'প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করা'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

একহাতে অবিরাম অনুবাদ করছেন আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। ওরিয়ানা ফালাসি থেকে খুশবন্ত সিং, এম জে আকবর হয়ে ইতিহাস, রাজনীতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের বহু নন-ফিকশান প্রপঞ্চ বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উন্মোচিত করেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শেষে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তার সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ ও অনুবাদ সাহিত্যের নানা বিষয়ে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে উপস্থাপিত হলো।

প্রশ্ন: এবারের বইমেলায় রাজনীতিবিদ গান্ধী ও জিন্নাহর ধর্ম বিষয়ক অবস্থান মূল্যায়ন করে এম জে আকবরের বই অনুবাদ করেছেন। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তর: বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমি কোনো বই অনুবাদ করি না। আমি সারা বছর কাজ করি, প্রকাশকরা মেলাকে বই প্রকাশের উপলক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। এম জে আকবরের ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স ইসলাম’ বইটি পাঠ করার সুযোগ হয় ২০২০ সালে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমাকে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ, ভারত বিভাজন ইত্যাদির নিবিড় পাঠ করতে হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়েও ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সাংবাদিকতার পেশাগত কারণেই উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে স্পর্শ করে, তা পাঠ করতে আগ্রহী হই। এম জে আকবর তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন, যা বিতর্কিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকরা বিতর্কের মধ্য দিয়ে সত্যে উপনীত হবেন - এই দার্শনিক তত্ত্বকে সামনে রেখে আমি বইটি অনুবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করেছি।  

বইটির বৈশিষ্ট হলো, এম, জে আকবর ভারতের অখণ্ডতা গান্ধীর কাছে কেন প্রয়োজন ছিল এবং ভারত বিভাগ জিন্নাহ’র কাছে কেন মুসলিম মুক্তির সমার্থক ছিল, তা দলিলিকভাবে তুলে ধরেছেন। তার দৃষ্টিকোণ থেকে গান্ধীর ধর্মনিষ্ঠা, মানবতা ও মহত্বের বিপরীতে জিন্নাহ ছিলেন ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারকারী, ক্ষমতালোভী ও একগুঁয়ে। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, জিন্নাহ’র মগ্নতা ছিল পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান সৃষ্টির কারণে উপমহাদেশের মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং শুধু মুসলিম অধ্যুষিত হলেই তারা চিরশান্তিতে থাকবে, এমন রাজনৈতিক চিন্তা ও দ্বি-জাতিতত্ত্ব যে ভ্রান্ত ছিল তার প্রমাণ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করার ঘটনা। তার মতে, জিন্নাহ’র সেরা সাফল্যই ছিল তার সবচেয়ে চরম ব্যর্থতা। বইটিতে আরেকটি সত্য তুলে ধরা হয়েছে যে, গান্ধী তার অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালালেও ভারতকে অখণ্ড রাখতে সফল হননি, অপরদিকে জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সফল করেছেন। উভয়েই যার যার মতো ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। আমার কাছে আকবরের এ কথাগুলো বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: কেন এর অনুবাদে আকৃষ্ট হলেন?

উত্তর: এম জে আকবরের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় সত্তরের দশক থেকে। ভারতে বিভিন্ন মুসলিম ইস্যুর ওপর তিনি যা লিখতেন তা ভারতীয় মুসলিমদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করতো। কিন্তু আমি তার যেকোনো লেখা পাঠ করতাম। ২০২০ সালের প্রথম দিকে আমি প্রথমবারের মতো গান্ধীর ওপর এম জে আকবরের একটি নিবন্ধ অনুবাদ করি এবং সেটি  বাংলাদেশের মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। লেখাটি ছিল শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিচারের শুনানি ও রায়ের ওপর এইচএলও গ্যারেটের ‘দ্য ট্রায়াল অফ বাহাদুর শাহ জাফর’ গ্রন্থের ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা। আমি আমেরিকায় বসবাস করলেও আমার অনূদিত লেখাটি বাংলাদেশের একটি সূত্রের মাধ্যমে এম জে আকবরের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তাছাড়া খুশবন্তু সিং এর অধিকাংশ বই আমি অনুবাদ করেছি বলে আমার পরিচয় জেনে আকবর তার ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স বইটি অনুবাদ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করতে বলেন। আমাকে তার অনুরোধ পৌছানো হলে বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সচেতন পাঠকদের পাঠ করা প্রয়োজন ভেবে আমি অনুবাদ করতে সম্মত হই।

প্রশ্ন: আগেও আপনি মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য অন্বেষী বহু গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন। কেন এই বিষয় বেছে নিলেন?

উত্তর: মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য বলতে আমি মূলত শুধু শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি বই অনুবাদ করেছি। সামগ্রিকভাবে মুঘল শাসন অথবা অন্যান্য মুঘল সম্রাটদের নিয়ে কোনো বই অনুবাদ করিনি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ওপর একাধিক বই অনুবাদ করেছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে ভারত বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতাসহ উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থেকেই এসব বই অনুবাদ করেছি।

প্রশ্ন: কোন কোন বইয়ের অনুবাদ আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে? কেন?

উত্তর: আমি একটি বইয়ের কথা না বলে তিন সংস্কৃতির তিনটি বইয়ের কথা উল্লেখ করবো, যে বইগুলো আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। একটি খুশবন্ত সিং এর বিখ্যাত উপন্যাস 'ট্রেন টু পাকিস্তান', যার বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ফলে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের গণ-স্থানান্তরের বা ব্যাপক ও জোরপূর্বক অভিবাসনের সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভুত মানবিক সংকট। এই মানবিক সংকটের মধ্যেও এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে এক শিখ যুবকের প্রণয়ের ঘটনা বইটি মূলবিন্দু। প্রেমিক যখন জানতে পারেন যে তার মুসলিম প্রেমিকাকে যে ট্রেনে তুলে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাশকতাকারীরা একটি রেলসেতুতে রশি বেঁধে দিয়েছে যাতে ট্রেনের ছাদে আরোহীরা রশির আঘাতে ছিটকে পড়ে, ট্রেনের গতিরোধ হয় এবং তারা ট্রেনের সকল মুসলিমকে হত্যা করতে পারে। নাশকতাকারীদের হাতে সে তার প্রেমিকার মৃত্যুর কথা ভাবতে পারে না। সন্ধ্যার পর ট্রেন আসার আগে সে সেতুতে ওঠে রশি কাটতে শুরু করে, নাশকতাকারীরা তাকে দেখতে পেয়ে গুলি করে। সে আহত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রশি কাটতে সফল হয়ে সে পড়ে যায়, ট্রেনটি তার প্রেমিকাকেসহ নিরাপদে পাকিস্তানে চলে যায়।

দ্বিতীয় বইটি সার্বিয়ার নোবেল বিজয়ী লেখক আইভো অ্যানড্রিচের ইতিহাস ভিত্তিক 'দ্র ব্রিজ অন দ্য দ্রিনা'। সার্বিয়া তথা বৃহত্তর যুগোস্লাভিয়া বা বলকান অঞ্চলে তিনশ’ বছরের অটোম্যান যুগে ওইসব এলাকায় তুর্কি প্রশাসন ছাড়াও তুর্কি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। সার্বিয়ার একটি নদী দ্রিনা, সেই নদীর পাশে ভিশেগ্রাদ শহরকে অপর পাশের এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে তুর্কিরা। পার্বত্য নদীর ওপর সেতু দেশের দুই অঞ্চলের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তিনশ’ বছর ধরে সেতুটি ছিল ভিশেগ্রাদের মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। লেখক সেতুকে কেন্দ্র করে তিনশ বছরের অটোম্যান শাসন তুলে ধরেছেন। এটি অসাধারণ এক সাহিত্যকর্ম।

তৃতীয় বইটি হচ্ছে আরবি সাহিত্যে একমাত্র নোবেল বিজয়ী মিশরের ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের 'কায়রো ট্রিলজি'। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার তিন খণ্ডে কায়রোর একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে নিপূণভাবে। এর মধ্যে পরিবার, সমাজ, রাজনীতি সবই আছে। লেখক বইটি লিখতে ছয় বছর ব্যয় করেছেন, আমি অনুবাদ করতে চার বছর ব্যয় করেছি। ধৈর্য্য শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পাঠকের আগ্রহ টেনে রাখার মতো উপন্যাস বলে আমি অনুবাদ শেষ করতে সফল হয়েছি। 

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় অনুবাদ সাহিত্য সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ভাষার বই প্রচুর অনুবাদ হচ্ছে। আমার বিশ্বাস মৌলিক বই এর চেয়ে অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে অনেক বেশি। আমি দেশের বাইরে থাকি বলে কার অনুবাদ কেমন তা বলা সম্ভব নয়। আমি নিজেও কতটা ভালো অনুবাদ করি তা পাঠকদের সঙ্গে আমার সরাসরি ইন্টার‌্যাকশন বা মিথস্ক্রিয়া নেই অথবা মতবিনিময় হয় না বলে বুঝতে পারি না। নিষ্ঠাবান পাঠক বা কট্টর অনুবাদ-সমালোচকের পাল্লায় পড়লে আমার অনুবাদ হয়তো আরো উন্নত হতে পারতো। আমরা যে ভাষাগুলো থেকে অনুবাদ করি, সেগুলো কোনোটাই আমাদের মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা নয়। আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করি, অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় কোনো বাক্যে একটি শব্দের উপযুক্ত বা যে মর্মার্থ হওয়া উচিত তা খুঁজে না পেয়ে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলি, সেক্ষেত্রে পাঠক হোঁচট খাবেন। সেজন্য যারাই অনুবাদ করছেন, পাকা অনুবাদক হোক বা নতুন অনুবাদক হোক, প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করার ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন: মানসম্মত অনুবাদে ক্ষেত্রে কোন কোন বৈশিষ্ট্যকে আপনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন?

উত্তর: অনুবাদের বিষয়বস্তু কী এবং কে অনুবাদ করবেন তার ওপর নির্ভর করে মানসম্মত অনুবাদ। যিনি প্রাচীনকালের দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিষ্টটল, মিলেটাস, এপিকুরাস, ডায়োজেন, পিথাগোরাস, প্রোটাগোরাস, জেনো থেকে শুরু করে আধুনিককালের দার্শনিকদের কঠিন বই অনায়াসে অনুবাদ করবেন, তার পক্ষে উপন্যাস বা কবিতার মতো সাহিত্য অনুবাদ করা সহজ হবে না। অনুবাদের ক্ষেত্র হওয়া উচিত অনুবাদকের মন ও মনন অনুযায়ী। অনেকে থ্রিলার অনুবাদ করছেন, আমি থ্রিলার অনুবাদ করতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ হবো। যেহেতু অনুবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই সেজন্য যিনি অনুবাদ করবেন তার উচিত নিজের ভাষার ওপর ভালো দখল থাকার পাশাপাশি যে ভাষার বই অনুবাদ করবেন শুধু সেই ভাষায় ভালো দখল থাকা নয়, বইটিতে যে সমাজ ও সংষ্কৃতি, এমনকি স্থানে বর্ণনা রয়েছে সেই সমাজ, সংস্কৃতি ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা জানা। ‘কায়রো ট্রিলজি’ বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে আমি দু’জন শিক্ষিত মিশরীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। একজন আমার ডেন্টিস্ট, আরেকজন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক। জায়গার বিবরণ বা আরবি শব্দের মিশরীয় উচ্চারণ জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে একই আরবি শব্দের অর্থ অভিন্ন হলেও উচ্চারণ ভিন্ন ভিন্ন।

প্রশ্ন: মার্কিন প্রবাস জীবনে লেখালেখি করতে কেমন সুবিধা পাচ্ছেন বা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন?

উত্তর: প্রবাস জীবনে আমি নবীন হলেও বয়সে প্রবীণ। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণ রাষ্ট্র নয়। প্রত্যেককে কাজ করে জীবিকা সংস্থান করতে হয়। যারা দীর্ঘদিন কাজ করেন তারা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট নিয়ে হয়তো একটি সময়ের পর কাজ করেন না, নিজের সৃজনশীল কাজ করেন। আমাকে রুটিরুজির ব্যবস্থা করার পর অনুবাদের কাজ করতে হয়। সেজন্য বাংলাদেশে থাকতে অনুবাদে যে গতি ছিল এখানে আসার পর তা মন্থর হয়েছে। কাজের বাইরে যতটা সময় পাই, সাধ্যমত অনুবাদ করি। পরিস্থিতির চাপ উপেক্ষা করেও আমি সানন্দে আমার লেখালেখি চালিয়ে যেতে কোনো শৈথিল্যকে স্থান দিই নি আমার জীবনে, এখনো এটাই আমার মূলমন্ত্র। 

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;