কেইপ ট্রিবিউলেশন : হোয়্যার দ্য রেইনফরেস্ট মিটস্ দ্য রিফ



ফজল হাসান
ইকো ট্যুরিজম স্পট খ্যাত কেইপ ট্রিবিউলেশন

ইকো ট্যুরিজম স্পট খ্যাত কেইপ ট্রিবিউলেশন

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ট্রপিক্যাল নর্থ কুইন্সল্যান্ডে আমাদের ভ্রমণ যাত্রার শেষ গন্তব্য ছিল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ‘ইকো ট্যুরিজম স্পট’ খ্যাত কেইপ ট্রিবিউলেশন। কেইর্ন্স থেকে একশ দশ কিলোমিটার উত্তরে কেইপ ট্রিবিউলেশন, যা ডেইনট্রি ন্যাশনাল পার্ক এবং ওয়েট ট্রপিক্স রেইনফরেস্ট এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জায়গাটির নামকরণের আড়ালে রয়েছে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের আক্ষেপ, হতাশা এবং দীর্ঘশ্বাস। অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারক ক্যাপ্টেন জেমস কুকের জাহাজ যখন কেইপ ট্রিবিউলেশনের অদূরে সমুদ্রপথ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি সঠিক পথ চিনতে পারছিলেন না। বারবার গোলক ধাঁধায় পড়েছিলেন। তাই আক্ষেপ করে তিনি এলাকা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেছেন, “দ্য ইনসেইন ল্যাবিরিনথ্”, অর্থাৎ উন্মত্ত গোলকধাঁধা। পরবর্তীতে তাঁর ‘ইনডেভার’ জাহাজ গ্রেট বেরিয়ার রিফের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ সারানোর জন্য সহকর্মীসহ তাঁকে দু’মাস থাকতে হয়েছিল। তাই একরাশ হতাশা নিয়ে তিনি লিখেছেন, “এই জায়গাটির নাম দিয়েছি কেইপ ট্রিবিউলেশন, কেননা এখানেই আমাদের সমস্ত সমস্যা শুরু হয়েছে।” পরে লোকজন কাব্যিক করে উপাধি দিয়েছে “হোয়্যার দ্য ওল্ডেস্ট রেইনফরেস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড মিটস্ দ্য গ্রেট বেরিয়ার রিফ’, যা সংক্ষেপে দাঁড়িয়েছে হোয়্যার দ্য রেইনফরেস্ট মিটস্ দ্য রিফ। এই উপাধি দেওয়ার নেপথ্যেও কারণ আছে। কেননা জায়গাটি ভৌগোলিক দিক থেকে ইউনেস্কো ঘোষিত দুটো হেরিটেজ এলাকায় অবস্থিত। হেরিটেজ এলাকা দুটো হলো ওয়েট ট্রপিক্স ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এবং গ্রেট বেরিয়ার রিফ। ১৯৩০ সালের দিকে ইউরোপ থেকে লোকজন এসে সেখানে বসতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু রেইনফরেস্টের বৈরি ও অপরিচিত আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেনি এবং তখন তাদের কাছে বেঁচে থাকাটাই ছিল দারুণ চ্যালেঞ্জ। তারা অনেক ধরনের কাজ করার চেষ্টা করেছে, যেমন ফলমূল চাষ করা, মাছ ধরা, গবাদি পশু লালন-পালন করা এবং বনজঙ্গলের কাঠ কাটা। কোনো চেষ্টাই সফল হয়নি। এছাড়া দুর্গম এলাকায় যাতায়াত করা ছিল তাদের কাছে আরেক বিরাট সমস্যা। ষাটের দশকে রাস্তাঘাট তৈরি শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকে চলাচলের উপযোগী রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হয়। অবশেষে ২০১১ সালে ব্রিজ তৈরি হলে সারা বছর লোকজন এবং পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে সবকিছু সহজে হয়নি। ১৯৮৩ সালে বনবাঁদাড় কেটে রাস্তা তৈরি করার বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী এবং পরিবেশ সচেতন কর্মীরা সংঘটিত হয়ে প্রচণ্ড আন্দোলন করে। তাই বাধা-বিপত্তির মধ্যে স্থানীয় সরকার তড়িঘড়ি করে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করেছে।

সকাল সাতটায় ট্যুর প্যাকেজের মাইক্রোবাস এসে আমাদের হোটেল থেকে তুলে নিয়ে যাবে। মেহেরুন এবং আমি অন্ধকার থাকতে জেগেছি, কিন্তু জেগে ওঠার পরপরই আমাদের মন বিষণ্নতায় ভরে ওঠে। স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি বৃষ্টির আওয়াজ। আমি বিছানা ছেড়ে উঠে জানালার কাছে গিয়ে পর্দা খানিকটা সরিয়ে বাইরে তাকাই। রাস্তার লাইটপোস্টগুলো নীরবে আলো জ্বালিয়ে নিরীহ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে। একসময় আমি চোখেমুখে একরাশ হতাশার চিহ্ন ফুটিয়ে নীরস গলায় মেহেরুনকে বললাম, “আজ হয়তো আমাদের যাওয়া হবে না।” আমার করুণ কণ্ঠস্বর মেহেরুনকে কিঞ্চিৎ স্পর্শ করেছে বলে মনে হলো না। ট্যুর কোম্পানির লোকজন যেহেতু আমাকে ফোন করেনি কিংবা মোবাইলে কোনো ম্যাসেজও রাখেনি, তার অর্থ ট্যুর বাতিল হয়নি। তাই সময় নষ্ট না করে আমরা নাস্তা সেরে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে তৈরি হয়ে নিচে নেমে অপেক্ষা করি।

সঠিক সময়ে মাইক্রোবাস এসে হাজির। ড্রাইভার নেমে এসে আমাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। তার নাম ম্যাট, অর্থাৎ মেথ্যু। আমরা গাড়িতে উঠি। গাড়ির মধ্যে আরো জনা বারো যাত্রী বসেছিল। তাদের চোখমুখ বাইরের আকাশের মতোই বিবর্ণ। একসময় গাড়ি চলতে শুরু করে। পথের মাঝে পাম কোভ থেকে ম্যাট আরো চারজনকে তুলে নিয়ে আমাদের সারাদিনের কর্মসূচী জানিয়ে দেয়। তারপর ক্যাপ্টেন কুক হাইওয়ে দিয়ে বাস ছুটতে থাকে অন্তিম গন্তব্য কেইপ ট্রিবিউলেশনের দিকে। আমাদের ভ্রমণ ছিল সারাদিনের জন্য। উল্লেখ্য, যারা প্রকৃতির প্রেমে আত্মহারা এবং নানান ধরনের ঝুকি নিতে আগ্রহী, সেসব অ্যাডভেঞ্চার এবং ইকো ট্যুরিস্টদের রাত্রিযাপনের জন্য কেইপ ট্রিবিউলেশনের গহীন বনজঙ্গলের ভেতর রয়েছে সীমিত সংখ্যক বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, ইকো লজ, রিসোর্ট এবং ব্যাকপেকার হোস্টেল। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাকপেকারদের জন্য কম খরচে থাকার বাসস্থান তৈরি করা শুরু হয় এবং নব্বইয়ের দশকে অর্থবান পর্যটকদের জন্য ক্রমান্বয়ে একাধিক বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, ইকো লজ এবং রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়। সেখানে স্বল্প সংখ্যক মানুষের বসতি, যারা সুপেয় পানি এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই জীবন নির্বাহ করে। বলা বাহুল্য, অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী কেইপ ট্রিবিউলেশনের জনসংখ্যা ছিল মাত্র একশ আঠর জন।

আমাদের প্রথম স্টপেজ ছিল পোর্ট ডগলাস। সেখানে পৌঁছার আগেই ম্যাট বলেছে আমাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে ছাতা কিংবা রেইনকোট নেই, তারা যেন পোর্ট ডগলাসে কিনে নেয়। সেখানে আমাদের ত্রিশ মিনিটের বিরতি। যারা নাস্তা খায়নি, তারা ক্যাফেতে নাস্তার পর্ব শেষ করতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিক ডাকেও সাড়া দেওয়ার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা আছে। যাহোক, ‘টু ডলার শপ’ থেকে আমরা দুটো রেইনকোট কিনি। তারপর ক্যাফেতে ঢুকে কফি, অর্থাৎ কাপুচিনো নিই। বৃষ্টিভেজা বাতাসে কফির গন্ধটা অপূর্ব লেগেছিল। জিভে ফেনায়িত কফির প্রথম স্পর্শ অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই আমার মলিন মনটা চনমনিয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পরে আমরা বাসে উঠে নিজেদের আসন গ্রহণ করি। ম্যাট আমাদের মাথা গোনে এবং তারপর গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দেয়। অনেকটা পথ যাওয়ার পর আমাদের চোখে পড়ে খানিকটা দূরে রাস্তার সমান্তরাল অবারিত আখক্ষেত। নর্থ কুইন্সল্যান্ডের আবহাওয়া অনেকাংশে বাংলাদেশের মতো। তাই সেখানে আম-কাঁঠাল, লিচু-কলা, তেঁতুল থেকে শুরু করে কৃষ্ণচূড়া, বেলী, বৌগ্যানভিলিয়া—সবই হয় । বলা বাহুল্য, অস্ট্রেলিয়ার আনুমানিক পঁচানব্বই শতাংশ আখ চাষ হয় নর্থ কুইন্সল্যান্ডে এবং আশি থেকে পঁচাশি ভাগ উৎপাদিত চিনি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। আখ চাষের বৃত্তান্ত বলার সময় ম্যাট বলেছে, ১৭৮৮ সালে ক্যাপ্টেন কুক জাহাজে করে আখ নিয়ে এসেছিলেন। আগের দিনে জমি থেকে আখ সংগ্রহ করার আগে জমিনের ফসলে আগুন ধরিয়ে দিত যেন আখ গাছের ছাল-বাঁকল এবং আশেপাশের আগাছা পুড়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে আখ গাছ সবুজ থাকতেই মাটিতে গোড়া রেখে কাটা হয়। সেই গোড়া থেকে পুনরায় নতুন গাছ জন্মায়। এভাবে চার-পাঁচ বছর চলে। তারপর জমি এক বছর অনাবাদি রেখে পুনরায় একই নিয়মে নতুন করে আখ চাষ করা হয়। যান্ত্রিক উপায়ে আখ কাটার পরে প্রথমে পাতা ছাড়ানো হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে ছোট করে কেটে তারের তৈরি বিশাল বাক্সে ভরে নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষুদ্র আকারের লোকোমোটিভ রেলগাড়িতে। সেখান থেকে রেলগাড়ি যায় মসমন চিনিকলে।

◤ জমি থেকে আখ চিনিকলে নিয়ে যাওয়ার বিশেষ ধরনের রেলগাড়ি ◢


যদিও রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা ছিল, কিন্তু ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে ম্যাট সকর্তভাবেই গাড়ি চালাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে আশেপাশের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা জায়গা সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছিল। একসময় সে বলল, “জানো, এই এলাকায় বিখ্যাত আইসক্রিম এবং চা পাওয়া যায়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ট্রপিক্যাল ফলফলাদি দিয়ে তৈরি আইসক্রিমের সুনাম শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডেইনট্রি টি কোম্পানির চায়ের বিশেষত্ব হলো অতুলনীয় সুগন্ধ এবং চা বাগানে কোনো ক্ষতিকারক কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয় না। তবে দুঃখের বিষয়, ওগুলোর স্বাদ নেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। কেননা ট্যুর প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত না। আইসক্রিম ফ্যাক্টরি এবং চা বাগানের যাওয়ার জন্য আলাদা ট্যুর প্যাকেজ রয়েছে।” ম্যাটের বিবরণী শোনার সময় অনেকেরই মন আইসক্রিম এবং চায়ের স্বাদ নেওয়ার জন্য আকুপাকু করছিল, কিন্তু ম্যাটের কথা শেষ হলে মুহূর্তেই তাদের মুখ আমসি হয়ে যায়। অনেকে দীর্ঘশ্বাসের উষ্ণ বাতাস ছড়িয়ে দেয় বন্ধ গাড়ির ভেতর। আমি হতাশায় শরীর ছেড়ে দিয়ে নরম সিটের মধ্যে নিজেকে সমর্পণ করি।

একসময় আমরা ডেইনট্রি নদীর তীরে এসে পৌঁছি। নদী পারাপারের জন্য রয়েছে ক্যাবল্ ফেরি। সেই ফেরি ডেইনট্রি ন্যাশনাল পার্কের উত্তরাংশের সঙ্গে কেপ ট্রিবিউলেশন যাওয়া-আসার একমাত্র পথ। ফেরিতে আমরা গাড়ির ভেতরেই বসেছিলাম। নদী পাড়ি দিতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লেগেছে। ম্যাট তার আসনে বসেই পেছন ফিরে বলল, “জানো, নদীর এক পাড়ে আধুনিক অস্ট্রেলিয়া এবং অন্য পাড়ে সম্পূর্ণ আলাদা জগত—ঘন সবুজ রেইনফরেস্ট।” ফরেস্টে আছে বিশেষ প্রজাতির পশুপাখি, গাছপালা এবং মনোরম সমুদ্র সৈকত। তবে ডেইনট্রি নদীতেই বাস করে ভয়ঙ্কর কুমির। ফিরতি পথে আমরা নদীতে নৌকাভ্রমণে গিয়েছিলাম। সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। আমরা নদী পাড়ি দিয়ে প্রথমে যাই মসমন গর্জ বা গিরিসঙ্কট। মসমন গর্জের কাছাকাছি মসমন গর্জ সেন্টারে এসে গাড়ি থামে। উল্লেখ্য, মসমন গর্জ এবং আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় আদিবাসীদের জীবনযাপন রক্ষণাবেক্ষন করার জন্য এমনকি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে নিজেদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য তৈরি করা হয়েছে মসমন গর্জ সেন্টার। সেই সেন্টার গঠন সম্পর্কে স্থানীয় আদিবাসী প্রবীণ নেতা রয় গিবসন বলেছেন, “আদিবাসী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এবং অভিন্ন হিসেবে একসঙ্গে পথচলার এটাই আমাদের পথ।” ম্যাটের সঙ্গে আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে হালকা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সেন্টারে যাই। আসলে ম্যাটের গাড়ি কিংবা অন্য কোনো ট্যুরিস্ট গাড়ি ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই। শুধু স্থানীয় স্পেশালিষ্ট ট্যুর গাইডের তত্ত্বাবধানে সেন্টারের নিজস্ব বাসে করে পর্যটকদের যেতে-আসতে হয়। আমরা বাস থেকে নেমে বনবাঁদারের ভেতর কাঠবিছানো পথ ধরে মিনিক পাঁচেক হেঁটে মসমন গর্জে পৌঁছি। তখনও টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। উপর থেকে ঢালু বেয়ে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা অনবরত গড়িয়ে পড়ে পাথরের গায়ে। পানির একটানা শব্দ এবং বৃষ্টির ভেজা বাতাস মনের মধ্যে একধরনের মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। আমি বিমোহিত দৃষ্টিতে পানির স্রোত এবং বৃষ্টিপড়া দেখি। সেই বৃষ্টির মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ঝটপট ছবি তোলে। দশ মিনিটের মতো থেকে ম্যাটকে অনুসরণ করে আমরা হাঁটতে থাকি গাড়ির দিকে।

ডেইনট্রি ন্যাশনাল পার্কের ভেতর দিয়ে সাপের মতো প্যাঁচানো সরু পথ ধরে গাড়ি কেইপ ট্রিবিউলেশনের দিকে চলছিল এবং মাঝেমধ্যে ম্যাট ধারাবিবরণী দিচ্ছিল। একসময় গাড়ির গতি কিছুটা শ্লথ করে জিজ্ঞেস করে, “তোমরা কি কেউ জানো, কোনটি ডেইনট্রি?” আমাদের মধ্যে অনেকেই ডেইনট্রি খুঁজতে জানালার বাইরে তাকায়। ভাবটা যেন সবাই গাছটি আগে দেখেছে এবং চেনে। ম্যাট হাসতে হাসতে বলল, “জানি, তোমরা কেউ খুঁজে পাবে না। যদিও ডেইনট্রি শব্দের সঙ্গে লেজুর হিসেবে ট্রি আছে, আসলে ডেইনট্রি কোনো গাছের নাম নয়। ডেইনট্রি হলো একজন শিক্ষকের নামের শেষাংশ। ভদ্রলোক এই এলাকায় এসে গাছপালা এবং প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর পুরো নাম রিচার্ড ডেইনট্রি। পরবর্তীতে তাঁর এক ছাত্র এখানে এখানে শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এলাকার নাম রাখেন ডেইনট্রি। একসময় আমরা কেইপ ট্রিবিউলেশনে পৌঁছি। ঘড়িতে তখন প্রায় একটা। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কেপ ট্রিবিউলেশনের সমুদ্র সৈকতের একটু দূরে ছায়া সুনিবিড় জায়গায় এক রেস্টুরেন্টে যাই। ট্যুর প্যাকেজের মধ্যে অতিরিক্ত ডলার দিয়ে অনেকেই সেখানে দুপুরের আহার করেছে। আমাদের যেহেতু বাইরের খাবার-দাবারের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই আমরা আগের রাতে নির্দিষ্ট দোকান থেকে খাবার কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে অনেকেই বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় সমুদ্রের পাড়ে গিয়েছিল। আমরা অবশ্য যাইনি।

◤ ডেইনট্রি ফরেস্টের গভীরে মসমন গর্জ ◢


নির্ধারিত সময়ে আমরা কেপ ট্রিবিউলেশন থেকে রওনা হই। ফিরতি পথে আলেকজান্ড্রা রেঞ্জের চূড়ায় আলেকজান্ড্রা লুকআটউটে এসে গাড়ি থামে। ভাগ্য ভালো হলে গেছো ক্যাঙ্গারুর সাক্ষাত পাওয়া যায়, যা অস্ট্রেলিয়ার অন্য কোথাও দেখা যায় না। লুকআউটের এক পাশে বিশাল ফার্ন গাছ দেখিয়ে ম্যাট বলল, “জানো, কত বছরের পুরনো এই ফার্ন?” আমরা একে অন্যের মুখের দিকে তাকাই। ম্যাট নিজেই বলল, “এই ফার্নের পূর্বপুরুষের সূচনা হয়েছিল একশ কুড়ি থেকে একশ ত্রিশ মিলিয়ন বছর আগে এবং এই ফার্ন আমাদের গ্রহের সবচেয়ে প্রাচীন ফার্ন।” ফার্ন গাছকে স্পর্শ করার লোভ সামলাতে না পেরে আমি গাড়ি থেকে নেমে পাশে গিয়ে দাঁড়াই। ঝটপট মেহেরুন ছবি তোলে। প্রাচীনতম ফার্নের সঙ্গে আমি সাক্ষী হয়ে রইলাম।

একসময় গাড়ির গতি শ্লথ করে ম্যাট বলল, “দেখো, বাম দিকে দিকে তাকিয়ে দেখো, অই যে বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাসোওয়ে।” সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই বৃষ্টিভেজা জানালার কাচের বাইরে তাকাই। যারা গাড়ির ডান দিকে বসেছিল, তারা কেউ ঘাড় কাত করে, কেউ মাথা নিচু করে এবং দু তিনজন নিজেদের সিট ছেড়ে গাড়ির বাম দিকে এসে আমাদের সঙ্গে শামিল হয়। হয়তো লজ্জা পেয়ে, নতুবা ভয়ে আমাদের ছবি তোলার কোনো সুযোগ না দিয়ে ক্যাসোওয়ে দ্রুত গাছগাছালির আড়ালে চলে যায়। উল্লেখ্য, দৈহিক গড়নের দিক থেকে দেখলে উট পাখির পরেই ক্যাসোওয়ের অবস্থান। এদের ঠোঁট গাঢ় নীল, গলা লাল, ঘাড় হলুদ এবং শরীরের পালক কালো হয়। প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখন সব মহাদেশ একসঙ্গে ছিল এবং ডাইনোসোর পৃথিবী চষে বেড়িয়েছে, তখন থেকেই উড়তে অক্ষম ক্যাসোওয়ে পাখি বনবাদাড়ে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়। তবে কখনো কখনো ওরা বিধ্বংসী হয়ে ওঠে এবং পাল্টা আক্রমণ করে। অনেক সময় অন্য জন্তুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নদী সাঁতার দিয়ে জীবন রক্ষা করে। ট্রপিক্যাল নর্থ কুইন্সল্যান্ড ছাড়াও ওদের জ্ঞাতি ভাই-বোন ইন্দোনেশিয়া এবং নিউ গিনির জঙ্গলে বাস করে। ক্যাসোওয়েরা আস্ত ফল খায় এবং পরে দূর-দূরান্তে পুরো বিচিটাই নির্গত করে। সচরারচর এদের দেখা যায় না। কিন্তু সেদিন আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্নই ছিল। সবাই নিজেদের আসনে বসার পর ম্যাট গাড়ির গতি বাড়ায়।

◤ প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যাসোওয়ে পাখি ◢


আলেকজান্ড্রা লুকআটউট থেকে নামার সময় সমুদ্রের দিকে আঙুল তুলে ম্যাট বলল, “দূরের দ্বীপটির নাম স্ন্যাপার আইল্যান্ড। আইল্যান্ডের আকৃতি দেখতে অনেকটা পানির ওপর ভাসমান কুমিরের মতো। সেখানেই ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর টেলিভিশনের জন্য প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং করার সময় স্টিংরে-র উপর্যুপরি লেজের আঘাতে ‘ক্রকোডাইল হান্টার’খ্যাত স্টিভ আরউইনের মৃত্যু হয়।” তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সারা অস্ট্রেলিয়া, এমনকি আমেরিকা ও ব্রিটেন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। এখন স্টিভের ছেলে বাবার মতো হয়ে উঠছে। যাহোক, অনেকটা পথ চলার পরে আমরা পুনরায় ডেইনট্রি নদীর তীরে পৌঁছি। ফিরতি পথে আমরা ফেরিতে নদী পার হইনি। আমাদের জন্য ছিল গহীন অরণ্যের মাঝে আঁকাবাঁকা নদীপথে একঘণ্টার নৌকা ভ্রমণ। ইঞ্জিন চালিত সেইসব বোট চালকরা ট্যুর গাইড হিসেবে বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ এরা ইকো-ট্যুরিজমের খুঁটিনাটি এবং ইকো-ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। ম্যাট নতুন ট্যুর গাইডের হাতে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার সময় দুষ্টুমির ভঙ্গিতে সতর্ক করে বলল, “ওর কথা শোনো। নইলে কিন্তু আজ রাতে ক্রকের (ক্রোক্রোডাইলের সংক্ষিপ্ত নাম) ডিনার হবে।” আমাদের মাঝে কয়েকজন সমস্বরে রীতিমত চেচিঁয়ে ওঠে, “উই উইল। ডোন্ট অরি।” ম্যাট ফেরিতে গাড়ি নিয়ে চলে যায় নদীর অন্য পাড়ে। আমরা ইঞ্জিনচালিত বোটে উঠি। রোদ ও বৃষ্টি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বোটের উপরে ছাদ আছে, কিন্তু আশেপাশের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করার জন্য দুপাশ ফাঁকা।

◤ ডেইনট্রি নদীতে নৌকা ভ্রমণ ◢


আমাদের বোট চালক কাম ট্যুর গাইড জানে কখন কোথায় কোন প্রাণীর সাক্ষাত লাভ করা যাবে। তাই সে বোট চালিয়ে মূল নদী থেকে বাম দিকে মোড় নিয়ে একটা খালের ভেতর প্রবেশ করে। কিছু দূর যাবার পরই সে হাত উঁচিয়ে দেখায় পানির উপর ঝুলে থাকা গাছের ডালে একটা সাপ নিশ্চিন্ত মনে শুয়ে আছে। সাপটি দেখে মনে হয়েছে, সে যেন পরম আয়েশে পড়ন্ত বিকেলের সোনালি রোদের সবটুকু উষ্ণতা শুষে নিচ্ছে নিজের মধ্যে। আশেপাশের কোনো কিছুর প্রতি তার ভ্রক্ষেপ নেই। অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেহেরুনও টুক করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। উল্লেখ্য, তিরিশ বছর আগে স্যার রিচার্ড অ্যাটেনবোরো মসমন নদী, ক্রক এবং দুপাশের গাছপালা ও জীবজন্তু নিয়ে ডকুমেন্ট তৈরি করেছিলেন। সেই থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পুরো এলাকা, বিশেষ করে মসমন নদী এবং নদীর দু পাড়ের ঘন বনজঙ্গল, পরিচিতি লাভ করে। যাহোক, শুরুর দিকে নদীতে ভাসমান অথবা নদীর পাড়ে আলসেমির ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা কোনো ক্রকের দর্শন লাভ করতে পারিনি। কিন্তু ফেরার সময় দূরে ভাসমান কুমিরের দেখা পাওয়া মাত্র গাইড আমাদের নজর কাড়ে এবং বোটটি ভাসমান কুমিরের কাছাকাছি নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যায়, যেন আমরা কাছ থেকে দেখতে পারি। পিঠ পানির ওপর ভাসিয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে কুমির হয়তো ফিরে যাচ্ছে শুকনো পাড়ে। অবশেষে একঘণ্টা পরে স্থানীয় গাইড আমাদের নদীর উল্টো পাড়ে নামিয়ে দেয়। সেখানে ম্যাট গাড়ি নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা রওনা হই কেইর্ন্সের উদ্দেশ্যে।

গাড়িতে বসে জানালার বাইরে দৃষ্টি মেলে ভাবছিলাম এবং আপনমনে নিজেকে প্রশ্ন করেছি, অ্যাডভেঞ্চার এবং ইকো ট্যুরিজমের মধ্যে যে এত জানার বিষয় এবং দেখার উত্তেজনা আছে, তা আগে কেন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। তার কারণ হয়তো অতীতে আমার মনের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। তবে বলতে দ্বিধা নেই যে, ট্রপিক্যাল নর্থ কুইন্সল্যান্ডের সফর আমার চোখ ও কান খুলে দিয়েছে। এখন আমি বুঝতে পারছি, উৎসাহী পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে কেন এসব সবুজে মোড়া বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে জীবনের সুখ-আনন্দের সবটুকু নির্যাস শুষে নেয়।

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;

কল্পনা ও ইতিহাসের ট্রাজিক নায়িকা আনারকলি



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আনারকলির নাম উচ্চারিত হলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের আবহে এক করুণ-মায়াবী প্রেমকাহিনী সবার মনে নাড়া দেয়। ইতিহাস ও কল্পকথায় আবর্তিত এই রহস্যময়ী নতর্কীর পাশাপাশি শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাট আকবর, সম্রাজ্ঞী যোধা বাঈ চোখের সামনে উপস্থিত হন। ভেসে আসে পরামক্রশালী মুঘল আমলের অভিজাত রাজদরবার ও হেরেম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশ-পূর্ব উপমহাদেশের ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক দ্যুতি, বহুত্ববাদী পরিচিতির রাজকীয় অতীত এসে শিহরিত করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকদের। 

১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৮৫৭ সালে অস্তমিত ৩৩১ বছরের বিশ্ববিশ্রুত মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বহু সম্রাট, শাহজাদা, শাহজাদীর নাম বীরত্বে ও বেদনায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আনারকলির নাম বিশ্বস্ত ঐতিহাসিক বিবরণের কোথাও লেখা নেই, যদিও মুঘল হেরেমের এই রহস্যময়ী নারীর নাম আজ পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্য-চলচ্চিত্র ও লোকশ্রুতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। সম্রাজ্ঞী, শাহজাদী কিংবা কোনও পদাধিকারী না হয়েও মুঘল সংস্কৃতির পরতে পরতে মিশে থাকা কে এই নারী, আনারকলি, যিনি শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছেন, এমন জিজ্ঞাসা অনেকেরই। ইতিহাসে না থাকলেও শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে চিত্রিত হচ্ছেন তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয়তায়। ইতিহাস ও মিথের মিশেলে তাকে নিয়ে আখ্যান ও কল্পকথার কমতি নেই। তার নামে প্রতিষ্ঠিতি হয়েছে মাজার, সমাধি স্মৃতিসৌধ, প্রাচীন বাজার, মহিলাদের পোষাকের নান্দনিক ডিজাইন। ইতিহাসের রহস্যঘেরা এই নারীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’। রচিত হয়েছে অসংখ্য গ্রন্থ ও গবেষণা।

যদিও বাংলা ভাষায় আনারকলিকে নিয়ে আদৌ কোনও গ্রন্থ রচিত হয়নি, তথাপি উর্দু সাহিত্যে তাকে নিয়ে রয়েছে একাধিক নাটক ও উপন্যাস। ইংরেজিতে রয়েছে বহু গ্রন্থ। বিশেষত উর্দু ভাষার বলয় বলতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের যে বিশাল এলাকা পূর্বের বিহার থেকে পশ্চিমে পাঞ্জাব পর্যন্ত প্রসারিত, সেখানে আনারকলি একটি অতি পরিচিত ও চর্চিত নাম। সাহিত্যে ও লোকশ্রুতিতে তিনি এখনও জীবন্ত। অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে রয়েছে আনারকলি মাকবারা। মাকবারা হলো কবরগাহ, সমাধিসৌধ। মুঘল স্মৃতিধন্য শহর দিল্লি, লাহোরে আছে আনারকলি বাজার। সাহিত্য ও লোককথার মতোই আনারকলিকে নিয়ে নির্মিত নানা লিখিত ও অলিখিত উপাখ্যান। 

অথচ মুঘল রাজদরবার স্বীকৃত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থগুলোর কোথাও উল্লেখিত হন নি আনারকলি। প্রায়-প্রত্যেক মুঘল রাজপুরুষ লিখিত আকারে অনেক স্মৃতি ও ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ রাখলেও তার নাম আসে নি কোনও মুঘলের আত্মস্মৃতি বা ইতিহাস গ্রন্থে। তাহলে কেবলমাত্র একটি কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে তার নাম অর্ধ-সহস্র বছর ধরে লোকমুখে প্রচারিত হলো কেন এবং কেমন করে? সত্যিই আনারকলি বলে কেউ না থাকতেন কেমন করে সম্ভব হলো পাঁচ শতাধিক বছর ধরে নামটি টিকে থাকা? এসব খুবই বিস্ময়কর বিষয় এবং আশ্চর্যজনক ঐতিহাসিক প্রশ্ন।

ভারতবর্ষে মুঘল ইতিহাসের এক রহস্যময় নারী চরিত্র রূপে আনারকলিকে নিয়ে আগে বহু চর্চা হলেও সবচেয়ে সফল ও ব্যাপকভাবে তিনি চিত্রিত হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের কেন্দ্রস্থল বলিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী সেরা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল ছবি ‘মুঘল-ই-আজম’-এ। ছবির কাহিনী মুঘল-ই-আজম তথা শাহানশাহ জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের দরবারে আবর্তিত। আকবরপুত্র শাহজাদা সেলিম, যিনি পরবর্তীতে হবেন সম্রাট জাহাঙ্গীর, মুঘল দরবারের এক নবাগত নর্তকী আনারকলির প্রেমে বিভোর। দীর্ঘ ছবিটি সেলিম-আনারকলির প্রণয়ের রোমান্টিকতায় ভরপুর। কিন্তু সম্রাট আকবর সেই ভালোবাসা মেনে নিতে নারাজ। প্রচণ্ড ক্রোধে আকবর আনারকলিকে শাহজাদার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হন নি, সম্রাটপুত্রকে ভালোবাসার অপরাধে তুচ্ছ নর্তকী আনারকলিকে জীবন্ত কবরস্থ করেন। 

প্রশ্ন হলো, সত্যিই যদি আনারকলি নামে কোনও চরিত্র না-ই থাকবে, তাহলে এতো কাহিনীর উৎপত্তি হলো কেমন করে? সাহিত্যে ও চলচ্চিত্রে আনারকলিকে কেন্দ্র করে যা বলা হয়েছে বা দেখানো হয়েছে, তার সত্যতা কতটুকু? সত্যিই কি আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল? নাকি আনারকলি বলে ইতিহাসে কোনও চরিত্রই ছিল না? নাকি সব কিছুই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কোনও মিথ, উপকথা বা গল্প? এসব প্রশ্নের উত্তর শত শত বছরেও মেলে নি।

আনারকলি যদি ‘কাল্পনিক’ হবেন, তাহলে, মুঘল আমলে ভারতে আগত ইংরেজ পরিব্রাজকের বর্ণনায়, লখনৌর লেখকের উপন্যাসে, লাহোরের নাট্যকারের নাটকে, বলিউডের একাধিক সিনেমায় আনারকলি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হবেন কেন? কেন শত শত বছর কোটি কোটি মানুষ আনারকলির নাম ও করুণ ঘটনায় অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন? কেন আনারকলির নামে ভারতের প্রাচীন শহরগুলোতে থাকবে ঐতিহাসিক বাজার? লাহোরে পাওয়া যাবে তার কবরগাহ, যেখানে শেষ বয়সে শাহজাদা সেলিম তথা সম্রাট জাহাঙ্গীর হাজির হয়ে নির্মাণ করবেন সমাধিসৌধ আর রচনা করবেন করুণ প্রেমের কবিতা?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্যে ‘কিছুটা ঐতিহাসিক, কিছুটা কাল্পনিক চরিত্র আনারকলি’ ও তাকে ঘিরে প্রবহমান প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলীর ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ভিত্তিক এই রচনা। আমার রচিত ‘দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো’ (প্রকাশক: স্টুডেন্ট ওয়েজ) গ্রন্থটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করায় মুঘল মূল-ইতিহাসের বাইরের এই রহস্যময়ী চরিত্র ও আখ্যানকে বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উপস্থাপনে উৎসাহী হয়েছি। উর্দু ও ইংরেজিতে আনারকলির ঘটনাবলী ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। যেগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আনারকলির প্রসঙ্গে তাকে নিয়ে নির্মিত অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’ সম্পর্কেও আলোকপাত করেছি। চেষ্টা করেছি ইতিহাস ও মিথের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মুঘল হেরেমের রহস্যময়ী নতর্কী ও বিয়োগান্ত প্রেমের নায়িকা আনারকলিকে অনুসন্ধানের।

;

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনায় আক্রান্ত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) তাঁর কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। বতর্মানে তিনি নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বইমেলার উদ্বোধনের জন্য গত ২ জানুয়ারি মালদহ গিয়েছিলেন শীর্ষেন্দু। সেই বইমেলা স্থগিত হয়ে যায়। মালদহ থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর সর্দি, কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। সন্দেহ হলে সোমবার তিনি নমুনা পরীক্ষা করান। মঙ্গলবার কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। এ খবর তিনি নিজেই জানিয়েছেন।

লেখক বলেন, ‘জ্বর আসেনি কখনও। উপসর্গ হিসেবে ক্লান্তি, দুর্বলতার সঙ্গে স্বাদহীনতা রয়েছে।

;