ধর্মের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস জানা যাবে যে গ্রন্থে



অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অধ্যাপক ড. মোঃ মোজাম্মেল হক রচিত ‘ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশ:  প্রারম্ভকাল থেকে ১৫০০ প্রাক সাধারণ অব্দ পর্যন্ত’ গ্রন্থটি ধর্ম সম্পর্কে জানার এক অসাধারণ স্মারক গ্রন্থ। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে সভ্যতার যুগ অবধি ধর্মের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে এনেছেন লেখক, যা শিক্ষার্থী থেকে বোদ্ধা পাঠক-সবার জন্যই হবে সুখপাঠ্য। ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান সীমিত। পৃথিবীব্যাপী মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভিন্নতা আছে। ভিন্নতা আছে জাতীয়তার ক্ষেত্রেও। এই জাতীয়তা এবং ধর্মীয় ভিন্নতা মানুষে মানুষে ভিন্নতা সৃষ্টি করেছে। এই ধর্মীয়বোধের আচার-আচরণ কোথা থেকে কখন শুরু হয়, এ গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে।

বলা হয়ে থাকে যে, সভ্যতা যুগের পূর্বেও ধর্ম ছিল। তবে সেই ধর্ম ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। মূখ্যত জীবন-মৃত্যু নিয়েই ছিল মানুষের ভাবনা। গ্রন্থটির সার-সংক্ষেপে বলা হয়, মানুষ মৃত্যুর পরে পুনরায় জীবিত হয়ে নতুন এক জগতে বসবাস করে-এমন সাধারণ ভাবনাই ছিল প্রাগৈতিহাসিক মানুষের বিশ্বাসে। প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা এই জাগতিক জগতের মতো পরজগত সম্পর্কে কল্পনা করতো। এই কারণেই মৃত ব্যক্তির সাথে জাগতিক জগতের খাবার ও প্রয়োজনীয় হাতিয়ার প্রদান করা হতো, যাতে মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে  নতুন অথচ একই রূপ জগতে বিচরণ করে তার জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

পরজগত সম্পর্কে মানুষের এই সাদামাটা বিশ্বাস সভ্যতার সময়ে এসে আমুল পরিবর্তন হয়। এই সময়ে মানুষের কল্যাণের ক্ষেত্রে জাগতিক পৃথিবীতে বিরাজমান গ্রহ-নক্ষত্রগুলোকে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়। এবং প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্রের ওপর দেবত্ব আরোপ করা হয়। এই গ্রহ নক্ষত্রগুলোর অনুকম্পায় সফল সফল উৎপাদন ও অনাবিল আনন্দঘন জীবন-যাচনের নানারূপ কাহিনী সৃষ্টি করে গ্রহ নক্ষত্রের ওপর মানুষের বিশ্বাসকে আরও অধিকতর গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়। সে সময়ে মিথ তৈরি হয় যে, জাগতিক পৃথিবীর মালিক হচ্ছেন ঈশ্বর। এবং রাজা বা ফারাওগণ হচ্ছেন কোনো না কোনো গ্রহ-নক্ষত্রের পুত্র। ফলে ভূমি ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠী রাজা বা ফারাও কে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র মনে করে উৎপাদিত ফসলের অংশ উপঢৌকন অথবা রাজস্ব হিসেবে প্রদান করে পুণ্য অর্জন করতো। অন্যদিকে, রাজা বা ফারাও যে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রতিনিধি/পুত্র সে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রতীক হিসেবে প্রতীমা তৈরি করে মন্দিরে স্থাপন করতো।

মিথের নিগূঢ় অর্থের আলোকে মন্দিরে দেবতার উদ্দেশ্যে রাজা বা ফারাও প্রাত্যহিত, পাক্ষিক, মাসিক ও বাৎসরিক পুজা-পার্বণ এবং উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতো। রাজাদের এরূপ কর্মকা-ের কারণেই সভ্যতার যুগে ধর্মীয় চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপে আবির্ভূত হয়েছিল- যা অদ্যাবধি অব্যাহত আছে। সভ্যতার যুগে মূর্তি, পূজা ও মন্দির কেন্দ্রিক সমাজ ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় অতিষ্ঠ হয়ে কতিপয় জনগোষ্ঠী সভ্যতার যুগের শেষের দিকের বিমূর্ত মতবাদ প্রচার করেিেছল। পৌত্তলিকতার বিপরীতে এই মতবাদের মূল বিষয় ছিল বহু দেবদেবীর পরিবর্তে এক ঈশ^র মতবাদ। এবং ঐকান্তিক সাধনা, ধ্যান, ত্যাগ, তিতিক্ষা প্রভৃতির মাধ্যমে মুািক্ত লাভ বা ঈশ্বরের নৈকট্য লাভ করা । প্রাক সাধারণ অব্দে পশ্চিম এশিয়ার হিব্রু মতবাদ, পারস্যের  জোরাস্ট্রার মতবাদ, ভারতের জৈন ও বৌদ্ধ ধর্ম এগুলোর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

গ্রন্থটিতে অধ্যায় রয়েছে তিনটি। এগুলো হলো প্রাগৈতিহাসিক মানুষের বিশ্বাস, মিশরীয় অঞ্চলের ধর্ম বিশ্বাস, মেসোপটেমীয় অঞ্চলের ধর্ম। গ্রন্থটির শুরুতে মুখবন্ধে সুদূর অতীত থেকেই ধর্ম মানুষকে জীবন চলার পথ ও পাথেয় দেখিয়েছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছে এবং মানুষের চিন্ত-ভাবনায় সততা ও পরিশুদ্ধতা আনয়ন করেছে। ধর্মের যে বর্তমান রূপ, অতীতে তা ছিল না। অতীতের ভাবনাগুলোকে কেবলই বিশ্বাস হিসেবে ভাবা যেতে পারে। সেখানে মানুষের মধ্যে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ভাবনা ছিল কী-না নিরূপণ করা যায়নি। আবার ঈশ্বর সর্বজান্তা, সর্বত্র বিরজমান, এমন বক্তব্যও প্রচারিত হয়নি। মানুষের বিশ্বাসে তখন কেবলই ছিল প্রকৃতি ও তাদের চারপাশে বিরজমান বিশ্ব-ভ্রমান্ডের আকাশ, বাতাস, গ্রহ নক্ষত্র প্রভৃতি। মানুষ এগুলোকে মঙ্গলময় হিসেবে ভাবতো। কারণ এগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের জীবন চলার  পথকে সহজ ও সুগম করে তুলেছিল। ফলে এগুলো ছিল তাদের কাছে মঙ্গলময়ী দেব অথবা দেবী এবং এদের আর্শীবাদ ও অনুকম্পা পাওয়ার প্রত্যাশায় মানুষ তাঁদেরকে অর্ঘ্য প্রদান করতো।

হিন্দু নর-নারীরা বিয়ের সময় সাতপাক ঘুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সাতবার ঘুর্ণনের পিছনে বিশ্বাস হচ্ছে যে, সদ্য বিবাহিত এই নর-নারী যেন বারবার পুনর্জন্ম নিয়ে একে অপরকে খুঁজে পায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রাগৈতিহাসিক সময়ে পুনর্জন্ম বিশ্বাসের ধারা এমন ছিল না। তখনকার মানুষ বিশ্বাস করতো যে, মানুষ মৃত্যুর পর অন্য এক জগতে পুনরাায় জেগে উঠে এবং সেই নতুন জগতেই সে তার জীবন ও জীবিকা পরিচালনা করে থাকে। মৃত ব্যক্তি জেগে উঠে যেন কিছু খেয়ে পুনরায় শিকারে বের হতে পারে, এই বিশ্বাসের কারণে তখনতকার মানুষেরা শবের সাথে কিছু খাবার ও শিকারের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, কবরে উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করতো।

মানুষের এই সাধারণ বিশ্বাসগুলোই ক্রমশ বিবর্তিত ও পরিশিলিত হয়ে সভ্যতার যুগে প্রাতিষ্ঠানিক রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এই সময়ে পৌত্তলিকতাবাদের বিকাশ ঘটে, গ্রহ-নক্ষত্র কেন্দ্রিক দেব-দেবীর সৃষ্টি হয়, দেব-দেবীরদের মধ্যে সমন্বয় ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদেরকে একটি পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ করা হয় এবং তাঁদের মহিমা ব্যক্ত করার জন্য অসংখ্য মিথের জন্ম দেয়া হয়। সভ্যতার যুগে আরও লক্ষ করা যায় যে , মিথের অবয়বে এই সময়ে পূজার নিমিত্ত দেব-দেবীর প্রতীকৃতি তৈরি মন্দিরের পরিসীমায় বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীই ছিল মন্দিরে স্থাপিত দেব- দেবীর ভক্ত।

মিশর ও মেসোপটেমীয়ার ধর্মগুলো ছিল অঞ্চল ভিত্তিক (নীলনদ ও দজলা ফোরাত নদীর অববাহিকা কেন্দ্রিক)। সেই তুলনায় ঐতিহাসিক যুগের ধর্মগুলো কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল, যেমন, মানিবাদ, জরথুষ্ট্র মতবাদ, বৌদ্ধ মতবাদ প্রভৃতি। এগুলো ছিল সার্বজনীন ধর্ম এবং এগুলোরর অন্তর্নিহিত বক্তব্য বা মতবাদ সকল অঞ্চলের চিন্তা, চেতনা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে প্রচারিত হয়েছিল। অঞ্চলভিত্তিক ধর্মের পরিবর্তে সার্বজনীন ধর্মের সূচনা হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিবর্তন আসে। যেমন রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ সাম্রাজ্য কেন্দ্রিক ব্যবস্থার প্রচলন হয়। দারিয়ূসের নেতৃত্বে গড়ে উঠা পারস্য সাম্রাজ্য এর জলন্ত উদাহরণ।

ধর্মের ক্রমবিবর্তন ধারাটি অত্যন্ত জটিল। এ গ্রন্থে সাধারণ পাঠকের বুঝার সুবিধার্থে অত্যন্ত সহজ করে এটি আলোচনাটি করা হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে সভ্যতার যুগ পর্যন্ত ধর্ম-বিশ্বাসগুলোকে এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থটির প্রচ্ছদে মিশরীয় মিথের ওগডোডদের সহায়তায় ‘আতুম/রা’দেবতার উত্থান তুলে ধরা হয়েছে। প্রচ্ছদটি এঁকেছেন অসীম চন্দ্র রায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফল আরকোলজি এ্যান্ড হেরিটেজ রিসার্চ সেন্টার। গ্রন্থটির মূল্য ৩৫০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীরা ১৫০ টাকায় এ গ্রন্থটি কিনতে পারবে। গ্রন্থটি ধর্ম সমন্ধে জানতে আগ্রহী পাঠকের কাছে সমাদৃত বলে বিশ্বাস করি।

লেখক: সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

   

শেষ দিনেও গতানুগতিক চিত্র বই মেলার

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



কানজুল কারাম কৌষিক, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ পর্দা নামছে বাংলা ও বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বই মেলা-২০২৪ এর। প্রতি বছরের মতো এবারও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন পর্দা উঠেছিলো এ প্রাণের মেলার। তবে পর্দা নামছে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা দেরিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সিদ্ধান্তে বই মেলার সময় বাড়ে ২ দিন। বিদায়ী দিনেও অন্যান্য দিনের মতোই চিত্র দেখা যায় বই মেলায়।

শনিবার (২ মার্চ) বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র লক্ষ করা যায়।

বইমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে গতানুগতিকভাবে রয়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। তারা মেলায় আসছে, ঘুরছে এবং বই হাতে নিয়ে ছবি তুলছে। তবে বই কেনার দৃশ্য কমই চোখে পড়ছে মেলায়। তবে কিছু বই কিনতে ইচ্ছুক পাঠকের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকেই শেষ দিন উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ে বই কিনতে এসেছেন মেলায়।

প্রতি বছরই নিয়মিত বইমেলায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সানী। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, বইমেলায় প্রতিবছরই নিয়মিত আসা হয়। তবে আগের মতো বেশি বেশি বই কিনতে পারি না। এখন বইয়ের দাম খুবই বেশি। আজ যেহেতু শেষ দিন কিছু প্রকাশনী বইয়ের দামে কিছুটা ছাড় দেন। সেজন্যই আজকে মেলায় আসা।

এদিকে প্রকাশকদের মধ্যে বই বিক্রির ব্যাপারে রয়েছে মিশ্র মতামত। মেলায় লক্ষ করা গেছে স্বনামধন্য প্রকাশনীগুলোর স্টল বড় প্যাভিলিয়নে সাজানো হয়েছে এবং এ প্রকাশনীগুলোর প্রকাশকগণ এবারের মেলায় বই বিক্রির ব্যাপারে সন্তুষ্ট। তবে নবীন এবং তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত প্রকাশনীগুলো হতাশা প্রকাশ করেছেন।

একই চিত্র দেখা যায় লিটলম্যাগ চত্বরেও। বইমেলায় লিটলম্যাগের অধিকাংশ প্রকাশক এবারের বইমেলা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এর কারণ হিসেবে তারা বাংলা একাডেমির নির্ধারণ করে দেওয়া স্থানটি লিটলম্যাগ চত্বরের জন্যে অনুপযোগী বলে বই বিক্রি কম হয়েছে বলে দাবি করেন।

বিদায়ী দিনে মেলা চলবে রাত ৯টা অবদি। বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‌‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে।

;

বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে সায়েন্স ফিকশন গল্পগ্রন্থ ‘জট’

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



Ashish Biswas
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ উপলক্ষে তরুণ লেখক রূপক খানের সায়েন্স ফিকশনভিত্তিক গল্পগ্রন্থ ‘জট’ প্রকাশিত হয়েছে। এটি প্রকাশ করেছে বর্ষা প্রকাশনী এবং প্রচ্ছদ এঁকেছেন সেলিম হোসেন সাজু।

বইটির বিষয়ে লেখক জানিয়েছেন, মোট সাতটি ছোট গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘জট’ বইটি। এর সব গল্পই কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক।

বইটি পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার স্টুডেন্ট ওয়েজের ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।
এছাড়াও ‘বাতিঘর’, অন্যান্য প্রথম সারির বইবিপণিসহ অনলাইনে রকমারি থেকেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে। ২৫% ছাড়ে বইটির মূল্য ২০০ টাকা।

বই প্রসঙ্গে লেখক বলেন, ‘সায়েন্স ফিকশনের চিরচেনা, প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে গল্পগুলো লেখার চেষ্টা করেছি। খানিকটা কসমিক হররের স্বাদও পাবেন পাঠক গল্পগুলোতে’।

;

একুশের বইমেলায় এসেছে ড. আতিউর রহমানের দুটি নতুন বই

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমানের লেখা দুটি নতুন বই এবার একুশের বই মেলাতে পাওয়া যাচ্ছে।

কয়েকদিন হলো বই দুটি মেলাতে এসেছে। বই দুটির নাম- ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ এবং ‘বাংলাদেশ: নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন’। বই দুটি প্রকাশ করেছে যথাক্রমে জিনিয়াস এবং পুথিনিলয় প্রকাশনী।

এছাড়াও ‘সোনার বাংলার স্বপ্নসারথী রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে আরো একটি বই মেলা শেষ হওয়ার আগেই আসবে বলে জানা গেছে।

আতিউর রহমানের লেখা ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেছে জিনিয়াস প্রকাশনী। এ বইটিতে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ৫০টি লেখা রয়েছে। এ লেখাগুলো মূলত বিভিন্ন জনবক্তৃতায় দেওয়া উপস্থাপনা বা বক্তব্য এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাসমূহ।

অন্যদিকে, পুথিনিলয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন’ শিরোনামের বইটিতেও ৫০-এর কাছাকাছি প্রবন্ধ রয়েছে। বিগত ২-৩ বছরে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় পত্রপত্রিকাগুলোয় এ প্রবন্ধগুলো ছাপা হয়।

বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত আতিউর রহমানের লেখা দুটি বই-ই অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা অনুসন্ধানী এবং উৎসাহী তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। আতিউর রহমানের প্রতিটি লেখায় সমসাময়িক বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মভাবনা, বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা ও বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গল্পগুলো বলা হয়েছে।

যথারীতি অনেক লেখায় উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন নতুন ভাবনার কথা।

ড. আতিউর রহমান বরাবরই হাত খুলে লিখতে পারেন। তাঁর লেখার সুষমা অন্যরকম। অর্থনীতি আর সমাজ বিশ্লেষণে সুরভিত তাঁর প্রতিটি সমকালীন পর্যালোচনা। ফলে, যেকোনো পাঠকের কাছে কঠিন বিষয়ও তিনি খুব সহজে বোধগম্য করতে পারেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গবেষণাধর্মী লেখা লিখেছেন। অর্থনীতির শক্তিমত্তার দিকনির্দেশনাও তিনি দেন নানান লেখায়।

তিনি লিখতে পারেন নিরন্তর। প্রতিদিন সকালে কাগজ আর কলমের মিতালীতে তাই তিনি জীবনের অপরাহ্নেও অনবদ্য। ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ বইটির মুখবন্ধে তিনি বলেছেন, ‘প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পত্রিকায় নানা বিষয়ে আমাকে কলাম লিখতে হয়। পাশাপাশি গবেষণা নির্ভর লেখা তো আছেই।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘লিখতে যে আমার আনন্দ লাগে, না তা নয়; কিন্তু, আমি যে সব বিষয় নিয়ে লিখি, সেগুলো গবেষণামূলক কাজ। এসব সত্য ও পরিশ্রমের বিধায় মানুষ আমাকে অর্থনীতিবিদ হিসেবে চেনেন, জানেন, কিন্তু অর্থনীতির বাইরেও আমি বহু বিচিত্র বিষয় নিয়ে কাজ করছি।’

হাজার বছরের দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শেখ মুজিব তাঁর অন্যরকম এক ভালোবাসার জায়গা। অনেক লেখাতেই তাই এগুলো প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে। রাজনীতির অমর কবি বঙ্গবন্ধুর নান্দনিক ভাবনা নিয়েও তিনি লিখে যাচ্ছেন আপন মনে। ড. আতিউর রহমানের নেশা বহু বৈচিত্র্যময় লেখার মাঝে ডুবে থাকা। অমর একুশে বইমেলাতে এই গুণীজনের যে দুটি বই নতুন সুবাস নিয়ে এসেছে, তা আপনি হাত দিয়ে ধরলেই সত্যিই এক আলাদা রোমাঞ্চ অনুভব করবেন। দুটি বই বাংলা আর বাঙালির বেঁচে থাকা এবং উন্নয়ন ও অগগ্রতির শত স্বপ্নে ভরা। বই দুটির প্রচ্ছদও আপনাকে ভীষণ আকৃষ্ট করবে।

;

মোশতাক আহমেদ: এক থেকে হাজার কপির লেখক



Sajid Sumon
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বইমেলায় ২০০৪ সালে প্রথম উপন্যাস জকি বের করার পর মাত্র এক কপি বিক্রি হয়েছিল। এমন ঘটনায় যেকোন লেখকের জন্যই মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এতে দমে যাননি তখনকার নবাগত লেখক মোশতাক আহমেদ। তিনি চেষ্টা করে গেছেন গত ২০ বছর ধরে। লিখেছেন শতাধিক উপন্যাস। এছাড়া নিজেকে শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। ১২০টি উপন্যাসের মধ্যে বেশিরভাগই সায়েন্স ফিকশন। এক্ষেত্রে তিনি এবার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের বইমেলায় এসেছে তার ৫০তম সায়েন্স ফিকশন ‌‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। এছাড়াও বহুমাত্রিক লেখক মোশতাক আহমেদ ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন প্যারাসাইকোলজি থ্রিলার, ভৌতিক উপন্যাস, রোমান্টিক উপন্যাস, কিশোরদের জন্য শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ রূপার সিন্দুক। একই সঙ্গে ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস রচনায়ও তিনি সমাদৃত হচ্ছেন সর্বত্র।

বইমেলায় সরেজমিনে মোশতাক আহমেদের বই কিনতে পাঠকদের ব্যাপক ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। সিরিয়াল ধরে অটোগ্রাফ ও ফটোগ্রাফও নিচ্ছেন পাঠকরা। মোশতাক আহমেদের পাঠকদের মধ্যে কিশোর এবং নারীদেরই বেশি দেখা গেল। অনিন্দ্য প্রকাশের সত্বাধিকারী আফজাল হোসেনের কথায়ও তার প্রমাণ মিলল। আফজাল হোসেন বলেন, কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ খুব জনপ্রিয় লেখক। এজন্য আমরা তার ৯০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছি। এবারও তার চারটি নতুন উপন্যাস এসেছে। সেগুলো হলো: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস- হারানো জোছনার সুর। সায়েন্স ফিকশন- দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড। ভৌতিক- মৃত্যুবাড়ি। শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজের রূপার সিন্দুক। প্রতিবছরই বইমেলার শুরু থেকেই পাঠকরা তার বই কিনে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। পাঠক চাহিদা অনুযায়ী আমরা তার পুরনো অনেক বইও পুনমুদ্রণ করেছি। নতুনগুলো তো আছেই। একেকজন পাঠক ৫-৭টা করেও বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা খুবই খুশি।

মোশতাক আহমেদ ২০১৮ সালে বাংলা একেডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার এবং চ্যানেল আই সিটি আনন্দ সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। লেখালেখির বিগত দু’দশকে বহুবার বইমেলা এবং অনলাইনে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহে তার বই বেস্ট সেলার হয়েছে। এখন সবমিলিয়ে হাজার হাজার কপি বই বিক্রি এবং লেখক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় হলেও তিনি অতীতকে ভুলে যাননি। অকপটেই স্বীকার করলেন প্রথমবার তার মাত্র এক কপি বই বিক্রির কথা।

মোশতাক আহমেদ বলেন, ২০০৪ সালে প্রথমবার আমার ‘জকি’ উপন্যাসটি বইমেলায় আসে। সেবার মাত্র এক কপি বই বিক্রি হয়েছিল। এতে আমার মন খুব খারাপ হয়েছিল। একপর্যায়ে দেখি মেলায় একজন লেখকের বই তুমুল জনপ্রিয়। তাকে ঘিরে পাঠকরা বলতে গেলে উন্মাদনায় ছিল। পরে দেখলাম তিনি জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন লেখক ড. জাফর ইকবাল। তখন ভাবলাম সায়েন্স ফিকশন যেহেতু জনপ্রিয়, তাই এ ধরনের বই লেখা যায়। সেই যে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু, এরপর থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ভৌতিক উপন্যাস লেখার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একবার বইমেলায় এক নারী পাঠক আমাকে বললেন- ভুতের বই আমার খুব প্রিয়। আপনি ভুতের বই লিখবেন। এরপর থেকে আমিও ভাবলাম, এমন পাঠকদের বিশেষ করে নারী পাঠকদের বঞ্চিত করে কী লাভ? তখন থেকে প্রায় প্রতিবছরই আমি একটা করে ভৌতিক উপন্যাস লিখে থাকি। এছাড়া রোমান্টিক উপন্যাসও নারী-পুরুষদের ভালো লাগার একটি বিষয়। সেজন্য রোমান্টিক উপন্যাস লিখে থাকি।

শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ মোশতাক আহমেদের জনপ্রিয় একটি কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গোয়েন্দা সিরিজ না লিখে কিশোরদের জন্য শিশিলিন সিরিজ কেন লিখছেন? জবাবে মোশতাক আহমেদ জানান, গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে আমারও ইচ্ছে হয়। তবে আমি বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার লেখা গোয়েন্দা সিরিজে পেশাগত কোনো গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে যায় কিনা সেই ভয়ে থাকি। যেটা হয়তো আমার প্রকাশ করা উচিৎ হবে না। এজন্য আমি এখন গোয়েন্দা সিরিজ লিখছি না। তবে ভবিষ্যতে অবসরের পর হয়তোবা গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে পারি।

বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারা প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস। মোশতাক আহমেদকে প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক উপন্যাস তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় আমি আসলে বিভিন্ন ধারায় লেখা শুরু করি। নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা থেকেই মূলত: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস লেখা। শুরুতে ভয়ে ছিলাম প্যারাসাইকোলজি নাম নিয়ে। এমন নামে উপন্যাস চলবে কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। তবে পাঠক আমাকে হতাশ করেনি। বরং প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস পাঠকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও কীভাবে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন এবং শতাধিক বই লিখলেন? মোশতাক আহমেদের ভাষ্য, আমি আসলে নিয়ম করে নিয়মিত লিখি। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৫০ দিনই সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত লেখালিখি করি। আর আমার কম্পিউটার টাইপিং স্পিডও অনেক ভালো। এছাড়া কোনো গল্পের প্লট মাথায় আসলে সেটি নোট করে রাখি। এতে পরবর্তীতে আমাকে গল্পের সংকটে পড়তে হয় না। এখনও আমার শতাধিক গল্পের প্লট নোট করা আছে। এসব কারণে এবং সর্বোপরি পাঠকের ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এতদূর আসতে পেরেছি। এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় রাখব।

লেখালেখি জীবনের কোনো একটি স্মৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমি সাধারণত কোনো বইয়ের পুশ সেল করি না। আমার বাসনা ছিল, যেদিন থেকে সাধারণ কোনো পাঠকের বুকশেলফে আমার বই দেখতে পাবো, সেদিন হয়তো বুঝতে পারব আমার লেখালেখি স্বার্থক। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের যে কারও বাসায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না। পেশাগত কারণেই আমরা সব জায়গায় যেতে পারি না। কিন্তু একবার হঠাৎ ফোন এলো এক নারী তার দুই সন্তানসহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পেশাগত কারণে সেখানে যেতে হলো। ক্রাইম সিন দেখতে গিয়ে একপর্যায়ে সেই বাসার আলমারিতে আমারই লেখা একটি বই প্রথমবারের মতো দেখতে পেলাম। সেদিন বুঝতে পারলাম আমার লেখালেখি স্বার্থক। তবে সেটি আমার জন্য আনন্দদায়ক হওয়ার চেয়ে বেশি কষ্টকরই ছিল।

;