রাঁচিতে নজরুলের স্মৃতিতীর্থে ছায়ানট



সোমঋতা মল্লিক, রাঁচি (ঝাড়খণ্ড) থেকে
রাঁচিতে হুড্রু জলপ্রপাতের সামনে নজরুল

রাঁচিতে হুড্রু জলপ্রপাতের সামনে নজরুল

  • Font increase
  • Font Decrease

অনন্য প্রতিভা কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণময় জীবনের একটি করুণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচি শহরের নাম। রাঁচি একদা অবিভক্ত বিহারের অংশ ছিল এবং শহরটি পশ্চিমবঙ্গের সীমানা-সংলগ্ন। রাঁচিতে বাঙালিদের একটি বড় ও সমৃদ্ধ বসতি ছিল। ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অসুস্থ নজরুল রাঁচিতে ছিলেন কিছুদিন। তাছাড়া তিনি সুস্থাবস্থায় রাঁচিতে হুড্রু জলপ্রপাতের আশেপাশের নৈসর্গিক পরিবেশ উপভোগ করেছিলেন সপরিবারে।

এবছর নজরুলের স্মৃতিধন্য রাঁচিতে পালিত হয়েছে একটি অনুষ্ঠান। দিনটি ছিল ২২ জুলাই (শুক্রবার) বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস। এদিন রাঁচির সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি (সিআইপি) এবং কলকাতার নজরুল চর্চা কেন্দ্র ছায়ানট যৌথভাবে আয়োজন করে একটি ভিন্নধারার অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় CIP-এর R.B.Davis অডিটোরিয়ামে। এতে রাঁচিতে কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি আলোচনা এবং কবির অমর 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশের শতবর্ষে কবির প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ছায়ানটের (কলকাতা) সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বাংলা ছাড়া হিন্দি, ইংরেজি এবং উর্দুতেও কাজী নজরুল ইসলামের অনূদিত কবিতা শোনা যায় অনুষ্ঠানে। গাওয়া হয় নজরুলের বিভিন্ন আঙ্গিকের গান। পরিবেশনায় ছিলেন ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ।

সিআইপির পক্ষ থেকে ডিরেক্টর ডা. বাসুদেব দাস (সাইকায়াট্রি), অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য্য (প্রধান,সাইকায়াট্রি সোশাল ওয়ার্ক) এবং ডা. অবিনাশ শর্মা (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার-ইন-চার্জ) এই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এই বিশেষ দিনে মস্তিষ্কের সুস্থতায় মিউজিক এবং আর্ট থেরাপির ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন রাঁচির বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. উজ্জ্বল রায়।

রাঁচিতে সিআইপি ও ছায়ানটের নজরুল স্মরণ। বার্তা২৪.কম

উল্লেখ্য, সুস্থাবস্থায় কবি নজরুল বেশ কয়েকবার রাঁচিতে সপরিবারে গিয়েছিলেন, তার প্রমাণ স্বরূপ পাওয়া যায় বেশ কিছু আলোকচিত্র।

>> রাঁচির হুড্রু জলপ্রপাতের পাদদেশে দুই পুত্র-কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের ছবিটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

>> রাঁচির হুড্রু জলপ্রপাতে পুত্র বুলবুলকে কোলে নিয়ে প্রমীলা দেবী।

>> রাঁচিতে বাড়ির সামনে নজরুলের ক্রাইসলার গাড়ি। গাড়ির খুদে আরেহীদের মধ্যে রয়েছে দুই পুত্র অনিরুদ্ধ-সব্যসাচী। দূরে চায়ের পেয়ালা হাতে নজরুল এই দৃশ্য উপভোগ করছেন।

এসব তথ্য রয়েছে কল্যাণী কাজী সম্পাদিত 'Nazrul, The Poet Remembered' গ্রন্থে।

প্রসঙ্গত বলা যায় যে, ১৯৫২ সালের ২৭ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে কলকাতার বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের উদ্যোগে নজরুলের চিকিৎসাকল্পে 'নজরুল নিরাময় সমিতি' গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় অতুল গুপ্তকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় কাজী আবদুল ওদুদকে। যুগ্ম সম্পাদক হন সজনীকান্ত দাস ও সুফী জুলফিকার হায়দার। সদস্য ছিলেন: সৈয়দ বদরুদ্দোজা, এ এফ রহমান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

এই সমিতির উদ্যোগে ২৫ জুলাই, ১৯৫২ সালে নজরুলকে চিকিৎসার জন্য রাঁচির মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সঙ্গে ছিলেন প্রমীলা নজরুল। শেখ দরবার আলমের লেখা 'নজরুল জীবন ও পালিতা কন্যার স্মৃতিকথা' থেকে জানা যায় রাঁচি সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য। বইটিতে কাজী নজরুল ইসলামের পালিতা কন্যা শ্রীমতী শান্তিলতা দেবী জানিয়েছেন, সুস্থাবস্থায় কবি রাঁচি বহুবার গেছেন। রাঁচিতে হিনো হাউসে দু-তিনবার থেকেছেন সুস্থাবস্থায়। শেষবার হিনো হাউস থেকে 'লালপুর' বলে একটা বাড়িতে উঠেছিলেন কবি। অসুস্থাবস্থায় রাঁচি মানসিক হাসপাতালে গিয়ে কবি ইউরোপিয়ান কটেজে ছিলেন একবছরের-ও বেশি। সঙ্গে আমার মেয়ে ছিলেন সেখানে। হাসপাতালে আমি বহুবার গেছি। ওখানে কবির চিকিৎসা হয়েছিল ভালো। সাহেব ডাক্তাররা কবিকে যত্ন নিয়ে দেখতেন। ওখানে কবির যত্ন-আত্যি হয়েছিলো ভালো।

যদিও শান্তিলতা দেবী বলেছেন, কবি ইউরোপিয়ান কটেজে ছিলেন একবছরের-ও বেশি, তথাপি বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, অধ্যক্ষ মেজর ডেভিস রোগ নির্ণয়ে অপারগ হন। চারমাস চিকিৎসার পর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় তারা কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৫৩ সালের ১০ মে নিরাময় সমিতির উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য নজরুল, অনিরুদ্ধ ও স্বেচ্ছাসেবক মিস ললিতা ঘোষকে নিয়ে নিরাময় সমিতির সহ-সম্পাদক ডা. রফিকউদ্দীন আহমদ 'জল আজাদ' জাহাজযোগে লন্ডনের পথে যাত্রা করেন। প্রখ্যাত নিউরো সার্জেন ডা. অশোক বাগচীও কবির সফরসঙ্গী ছিলেন।

বর্তমানে রাঁচিতে বসবাসরত শ্রী পার্থসারথি গোস্বামীর কাছ থেকে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত Hinoo House সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। Hinoo House-এর বর্তমান অবস্থার রূপকার তিনি। তার কাছ থেকে জানা যায়, Hinoo House নামটি নজরুলেরই দেওয়া। তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখনও এই বাড়ির ফলকে এই নামটি শোভা পায়।

কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ শ্রীমতী কল্যাণী কাজী সম্পাদিত 'Nazrul, The Poet Remembered' বইটিতে অসুস্থাবস্থায় রাঁচিতে অবস্থানকালে নজরুলের একটি আলোকচিত্র পাওয়া যায়, সঙ্গে তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৫২ সালে রাঁচির রাস্তায় বড় ভাই সাহেবজানের ছেলে আবদুস্ সালামের (হাঁদু) সঙ্গে সাইকেল রিকশায় নজরুল, তখন নজরুলকে রাঁচিতে ইউরোপীয়ান মেন্টাল হসপিটালের ৩নং কটেজে রাখা হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। এই তথ্যের উপর নির্ভর করেই বর্তমানে সিআইপিতে ৩নং কটেজ খোঁজার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। তাই সিআইপির কর্তৃপক্ষের মতে, হয়তো বর্তমান যে ৩নং কটেজ, সেই কটেজেই ছিলেন নজরুল।

রাঁচির বিশিষ্ট বাঙালি গোপাল চন্দ্র লালা 'আমার চোখে ইউনিয়ন ক্লাব ও লাইব্রেরি' শীর্ষক লেখায় লিখেছেন, সন, তারিখ সব বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে, কিন্তু কিছু ঘটনা উল্লেখযোগ্য। কাজী নজরুল যখন রাঁচির মানসিক আরোগ্যালয়ে, এই ক্লাবের বহু সদস্য শ্রী যদুগোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে কবির জন্মদিনে তাকে সম্বর্ধনা জানাতে যান। আমারও সুযোগ হয়েছিল তার চরণ বন্দনার। স্মৃতির বিলোপে তিনি তখন খুবই কাতর। যে গতি-প্রাণতা তাকে দুর্বার করে রেখেছিল সেটাই এখন নিস্তেজ। গতির সঙ্গে গতের এই মেলবন্ধনও বোধ হয় জীবনেরই আর এক নিগূঢ় নিয়ম।

রাঁচিতে নজরুলকে চিকিৎসারত অবস্থায় দেখেছেন এরকম মানুষেরাও আজ জীবনের শেষ লগ্নে উপস্থিত। এখনও তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নজরুলের সেই নির্বাক, ভাবলেশহীন মুখখানি। তাদের অনেকের সঙ্গে ছায়ানট সদস্যরা কথা বলেন। সংগ্রহ করেন নজরুল জীবনের অমূল্য স্মৃতি। নজরুল স্মৃতিতীর্থ রাঁচিতে মহান কবির স্মৃতিচিহ্ন অন্বেষণে কলকাতার নজরুল চর্চা কেন্দ্র ছায়ানট প্রচেষ্টা নজরুল গবেষণায় নতুন মাত্রা যুক্ত করবে নিঃসন্দেহে।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;