'প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করা'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

একহাতে অবিরাম অনুবাদ করছেন আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। ওরিয়ানা ফালাসি থেকে খুশবন্ত সিং, এম জে আকবর হয়ে ইতিহাস, রাজনীতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের বহু নন-ফিকশান প্রপঞ্চ বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উন্মোচিত করেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শেষে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তার সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ ও অনুবাদ সাহিত্যের নানা বিষয়ে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে উপস্থাপিত হলো।

প্রশ্ন: এবারের বইমেলায় রাজনীতিবিদ গান্ধী ও জিন্নাহর ধর্ম বিষয়ক অবস্থান মূল্যায়ন করে এম জে আকবরের বই অনুবাদ করেছেন। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তর: বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমি কোনো বই অনুবাদ করি না। আমি সারা বছর কাজ করি, প্রকাশকরা মেলাকে বই প্রকাশের উপলক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। এম জে আকবরের ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স ইসলাম’ বইটি পাঠ করার সুযোগ হয় ২০২০ সালে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমাকে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ, ভারত বিভাজন ইত্যাদির নিবিড় পাঠ করতে হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়েও ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সাংবাদিকতার পেশাগত কারণেই উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে স্পর্শ করে, তা পাঠ করতে আগ্রহী হই। এম জে আকবর তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন, যা বিতর্কিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকরা বিতর্কের মধ্য দিয়ে সত্যে উপনীত হবেন - এই দার্শনিক তত্ত্বকে সামনে রেখে আমি বইটি অনুবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করেছি।  

বইটির বৈশিষ্ট হলো, এম, জে আকবর ভারতের অখণ্ডতা গান্ধীর কাছে কেন প্রয়োজন ছিল এবং ভারত বিভাগ জিন্নাহ’র কাছে কেন মুসলিম মুক্তির সমার্থক ছিল, তা দলিলিকভাবে তুলে ধরেছেন। তার দৃষ্টিকোণ থেকে গান্ধীর ধর্মনিষ্ঠা, মানবতা ও মহত্বের বিপরীতে জিন্নাহ ছিলেন ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারকারী, ক্ষমতালোভী ও একগুঁয়ে। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, জিন্নাহ’র মগ্নতা ছিল পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান সৃষ্টির কারণে উপমহাদেশের মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং শুধু মুসলিম অধ্যুষিত হলেই তারা চিরশান্তিতে থাকবে, এমন রাজনৈতিক চিন্তা ও দ্বি-জাতিতত্ত্ব যে ভ্রান্ত ছিল তার প্রমাণ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করার ঘটনা। তার মতে, জিন্নাহ’র সেরা সাফল্যই ছিল তার সবচেয়ে চরম ব্যর্থতা। বইটিতে আরেকটি সত্য তুলে ধরা হয়েছে যে, গান্ধী তার অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালালেও ভারতকে অখণ্ড রাখতে সফল হননি, অপরদিকে জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সফল করেছেন। উভয়েই যার যার মতো ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। আমার কাছে আকবরের এ কথাগুলো বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: কেন এর অনুবাদে আকৃষ্ট হলেন?

উত্তর: এম জে আকবরের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় সত্তরের দশক থেকে। ভারতে বিভিন্ন মুসলিম ইস্যুর ওপর তিনি যা লিখতেন তা ভারতীয় মুসলিমদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করতো। কিন্তু আমি তার যেকোনো লেখা পাঠ করতাম। ২০২০ সালের প্রথম দিকে আমি প্রথমবারের মতো গান্ধীর ওপর এম জে আকবরের একটি নিবন্ধ অনুবাদ করি এবং সেটি  বাংলাদেশের মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। লেখাটি ছিল শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিচারের শুনানি ও রায়ের ওপর এইচএলও গ্যারেটের ‘দ্য ট্রায়াল অফ বাহাদুর শাহ জাফর’ গ্রন্থের ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা। আমি আমেরিকায় বসবাস করলেও আমার অনূদিত লেখাটি বাংলাদেশের একটি সূত্রের মাধ্যমে এম জে আকবরের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তাছাড়া খুশবন্তু সিং এর অধিকাংশ বই আমি অনুবাদ করেছি বলে আমার পরিচয় জেনে আকবর তার ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স বইটি অনুবাদ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করতে বলেন। আমাকে তার অনুরোধ পৌছানো হলে বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সচেতন পাঠকদের পাঠ করা প্রয়োজন ভেবে আমি অনুবাদ করতে সম্মত হই।

প্রশ্ন: আগেও আপনি মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য অন্বেষী বহু গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন। কেন এই বিষয় বেছে নিলেন?

উত্তর: মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য বলতে আমি মূলত শুধু শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি বই অনুবাদ করেছি। সামগ্রিকভাবে মুঘল শাসন অথবা অন্যান্য মুঘল সম্রাটদের নিয়ে কোনো বই অনুবাদ করিনি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ওপর একাধিক বই অনুবাদ করেছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে ভারত বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতাসহ উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থেকেই এসব বই অনুবাদ করেছি।

প্রশ্ন: কোন কোন বইয়ের অনুবাদ আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে? কেন?

উত্তর: আমি একটি বইয়ের কথা না বলে তিন সংস্কৃতির তিনটি বইয়ের কথা উল্লেখ করবো, যে বইগুলো আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। একটি খুশবন্ত সিং এর বিখ্যাত উপন্যাস 'ট্রেন টু পাকিস্তান', যার বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ফলে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের গণ-স্থানান্তরের বা ব্যাপক ও জোরপূর্বক অভিবাসনের সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভুত মানবিক সংকট। এই মানবিক সংকটের মধ্যেও এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে এক শিখ যুবকের প্রণয়ের ঘটনা বইটি মূলবিন্দু। প্রেমিক যখন জানতে পারেন যে তার মুসলিম প্রেমিকাকে যে ট্রেনে তুলে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাশকতাকারীরা একটি রেলসেতুতে রশি বেঁধে দিয়েছে যাতে ট্রেনের ছাদে আরোহীরা রশির আঘাতে ছিটকে পড়ে, ট্রেনের গতিরোধ হয় এবং তারা ট্রেনের সকল মুসলিমকে হত্যা করতে পারে। নাশকতাকারীদের হাতে সে তার প্রেমিকার মৃত্যুর কথা ভাবতে পারে না। সন্ধ্যার পর ট্রেন আসার আগে সে সেতুতে ওঠে রশি কাটতে শুরু করে, নাশকতাকারীরা তাকে দেখতে পেয়ে গুলি করে। সে আহত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রশি কাটতে সফল হয়ে সে পড়ে যায়, ট্রেনটি তার প্রেমিকাকেসহ নিরাপদে পাকিস্তানে চলে যায়।

দ্বিতীয় বইটি সার্বিয়ার নোবেল বিজয়ী লেখক আইভো অ্যানড্রিচের ইতিহাস ভিত্তিক 'দ্র ব্রিজ অন দ্য দ্রিনা'। সার্বিয়া তথা বৃহত্তর যুগোস্লাভিয়া বা বলকান অঞ্চলে তিনশ’ বছরের অটোম্যান যুগে ওইসব এলাকায় তুর্কি প্রশাসন ছাড়াও তুর্কি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। সার্বিয়ার একটি নদী দ্রিনা, সেই নদীর পাশে ভিশেগ্রাদ শহরকে অপর পাশের এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে তুর্কিরা। পার্বত্য নদীর ওপর সেতু দেশের দুই অঞ্চলের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তিনশ’ বছর ধরে সেতুটি ছিল ভিশেগ্রাদের মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। লেখক সেতুকে কেন্দ্র করে তিনশ বছরের অটোম্যান শাসন তুলে ধরেছেন। এটি অসাধারণ এক সাহিত্যকর্ম।

তৃতীয় বইটি হচ্ছে আরবি সাহিত্যে একমাত্র নোবেল বিজয়ী মিশরের ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের 'কায়রো ট্রিলজি'। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার তিন খণ্ডে কায়রোর একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে নিপূণভাবে। এর মধ্যে পরিবার, সমাজ, রাজনীতি সবই আছে। লেখক বইটি লিখতে ছয় বছর ব্যয় করেছেন, আমি অনুবাদ করতে চার বছর ব্যয় করেছি। ধৈর্য্য শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পাঠকের আগ্রহ টেনে রাখার মতো উপন্যাস বলে আমি অনুবাদ শেষ করতে সফল হয়েছি। 

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় অনুবাদ সাহিত্য সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ভাষার বই প্রচুর অনুবাদ হচ্ছে। আমার বিশ্বাস মৌলিক বই এর চেয়ে অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে অনেক বেশি। আমি দেশের বাইরে থাকি বলে কার অনুবাদ কেমন তা বলা সম্ভব নয়। আমি নিজেও কতটা ভালো অনুবাদ করি তা পাঠকদের সঙ্গে আমার সরাসরি ইন্টার‌্যাকশন বা মিথস্ক্রিয়া নেই অথবা মতবিনিময় হয় না বলে বুঝতে পারি না। নিষ্ঠাবান পাঠক বা কট্টর অনুবাদ-সমালোচকের পাল্লায় পড়লে আমার অনুবাদ হয়তো আরো উন্নত হতে পারতো। আমরা যে ভাষাগুলো থেকে অনুবাদ করি, সেগুলো কোনোটাই আমাদের মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা নয়। আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করি, অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় কোনো বাক্যে একটি শব্দের উপযুক্ত বা যে মর্মার্থ হওয়া উচিত তা খুঁজে না পেয়ে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলি, সেক্ষেত্রে পাঠক হোঁচট খাবেন। সেজন্য যারাই অনুবাদ করছেন, পাকা অনুবাদক হোক বা নতুন অনুবাদক হোক, প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করার ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন: মানসম্মত অনুবাদে ক্ষেত্রে কোন কোন বৈশিষ্ট্যকে আপনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন?

উত্তর: অনুবাদের বিষয়বস্তু কী এবং কে অনুবাদ করবেন তার ওপর নির্ভর করে মানসম্মত অনুবাদ। যিনি প্রাচীনকালের দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিষ্টটল, মিলেটাস, এপিকুরাস, ডায়োজেন, পিথাগোরাস, প্রোটাগোরাস, জেনো থেকে শুরু করে আধুনিককালের দার্শনিকদের কঠিন বই অনায়াসে অনুবাদ করবেন, তার পক্ষে উপন্যাস বা কবিতার মতো সাহিত্য অনুবাদ করা সহজ হবে না। অনুবাদের ক্ষেত্র হওয়া উচিত অনুবাদকের মন ও মনন অনুযায়ী। অনেকে থ্রিলার অনুবাদ করছেন, আমি থ্রিলার অনুবাদ করতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ হবো। যেহেতু অনুবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই সেজন্য যিনি অনুবাদ করবেন তার উচিত নিজের ভাষার ওপর ভালো দখল থাকার পাশাপাশি যে ভাষার বই অনুবাদ করবেন শুধু সেই ভাষায় ভালো দখল থাকা নয়, বইটিতে যে সমাজ ও সংষ্কৃতি, এমনকি স্থানে বর্ণনা রয়েছে সেই সমাজ, সংস্কৃতি ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা জানা। ‘কায়রো ট্রিলজি’ বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে আমি দু’জন শিক্ষিত মিশরীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। একজন আমার ডেন্টিস্ট, আরেকজন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক। জায়গার বিবরণ বা আরবি শব্দের মিশরীয় উচ্চারণ জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে একই আরবি শব্দের অর্থ অভিন্ন হলেও উচ্চারণ ভিন্ন ভিন্ন।

প্রশ্ন: মার্কিন প্রবাস জীবনে লেখালেখি করতে কেমন সুবিধা পাচ্ছেন বা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন?

উত্তর: প্রবাস জীবনে আমি নবীন হলেও বয়সে প্রবীণ। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণ রাষ্ট্র নয়। প্রত্যেককে কাজ করে জীবিকা সংস্থান করতে হয়। যারা দীর্ঘদিন কাজ করেন তারা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট নিয়ে হয়তো একটি সময়ের পর কাজ করেন না, নিজের সৃজনশীল কাজ করেন। আমাকে রুটিরুজির ব্যবস্থা করার পর অনুবাদের কাজ করতে হয়। সেজন্য বাংলাদেশে থাকতে অনুবাদে যে গতি ছিল এখানে আসার পর তা মন্থর হয়েছে। কাজের বাইরে যতটা সময় পাই, সাধ্যমত অনুবাদ করি। পরিস্থিতির চাপ উপেক্ষা করেও আমি সানন্দে আমার লেখালেখি চালিয়ে যেতে কোনো শৈথিল্যকে স্থান দিই নি আমার জীবনে, এখনো এটাই আমার মূলমন্ত্র। 

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;