মানবতার প্রাণপুরুষ ফকির লালন সাঁই, শানিত মারণাস্ত্র গান ও আত্মোপলব্ধি

সিরাজ প্রামাণিক
ফকির লালন সাঁই

ফকির লালন সাঁই

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদগ্ধ ও পণ্ডিতজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে চাই আগেই। তাঁদের মতো লালন বিষয়ে পড়াশোনা, তত্ত্বতালাশ এবং সাঁইজীর জন্ম-মৃত্যু, জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে গবেষণা আমার নেই। সাঁইজীর গান আগেও শুনেছি, এখনো শুনি একান্ত মনোযোগী শ্রোতা হয়ে। সাঁইজির গানের মুদ্রিত পাঠ হাতের কাছে যতটুকু পেয়েছি সংগ্রহ করেছি, করে যাচ্ছি ক্রমান্বয়ে। নানা রকম পাঠভেদ মেনে নিয়ে পড়েছি, এখনো পড়ে যাচ্ছি। সাঁইজীর পড়শি হিসেবে তাঁর ধামে আসা-যাওয়াও কম নয়। পড়তে পড়তে ও সাঁইজির ধামে আসা যাওয়ায় আমি যা অনুভব করি, তা শোনার চেয়ে অনেক গভীর, বলা যায় অতলান্ত। বিশিষ্ট গবেষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, মানবতার প্রাণপুরুষ ফকির লালন সাঁইজীকে নিয়ে আমি আমার অনুভবের কথা লিখছি।

লালনের গানে তাঁর অনুসারীরা খুঁজে পান অমৃতের সন্ধান। মানবজীবনের মোহমায়া, ভোগলিপ্সা থেকে মুক্ত হয়ে পরমার্থের জন্য মহাজনেরা যুগে যুগে, দেশে দেশে কঠিন সাধনায় আত্মনিবেদন করেছেন। বহুজনের বহুমত, বহুপথ। লালন বলেছেন মানবধর্মের কথা। অমৃতের সন্ধান করেছেন আত্মজ্ঞানের মধ্য দিয়ে। সেই অমৃতের সন্ধানেই সাঁইজির ধামে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী, অনুসারীরা ছুটে আসেন।

সত্যিই লালনকে সন্ধান করতে গেলে ফাঁপরে পড়তে হয়। কে এই লালন, কী তাঁর জাত পরিচয় অথবা কেমন তাঁর ধর্ম-জীবনপ্রণালি, প্রশ্ন জাগে। মানুষের মতামতের যেমন শেষ নেই, তেমনি গবেষকরাও তাঁর সব বিষয়ে একমত পোষণ করেননি। অথচ ১২৯ বছর আগে দেহত্যাগী লালনের একজোড়া গুরু-শিষ্যকে ধরে নেমে এলেই জীবিত বাউলের দেখা মেলে। যেহেতু বাউলবাদ গুরুবাদী, সেহেতু গুরু-শিষ্যের সরেজমিন কথোপকথন, জীবন, যৌনাচার সবকিছুর বিশ্লেষণ করলেই পাওয়া যাবে সম্যক লালন ও তাঁর দর্শনকে। বাউলরা দেশময় ছড়িয়ে থাকলেও তাঁদের মন পড়ে থাকে লালনের বারামখানায়। নানা ছুঁতোয় তাঁরা চলে আসেন মনতীর্থে। দোল কিংবা কার্তিক হলে তো কথাই নেই। ফকির লালন সমকালে যেমন শিষ্যদের নিয়ে ফাগুনের পূর্ণিমায় মচ্ছব করতেন, তেমন করে প্রতি বছর মচ্ছব বসে আখড়াবাড়িতে। ১৮৯০ সালের পয়লা কার্তিকে লালন গত হওয়ার পর থেকে দোলের সঙ্গে স্মরণোৎসবও যোগ হয় মচ্ছবানন্দে। পরম্পরায় বয়ে চলেছে এ ধারা। কার্তিক এলেই আউল-বাউল, সাধু-বৈষ্ণব আর ফকির-দেওয়ানাদের পদনৃত্যে ভারি হয়ে ওঠে সাধুবাজার। গুরু-শিষ্যের মিলনমেলায় মনের মানুষের চোখে চোখ রেখে শুরু হয় ভাবের খেলা। ভাবজগতের মধ্যে বেজে ওঠে তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে। একতারা, দোতরা, ঢোলখোল, হারমোনি, বাঁশি, জোয়ারি, চাকতি, খমক হাতে একযোগে বাউলরা উড়াল তোলে। শোক বিয়োগের দিন হলেও ভক্তভারে ক্রমেই দৃশ্যগুলো তখন পাল্টে যেতে শুরু করে। খণ্ড খণ্ড মজমা থেকে তালের উন্মাদনায় দমকে দমকে ভাসতে থাকে ভাববাদী ঢেউ। স্মরণোৎসব শোকাচ্ছন্ন থাকে না, উল্টো আনন্দময় মচ্ছবে পরিণত হয়। দুটো বড় আয়োজন বাদেও প্রায় প্রতিদিনই সাধু-গুরুদের বাজার বসে আখড়াবাড়িতে। সাধুবাজারেই পাওয়া যায় বাউলিয়ানার সরেজমিন আচারনিষ্ঠা এবং সাধন ভজনের স্বরূপ বৃত্তান্ত। পরিবেশনার আঙ্গিক যেমনই হোক না কেন, গানগুলো সব একজনেরই। ভক্তের কাছে তিনি দীক্ষাগুরু। সাধারণ শ্রোতার কাছে বাউলসম্রাট, বিদগ্ধজনের কাছে বাংলার লোকসংগীত ও মরমি দর্শনের অন্যতম দিকপাল লালন সাঁই। সাধুদের আধ্যাত্মিক চর্চার অনুসঙ্গ হিসেবে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন নানা দেশ, নানা শ্রেণী-পেশার, নানা বয়সী নর-নারীর বিপুল সমারোহে এক বিশাল বিচিত্র কর্মযজ্ঞ।

সাঁইজিরও আশা ছিল এমন এক সমাজের, যেখানে কোনো জাতিভেদ থাকবে না। মানুষ তার মনুষ্যত্বের মূল্যেই পরিচিত হবে। তিনি গেয়েছিলেন, ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে/ যেদিন হিন্দু মোছলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি গোত্র নাহি রবে...।’ কে জানে কবে আসবে সেই দিন, তবে সেই দিনের বাণী নিয়েই এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন সাধুসন্তরা, লালনের গানের ভক্ত সাধারণ মানুষ।

◤ কুষ্টিয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের মাজার ◢


লালনকে বিশ্লেষণ করতে হলে অবশ্যই তার সমকালীন সমাজকে জানতে হবে। সমাজে যখন জাতিভেদ প্রথার ছোঁয়াছুঁয়ির কবলে পড়ে নীচুতলার মানুষ ঊণমানবে পরিণত হয়ে মুক্তির আকুতি নিয়ে আকুলি বিকুলি করছিল কিন্তু প্রতিবাদের অস্ফুট স্বর কণ্ঠ পেরিয়ে মুখে আসছিল না লালন তখন এই জাতপাতের ওপর খড়গ ধরলেন এবং তাদের মুখে ভাষা দিলেন। তিনি বলিষ্ঠভাবে সমাজ আরোপিত জাতপাতকে অস্বীকার করে ঘোষণা করলেন, ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা/সত্য পথে কেউ নয় রাজি সব দেখি তা না না।।/যখন তুমি ভবে এলে /তখন তুমি কী জাত ছিলে/কী জাত হবা যাবার কালে/সেই কথা ভেবে বলো না।।/ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি/এক জলেই সব হয় গো সুচি/দেখে শুনে হয় না রুচি /যমে তো কাউকেই থুবে না।।/গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায় /তাতে কি ধর্মের ক্ষতি হয়/লালন বলে জাত কারে কয় এ ভ্রম তো গেল না।।

সমকালীন সমাজে জাতিভেদপ্রথা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার বিষবাষ্প ছড়িয়ে সমাজকে বিষিয়ে তুলছিল। কী হিন্দু কী মুসলিম উভয় সমাজেই এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। জাতিভেদ প্রথা এতটাই প্রকট ছিল এবং সমাজে বিভেদের প্রকার তুলেছিল যে নীচজাতের লোকেদের সঙ্গে উঁচু জাতের লোকেরা খাওয়া দাওয়া ওঠাবসা করত না। একের ছোঁয়ায় অন্যে অপবিত্র হয়ে যেত। ছোঁয়াছোঁয়ির এই ভেদবিভেদের মধ্যে পড়ে একই সমাজের মধ্যে নানা উপসমাজের তৈরি হয়েছিল এবং সমাজের নীচু তলার মানুষ প্রকারন্তরে সমাজের মূলস্রোত থেকে ছিল অনেকটা নির্বাসিত। বর্ণাশ্রায়ী গ্রাম যেমন ব্রাক্ষ্মণ গ্রাম, শূদ্র গ্রাম এভাবেই একই সমাজের ভেতর অনেক উপ-সমাজ তৈরি করে উচ্চবর্ণের লোকেরা সমাজের নিম্নবর্ণের লোকেদের সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিছন্ন করে রেখেছিল এবং নীচুবর্ণের লোকেরা তা বিধির বিধান বলে মেনে নিয়ে সমাজের অন্যায়ের কাছে, সমাজের শোষণের কাছে নতজানু হয়ে সমাজ আরোপিত শোষণকে মাথা পেতে মেনে নিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে লালন এসে ঘোষণা করলেন সমাজ কর্তৃক মানুষে মানুষে বিভাজন ঠিক নয়। কারণ সমাজের বর্ণভেদ প্রথার মারপ্যাঁচে পড়ে বিভক্ত শ্রেণী ব্রাক্ষ্মণ, চণ্ডাল, চামার মুচি—এর মধ্যে প্রভেদ নেই। কারণ বিধাতার রাজ্যে সবাই সমান। সবার জন্য বিধাতার একই বিধান। সুতরাং সমাজের সুবিধাবাদী গ্রুপের সৃষ্টি জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, ভেঙে ফেলতে হবে সমাজের এই কুসংস্কার সত্য প্রতিষ্ঠায়। আর সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনের আন্দোলন করতে গিয়ে লালন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ ধর্মের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন। তিনি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে চিহ্নসর্বস্ব ধর্মের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ বদলের সংগ্রামে লালন চিহ্নসর্বস্ব ধর্মকে অস্বীকার করেছেন দৃঢ় কণ্ঠে, ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে/লালন বলে জাতের কিরূপ দেখলাম না এই নজরে।।/কেউ মালা কেউ তজবি গলায়/তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়/যাওয়া কিংবা আসার বেলায়/জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।/যদি সুন্নত দিলে হয় মুসলমান/তবে নারী লোকের কি হয় বিধান/বাহ্মণ চিনি পৈতে প্রমাণ/বাহ্মণী চিনি কিসে রে।।/জগৎজুড়ে জাতের কথা/লোকে গর্ব করে যথাতথা/লালন কয় জাতের ফ্যাতা/ডুবাইছি সাত বাজারে।।

লালনের এই উচ্চারণকে যদি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখি তবে লালনের সাহসের সত্যিই তারিফ করতে হয়। লালন ধর্মীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সমাজ কাঠামোতে আঘাত করতে গিয়ে সমাজের সবচেয়ে সেনসেটিভ ইস্যু ‘ধর্ম’ এবং ‘নারী’ এই দুটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা আজকের এই অধিকতর সেক্যুলার সময়ে এসেও আমাদের বোধের অতীত। কিন্তু সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সময়ে বসে লালনের এই স্পর্ধা সত্যিই আমাদের বিস্মিত করে। লালন শাহ বুঝতে পেরেছিলেন যে সমাজের কাঠামো পরিবর্তন না করলে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। তাই তিনি ভারতীয় সমাজের মৌল কাঠামোর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছেন দ্ব্যর্থহীনভাবে যা এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা সাহস করিনে। তিনি মুসলমান ধর্মের চৈহ্নিক অসাড়তার কথা বলতে গিয়ে খতনার কথা বলেছেন এবং সেই বলাটাকে তীক্ষ্ণতা দিতে গিয়ে তিনি মুসলমান নারী সমাজের অবতারণা করেছেন। আর সমভাবে হিন্দু সমাজের নারীদের কথাও পেরেছেন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের বাণে। লালনের সময়ে গ্রামীণ সমাজ ছিল অত্যন্ত কুসংস্কারযুক্ত এবং রক্ষণশীল। সেই রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস তার সময়ে কেউ দেখাননি। কিন্তু লালন সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে। কারণ তিনি জানতেন সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে, সমাজের কাঠামো বদল করতে হলে সেই কাঠামোর ওপরই আগে আঘাত করতে হবে। লালন সমাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের সাম্প্রদায়িক পরিচিতিকে পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক পরিচিতি তথা সাম্প্রদায়িক পরিচিতির ব্যাপারে অবলীলায় বলেছেন, ‘সবে বলে লালন ফকির হিন্দু না যবন/লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান।।’

◤ আখড়ায় গানোন্মত্ত এক বাউল ◢


একবার যদি আমরা গভীরভাবে ভাবি লালনের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা তাহলে আমাদের মনের অজান্তেই শিউরে উঠতে হয়। কারণ এই একবিংশ শতাব্দীর অধিকতর সেক্যুলার সময়ে এসেও ধর্মের উদারনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে কেউ স্থির থাকতে পারছেন না। আর সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে বসে লালন তার সাম্প্রদায়িক পরিচিতি অবলীলায় অস্বীকার করে হিন্দু-মসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মর্মমূলে কুঠারাঘাত করেছেন—এটা কত বড় স্পর্ধার কাজ! এবং সেই আন্দোলনে গতি দেওয়ার জন্য তিনি একের পর এক রচনা করেছেন গণজাগরণী গান সমাজের সব রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে। লালনের এই যে আন্দোলন তার পথ যে খুব মসৃণ ছিল তা কিন্তু নয়। লালনকে তার সমকালে এবং উত্তরকালে তার উত্তরসূরিদের সমাজের চরম প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাইতো তিনি খেদের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন, ‘শোনায়ে লোভের বুলি/নেবে না কাঁধের ঝুলি/ইতর আশরাফ বলি/দূরে ঠেলে নাহি দেবে।।/আমির ফকির হয়ে এক ঠাঁই/সবার পাওনা পাবে সবাই/আশরাফ বলিয়া রেহাই/ভবে কেহ নাহি পাবে।।/ধর্ম-কুল-গোত্র জাতির/তুলবে না গো কেহ জিগির/কেঁদে বলে লালন ফকির কে মোরে দেখায়ে দেবে।।

লালনের গানে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষিতে তার দর্শনের যে প্রতিফলন দেখা যায় তা দেশকালের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বমানবিক মূল্যবোধের পরিচয় তুলে ধরে। লালন তাই কেবল বাঙালি মরমি কবি বা গীতিকবিদের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন, বিশ্ব লোকসংস্কৃতির অঙ্গনেও তার অবস্থান অনেক উঁচুতে। হিন্দু মুসলমানের মধ্যে জাত-ধর্মের বাহ্যিক আচরণ ও ব্যক্তির সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বিরুদ্ধে লালন ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তার গান জাত-পাতের বিরুদ্ধে মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপস্থিত হয়। গানে তিনি বলছেন, ‘একই ঘাটে আসা যাওয়া, একই পাটনি দিচ্ছে খেওয়া/কেউ খায় না কারো ছোঁয়া বিভিন্ন জল কে কোথায় পান।’

বাংলার বাউল ধর্মমতের শুরু মধ্যযুগে। গবেষকদের মতভেদ রয়েছে এ ব্যাপারে যথেষ্ট। উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, বাউলধর্মের সূত্রপাত আনুমানিক ১৬২৫ সালের দিকে। আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, ‘ঊনিশ শতকে লালন ফকিরের সাধনা ও সৃষ্টির মাধ্যমেই এর পরিপূর্ণ বিকাশ।’

লালন সাঁইয়ের বাউলতত্ত্ব পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবধর্ম-নির্ভর। যদিও সব বাউলদেরই একই পথ তবুও বাংলার ঐতিহ্য, চিন্তাধারা, সমাজ ব্যবস্থার সুর পুরোপুরিই পাওয়া যায় লালনের গানে। আধ্যাত্ম চেতনা আর ঐশ্বর্যের মাধুর্যে লালন সাঁই যে মরমি জগত সৃষ্টি করেছিলেন আজ তার মানবলীলা সম্বরণের ১২৬ বছর পরও তার গানের চেতনায় ভাটা পড়েনি বরং চর্যাপদের মতো তার গানের অন্তর্নিহিত বিষয়াদি দিনের পর দিন মানুষের বোধকে ত্বরান্বিত করেছে চিরভাস্কর সাম্যবাদিতা আর অসাম্প্রদায়িকতার দিকে। জাতভেদ আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লালন সাঁইর গান এক নীরব মূলমন্ত্র, চেতনার শানিত মারণাস্ত্র।

আপনার মতামত লিখুন :