর, অধ্যক্ষ কবি আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ লেঃ কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, কবি মুকুল চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, রোটারী ক্লাব অব ক্বীনব্রীজের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট রফিক চৌধুরী, এডভোকেট কবি কামাল তৈয়ব, শেভরণ বাংলাদেশের এইচইএসটিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর শাহ মনসুর আলী নোমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রায় সকলেই একমত হন যে, ’পারসোনাল জার্নালিজ’ সাংবাদিকতার একটি আধুনিকতম, সময়োপযোগী ও গতিশীল বিবর্তন, যার প্রতি মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে এই নতুন ধারার প্রবক্তা ও প্রোপোন্যান্ট হিসেবে সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন সালেহ’র ভূমিকা অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষভাবে ফেইসবুক কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা বিষয়ে গবেষণা দিয়ে ‘ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা’ নামে তিনি অবশেষে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ঢাকার শব্দকোষ প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে। এটি সম্ভবত এশিয়া থেকে এ বিষয়ক প্রথম গবেষণা ও প্রামাণ্য গ্রন্থ।

শিক্ষক হিসেবেও নিজাম উদ্দীন সালেহ বেশ সফল। ১৯৯৭ সালে সিলেটে ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করি। আমার শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অবহিত হয়ে বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠেন শহরের জিন্দাবাজার কাজী ম্যানশনের সত্তাধিকার ও এপেক্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট কাজী এনাম উদ্দিন আহমদ। তিনি তার বন্ধু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কয়সর জাহান সহ আরো কয়েকজনকে সাথে রাখার অনুরোধ করেন। এভাবে আস্তে আস্তে আমাদের আরো ক‘জন বন্ধুও সম্পৃক্ত হন। প্রতিষ্ঠিত হয় বৃটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (বিবিআইএস)।

স্কুল প্রতিষ্ঠায় ইংলিশ মিডিয়ামের খ্যাতিমান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, এনাম চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল হাই (পরিচালক) প্রমুখ এবং সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন সালেহ ও এডভোকেট রফিক আহমদ চৌধুরীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিজাম উদ্দীন সালেহ পরবর্তীতে বিবিআইএস শিক্ষক এবং অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

সিলেট ও লন্ডনের অনেক সৃষ্টিশীল কর্মের সাথে নিজাম উদ্দীন সালেহ সক্রিয় ভাবে জড়িত। ২০০১ সালে আমাদের উদ্যোগে ও সম্পাদনায় লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইউরো বাংলায় তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আমার সম্পাদিত সময়২৪ এর তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত ছিলেন। আরব নিউজ সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবাদ পত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন অনুবাদ করে দেয়ার জন্য তাকে পাঠাতাম। কয়েক ঘন্টার মধ্যে তিনি তা করে দিতেন। এভাবে তার অনুদিত মুসলিম দুনিয়ার সেরা খবর সবার আগে আমরা বাংলা পাঠকের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি।

লন্ডনে সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহল থেকে আমার সম্পাদিত ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি, ইউকে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ডাইরেক্টরি এবং ওআইসি ভুক্ত ৫৭টি দেশের তথ্য সমৃদ্ধ মুসলিম ইন্ডেক্স প্রকাশনায় নিজাম উদ্দীন সালেহ নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

লেখক ও গবেষক হিসেবে নিজাম উদ্দীন সালেহ’র ডকুমেন্টারি ‘পণাতীর্থ: অ্য প্লেস অব পিলগ্রিমেজ’ ২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠ শর্ট ফিল্ম হিসেবে লস এঞ্জেলেস ফিল্ম ফেস্টিভেলে পুরস্কৃত হয়েছে। ক্বীন ব্রিজের ঠেলাওয়ালা শিশুদের নিয়ে ‘পুশ কীডস্’ ডকুমেন্টারিতেও তিনি কাজ করেছেন, যেটি আন্তর্জাতিক ভাবে পুরস্কার লাভ করেছে। তার লেখা ‘স্বপ্ন পরবাসী’ নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পড়াকালীন ১৯৭৮ সালে তার লেখা ‘রত্নগুহা’ নাটক মঞ্চস্থ ও স্থানীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কর্তৃক পুরস্কৃত হয়।

খ্যাতিমান ব্রিটিশ সাংবাদিক এন্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ বিষয়ক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ: অ্য লিগ্যাসি অব ব্লাভের’ প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক নিজাম উদ্দিন সালেহ। পরে যদিও বইটির একাধিক অনুবাদ হয়েছে। এছাড়া তিনি ইউরোপের ইউক্রেইনে চেরকাসি স্টেট টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা বিষয়ক সারফেইস টেকনোলজির ওপর লেখা একটি ম্যানুয়েল বাংলায় অনুবাদ করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেফারেন্স বুক’ বা সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত। ঢাকা বিদ্যালয়ের থিসিস লেভেলের অনেক বিষয় তিনি ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

নিজাম উদ্দিন সালেহ বাংলাদেশে অতিন্দ্রিয় বা অতি প্রাকৃতিক বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক। সিলেট টাইমস্ পত্রিকায় তার জ্বীন বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত তার ‘অতীত দিনের সিলেট’ বইটিও বেশ আলোচিত ও সমাদৃত হয়েছে। নিজের স্মৃতিচারণমূলক এই গ্রন্থে লেখক গত পঞ্চাশ বছরে সিলেট নগরির বিকাশের চিত্র তুলে ধরেছেন।

লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, এইদেশ এই মাটি (১৯৭৫), সবুজের আগ্নেয় প্রপাত (কবিতা সংকলন, ১৯৭৭), অভিযাত্রীর স্বপ্ন (১৯৮৬), শ্বাশ্বত প্রত্যয় (১৯৯৬), ব্যক্তিগত সাংবাদিকতা (গবেষণা-২০১৪), নীল চাঁদোয়ার নীচে (কাব্য- ২০১৬), অতীত দিনের সিলেট (২০২১)।

আমার ‘কালজয়ী কবিতার স্রষ্টা আল মাহমুদ’ গ্রন্থে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রধান কবি ও কথাসাহিত্যিক আল মাহমুদ সত্তর ও আশির দশকের খ্যাতিমান কবিদের মধ্যে নিজাম উদ্দীন সালেহ’র নাম এনেছেন বেশ গুরুত্বের সাথে।
নিজাম উদ্দীন সালেহ’র জন্ম ১৯৫৭ সালের ২২ নভেম্বর, তার নানাবাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জের রাজাপুর গ্রামে জায়গীরদার বাড়িতে। পৈতৃক নিবাস ওসমানীনগরের তাহিরপুরে। পিতা মৌলভী আব্দুল জলিল ছিলেন সুনামখ্যাত শিক্ষক। বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফার্সি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।

ইংরেজি অনার্সের মেধাবী ছাত্র নিজাম উদ্দীন সালেহ সাবসিডারী পাশের পর ৩ বছর পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য অনার্স সম্পন্ন করতে পারেননি। পরে বিএ পাশ করে ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আইনশাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।

ইসলামী ফাউন্ডেশনের সিলেট শাখায় প্রোগ্রাম অর্গ্যানাইজার হিসেবে তার কর্মজীবনের শুরু। আশির দশকের শুরুতে দৈনিক জালালাবাদী ও সাপ্তাহিক সিলেট সমাচারে সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। পরে সিলেটের ডাক ও যুগভেরীতে সহকারী সম্পাদক ছিলেন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সাপ্তাহিক বাংলা মিরর, অনলাইন ইংরেজি সিলেট মিরর, নিউ নেশন, নিউ এইজ, নিউজ টুডে ইত্যাদিতে তিনি লেখালেখি করেন। বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক সাপ্তাহিক সিলেট টাইমস্ পত্রিকা ৩ বছর সম্পাদনা করেছেন। বর্তমানে দৈনিক জালালাবাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

এদিকে ভোকেশনাল এক্সেলেন্সি এওয়ার্ড প্রদানের জন্য গত সোমবার রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের ব্যবস্থাপনায় সিলেট অঞ্চলের ১৬টি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রোটারি ডিস্ট্রিক্ট (৩২৮২) গভর্নর আবু ফয়েজ খান চৌধুরী। ইভেন্ট চেয়ার আইপিপি প্রভাষক রেহান উদ্দিন রায়হানের সভাপতিত্বে প্রোগ্রামের কল টু অর্ডার করেন মেট্রোপলিটন সিলেটের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান সাইফুর রহমান।

কোরআন তেলাওয়াত করেন রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেনারজির প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান। রোটারি প্রত্যয় পাঠ করেন রোটারি ক্লাব অব গ্রীণসিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলমগীর হোসাইন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের প্রেসিডেন্ট সাইফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পিডিজি ও ডিস্ট্রিক্ট ট্রেইনার প্রিন্সিপাল কর্নেল অব. এম আতাউর রহমান পীর, পিডিএফএল রোটা ফিরোজা রহমান, পিডিজি ইঞ্জিনিয়ার এম এ লতিফ এমডি। ভোট অব থ্যাংকস জ্ঞাপন করেন রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন সিলেটের ফার্স্ট লেডি রোটারিয়ান তাহমিনা আক্তার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চিটাগাং আগ্রাবাদ ক্লাবের পিপি ও পিডিএস কেরামুতুল আজিম পিন্টু, পিডিএস এ এইচ এম ফয়সল আহমদ, পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি গার্ডেন সিটির পিপি সেলিম খান, ফাস্ট জোনাল কো অর্ডিনেটর জাকির হোসাইন চৌধুরী, এসিস্ট্যান্ট গভর্নর কবিরুল ইসলাম, আবু সুফিয়ান, ডায়নামিক ক্লাবের জিএস আর ডেপুটি গভর্নর ব্যাংকার নাজিম উদ্দিন শাহান, গ্রীণসিটির প্রেসিডেন্ট শাহজাহান সেলিম বুলবুল, রাইজিং স্টারের ইউনুস আলী, ই ক্লাব অব ৩২৮২ এর প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আজিম উদ্দিন, হিলটাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট দিদার হোসাইন, ছাতক ক্লাবের রাসেল আহমদ, ডাউন টাউনের আবুল আজাদ, রোজ গার্ডেনের নাজমুল ইসলাম, ডেফোডিলের ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, প্রখর মেধাবী নিজাম উদ্দীন সালেহ শিক্ষাজীবন থেকে লেখালেখি ও সেবা কর্মের সাথে জড়িত। একজন নিভৃতচারী লেখক ও গবেষক হিসেবে বিরামহীন ভাবে লিখে চলেছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তিনি নন্দিত। সফল অনুবাদক হিসেবে সর্ব মহলে সমাদৃত। লেখকের একটি কবিতার নিম্নোক্ত পংক্তিমালা থেক থেকেই তার জীবন ও কাব্য ভাবনা সহজে অনুধাবন করার যাবে।

‘নদীর ভাঙ্গনে গেছে ঘর-বাড়ি, যাক্ / সোনা দানা টাকা কড়ি হারায়, হারাক / শুধু ভয় নৈতিক অবক্ষয় / যদি কেড়ে নেয় মূল্যবোধ / জীবনের শেষ সঞ্চয়! / আমাদের আঙ্গিনায় সত্য ও ন্যায় / স্খলিত লতার মতো গ্রীষ্মের ক্রোধে / হাঁফায়, লুটায় / এক বিন্দু পানি নেই, শিশিরও যে নেই / ভেজাবে প্রীতির রসে, বিবেকের বোধে। / প্রচন্ড খরায় পুড়ে যায় জমি, যাক্ / শস্যের সোনালি হাসি মিলায়, মিলাক / শুধু ভয় লোভ মোহ স্বার্থের উদগ্র পিপাসা / শুষে নেয় উদ্ভাসিত মানবতাটুকু / অন্ধকারে শেষ আলো আশা।’ (কবিতা- ভাঙ্গনের শব্দ)

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;