সাহিত্যে একত্রে ঘোষিত হলো দু বছরের নোবেল বিজয়ীর নাম



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
ওলগা তোকারচুক ও পিটার হ্যান্ডকি

ওলগা তোকারচুক ও পিটার হ্যান্ডকি

  • Font increase
  • Font Decrease

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের ১১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম ঘটল ব্যাপারটা। একই সাথে দুই বছরের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের নাম ঘোষণা করা হলো গত বৃহস্পতিবার। অস্ট্রিয়ান ঔপন্যাসিক এবং নাট্যকার পিটার হ্যান্ডকি এবং পোলিশ লেখিকা ওলগা তোকারচুক। যেখানে ২০১৮ সালেরটা পেয়েছেন ওলগা এবং ২০১৯-এর নোবেল বরাদ্দ হয়েছে পিটারের নামে।

পেছনে অবশ্য কারণ আছে। গত বছরের সাহিত্যে নোবেল, কেলেঙ্কারির অভিযোগে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনা সুইডিশ একাডেমিকে বেশ ঝাঁকি দেয়। সে যা-ই হোক, নোবেল পাওয়া এই দুই সাহিত্যিক খুব বেশি জনপ্রিয় নন। তাদের নিয়েই আজকের বিশেষ আয়োজন।

ওলগা তোকারচুক

তোকারচুককে ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কৈফিয়তে বলা হয়েছে, “একটি বর্ণনামূলক কল্পনা জন্য; যা সর্বব্যাপী আবেগের সাথে বাঁধা অতিক্রমকে জীবনের ছাঁচ হিসাবে উপস্থাপন করেছে।” তোকারচুকের জন্ম ১৯৬২ সালে পোল্যান্ডের সোলেহও-তে। বর্তমানে তিনি ভ্রোকলভ-এ বসবাস করছেন। খুব তরুণ বয়স থেকেই সাহিত্যে তার আনাগোনা শুরু হয়। পিতামাতা ছিলেন শিক্ষক; যদিও বাবা নিজে আবার স্কুলের লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। হাতের কাছে পাওয়া সম্ভাব্য সব বই-ই তিনি গোগ্রাসে গিলতেন। তার জীবনীতে নোবেল একাডেমিই সেকথা দাবি করেছে।

◤ শৈশব থেকেই পড়ুয়া হিসাবে প্রস্তুত করেছেন নিজেকে ◢


তার মাইলফলক হয়ে থাকা লেখা মূলত তৃতীয় উপন্যাস “Primeval and Other Time”। কোনো এক পৌরাণিক স্থানে একটি পরিবারের আখ্যান। নোবেল একাডেমি তার মাস্টারপিস বলে বর্ণনা করতে এনেছেন অন্য একটা নাম—‘দ্য বুক অব জ্যাকব’। অষ্টাদশ শতকের এক নেতা, যাকে তার অনুসারীরা নতুন মেসিয়াহ বলে মনে করে। গ্রন্থটি নাইকি পুরস্কার লাভ করে। বলে রাখা ভালো, এই পুরস্কার পোল্যান্ডের সম্মানজনক সাহিত্য স্বীকৃতি; যাকে পোলিশ বুকার বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। ২০২১ সাল নাগাদ বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ পাবে।

◤ তোকারচুকের দুইটি বিখ্যাত বই ◢


তোকারচুক কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একদম নতুন মুখ না। গত বছরই প্রথম পোলিশ লেখিকা হিসাবে ম্যান বুকার পুরস্কার পান Flights উপন্যাসের কারণে। একুশ শতকের প্রান্তে গিয়ে মানুষকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এখানে। এবছর আবার নতুন বই Drive your plow over the bones of the dead ছিল একই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকাতে। গল্পটা একটা খুনের; যেখানে জ্যোতিষবিদ্যা থেকে মামলার জটিলতা সামাধানের পথ পাওয়া যায়।

পোলিশ রক্ষণশীলরা তাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখে না। বিভিন্ন ঘটনার জন্য তিনি বিতর্কিতও হয়েছেন। তারপরেও তার লেখাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মানব-মনঃস্তত্ত্বকে সামনে আনতে। তার বর্ণনারভঙ্গি ব্যঞ্জনাপূর্ণ, সাবলীল এবং কবিত্বময়।

পিটার হ্যান্ডকি

২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী পিটার হ্যান্ডকি। তাকে পুরস্কৃত করার কারণ হিসাবে নোবেল কমিটি বলেন, “তার ভাষাগত অকপটতার জন্য, যা তুলে এনেছে মানুষের অভিজ্ঞতার পরিধি এবং নির্দিষ্টতা।” তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ বলে নোবেল কমিটির দাবি Walk about the Village নামে নাটক এবং Repetition উপন্যাস। তার লেখাগুলোতে অস্তিত্বের উৎস খোঁজার এক বিরামহীন অভিযাত্রা ফুটে উঠেছে। A sorrow Beyond Dreams তার ছোট এবং সূক্ষ্ম বই হলেও খুব শক্তিমান সৃষ্টি বলে স্বীকৃত। একজন মায়ের আত্মহত্যা নিয়ে আখ্যান এগিয়ে গেছে।

◤ উপন্যাস থেকে সিনেমা—পিটারের মুনশিয়ানা ছিল সমানভাবে ◢


হ্যান্ডকির বর্তমান বয়স ৭৬। ১৯৪২ সালে দক্ষিণ অস্ট্রিয়ার গ্রিফেন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা ছিলেন স্লোভানিয়ান সংখ্যালঘু গোত্রের মেয়ে আর বাবা জার্মান যোদ্ধা। পিতার সাথে তার যোগাযোগ হয় পরিণত বয়সে। শৈশব কাটে মা এবং সৎ পিতার সাথে। গ্রিফেনে আসার আগে পর্যন্ত প্রথম জীবন কেটেছে যুদ্ধে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া বার্লিনে।

হ্যান্ডকি পড়াশোনা করেন অস্ট্রিয়ার গ্র্যাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সমাপ্ত করতে পারলেন না। পড়ালেখায় আর মনোযোগ ছিল না বলাই বোধ হয অধিক যৌক্তিক হবে। কয়েক বছরের মাথায়ই লেখেন তার প্রথম উপন্যাস Die Hornissen, যা প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৯০ সালের পর থেকে জীবনযাপন শুরু করেন দক্ষিণ-পশ্চিম প্যারিসের এক শহরে।

◤ পিটারের দুইটি দুর্দান্ত সৃষ্টি ◢


তার কাজগুলো সাহিত্যের কোনো নির্দিষ্ট শাখায় সীমাবদ্ধ নয়। উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চিত্রনাট্যসহ অন্যান্য অনেক শাখায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান আছে। রাজনীতি থেকেও দূরে রাখেননি নিজেকে। ১৯৯০-তে ন্যাটো কসোভো যুদ্ধের সময় সার্বিয়ায় আকাশপথে হামলা চালালে তিনি তার বিরোধিতা করেছেন। সার্বিয়ান নেতা স্লোবোডান মিলোসেভিকের মৃত্যুতে তার দেওয়া বাণীও বেশ আলোচিত। যুদ্ধের সময় সার্বদের পক্ষ হয়ে কথা বলার জন্যেও তার সমালোচনা করা হয়। সে যা-ই হোক, তার পুরস্কারপ্রাপ্তি বিশেষ কিছু শ্রেণির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বসনিয়া ও কসোভোতে বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। তবে এই নোবেলপ্রপ্তির ঘটনা তার দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনের নিঃসঙ্গ পথচলায় একটা স্বীকৃতি।

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;