মানবতার প্রাণপুরুষ ফকির লালন সাঁই, শানিত মারণাস্ত্র গান ও আত্মোপলব্ধি



সিরাজ প্রামাণিক
ফকির লালন সাঁই

ফকির লালন সাঁই

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদগ্ধ ও পণ্ডিতজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে চাই আগেই। তাঁদের মতো লালন বিষয়ে পড়াশোনা, তত্ত্বতালাশ এবং সাঁইজীর জন্ম-মৃত্যু, জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে গবেষণা আমার নেই। সাঁইজীর গান আগেও শুনেছি, এখনো শুনি একান্ত মনোযোগী শ্রোতা হয়ে। সাঁইজির গানের মুদ্রিত পাঠ হাতের কাছে যতটুকু পেয়েছি সংগ্রহ করেছি, করে যাচ্ছি ক্রমান্বয়ে। নানা রকম পাঠভেদ মেনে নিয়ে পড়েছি, এখনো পড়ে যাচ্ছি। সাঁইজীর পড়শি হিসেবে তাঁর ধামে আসা-যাওয়াও কম নয়। পড়তে পড়তে ও সাঁইজির ধামে আসা যাওয়ায় আমি যা অনুভব করি, তা শোনার চেয়ে অনেক গভীর, বলা যায় অতলান্ত। বিশিষ্ট গবেষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, মানবতার প্রাণপুরুষ ফকির লালন সাঁইজীকে নিয়ে আমি আমার অনুভবের কথা লিখছি।

লালনের গানে তাঁর অনুসারীরা খুঁজে পান অমৃতের সন্ধান। মানবজীবনের মোহমায়া, ভোগলিপ্সা থেকে মুক্ত হয়ে পরমার্থের জন্য মহাজনেরা যুগে যুগে, দেশে দেশে কঠিন সাধনায় আত্মনিবেদন করেছেন। বহুজনের বহুমত, বহুপথ। লালন বলেছেন মানবধর্মের কথা। অমৃতের সন্ধান করেছেন আত্মজ্ঞানের মধ্য দিয়ে। সেই অমৃতের সন্ধানেই সাঁইজির ধামে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী, অনুসারীরা ছুটে আসেন।

সত্যিই লালনকে সন্ধান করতে গেলে ফাঁপরে পড়তে হয়। কে এই লালন, কী তাঁর জাত পরিচয় অথবা কেমন তাঁর ধর্ম-জীবনপ্রণালি, প্রশ্ন জাগে। মানুষের মতামতের যেমন শেষ নেই, তেমনি গবেষকরাও তাঁর সব বিষয়ে একমত পোষণ করেননি। অথচ ১২৯ বছর আগে দেহত্যাগী লালনের একজোড়া গুরু-শিষ্যকে ধরে নেমে এলেই জীবিত বাউলের দেখা মেলে। যেহেতু বাউলবাদ গুরুবাদী, সেহেতু গুরু-শিষ্যের সরেজমিন কথোপকথন, জীবন, যৌনাচার সবকিছুর বিশ্লেষণ করলেই পাওয়া যাবে সম্যক লালন ও তাঁর দর্শনকে। বাউলরা দেশময় ছড়িয়ে থাকলেও তাঁদের মন পড়ে থাকে লালনের বারামখানায়। নানা ছুঁতোয় তাঁরা চলে আসেন মনতীর্থে। দোল কিংবা কার্তিক হলে তো কথাই নেই। ফকির লালন সমকালে যেমন শিষ্যদের নিয়ে ফাগুনের পূর্ণিমায় মচ্ছব করতেন, তেমন করে প্রতি বছর মচ্ছব বসে আখড়াবাড়িতে। ১৮৯০ সালের পয়লা কার্তিকে লালন গত হওয়ার পর থেকে দোলের সঙ্গে স্মরণোৎসবও যোগ হয় মচ্ছবানন্দে। পরম্পরায় বয়ে চলেছে এ ধারা। কার্তিক এলেই আউল-বাউল, সাধু-বৈষ্ণব আর ফকির-দেওয়ানাদের পদনৃত্যে ভারি হয়ে ওঠে সাধুবাজার। গুরু-শিষ্যের মিলনমেলায় মনের মানুষের চোখে চোখ রেখে শুরু হয় ভাবের খেলা। ভাবজগতের মধ্যে বেজে ওঠে তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে। একতারা, দোতরা, ঢোলখোল, হারমোনি, বাঁশি, জোয়ারি, চাকতি, খমক হাতে একযোগে বাউলরা উড়াল তোলে। শোক বিয়োগের দিন হলেও ভক্তভারে ক্রমেই দৃশ্যগুলো তখন পাল্টে যেতে শুরু করে। খণ্ড খণ্ড মজমা থেকে তালের উন্মাদনায় দমকে দমকে ভাসতে থাকে ভাববাদী ঢেউ। স্মরণোৎসব শোকাচ্ছন্ন থাকে না, উল্টো আনন্দময় মচ্ছবে পরিণত হয়। দুটো বড় আয়োজন বাদেও প্রায় প্রতিদিনই সাধু-গুরুদের বাজার বসে আখড়াবাড়িতে। সাধুবাজারেই পাওয়া যায় বাউলিয়ানার সরেজমিন আচারনিষ্ঠা এবং সাধন ভজনের স্বরূপ বৃত্তান্ত। পরিবেশনার আঙ্গিক যেমনই হোক না কেন, গানগুলো সব একজনেরই। ভক্তের কাছে তিনি দীক্ষাগুরু। সাধারণ শ্রোতার কাছে বাউলসম্রাট, বিদগ্ধজনের কাছে বাংলার লোকসংগীত ও মরমি দর্শনের অন্যতম দিকপাল লালন সাঁই। সাধুদের আধ্যাত্মিক চর্চার অনুসঙ্গ হিসেবে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন নানা দেশ, নানা শ্রেণী-পেশার, নানা বয়সী নর-নারীর বিপুল সমারোহে এক বিশাল বিচিত্র কর্মযজ্ঞ।

সাঁইজিরও আশা ছিল এমন এক সমাজের, যেখানে কোনো জাতিভেদ থাকবে না। মানুষ তার মনুষ্যত্বের মূল্যেই পরিচিত হবে। তিনি গেয়েছিলেন, ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে/ যেদিন হিন্দু মোছলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি গোত্র নাহি রবে...।’ কে জানে কবে আসবে সেই দিন, তবে সেই দিনের বাণী নিয়েই এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন সাধুসন্তরা, লালনের গানের ভক্ত সাধারণ মানুষ।

◤ কুষ্টিয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের মাজার ◢


লালনকে বিশ্লেষণ করতে হলে অবশ্যই তার সমকালীন সমাজকে জানতে হবে। সমাজে যখন জাতিভেদ প্রথার ছোঁয়াছুঁয়ির কবলে পড়ে নীচুতলার মানুষ ঊণমানবে পরিণত হয়ে মুক্তির আকুতি নিয়ে আকুলি বিকুলি করছিল কিন্তু প্রতিবাদের অস্ফুট স্বর কণ্ঠ পেরিয়ে মুখে আসছিল না লালন তখন এই জাতপাতের ওপর খড়গ ধরলেন এবং তাদের মুখে ভাষা দিলেন। তিনি বলিষ্ঠভাবে সমাজ আরোপিত জাতপাতকে অস্বীকার করে ঘোষণা করলেন, ‘জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা/সত্য পথে কেউ নয় রাজি সব দেখি তা না না।।/যখন তুমি ভবে এলে /তখন তুমি কী জাত ছিলে/কী জাত হবা যাবার কালে/সেই কথা ভেবে বলো না।।/ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি/এক জলেই সব হয় গো সুচি/দেখে শুনে হয় না রুচি /যমে তো কাউকেই থুবে না।।/গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায় /তাতে কি ধর্মের ক্ষতি হয়/লালন বলে জাত কারে কয় এ ভ্রম তো গেল না।।

সমকালীন সমাজে জাতিভেদপ্রথা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার বিষবাষ্প ছড়িয়ে সমাজকে বিষিয়ে তুলছিল। কী হিন্দু কী মুসলিম উভয় সমাজেই এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। জাতিভেদ প্রথা এতটাই প্রকট ছিল এবং সমাজে বিভেদের প্রকার তুলেছিল যে নীচজাতের লোকেদের সঙ্গে উঁচু জাতের লোকেরা খাওয়া দাওয়া ওঠাবসা করত না। একের ছোঁয়ায় অন্যে অপবিত্র হয়ে যেত। ছোঁয়াছোঁয়ির এই ভেদবিভেদের মধ্যে পড়ে একই সমাজের মধ্যে নানা উপসমাজের তৈরি হয়েছিল এবং সমাজের নীচু তলার মানুষ প্রকারন্তরে সমাজের মূলস্রোত থেকে ছিল অনেকটা নির্বাসিত। বর্ণাশ্রায়ী গ্রাম যেমন ব্রাক্ষ্মণ গ্রাম, শূদ্র গ্রাম এভাবেই একই সমাজের ভেতর অনেক উপ-সমাজ তৈরি করে উচ্চবর্ণের লোকেরা সমাজের নিম্নবর্ণের লোকেদের সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিছন্ন করে রেখেছিল এবং নীচুবর্ণের লোকেরা তা বিধির বিধান বলে মেনে নিয়ে সমাজের অন্যায়ের কাছে, সমাজের শোষণের কাছে নতজানু হয়ে সমাজ আরোপিত শোষণকে মাথা পেতে মেনে নিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে লালন এসে ঘোষণা করলেন সমাজ কর্তৃক মানুষে মানুষে বিভাজন ঠিক নয়। কারণ সমাজের বর্ণভেদ প্রথার মারপ্যাঁচে পড়ে বিভক্ত শ্রেণী ব্রাক্ষ্মণ, চণ্ডাল, চামার মুচি—এর মধ্যে প্রভেদ নেই। কারণ বিধাতার রাজ্যে সবাই সমান। সবার জন্য বিধাতার একই বিধান। সুতরাং সমাজের সুবিধাবাদী গ্রুপের সৃষ্টি জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, ভেঙে ফেলতে হবে সমাজের এই কুসংস্কার সত্য প্রতিষ্ঠায়। আর সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তনের আন্দোলন করতে গিয়ে লালন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ ধর্মের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন। তিনি সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে চিহ্নসর্বস্ব ধর্মের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ বদলের সংগ্রামে লালন চিহ্নসর্বস্ব ধর্মকে অস্বীকার করেছেন দৃঢ় কণ্ঠে, ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে/লালন বলে জাতের কিরূপ দেখলাম না এই নজরে।।/কেউ মালা কেউ তজবি গলায়/তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়/যাওয়া কিংবা আসার বেলায়/জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।/যদি সুন্নত দিলে হয় মুসলমান/তবে নারী লোকের কি হয় বিধান/বাহ্মণ চিনি পৈতে প্রমাণ/বাহ্মণী চিনি কিসে রে।।/জগৎজুড়ে জাতের কথা/লোকে গর্ব করে যথাতথা/লালন কয় জাতের ফ্যাতা/ডুবাইছি সাত বাজারে।।

লালনের এই উচ্চারণকে যদি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখি তবে লালনের সাহসের সত্যিই তারিফ করতে হয়। লালন ধর্মীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সমাজ কাঠামোতে আঘাত করতে গিয়ে সমাজের সবচেয়ে সেনসেটিভ ইস্যু ‘ধর্ম’ এবং ‘নারী’ এই দুটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা আজকের এই অধিকতর সেক্যুলার সময়ে এসেও আমাদের বোধের অতীত। কিন্তু সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সময়ে বসে লালনের এই স্পর্ধা সত্যিই আমাদের বিস্মিত করে। লালন শাহ বুঝতে পেরেছিলেন যে সমাজের কাঠামো পরিবর্তন না করলে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। তাই তিনি ভারতীয় সমাজের মৌল কাঠামোর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছেন দ্ব্যর্থহীনভাবে যা এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা সাহস করিনে। তিনি মুসলমান ধর্মের চৈহ্নিক অসাড়তার কথা বলতে গিয়ে খতনার কথা বলেছেন এবং সেই বলাটাকে তীক্ষ্ণতা দিতে গিয়ে তিনি মুসলমান নারী সমাজের অবতারণা করেছেন। আর সমভাবে হিন্দু সমাজের নারীদের কথাও পেরেছেন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের বাণে। লালনের সময়ে গ্রামীণ সমাজ ছিল অত্যন্ত কুসংস্কারযুক্ত এবং রক্ষণশীল। সেই রক্ষণশীল সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস তার সময়ে কেউ দেখাননি। কিন্তু লালন সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে। কারণ তিনি জানতেন সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে হলে, সমাজের কাঠামো বদল করতে হলে সেই কাঠামোর ওপরই আগে আঘাত করতে হবে। লালন সমাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের সাম্প্রদায়িক পরিচিতিকে পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক পরিচিতি তথা সাম্প্রদায়িক পরিচিতির ব্যাপারে অবলীলায় বলেছেন, ‘সবে বলে লালন ফকির হিন্দু না যবন/লালন বলে আমার আমি না জানি সন্ধান।।’

◤ আখড়ায় গানোন্মত্ত এক বাউল ◢


একবার যদি আমরা গভীরভাবে ভাবি লালনের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা তাহলে আমাদের মনের অজান্তেই শিউরে উঠতে হয়। কারণ এই একবিংশ শতাব্দীর অধিকতর সেক্যুলার সময়ে এসেও ধর্মের উদারনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে কেউ স্থির থাকতে পারছেন না। আর সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে বসে লালন তার সাম্প্রদায়িক পরিচিতি অবলীলায় অস্বীকার করে হিন্দু-মসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মর্মমূলে কুঠারাঘাত করেছেন—এটা কত বড় স্পর্ধার কাজ! এবং সেই আন্দোলনে গতি দেওয়ার জন্য তিনি একের পর এক রচনা করেছেন গণজাগরণী গান সমাজের সব রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে। লালনের এই যে আন্দোলন তার পথ যে খুব মসৃণ ছিল তা কিন্তু নয়। লালনকে তার সমকালে এবং উত্তরকালে তার উত্তরসূরিদের সমাজের চরম প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাইতো তিনি খেদের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন, ‘শোনায়ে লোভের বুলি/নেবে না কাঁধের ঝুলি/ইতর আশরাফ বলি/দূরে ঠেলে নাহি দেবে।।/আমির ফকির হয়ে এক ঠাঁই/সবার পাওনা পাবে সবাই/আশরাফ বলিয়া রেহাই/ভবে কেহ নাহি পাবে।।/ধর্ম-কুল-গোত্র জাতির/তুলবে না গো কেহ জিগির/কেঁদে বলে লালন ফকির কে মোরে দেখায়ে দেবে।।

লালনের গানে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষিতে তার দর্শনের যে প্রতিফলন দেখা যায় তা দেশকালের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বমানবিক মূল্যবোধের পরিচয় তুলে ধরে। লালন তাই কেবল বাঙালি মরমি কবি বা গীতিকবিদের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন, বিশ্ব লোকসংস্কৃতির অঙ্গনেও তার অবস্থান অনেক উঁচুতে। হিন্দু মুসলমানের মধ্যে জাত-ধর্মের বাহ্যিক আচরণ ও ব্যক্তির সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বিরুদ্ধে লালন ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তার গান জাত-পাতের বিরুদ্ধে মৌলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপস্থিত হয়। গানে তিনি বলছেন, ‘একই ঘাটে আসা যাওয়া, একই পাটনি দিচ্ছে খেওয়া/কেউ খায় না কারো ছোঁয়া বিভিন্ন জল কে কোথায় পান।’

বাংলার বাউল ধর্মমতের শুরু মধ্যযুগে। গবেষকদের মতভেদ রয়েছে এ ব্যাপারে যথেষ্ট। উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, বাউলধর্মের সূত্রপাত আনুমানিক ১৬২৫ সালের দিকে। আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, ‘ঊনিশ শতকে লালন ফকিরের সাধনা ও সৃষ্টির মাধ্যমেই এর পরিপূর্ণ বিকাশ।’

লালন সাঁইয়ের বাউলতত্ত্ব পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবধর্ম-নির্ভর। যদিও সব বাউলদেরই একই পথ তবুও বাংলার ঐতিহ্য, চিন্তাধারা, সমাজ ব্যবস্থার সুর পুরোপুরিই পাওয়া যায় লালনের গানে। আধ্যাত্ম চেতনা আর ঐশ্বর্যের মাধুর্যে লালন সাঁই যে মরমি জগত সৃষ্টি করেছিলেন আজ তার মানবলীলা সম্বরণের ১২৬ বছর পরও তার গানের চেতনায় ভাটা পড়েনি বরং চর্যাপদের মতো তার গানের অন্তর্নিহিত বিষয়াদি দিনের পর দিন মানুষের বোধকে ত্বরান্বিত করেছে চিরভাস্কর সাম্যবাদিতা আর অসাম্প্রদায়িকতার দিকে। জাতভেদ আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লালন সাঁইর গান এক নীরব মূলমন্ত্র, চেতনার শানিত মারণাস্ত্র।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;