সারা জীবন একটি কাব্যগ্রন্থ পরিমার্জন করে গেছেন হুইটম্যান



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
ওয়াল্ট হুইটম্যান আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পথিকৃৎ

ওয়াল্ট হুইটম্যান আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যের পথিকৃৎ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঊনিশ শতকের দাপুটে আমেরিকান কবিদের পরিচয় করিয়ে দিতে বললে সবার আগে আসবে ওয়াল্ট হুইটম্যানের নাম। অনেক সমালোচকের অবস্থান অবশ্য আরো একধাপ উপরে। তাদের মতে, হুইটম্যান গোটা জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম কবি। এমন দাবির পেছনে যুক্তি যে নেই, তা না। তার কবিতার বই ‘Leaves of Grass’ পরিণত হয়েছে আমেরিকান সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মাস্টারপিস হিসাবে। কবিতা ছাড়াও সাংবাদিকতা এবং সামরিক হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করেছেন হুইটম্যান। জীবনকে দেখেছেন কাছে থেকে। তাই সারা জীবন ধরেই কাব্যগ্রন্থটি পরিমার্জন এবং সংস্কার করেছেন নিজের পরিণত চিন্তার প্রলেপে।

সাময়িক শৈশব

১৮১৯ সালের মে মাসের ৩১ তারিখ জন্মগ্রহণ করেন ওয়াল্ট হুইটম্যান। নিউ ইয়র্কের ৫০ মাইল পূর্বে এক দ্বীপের গ্রামে। আট সন্তানের মধ্যে তার অবস্থান দ্বিতীয়। বাবা ইংরেজ বংশদ্ভূত হলেও মা ছিলেন ডাচ। পরবর্তী জীবনে তিনি নিজের পূর্বপুরুষদের এই দ্বীপের প্রথম দিকের অধিবাসী বলে পরিচয় দিতেন।

ব্রুকলিনের এই বাড়িতেই হুইটম্যানের জন্ম


১৮২২ সাল। হুইটম্যানের বয়স তখন মাত্র দুই বছর পার হচ্ছে। ঠিক সেই সময় পরিবার সরে আসলো ছোট্ট শহর ব্রুকলিনে। তিনি তার পরবর্তী জীবনের প্রায় চল্লিশ বছর এখানেই যাপন করেন। স্কুলজীবন শেষ করে মাত্র এগারো বছর বয়সেই তিনি নিযুক্ত হন কাজে। একটা আইন অফিসের বয় হিসাবে যাত্রা শুরু; তারপর যোগ দেন স্থানীয় সংবাদপত্রের শিক্ষানবীশ প্রিন্টার হিসাবে। পরবর্তী সময়ে স্কুলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করতেও বাকি থাকেনি।

১৮৩৮ সালে হুইটম্যান সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। নিজে নিজেই করতেন বহু কাজ। রিপোর্ট ও ফিচার লেখা থেকে শুরু করে পত্রিকা প্রিন্ট এমনকি ঘোড়ার পিঠে করে তা বিলি করা পর্যন্ত। সেই শতকেরই চল্লিশের দশকে পেশাদার সংবাদিক হিসাবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। নিউ ইউর্কের পত্রিকা এবং ম্যাগাজিনগুলোতে লিখতে থাকেন নিবন্ধ ও ফিচার।
প্রথম দিকের লেখাসমগ্র

প্রথম দিকে হুইটম্যান ছিলেন গতানুগতিক। প্রচলিত ধারায় শহুরে জীবন ফুটে উঠেছিল তার লেখায়। ১৮৪২ সালে তার ছোট উপন্যাস Franklin Evans লেখা হয় মদপানের ভয়াবহতা নিয়ে। পরবর্তী জীবনে হুইটম্যান উপন্যাসটাকে বাজে বলে পরিত্যাগ করলেও সেই সময়ে ছিল ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল।

পরবর্তী জীবনে বইটিকে গুরুত্ব দেননি হুইটম্যান


চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি। হুইটম্যান ‘ব্রুকলিন ডেইলি ইগল’-এর সম্পাদক হিসাবে যোগ দিলেন। কিন্তু নিয়তি সেখানে স্থায়ী হতে দিল না। বরং রাজনৈতিক আদর্শের টানাপোড়েনে বরখাস্ত করা হয় তাকে। বাধ্য হয়ে নিউ অরলিন্সের এক পত্রিকায় কাজ নিলেন। এই সময়টাতে প্রকৃতিকে যেন নতুনভাবে আবিষ্কার করতে থাকেন। খুব সম্ভবত বাড়ি ও ব্রুকলিনের প্রতি টান থেকেই এর যাত্রা শুরু। এই চাকরিটাও ধরে রাখতে পারেননি। টিকে ছিল মাত্র কয়েক মাস। ১৮৫০ সালের গোড়ার দিক। সাংবাদিকের মন হঠাৎ ঘুরে গেল কবিতার দিকে। চারপাশের ব্যস্ত শহরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নোট করতে শুরু করলেন। তা উঠে এলো কবিতায়।

‘Leaves of Grass’ এবং একটি বিপ্লব

১৮৫৫ সালে হুইটম্যান তার প্রথম সংকলন বের করেন ‘Leaves of Grass’ নামে। অন্যরকম এই বইটায় ১২টি কবিতা ছিল শিরোনামহীন অবস্থায়। বিষয়টা অস্বাভাবিক। তার ওপর সেগুলো এমনভাবে সাজানো; দেখে কবিতার চাইতে প্রবন্ধ বলেই অনুমিত হবে পাঠকের। সে যা-ই হোক, হুইটম্যান একটা লম্বা ভূমিকা লিখে নিজেকে আমেরিকার চারণকবি বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন। প্রচ্ছদে নিজেকে উপস্থাপিত করলেন সাদামাটা শ্রমিকের বেশে। সবুজ মলাটে অলঙ্কৃত অবস্থায় লেখা শিরোনাম ‘Leave of Grass’। কোনো এক কারণে প্রচ্ছদে কবির নাম ব্যবহার করেননি।

নেহায়েত এক কবিতার বই না, একে পরিণত করেন শ্রেষ্ঠকর্ম হিসাবে


প্রকৃতপক্ষে হুইটম্যান কবিতাগুলো লেখার সময় কয়েকটি বিষয় দ্বারা তাড়িত ছিলেন। বিশেষ করে নাগরিক জীবন, নিউ ইয়র্ক শহরের ব্যস্ততা ও ভিড়, আধুনিক আবিষ্কারে মানবজীবনের পরিবর্তন এবং সেই সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে অনুপ্রাণিত করে। হুইটম্যান প্রায়শ চেয়েছিলেন সাধারণের কবি হয়ে উঠতে, যা তার কবিতায় হামেশাই অনুপস্থিত।

কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পরপরই ভক্তশ্রেণি গড়ে উঠে তার। সাড়া পড়ে যায় নতুন স্বর ও সুরের টের পেয়ে। একটা বই উপহার হিসাবে রালফ্ ওয়ালডো এমারসনকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি পাঠ করে অভিভূত হয়ে হুইটম্যানকে পত্র পাঠিয়েছিলেন—“একটা বিশাল জীবনের প্রাক্কালেই তোমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” খুব সম্ভবত হুইটম্যান ৮০০ কপি ছেপেছিলেন প্রথম সংস্করণে। ঠিক পরের বছরই দ্বিতীয় সংস্করণ বের করতে হলো। এবার তাতে যোগ করা হলো আরো ২০টি কবিতা।

হুইটম্যান তাঁর Leaves of Grass-কে কেবল একটা কবিতার বই হিসাবে দেখেনেনি; দেখেছেন জীবনকর্ম হিসাবে। আর তাই প্রায়ই বইটি পর্যবেক্ষণ, সংশোধন, পরের সংস্করণে নতুন কবিতার সংযুক্তিতে সময় কেটেছে। বইয়ের তৃতীয় সংস্করণ বের হয় বোস্টন পাবলিশিং হাউজ থেকে। হুইটম্যান নিজে বোস্টন গিয়ে তিন মাস থেকে বই প্রস্তুত করলেন ১৮৬০ সালে; যাতে কবিতার বিস্তার গিয়ে পৌঁছাল ৪০০ পৃষ্ঠায়।

গৃহযুদ্ধ এবং হুইটম্যান

১৮৬১ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলো। হুইটম্যানের ভাই জর্জ যোগ দিলেন নিউ ইয়র্কের পদাতিক বাহিনীতে। ১৮৬২ সালের ডিসেম্বরের দিকে ফ্রেডেরিখসবার্গের যুদ্ধে ভাইয়ের আহত হবার খবরে চলে গেলেন ভার্জিনিয়া। আহতদের অবস্থা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং যোদ্ধাদের অবস্থা হুইটম্যানকে প্রভাবিত করে দারুণভাবে। ওয়াশিংটনের সামরিক হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসায় স্বেচ্ছাসেবীর কাজ শুরু করে দিলেন। আহত যোদ্ধাদের সাথে তার মেলামেশা এবং ঘোরাঘুরি গৃহযুদ্ধের বহু কবিতার বিষয়বস্তু সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে এগুলো সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হয় বইয়ের আকারে; নাম Drum-Taps।

ওয়াশিংটন ভ্রমণের সময়েই হুইটম্যান প্রায়ই আব্রাহাম লিংকনকে দেখতে পেতেন। লিংকনের প্রতি তার ছিল অগাধ শ্রদ্ধা। উপস্থিত হয়েছিলেন ১৮৬৫ সালের ৪ মার্চ প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় দফায় অভিষেক অনুষ্ঠানেও। এই অভিষেক নিয়ে হুইটম্যান একটি প্রবন্ধও লেখেন; যা প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমস্-এ সে বছরই মার্চের ১২ তারিখ রবিবারে। ঘটনাটিকে তিনি জাতীয় দুর্যোগের মাঝখানে একটি শুভ সংকেত হিসাবে গণ্য করেছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে তার প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ না দিয়ে আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করেন লিংকন। তাকে নিয়ে তার লেখা বিখ্যাত কবিতা—O Captain, my Captain।

যুদ্ধোত্তর দিনগুলো

কোনোকিছুই থেমে থাকে না। গৃহযুদ্ধেরও সমাপ্তি ঘটল। হুইটম্যানও একটা চাকুরি পেলেন ওয়াশিংটনের সরকারি অফিসে। কাজটা কঠিন ছিল না। কিন্তু তারও সমাপ্তি ঘটল, যখন নতুন সম্পাদক হারল্যান জানতে পারলেন তার অফিসেরই এক কর্মকর্তা ‘Leave of Grass’-এর সেই কবি।

অসুস্থতার সময় পত্রিকায় তাকে ‘গুড গ্রে পোয়েট’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়


বন্ধুদের মধ্যস্থতায় হুইটম্যান নতুন চাকুরি পেলেন। এই দফায় বিচার বিভাগের ক্লার্ক হিসাবে। ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত সরকারি কাজেই থিতু থাকলেন শারীরিক অসুস্থতায় নিজেই পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত। হারল্যানের সাথে তার সেই টানাপোড়েন ভালোই হয়েছিল পরিণামে। কিছু সমব্যথী পেয়েছিলেন তার পক্ষে। পরবর্তী সংস্করণ যখন Leave of Grass প্রকাশিত হলো; তখন হুইটম্যান ‘America’s good gray poet’ হিসাবে সুপরিচিত।

মৃত্যু এবং তারপর

১৮৭০-এর মধ্যভাগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে হুইটম্যান নিউ জার্সিতে চলে এলেন। সেখানেই ১৮৯২ সালের ২৬ মার্চ মৃত্যু হয় তার। বেশ ঘটা করে জাতীয় পত্রিকাগুলো সে খবর প্রকাশ করে। তার লেখা নিয়ে প্রশংসায় উপচে পড়ে বোদ্ধামহল।

হুইটম্যানের সমাধি


বিষয়বস্তু আর রচনার ধরনে হুইটম্যানের কবিতা সাহিত্যে বিপ্লবের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। পরবর্তীতে অনেক কবিই তার দেখানো পথে হেঁটেছেন। কবিতাকে আবিষ্কার করেছে নতুন করে। এখন অব্দি হুইটম্যান ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের অনন্য মাইলফলকের নাম। আর Leave of Grass থেকে পাঠ্য করা হয় বিশ্বব্যাপী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;