ইতিহাসে ক্লাসিকের মর্যাদা পাওয়া কয়েকটি উপন্যাস



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
একটি ভালো বই একটি নতুন জগতের সন্ধান

একটি ভালো বই একটি নতুন জগতের সন্ধান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যিক, সমালোচক, ঐতিহাসিক অথবা ছোট-বড় পাঠকের মাঝে প্রায়ই শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিতর্ক ওঠে। সাহিত্য আড্ডাগুলো বেশ জমিয়ে তোলে এই প্রসঙ্গটি। বাস্তবিক অর্থে পাঠকের রুচিভেদে তার দেওয়া মতামত ভিন্ন হতে পারে। কোন উপন্যাসের শব্দচয়ন সুন্দর, কোনো বই বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে সার্থকভাবে, কোনো বইয়ের সামাজিক প্রভাব ছিল চূড়ান্ত আবার কোনো বই পৃথিবীর চিন্তার ইতিহাসকেই বদলে দিয়েছে। সুতরাং শ্রেষ্ঠ বই কোনটা—প্রশ্নের উত্তরে সবার আগে আমাদের মানদণ্ডের প্রসঙ্গে একমত হতে হবে।

তারপরেও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠেকে থাকে না। বেশ কিছু কারণেই বিভিন্ন সময়ে কিছু উপন্যাস পেয়েছে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলে খেতাব। অনবদ্য সেইসব কীর্তিগড়া কয়েকটি বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজনেই আমাদের আজকের আয়োজন।

আন্না কারেনিনা

বিয়ে, বহুগামিতা, জুয়া, প্রেম এবং রাশিয়ার সামন্ততন্ত্রকে পটভূমি ধরে বিস্তৃত পরিসরে অনবদ্য উপন্যাস আন্না কারেনিনা। লিও তলস্তয়ের হাতে রচিত এই মহাকাব্যিক ধাঁচের সৃষ্টিকর্ম পাঠকদের কাছে সবচেয়ে সমাদৃত। ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হবার পর তার নির্মাণ আর চমৎকারিত্বের জন্য বিখ্যাত ম্যাগাজিন “Time” তাকে Greatest Novels-এর লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেন। আট পর্বে বিভক্ত আখ্যানের কেন্দ্রিয় চরিত্র মূলত দুটি—আন্না নামের গৃহিনী এবং তার প্রেমিক এবং ভূস্বামী কনস্টানটাইন লেভিন।

◤ বিশ্বাস, দর্শন আর রুশ সমাজব্যবস্থা উঠে এসেছে তলস্তয়ের হাতে ◢


লেভিনের বসবাস বিশ্বাস আর দর্শনের টানাপোড়েনে। বস্তুত তলস্তয় এখানে ভালোবাসা, ব্যথা, বিরহ, জীবন, রাশিয়ার সমাজব্যবস্থা এবং পরিবারকে সুচিন্তিত আলোচনার মাধ্যমে মুঠোবদ্ধ করেছেন। নারীর চরিত্র এবং তার সামাজিক চিন্তার প্রতিকায়নে বইটি একটি বিপ্লবের মতো কাজ করেছে। পরবর্তী রুশ সাহিত্যে কেবল নয়, অন্যান্য ভাষাতেও আন্না কারেনিনার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

টু কিল এ মকিংবার্ড

হারপার লি-কে মনে করা হয় সবচেয়ে প্রভাবশালী আর প্রতিভাধর লেখকদের একজন। মাত্র একটি বই দিয়ে এভাবে খ্যাতির চূড়ায় উঠে যাবার নজির সাহিত্যের আকাশে বিরল। ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। আর সাথে সাথেই পরিচিতি পায় ক্লাসিক হিসাবে। তারপর ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত তিনি আর কিছু প্রকাশ করেননি।

◤ উপন্যাস থেকে নির্মিত সিনেমা পায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ◢


উপন্যাসটিতে এক তরুণী জ্যাঁ লুইস ফিন্সের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় বর্ণবাদকে বেশ মুন্সিয়ানার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পুলিৎজার পুরস্কার পায় ১৯৬১ সালে। এর গল্প থেকে ১৯৬২ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র পায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

দ্য গ্রেট গেটসবি

ফ্রান্সিস স্কট ফিটজেরাল্ড লিখিত ‘দ্য গ্রেট গেটসবি’ নামটা সফল আর সার্থক উপন্যাসের কাতারে উপরের দিকেই থাকবে। নিক ক্যারাওয়ে নামের তরুণটির নিউ ইয়র্ক শহরে থিতু হওয়া নিয়ে কাহিনী এগিয়ে গেছে; যে দ্রুতই পরিচিত হয় প্রতিবেশি রহস্যময় ব্যক্তি জয় গেটসবির সাথে। বইটি গত শতাব্দীর বিশের দশকে আমেরিকার অবস্থা ও ইতিহাসকে ফ্রেমবন্দী করে লিখিত। নিখুঁত বর্ণনাভঙ্গির কথা বাদ দিলেও লেখকের শিল্পবোধের প্রমাণ পাওয়া যায় প্রতিটি স্থানে।

◤ রহস্যময় বর্ণনাভঙ্গিতে আমেরিকার অবস্থা তুলে ধরেছে বইটি ◢


ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড

বছর কয়েক আগেই মারা গেলেন কলম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। জাদু-বাস্তবতাকে সাহিত্যে উপজীব্য করে নতুন পৃথিবীর সন্ধান দেবার জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড’ তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম। উপন্যাসটিতে বুয়েন্দিয়া বংশের উত্থান এবং মাকোন্দো নামক গ্রামে তাদের প্রতিষ্ঠা, বিবর্তন ও পতনকে চিত্রিত করা হয়েছে। গার্ডিয়ান পত্রিকায় বইটির রিভিউয়ে বলা হয়েছিল, যদি ল্যাটিন আমেরিকার অস্তিত্ব নাও থাকত, তবে এই উপন্যাস থেকেই তা সৃষ্টি করা সম্ভব হতো।

◤ মার্কেজের হাতে ধরে পৃথিবী পরিচিত হয় জাদুবাস্তবতা নামের নতুন স্টাইলের সাথে ◢


গোটা উপন্যাসে মিথ, উপকথা, লোকগল্প এবং ঐতিহাসিক সত্যকে মিলিয়ে-মিশিয়ে একাকার করে তুলেছেন। একারণে বাস্তব আর অবাস্তব জড়াজড়ি করে বেড়ে উঠে জন্ম নিয়েছে নতুন জগত। ১৯৮২ সালের নোবেল ছাড়াও আরো অজস্র পুরস্কার ও খেতাব এনে দিয়েছে মার্কেজকে উপন্যাসটি।

এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া

ই, এম, ফস্টারের অনবদ্য উপন্যাস এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া লেখা হয় ভারতে বেশ কয়েকটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতার পর। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এক ভারতীয় মুসলিম ডাক্তার আজিজ এবং ইংরেজ অধ্যাপক সিরিল ফিল্ডিং-এর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে রচিত হয়েছে পটভূমি। গল্পের ভাঁজে প্রোথিত আছে ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় জীবনের নানা চিত্র। প্রকৃতির রঙিন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বর্ণনা, লেখকের নির্মাণশৈলি এবং ভারতকে তুলে ধরার ভিন্নরকম যোগ্যতা দেখিয়েছেন লেখক। প্রকাশের পরপরই এইজন্য মাস্টারপিস তকমা পেয়ে যায় বইটি।

◤ এর পেছনে কাজ করেছে তার ভারত-জীবনের অভিজ্ঞতা ◢


ইনভিজিবল ম্যান

রালফ্ এলিসনের ইনভিজিবল ম্যান উপন্যাসটি সাহিত্যের আকাশে এক মাইলফলক হয়ে দেদীপ্যমান। উপন্যাসের বর্ণনাকারীর কোনো নাম দেওয়া হয়নি; বরং তার বিশ্বাস মতে, তিনি অন্যদের কাছে সামাজিকভাবে অদৃশ্য। বস্তুত এখানে আফ্রো-আমেরিকান এক তরুণের প্রসঙ্গ এসেছে তীব্রভাবে। প্রতিটি জায়গায় কিভাবে সে বৈষম্য আর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। উপন্যাসটি পরাবাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি আফ্রিকান আমেরিকান সংস্কৃতিকে চিত্রিত করার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। প্রতীক এবং রূপকের ব্যবহারও ছিল বিস্ময়কর। ১৯৫৩ সালে ইনভিজিবল ম্যান উপন্যাসটি আমেরিকার জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

◤ বর্ণবৈষম্যকে তুলে ধরা হয়েছে পরাবাস্তব সাহিত্যিক স্টাইলে ◢


ডন কিহোতে

১৬১৫ সালে স্পেনিশ সাহিত্যের রত্ন হিসাবে প্রকাশিত হয় ডন কিহোতে। লেখক মিগেল ডি সার্ভেন্তেস নিজেও হয়তো ভাবতে পারেননি, তার লেখাটা পরবর্তী কয়েক শতক ধরে অন্যান্য বহু সংস্কৃতিতে উপন্যাস লেখার প্রেরণা যোগাবে। নাইট হতে বিভোর এক ব্যক্তির ডন কিহোতে ডি লা মানচা নাম ধারণ এবং তার রোমান্টিক কার্যাবলি উপন্যাসের মূল উপজীব্য হিসাবে স্থান পেয়েছে।

◤ উপন্যাসটি স্পেনিশ হলেও পরবর্তী বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রেরণা যোগায় ◢


আর্ট, সংগীত এবং সাহিত্যে এই ডন কিহোতে শীঘ্রই এক আলোচিত আদর্শ হিসাবে পরিণত হলেন। আধুনিক জমানা পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এমনকি আমাদের ব্যবহার্য বেশ কিছু ইংরেজি শব্দের উৎসস্থান এই বইটি।

থিংস ফল এপার্ট

এতক্ষণ পশ্চিমা সাহিত্যিক আর সাহিত্যের নাম শুনে অনেকের মনে হতে পারে, শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কি কেবল তারাই রচনা করেছে? তাদের প্রশ্নের জবাবে সবার আগে আসবে থিংস ফল এপার্ট উপন্যাসের নাম। চিনুয়া আচেবের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালের দিকে। আফ্রিকার সাহিত্যের অমূল্য রত্ন হয়ে যুক্ত বইটি একপাক্ষিকতাকে সরিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে তুলে এনেছেন এক নতুন আবহ। ওকোনকুয়ো নামক জনৈক নাইজেরিয়ান ইগবো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে উপন্যাসের যাত্রা। ব্রিটিশ উপনিবেশের কারণে স্থানীয়দের ওপর কেমন প্রতিক্রিয়া পড়েছিল, কত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল মানুষের স্বভাব ও সংস্কৃতি—তাকে টেনে আনা হয়েছে নিখুঁতভাবে।

◤ ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাব আর আফ্রিকার পরিবর্তনের অন্যতম দলিল বইটি ◢


উপনিবেশ পরবর্তী আফ্রিকান সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্ম এই বই। আলোচিত হয়েছে সেই গল্পগুলোই, যা আগে বাইরের কেউ শোনেনি। সেইসব চিৎকার, যা উপনিবেশবাদীরা উপলব্ধি করতে পারেনি। শুধু আফ্রিকায় না, তৃতীয় বিশ্বের পরিস্থিতিতে লেখাটি একটি আদর্শ প্রতিবাদ।

দ্য কালার পার্পল

ঊনিশ শতকের গোড়া থেকেই পত্র-উপন্যাস বেশ জনপ্রিয়। তবে, এলিস ওয়াকার এই ঘরানায় সবচেয়ে বেশি মুন্সিয়ানা দেখাতে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে তাকে পুলিৎজার পুরস্কার এবং জাতীয় পুরস্কার এনে দেয় উপন্যাস ‘দ্য কালার পার্পল’। গৃহযুদ্ধের পরে আমেরিকার দক্ষিণে এক আফ্রিকান আমেরিকান তরুণী সেলি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছে।

◤ দ্য কালার পার্পল থেকে নির্মিত সিনেমা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায় ◢


ঈশ্বর এবং বোন নেটিকে উদ্দেশ্য করে তার লেখা চিঠিতে উঠে আসে তার ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতন, জীবনযাপনে ভোগান্তি, বন্ধু এবং পরিবারের অবস্থা। উন্মোচিত হয় যৌনতা, বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য, বিকৃত কাম এবং অন্যান্য নানা মুখোশ। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে সিনেমাতে রূপান্তরিত করা হয় এবং তা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়। আলোচিত হয় বিশ্বব্যাপী।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;