ইতিহাসে ক্লাসিকের মর্যাদা পাওয়া কয়েকটি উপন্যাস



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
একটি ভালো বই একটি নতুন জগতের সন্ধান

একটি ভালো বই একটি নতুন জগতের সন্ধান

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যিক, সমালোচক, ঐতিহাসিক অথবা ছোট-বড় পাঠকের মাঝে প্রায়ই শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিতর্ক ওঠে। সাহিত্য আড্ডাগুলো বেশ জমিয়ে তোলে এই প্রসঙ্গটি। বাস্তবিক অর্থে পাঠকের রুচিভেদে তার দেওয়া মতামত ভিন্ন হতে পারে। কোন উপন্যাসের শব্দচয়ন সুন্দর, কোনো বই বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে সার্থকভাবে, কোনো বইয়ের সামাজিক প্রভাব ছিল চূড়ান্ত আবার কোনো বই পৃথিবীর চিন্তার ইতিহাসকেই বদলে দিয়েছে। সুতরাং শ্রেষ্ঠ বই কোনটা—প্রশ্নের উত্তরে সবার আগে আমাদের মানদণ্ডের প্রসঙ্গে একমত হতে হবে।

তারপরেও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠেকে থাকে না। বেশ কিছু কারণেই বিভিন্ন সময়ে কিছু উপন্যাস পেয়েছে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলে খেতাব। অনবদ্য সেইসব কীর্তিগড়া কয়েকটি বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজনেই আমাদের আজকের আয়োজন।

আন্না কারেনিনা

বিয়ে, বহুগামিতা, জুয়া, প্রেম এবং রাশিয়ার সামন্ততন্ত্রকে পটভূমি ধরে বিস্তৃত পরিসরে অনবদ্য উপন্যাস আন্না কারেনিনা। লিও তলস্তয়ের হাতে রচিত এই মহাকাব্যিক ধাঁচের সৃষ্টিকর্ম পাঠকদের কাছে সবচেয়ে সমাদৃত। ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হবার পর তার নির্মাণ আর চমৎকারিত্বের জন্য বিখ্যাত ম্যাগাজিন “Time” তাকে Greatest Novels-এর লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেন। আট পর্বে বিভক্ত আখ্যানের কেন্দ্রিয় চরিত্র মূলত দুটি—আন্না নামের গৃহিনী এবং তার প্রেমিক এবং ভূস্বামী কনস্টানটাইন লেভিন।

◤ বিশ্বাস, দর্শন আর রুশ সমাজব্যবস্থা উঠে এসেছে তলস্তয়ের হাতে ◢


লেভিনের বসবাস বিশ্বাস আর দর্শনের টানাপোড়েনে। বস্তুত তলস্তয় এখানে ভালোবাসা, ব্যথা, বিরহ, জীবন, রাশিয়ার সমাজব্যবস্থা এবং পরিবারকে সুচিন্তিত আলোচনার মাধ্যমে মুঠোবদ্ধ করেছেন। নারীর চরিত্র এবং তার সামাজিক চিন্তার প্রতিকায়নে বইটি একটি বিপ্লবের মতো কাজ করেছে। পরবর্তী রুশ সাহিত্যে কেবল নয়, অন্যান্য ভাষাতেও আন্না কারেনিনার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

টু কিল এ মকিংবার্ড

হারপার লি-কে মনে করা হয় সবচেয়ে প্রভাবশালী আর প্রতিভাধর লেখকদের একজন। মাত্র একটি বই দিয়ে এভাবে খ্যাতির চূড়ায় উঠে যাবার নজির সাহিত্যের আকাশে বিরল। ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। আর সাথে সাথেই পরিচিতি পায় ক্লাসিক হিসাবে। তারপর ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত তিনি আর কিছু প্রকাশ করেননি।

◤ উপন্যাস থেকে নির্মিত সিনেমা পায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ◢


উপন্যাসটিতে এক তরুণী জ্যাঁ লুইস ফিন্সের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় বর্ণবাদকে বেশ মুন্সিয়ানার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পুলিৎজার পুরস্কার পায় ১৯৬১ সালে। এর গল্প থেকে ১৯৬২ সালে নির্মিত চলচ্চিত্র পায় একাডেমি অ্যাওয়ার্ড।

দ্য গ্রেট গেটসবি

ফ্রান্সিস স্কট ফিটজেরাল্ড লিখিত ‘দ্য গ্রেট গেটসবি’ নামটা সফল আর সার্থক উপন্যাসের কাতারে উপরের দিকেই থাকবে। নিক ক্যারাওয়ে নামের তরুণটির নিউ ইয়র্ক শহরে থিতু হওয়া নিয়ে কাহিনী এগিয়ে গেছে; যে দ্রুতই পরিচিত হয় প্রতিবেশি রহস্যময় ব্যক্তি জয় গেটসবির সাথে। বইটি গত শতাব্দীর বিশের দশকে আমেরিকার অবস্থা ও ইতিহাসকে ফ্রেমবন্দী করে লিখিত। নিখুঁত বর্ণনাভঙ্গির কথা বাদ দিলেও লেখকের শিল্পবোধের প্রমাণ পাওয়া যায় প্রতিটি স্থানে।

◤ রহস্যময় বর্ণনাভঙ্গিতে আমেরিকার অবস্থা তুলে ধরেছে বইটি ◢


ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড

বছর কয়েক আগেই মারা গেলেন কলম্বিয়ান সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। জাদু-বাস্তবতাকে সাহিত্যে উপজীব্য করে নতুন পৃথিবীর সন্ধান দেবার জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড’ তার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম। উপন্যাসটিতে বুয়েন্দিয়া বংশের উত্থান এবং মাকোন্দো নামক গ্রামে তাদের প্রতিষ্ঠা, বিবর্তন ও পতনকে চিত্রিত করা হয়েছে। গার্ডিয়ান পত্রিকায় বইটির রিভিউয়ে বলা হয়েছিল, যদি ল্যাটিন আমেরিকার অস্তিত্ব নাও থাকত, তবে এই উপন্যাস থেকেই তা সৃষ্টি করা সম্ভব হতো।

◤ মার্কেজের হাতে ধরে পৃথিবী পরিচিত হয় জাদুবাস্তবতা নামের নতুন স্টাইলের সাথে ◢


গোটা উপন্যাসে মিথ, উপকথা, লোকগল্প এবং ঐতিহাসিক সত্যকে মিলিয়ে-মিশিয়ে একাকার করে তুলেছেন। একারণে বাস্তব আর অবাস্তব জড়াজড়ি করে বেড়ে উঠে জন্ম নিয়েছে নতুন জগত। ১৯৮২ সালের নোবেল ছাড়াও আরো অজস্র পুরস্কার ও খেতাব এনে দিয়েছে মার্কেজকে উপন্যাসটি।

এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া

ই, এম, ফস্টারের অনবদ্য উপন্যাস এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া লেখা হয় ভারতে বেশ কয়েকটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতার পর। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। এক ভারতীয় মুসলিম ডাক্তার আজিজ এবং ইংরেজ অধ্যাপক সিরিল ফিল্ডিং-এর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে রচিত হয়েছে পটভূমি। গল্পের ভাঁজে প্রোথিত আছে ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় জীবনের নানা চিত্র। প্রকৃতির রঙিন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বর্ণনা, লেখকের নির্মাণশৈলি এবং ভারতকে তুলে ধরার ভিন্নরকম যোগ্যতা দেখিয়েছেন লেখক। প্রকাশের পরপরই এইজন্য মাস্টারপিস তকমা পেয়ে যায় বইটি।

◤ এর পেছনে কাজ করেছে তার ভারত-জীবনের অভিজ্ঞতা ◢


ইনভিজিবল ম্যান

রালফ্ এলিসনের ইনভিজিবল ম্যান উপন্যাসটি সাহিত্যের আকাশে এক মাইলফলক হয়ে দেদীপ্যমান। উপন্যাসের বর্ণনাকারীর কোনো নাম দেওয়া হয়নি; বরং তার বিশ্বাস মতে, তিনি অন্যদের কাছে সামাজিকভাবে অদৃশ্য। বস্তুত এখানে আফ্রো-আমেরিকান এক তরুণের প্রসঙ্গ এসেছে তীব্রভাবে। প্রতিটি জায়গায় কিভাবে সে বৈষম্য আর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। উপন্যাসটি পরাবাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি আফ্রিকান আমেরিকান সংস্কৃতিকে চিত্রিত করার জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। প্রতীক এবং রূপকের ব্যবহারও ছিল বিস্ময়কর। ১৯৫৩ সালে ইনভিজিবল ম্যান উপন্যাসটি আমেরিকার জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

◤ বর্ণবৈষম্যকে তুলে ধরা হয়েছে পরাবাস্তব সাহিত্যিক স্টাইলে ◢


ডন কিহোতে

১৬১৫ সালে স্পেনিশ সাহিত্যের রত্ন হিসাবে প্রকাশিত হয় ডন কিহোতে। লেখক মিগেল ডি সার্ভেন্তেস নিজেও হয়তো ভাবতে পারেননি, তার লেখাটা পরবর্তী কয়েক শতক ধরে অন্যান্য বহু সংস্কৃতিতে উপন্যাস লেখার প্রেরণা যোগাবে। নাইট হতে বিভোর এক ব্যক্তির ডন কিহোতে ডি লা মানচা নাম ধারণ এবং তার রোমান্টিক কার্যাবলি উপন্যাসের মূল উপজীব্য হিসাবে স্থান পেয়েছে।

◤ উপন্যাসটি স্পেনিশ হলেও পরবর্তী বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রেরণা যোগায় ◢


আর্ট, সংগীত এবং সাহিত্যে এই ডন কিহোতে শীঘ্রই এক আলোচিত আদর্শ হিসাবে পরিণত হলেন। আধুনিক জমানা পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এমনকি আমাদের ব্যবহার্য বেশ কিছু ইংরেজি শব্দের উৎসস্থান এই বইটি।

থিংস ফল এপার্ট

এতক্ষণ পশ্চিমা সাহিত্যিক আর সাহিত্যের নাম শুনে অনেকের মনে হতে পারে, শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কি কেবল তারাই রচনা করেছে? তাদের প্রশ্নের জবাবে সবার আগে আসবে থিংস ফল এপার্ট উপন্যাসের নাম। চিনুয়া আচেবের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালের দিকে। আফ্রিকার সাহিত্যের অমূল্য রত্ন হয়ে যুক্ত বইটি একপাক্ষিকতাকে সরিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণে তুলে এনেছেন এক নতুন আবহ। ওকোনকুয়ো নামক জনৈক নাইজেরিয়ান ইগবো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে উপন্যাসের যাত্রা। ব্রিটিশ উপনিবেশের কারণে স্থানীয়দের ওপর কেমন প্রতিক্রিয়া পড়েছিল, কত দ্রুত বদলে যাচ্ছিল মানুষের স্বভাব ও সংস্কৃতি—তাকে টেনে আনা হয়েছে নিখুঁতভাবে।

◤ ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাব আর আফ্রিকার পরিবর্তনের অন্যতম দলিল বইটি ◢


উপনিবেশ পরবর্তী আফ্রিকান সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্ম এই বই। আলোচিত হয়েছে সেই গল্পগুলোই, যা আগে বাইরের কেউ শোনেনি। সেইসব চিৎকার, যা উপনিবেশবাদীরা উপলব্ধি করতে পারেনি। শুধু আফ্রিকায় না, তৃতীয় বিশ্বের পরিস্থিতিতে লেখাটি একটি আদর্শ প্রতিবাদ।

দ্য কালার পার্পল

ঊনিশ শতকের গোড়া থেকেই পত্র-উপন্যাস বেশ জনপ্রিয়। তবে, এলিস ওয়াকার এই ঘরানায় সবচেয়ে বেশি মুন্সিয়ানা দেখাতে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে তাকে পুলিৎজার পুরস্কার এবং জাতীয় পুরস্কার এনে দেয় উপন্যাস ‘দ্য কালার পার্পল’। গৃহযুদ্ধের পরে আমেরিকার দক্ষিণে এক আফ্রিকান আমেরিকান তরুণী সেলি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছে।

◤ দ্য কালার পার্পল থেকে নির্মিত সিনেমা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায় ◢


ঈশ্বর এবং বোন নেটিকে উদ্দেশ্য করে তার লেখা চিঠিতে উঠে আসে তার ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতন, জীবনযাপনে ভোগান্তি, বন্ধু এবং পরিবারের অবস্থা। উন্মোচিত হয় যৌনতা, বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য, বিকৃত কাম এবং অন্যান্য নানা মুখোশ। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে সিনেমাতে রূপান্তরিত করা হয় এবং তা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়। আলোচিত হয় বিশ্বব্যাপী।

   

অখণ্ড আকাশ



শরীফুল আলম
অখণ্ড আকাশ

অখণ্ড আকাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিন তোমার সব অবহেলা আমি দ্বিগুণ করে
তোমাকেই ফিরিয়ে দেব,
তোমার সাবলীল ভঙ্গির ঘাতক সময় গুলো
আমাকে এখনও হানা দেয় ঘুমের ঘোরে ,
এ কেমন তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি ?
লতার মত তুমি জড়িয়ে থাকো সময়ের শূন্যতায়
প্রবল বাতাসে হৃদয় কেঁপে উঠে ,
আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য কোথায় , আমি তা জানিনা
হয়ত ভুলে যেতে হবে একদিন স্বপ্নের গল্প গুলো
তোমার ছবির ভাষা
রৌদ্রের গন্ধে ভরা বেবাক আকাশ ।

সংঘাত সরালে চেনা যায় অন্য আরেকটি সংঘাত
ভালোবাসার নিপুণ প্রতিশ্রতি , অবিনশ্বর আগামী ,
বৈপরিত্ব যেটুকু ছিল
তা তোমার বিভ্রমে ভরা নিগূঢ় রহস্য
আলতো ছাপ যেটুকু তুমি দিয়েছ আমায় তা লুকোবে কি করে ?
দায়সারা , চেনাশোনা , আধাচেনা , অচেনা রয়েই গেলে তুমি
শূন্য এ বুকে বিশাল আঁধার ঢেলে
মৃদু জল ঢেলে তুমি চলে গেলে ।

ফ্যাকাশে মুহূর্ত গুলো
প্রত্যহিক নিয়মেই এখন চলে ,
তবুও মাঝে মধ্যে উঁকি দেয় জীবনানন্দ , রবীন্দ্রনাথ
পদ্মা , মেঘনা , যমুনা ।

তুমি নিরুদ্দেশ হবে হও
ষোড়শী চাঁদের আলো এখনও আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়
তাই জলের অতলে এখন আর খুঁজিনা সুখের মুক্তা ,
এ বুকের তলায় এখনও এক অখন্ড আকাশ ,
পূর্ণিমা নিয়ে আমি কোন কথা বলবো না
অমবস্যার দুভাগ নিয়েও কোন কথা হবেনা
তবুও তুমি শচীন , মান্না হয়ে থেকো আমার ,
একদিন সকল অভিমান ভুলে
নিশ্চয় তুমি হাঁটু গেড়ে বসবে আমার সম্মুখে
জমানো কৃষ্ণচূড়া হাতে নিয়ে ।

-

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

;

বার্তা২৪.কম’র বর্ষপূর্তি বিশেষ সাময়িকী

‘সপ্তবর্ণ’-এ অভিভূত মুহম্মদ জাফর ইকবাল যা বললেন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭ম বর্ষপূর্তি ও ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের শীর্ষ মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম প্রকাশ করেছে বিশেষ সাময়িকী ‘সপ্তবর্ণ’। এতে লিখেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান লেখকরা। সপ্তবর্ণে স্থান পেয়েছে শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিবন্ধও।

মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টার নিউজপোর্টালবার্তা২৪.কম’র বিশেষ সাময়িকীর কপি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল ডিজিটাল এই সংবাদমাধ্যমটির ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। সপ্তবর্ণ সম্পাদক ও বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসময় তিনি সমকালীন সংবাদপত্রের বিবর্তন নিয়েও কথা বলেন।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘বার্তা২৪.কম সপ্তমে পৌছেছে। আমার হিসেবে প্রথম পাঁচ বছর হচ্ছে ক্রুশিয়াল। কেউ যদি প্রথম পাঁচ বছর অতিক্রম করতে পারে, তখন ধরে নেওয়া যায়, হ্যা-পরবর্তী সময়টিতে তারা সাকসেসফুললি এগিয়ে যাবে।’

খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিক বলেন, ‘বার্তা২৪.কম এর বিশেষ সাময়িকী সপ্তবর্ণ আমার হাতে। আমি চোখ বুলিয়ে দেখেছি, এতে কারা লিখেছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছি এজন্য যে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এত লেখকের এতগুলি লেখা তারা সুন্দর করে যত্ন নিয়ে একত্র করেছে। শুধু তাই না, আমার মত যে কোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে-পুরো বিষয়টি আসলে ফোর কালার।’

‘খুবই সুন্দর, চমৎকার ঝকঝকে। চমৎকার সব ছবি। আমি যথেষ্ট আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি লেখাগুলো পড়ার জন্য। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই, এত চমৎকার প্রকাশনা করার জন্য। নিঃসন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়, যখন কোন একটা চমৎকার কিছু কেউ দেখে, তখন মনে করতে হবে এটা এমনি এমনি হয় নাই। ধরেই নিতে হবে এর পেছনে অনেক মানুষের অনেক শ্রম আছে। আমি অভিনন্দন জানাই তাদের, যারা এমন একটি সুন্দর প্রকাশনা করতে অনেক পরিশ্রম করতে রাজি আছেন, যখন যখন মানুষদের কাগজের কিছু দেখার আর সময় নাই’-বলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

আগামীতে বার্তা২৪.কম-কে এই দায়িত্ব আরও সুন্দরভাবে পালনের আহ্বানও জানান নন্দিত এই লেখক।

বার্তা২৪.কম টিমের সঙ্গে কথা বলছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

যে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমরা যেখাবে বড় হয়েছি, এখন সময়টা আসলেই পাল্টে গেছে। আমরা কাগজের খবর দেখে অভ্যস্ত। সবকিছু আমরা কাগজে পড়তাম। এখন যেটুকু কাগজে আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আসে ইন্টারনেটে-ডিজিটাললি। সেটা অনেক বড় একটা পরিবর্তন। এবং আমরা যারা কাগজে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই জিনিসটি গ্রহণ করতে এখনও সময় লাগছে। যেহেতু বেশির ভাগ তথ্যই ডিজিটাললি আসছে, এর ভেতরে কিন্তু গ্রহণযোগ্যতার একটা ব্যাপার আছে।’

‘মাঝে মাঝেই আমার মনে হয় অনেকটা অশিক্ষিতি মানুষের মতো। যেহেতু আমরা কাগজে পড়ে অভ্যস্ত, যখন ডিজিটাললি কিছু দেখি-প্রশ্ন আসে এটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কারণ যারা এটা তৈরি করছে, প্রকাশ করছে তারা কতটুকু দায়িত্ব নিতে পারবে? সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য কিনা? আমি দেখছি, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ সংবাদপত্র থেকে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করে তার থেকে অনেক বেশি নেয় বিভিন্ন স্যোশাল নেটওয়ার্ক থেকে। এখানে একজন আরেক জনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে, এবং যে যে ধরণের তথ্য চায়, তাকে সে ধরণের তথ্যই দেওয়া হয়। ঘুরে ফিরে সে ওই ধরণের চক্রের ভেতরে পড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই একজন সম্পূর্ণ ইন্ডিপেন্ডেন্ট তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে ততোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা যদি, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যারা তথ্য দিচ্ছেন তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে-এটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যে জিনিসটা খুবই উত্তেজনার সৃষ্টি করে, পপুলার-সেই জিনিসই যদি প্রচার করি তাহলে কিন্তু হবে না। নির্মোহভাবে আমাকে এমন তথ্য দিতে হবে যেটা বিশ্বাস করতে পারি। আমি অপেক্ষা করছি সেজন্য। আমি বিভিন্ন জায়গায় দেখি আর নিজেকে প্রশ্ন করি এটি কতটুকু বিশ্বাস করতে পারব।’

;

ভারতে যুগল সম্মননা প্রাপ্তিতে গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত থেকে যুগল সম্মাননা লাভ করায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুসকে সংবর্ধনা প্রদান করল শীর্ষ নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ইফতার ও সংবর্ধনায় ঢাকা পদাতিকসহ বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী ছাড়াও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। 

ইফতারের পর গোলাম কুদ্দুসকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ঢাকা পদাতিকের সদস্যরা। তাকে নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে ঢাকা পদাতিকের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি গোলাম কুদ্দুস ছাড়াও বক্তব্য রাখেন-বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, নাট্যজন নাদের চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উল্লাহসহ অন্যরা। 

বক্তারা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে গোলাম কুদ্দুসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁর এই যুগল পদ প্রাপ্তিতে অভিনন্দন জানান। আগামী দিনেও বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর সরব উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।  

সম্প্রতি ভারতের কলকাতা ও হাওড়ায় দুটি সম্মাননায় ভূষিত হন লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ। গত ১৮ মার্চ (২০২৪) কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাঘরে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গোলাম কুদ্দুছের হাতে বঙ্গবন্ধু পদক তুলে দেন কলকাতার প্রবীণ কবি ও লেখক, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পাওয়া শ্রী পংকজ সাহা ও কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব রঞ্জণ সেন।

অন্যদিকে, ১৯ মার্চ(২০২৪) পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় কবি সাতকোর্নী ঘোষ সম্পাদিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘কলকাতার যীশু’র পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য গোলাম কুদ্দুছকে ‘একুশে স্মারক সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। 

;

জামাই



হানিফ ওয়াহিদ, রম্য লেখক
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ইফতার শেষ করে নামাজ শেষে হালকা একটা ঘুম দিয়েছিল রাকিব। হঠাৎ সুন্দরী শালী রিয়ার ভিডিও কল- কী করেন দুলাভাই?

রাকিব বিরক্তি চেপে একটা হাই তুলে বললো- ঘুমাই।

রিয়া খলবল করে বললো, ঘুম ভাঙছে?

- না, এখনো ভাঙে নাই।

ঠিক আছে। আমি আপনার ধরে হাত ধরে টান দিলাম- হেঁইয়ো! এইবার ভাঙছে!

- হ্যাঁ। কয়মাস?

রিয়া অবাক হয়ে বললো- কী, কয়মাস?

- পোলা না মাইয়া?

কী আবোলতাবোল বকেন দুলাভাই! গাঁজা দিয়ে ইফতার খাইছেন! নাকি শরবতের পরিবর্তে বোতল টানছেন!

রাকিব বিশাল হাই তুলতে তুলতে বললো, তোমার পেট উঁচা দেখা যায়!

রিয়া এবার হেসে ফেললো। আরে ভাই, এগুলো ইফতারি!

- ওরে সর্বনাশ! এক গ্রামের ইফতার তুমি একাই সাবাড় করেছো! এইটা পেট না কলসি! বাদ দেও, অসময়ে ফোন। কাহিনী কী?

আপা কই?

- আমার শত্রুর কথা বলছো! সে বাচ্চাদের অন্য রুমে পড়াতে বসেছে।

আপা যেন না জানে। আমাকে কিছু টাকা লোন দিতে হবে। আর্জেন্ট দরকার!

- লোন যে নিবা, বন্ধক কী রাখবা?

আপাতত আমার বোনকে বন্ধক রাখেন।

বন্ধকি পছন্দ হয় নাই। শোনো রিয়া, তুমি এ পর্যন্ত আমার কাছ থেকে কত টাকা লোন নিছো জানো? আমি কি বিশ্বব্যাংক? কখনো কোনো টাকা ফেরত দিছো? তুমি তো আমার কাছে ঋণখেলাপি হয়ে গেলা…

বাজে আলাপ বন্ধ করেন তো‍! লোকজন সরকারি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েই ফেরত দেয় না! আর আপনি তো আমার দুলাভাই। দুলাভাইয়ের টাকায় শালীদের হক আছে। আপনার কাছে সারাজীবন ঋণখেলাপি হয়ে থাকতে চাই।

- টাকা পাবে না।

কেন?

- কারণ, আমি চাই না, তুমি সারাজীবন আমার কাছে ঋণখেলাপিদের একজন হয়ে থাকো। তোমার একটা ইজ্জত আছে নাহ!

আমার ইজ্জত নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আর টাকা কি মাগনা দেন! বিনিময় পান না!

রাকিব অবাক হলো- কী বিনিময়?

এই যে কথায় কথায় গালি দেন!

রাকিব যেন আকাশ থেকে পড়লো। হায় আল্লাহ! আমি তোমাকে কখন গালি দিলাম?

এই যে কথায় কথায় শালী বলেন, এটা গালি নাহ!

এইবার রাকিব হো হো করে হেসে ফেললো। মেয়েরা উল্টাপাল্টা কথা বলবে, এটাই নিয়ম। বাম পাঁজরের হাড় যেমন বাঁকা, মেয়েদের কথাবার্তাও তেমনি বাঁকা। এদের কথার ঠিক-ঠিকানা নাই।

- শোনো রিয়া, এবার মোবাইল রাখি। মশা আমাকে নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে কচকচ করে কামড়িয়ে খাচ্ছে।

মশা আপনাকে কচকচ করে খাবে কেন! আপনি কি শসা? বাসায় মশার কয়েল নাই?

আছে তো! ওই যে দেখছি, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর একটা মশা রাজা-বাদশার হালে বসে আছে। অথচ দোকানদার বলেছিল, মশা না গেলে টাকা ফেরত!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- গিয়ে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন।

- তবেই হয়েছে! ব্যাটা দোকানদার আমার শালীর হাজবেন্ড কি না! টাকা ফেরত চাহিবামাত্র তৎক্ষণাৎ বের করে দেবে!

রিয়া এবার দম ফাটিয়ে হাসতে লাগলো। আপনি খুবই মজার মানুষ দুলাভাই!

- বইন রে, একমাত্র তুমিই আমাকে বুঝতে পারলা! তোমার বোন তো আমাকে হাঁদারাম গাধা মনে করে। তাকে কীভাবে বোঝাই, মজার মানুষই ভালো! বেজার মানুষ কেউ পছন্দ করে না। অবশ্য তোমার বোন হচ্ছে উল্টা। তার ধারণা, বোকা মানুষরা অকারণে হা হা হি হি করে! অথচ হাসলে মানুষের মন ভালো থাকে। যাক গে, তোমার হাজবেন্ড কই?

সে শুয়ে শুয়ে তার ফিউচার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

- বাহ! ভালো ছেলে। ফিউচার আছে। এখনই ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

মোটেই ভালো ছেলে নয়, দুলাভাই। তার মোবাইল ফোন এখন চার্জে। তাই, টাইম পাস করছে। তার ভবিষ্যত অন্ধকার! বোকার হদ্দ! আপনার ধারেকাছেও সে নাই। তাকে আমি সারাক্ষণ বোঝাই- আমার দুলাভাইকে দেখেও তো কিছু শিখতে পারো। আপনি যদি হন মহারাজ, সে হবে ফকিরবাজ!

শুধু আমি বলেই তার সংসার করে গেলাম, অন্য কেউ হলে… আমি তাকে বলি, এত মোবাইল টিপে কী সুখ পাও? সে আমাকে কী বলে জানেন?

- না, কী বলে?

সে বলে, মোবাইল টেপার মতো সুখ নাকি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টা নাই!

রাকিব হাসতে লাগলো। কী বলো এসব! আর এই ডায়ালগ কীভাবে শিখলে? এটা তো তোমার আপার প্রতিদিনকার ডায়লগ!

কোনটা?

- এই যে, আমি বলেই তোমার সংসার করে গেলাম… এই কথাটা আমাকে তোমার আপা প্রতিদিন কমছেকম তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়। তো, তুমি যে তোমার হাজবেন্ডকে পছন্দ করো না, আবার তার সব কাজই অনুসরণ করো! মাথা ঘোরায় না! বমি বমি লাগে না!

রিয়া হাসতে হাসতে বললো- আপনিও তো আপার বদনাম করতেছেন…

- তোমার আপার বদনাম করার সাহস আমার নাই রে বইন! সে মনে করে আমি বোকার হদ্দ। আমার বর্তমান ভবিষ্যত কিছুই নাই। তোমার হাজবেন্ডের ভবিষ্যত ফিলিপস বাতির মতো ফকফকা! তার দুঃখ, তোমার হাজবেন্ডের মতো একটা এত ভালো ভদ্র হাজবেন্ড কেউ পায় নাই! তার কপাল নাকি খুবই খারাপ!

রিয়া এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ও মা! তাই! ওই কবিতাটা শোনেন নাই, দুলাভাই! ওই যে, নদীর এপাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়েতে যত সুখ আমার বিশ্বাস!

রাকিব মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো- আমি তো জানতাম, তোমার হাজবেন্ড আসলেই ভালো একজন ছেলে। বেশ অমায়িক! তুমি আবার তার সাথে ঝগড়া করো নাকি! কী নিয়ে ঝগড়া করো তোমরা?

রিয়া হাসতে হাসতে বললো, মেয়েদের ঝগড়া করতে কোনো কারণ লাগে না দুলাভাই! শুধু একটা হাজবেন্ড থাকলেই চলে!

রাকিব অবাক হয়ে বললো- আরে তাই তো! তার বউও তো অকারণেই তার সাথে ঝগড়া করে!

তাহলে কি সব মেয়েই এমন!

;