আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
গ্রন্থের প্রচ্ছদ ও লেখক

গ্রন্থের প্রচ্ছদ ও লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে আমার স্নেহভাজন সহকর্মী ও প্রিয় ছাত্র প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরী রচিত 'আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা' গ্রন্থটি যখন হাতে এলো, তখন রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধ-দ্বিশত জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। কিছুদিন আগেই পালিত হয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী। দুইবছর বাদেই অধ্যাপক আসহাবউদ্দীন আহমদেরও ১১০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে।

সত্য কবুল করে বলতে দ্বিধা নেই যে, আধুনিক ইতিহাসের ধারায় হিন্দু ও মুসলিমের মিলিত বৃহত্তর বাঙালি সমাজে শতবর্ষব্যাপী আলোচিত ও স্মরণীয় মনীষার সংখ্যা খুব বেশি নয়। অত্যল্প ব্যক্তিত্বই নিজের জীবন ও সমকালের পরিসরকে গৌরবের সঙ্গে অতিক্রম করে শতাব্দীর পরিসীমায় নিজের জাগরস্বপ্নকে প্রলম্বিত করতে সফল হয়েছেন। আর্থ, সামাজিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপরিসীম ও অমোচনীয় প্রভাবের কারণে তাদের জীবন ও কর্ম কাল-কালান্তরে ও প্রজন্মব্যাপী সতত আলোচিত হয়েছে।

সমাজ ও মানুষের কাছে চিরায়ত গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা লাভকারী অগ্রণী ও বিশিষ্ট বাঙালি আইকনিক চরিত্রের মধ্যে অধ্যাপক আসহাবউদ্দীন আহমদ নানা কারণে অতুলনীয় ও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম স্বরূপ। কারণ, তিনি তৎকালীন রাজধানী কলকাতা বা ঢাকায় অবস্থান করেননি এবং কোনরূপ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বদান্যতার পরোয়া করেননি। স্বকীয় মেধা ও মননের শক্তিতে সম্পূর্ণ স্বনির্মিত মানুষ ছিলেন তিনি। ছিলেন প্রথা ও গতানুগতিকতার বিরুদ্ধে নীতি, নৈতিকতা ও শুদ্ধাচারের বিদ্রোহী প্রতিমূর্তি। তিনি জীবনভর সক্রিয় ও ভূষিত ছিলেন মাটি, মানুষ ও সমাজ-সংশ্লিষ্টতার শাশ্বত চৈতন্যের আলোকমালার বর্ণালীতে।

এমনই এক বহুমাত্রিক, ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী মানুষের জীবনচরিতের সামগ্রিক বিশ্লেষণ শুধু সাহিত্যিক দিক থেকেই নয়, ও সামাজিক গবেষণার নিরিখেও অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, কাজটি ব্যাপক, বিশাল অধ্যাবসায়ের ও শ্রমসাপেক্ষ। প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরী রচিত 'আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা' গ্রন্থটি বহুবছরের প্রচেষ্টায় সম্পন্ন তেমনই এক নান্দনিক প্রয়াস, যা গতানুগতিক জীবনী সাহিত্য বলতে যা বোঝায়, তার চেয়ে অগ্রসর ও নিবিড় গবেষণামূলক প্রচেষ্টা।

সাধারণত কোন ব্যক্তির জীবন কেন্দ্রিক প্রত্যাগত মাধ্যমে রচিত সাহিত্যকে জীবনী সাহিত্য বলে। সংস্কৃতে এমন অনেক জীবনী সাহিত্যর পরিচয় মেলে, যেখানে জীবনী সাহিত্যকে 'কারিকা' বা 'বৃত্তি' বলা হত। মধ্যযুগের চৈতন্য দেবের আবির্ভাবের পর তাকে কেন্দ্র করে এবং তার পার্ষদদের কেন্দ্র করে এই জীবনী সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অনেক জীবনী রচিত হয়েছে। যার মধ্যে গোলাম মুরশিদের 'আশার ছলনে ভুলি' (মাইকেল মধুসূদন জীবনী) ও সুমন চট্টোপাধ্যায়ের 'প্রথম নাগরিক' (ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি জীবনী) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 'আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা' ভাষায়, বর্ণনায়, বিশ্লেষণে, তথ্যের সমাবেশে, কাঠামো ও পরিসরের বিস্তৃতিতে উচ্চাঙ্গের জীবনী গ্রন্থের তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্য।

আসহাবউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশি লেখক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং একজন কমিউনিস্ট ছিলেন। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, সাধনপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় মোট ২৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক-এ ভূষিত হন।

শিক্ষকতা দিয়ে আসহাব উদ্দীন আহমদ কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম কলেজ, পরে একে একে তৎকালীন ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ), লাকসাম নবাব ফয়েজুন্নেসা কলেজ, ফেনী সরকারী কলেজ-এ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ-এ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির মুখপত্র 'দি টিচার'-এর সম্পাদক।

আসহাব উদ্দীন ১৯১৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর গ্রামের সচ্ছল এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুনশী সফর আলী চৌধুরী ও মা নাসিমা খাতুন। তিনি ১৯৩২ সালে বাণীগ্রাম-সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৩৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ১৯৩৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় উঠেন এবং কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। মার্ক্সবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে যোগ দেন কৃষক-শ্রমিকদের পাশে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী লীগের (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিপ্লবী রাজনীতির অনুসারী হওয়ায় তাকে পাকিস্তান আমলে এক বছর জেল খাটতে হয়। আইয়ুব খান ক্ষমতায় আসার পর তার রাজনীতি নিষিদ্ধ হয় এবং তার নামে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ডে হুলিয়া মাথায় নিয়ে জীবন কাটাতে হয়। পাকিস্তান সরকার তাকে ধরে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।

১৯৬৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলে তিনি পিকিংপন্থিদের সাথে ছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সেই সময়ে তিনি বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের বাড়িতে তাদের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে কাটান। ১৯৮০ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গণচীন সফর করেন ও সে বছরের শেষের দিকে সক্রিয় রাজনীতি হতে অবসর নেন।

আসহাব উদ্দীনের লেখালেখির মূল উপাদান ছিল শোষণমুক্তি ও সমাজ পরিবর্তন। ১৯৪৯ সালে তার রচিত প্রথম 'বই বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর' প্রকাশিত হয়। তিনি তার আমার সাহিত্য জীবন বইতে বলেছেন, আমার লেখায় হাসি-ঠাট্টার ভেতর দিয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও অবিচারকে তুলে ধরা হয়েছে এবং জনগণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিকে প্রচার করা হয়েছে, জনপ্রিয় করা হয়েছে, প্রোপাগান্ডার আকারে নয়, সাহিত্য রূপে।

অধ্যাপক আসহাব উদ্দীন আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৮ মে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরী রচিত 'আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা' গ্রন্থটিতে একটি সুগভীর বিশ্লেষণাত্মক ভূমিকার পাশাপাশি তিনটি অধ্যায় ও ১২টি পরিশিষ্ট রয়েছে। একটি বিশুদ্ধ উচ্চতর গবেষণা কাঠামোয় সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। আসহাবউদ্দীন সংক্রান্ত যাবতীয় আকর তথ্য এবং প্রাথমিক ও প্রকাশিত সূত্রের ব্যবহারে গ্রন্থটি আহসানউদ্দিনের সামগ্রিক জীবন ও কর্মের পর্যালোচনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ভাবীকালের গবেষকদের জন্যেও অনুপ্রেরণার উৎস।

একজন ব্যক্তিমানুষের মানস গঠন ও ব্যক্তিত্ব নির্মাণের দীর্ঘতম পর্যায়গুলো খুঁড়ে বের করেছেন লেখক। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক প্রত্যন্ত জনপদ থেকে একজন মানুষের পক্ষে জাতীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরে পরিণত হওয়ার রোমাঞ্চকর বৃত্তান্ত এই গ্রন্থ। এই গ্রন্থ এক প্রতিবাদী, প্রতিষ্ঠানবিরোধী, দ্রোহী ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বিদ্রূপমাখা কণ্ঠ আর অক্ষরের অধিকারী এক লেখকসত্ত্বাও ইতিবৃত্ত।

লেখকের ভাষা অনন্য, বিশ্লেষণ অতলস্পর্শী, পর্যালোচনা সুদূরপ্রসারী, বিন্যাস বহুমাত্রিক নান্দনিকতায় দীপ্তিময়। অতীতে আহমদ ছফা ও উইল ডুরান্ডকে নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতায় বক্ষ্যমান গ্রন্থে লেখকের কুশলী কৃতিত্ব ও সুনিপুণ পারঙ্গমতা সুস্পষ্ট। 'প্রকৃতি' থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটি মুদ্রণ সৌকর্যে উন্নততর ও প্রতিনিধিত্বমূলক।

ঘটনাচক্রে গ্রন্থের লেখকের মতো প্রচ্ছদ শিল্পী জাওয়াদ উলআলম চৌধুরী আমার স্নেহভাজন ছাত্র, যিনি অধুনা শিল্পকলার ইতিহাস ও সমকালীন প্রপঞ্চ নিয়ে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সামাজিক বিজ্ঞানের ব্যাপক পরিধিকে শিল্প-নন্দনের মেলবন্ধনে উদ্ভাসিত করার পারঙ্গমতায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে বহু প্রশংসনীয় কাজ করছেন। একইভাবে সাহিত্যিক ঘরানার জীবনীচর্চাকে সামাজিক-রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ব্যাপকতর পরিপ্রেক্ষিতে জারিত করে নবতর বীক্ষণে উপস্থাপনায় ও বহুবর্ণা দৃষ্টিকোণ উন্মোচনায় লেখক প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরীর সাবলীল কৃতিত্বপূর্ণ দক্ষতা সমকালীন মননচর্চা ও গবেষণায় দৃষ্টান্তমূলক ও সাধুবাদের যোগ্য। 'আসহাবউদ্দীন আহমদ ও মানবসমাজের মুক্তিভাবনা' বিশেষভাবে আহসাবচর্চায় ও সাধারণভাবে বাংলা জীবনী সাহিত্যে মূল্যবান সংযোজন রূপে বিবেচিত হবে বলে আশা করা যায়।

ড. মাহফুজ পারভেজ, প্রফেসর, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;