শামসুর রাহমান যেভাবে আমাদের হলেন



ফরিদ কবির
শুভ জন্মদিন শামসুর রাহমান

শুভ জন্মদিন শামসুর রাহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

কবি শামসুর রাহমানকে আমার প্রায়ই মনে পড়ে। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, কেন? অনেকে এও বলতে পারেন তাঁর কবিতা তো আমরা পড়ি না। তারা কী পড়েন, কার লেখা পড়েন, কেন পড়েন—এমন প্রশ্ন করার আগ্রহ আমার নাই। আমি যদি ধরেও নিই, তাঁর কবিতা পড়ার প্রয়োজনীয়তা আমাদের ফুরিয়ে গেছে, তাহলেও শামসুর রাহমান আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। একই সঙ্গে একথাও বলতে হবে, শামসুর রাহমানের কবিতা এতটাই প্রভাবসঞ্চারী যে বাংলাদেশের কবিতায় তিনিই একমাত্র কবি যার প্রভাব আমার ধারণা, এখনো একেবারে অপসৃত হয়নি। এখনো অনেক কবিই অজান্তে তাঁর ভাষা ও প্রকরণ অনুসরণ করে চলেছেন। যেমনটা হয়তো শামসুর রাহমানও এক অর্থে ছিলেন জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাষারই উত্তরসূরী।

আবদুল মান্নান সৈয়দ, সিকদার আমিনুল হকসহ দু-একজন ব্যতিক্রম বাদে রফিক আজাদ, হুমায়ুন আজাদ থেকে শুরু করে খোন্দকার আশরাফ হোসেনসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল কবির কাব্যভাষায় শামসুর রাহমানের প্রবল উপস্থিতির কথা অস্বীকার করা মুশকিলই। এমনকি এখনো আমাদের অনেক কবি আসলে তাঁর ভাষা ও প্রকরণ সামান্য অদলবদল করে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে বহন করে চলেছেন তাঁরই উত্তরাধিকার। এমন উদাহরণ আমি অনেক দিতে পারব।

এই যে একজন কবি তাঁর পরবর্তী কবিদের ওপর প্রভাব জারি রাখতে পারলেন দীর্ঘদিন ধরে এটিই তাঁর সাফল্য, এরই মাধ্যমে তিনি আসলে জায়গা করে নিয়েছেন এদেশের কবিতার ইতিহাসে। এখন তাঁকে কে পাঠ করল বা না করল তাতে কিছুই তাঁর যায় আসে না। এবং এটাও সত্যি, তাঁর কবিতা যে এখনকার নবীন কবিরা তেমন পড়েন না তার কারণ তৈরি হয়েছে আশির দশকেই। সে সময়ে একঝাঁক তরুণ কবি বাংলা কবিতার শামসুরীয় ধারাকে উপেক্ষা বা অস্বীকার করে নতুন এক কাব্যধারার উন্মেষ ঘটান। তাঁর কবিতা না পড়ার পেছনে একদিকে যেমন তাঁকে অস্বীকার করার মানসিকতা কাজ করেছে, তেমনি আছে তাঁর কবিতার প্রভাববলয়ে ঢুকে পড়ার ভয়ও। আমার তো মনে হয়, শামসুর রাহমানের কবিতার এমন এক আগ্রাসী শক্তি আছে যা অপেক্ষাকৃত তরুণ কবিদের আকৃষ্ট করতই।

যদি এমনও হয়, শামসুর রাহমান আর কেউ পড়ছে না, তাতেই কি তিনি বিস্মৃত হয়ে যাবেন? আমার তাও মনে হয় না। একটা-দুটো পঙক্তি, বা কোনো বিশেষ উপলক্ষে লেখা তাঁর কোনো কোনো কবিতা এখন জড়িয়ে আছে আমাদের এই দেশের এমন কিছু ঘটনা ও ইতিহাসের সঙ্গে যে তাঁকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করা কঠিনই। হোক তা তাঁর একটি অত্যন্ত দুর্বল কবিতা। এদেশ যতদিন থাকবে তাঁর ‘স্বাধীনতা তুমি’ বা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম উচ্চারিত হবেই। যতক্ষণ না আর কোনো কবিতা নতুন এবং আরো সর্বগ্রাসীরূপে তাকে ছাপিয়ে না যাচ্ছে।

না। শামসুর রাহমানের কবিতা নিয়ে আসলে এই লেখা লিখতে বসিনি। শামসুর রাহমানকে আমার মনে পড়ে অন্য নানাবিধ কারণে। একজন মানুষকে যেমন মানুষ হয়ে উঠতে হয়, একজন কবিকেও তেমনি কবিও হয়ে উঠতে হয়। তার ছাপ তাঁর জীবনাচরণেও পড়তে বাধ্য। তাঁর মধ্যে এমন কিছু আছে যে এখনো ‘কবি’ এই শব্দটি উচ্চারণমাত্র আমার তাঁর মুখটাই মনে পড়ে। চোখের সামনে তাঁর মুখটাই ভেসে উঠতে দেখি।

আমার এক কবিবন্ধু সাখাওয়াৎ টিপু একদিন বলছিলেন, শামসুর রাহমান তাঁকে খুব স্নেহ করতেন। এমন কথা আমি বহুজনের মুখে শুনেছি। তাঁর কালের কবি-শিল্পীরা যেমন তাঁর কথা বলতেন, তেমনি অনেক সাধারণ মানুষও যারা এক-দুবার তাঁর সান্নিধ্যে গেছেন, তারা তাঁকে ভুলতে পারতেন না। এর অর্থ, কবি হোক বা না হোক, শামসুর রাহমান সবাইকেই একই রকমভাবে কাছে টেনে নিতে পারতেন। মিশতে পারতেন যে কারোর সঙ্গেই। এমনকি, তিনি ছোট-বড় সকলকেই সম্বোধন করতেন ‘আপনি’ বলে। এর জন্য অনেক বড় একটা কলিজার দরকার হয়। কাউকেই আমি অসম্মান করতে দেখিনি তাঁকে।

আমি তো আমার অনেক কবিবন্ধুকে দেখি, লোকজনের সঙ্গে মেশার ব্যাপারে তারা খুবই শুচিবায়গ্রস্ত। সকলের সঙ্গে তারা মিশতে পারেন না। শামসুর রাহমান মিশতেন সকলের সঙ্গেই। কেউ তাঁর দপ্তরে বা বাড়িতে গেলে তাকে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানাতেন।

অনেক তরুণ কবিকেই তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটা ঘটনার উল্লেখ এখানে না করলেই নয়। ১৯৮৭ কি ৮৮ সাল। আমার ছোট ভাই তখন পড়াশোনা শেষ করে একেবারেই বেকার। আমি একদিন দৈনিক বাংলায় তাঁর সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি তখন দৈনিক বাংলার সম্পাদক। তাঁকে বললাম, রাহমান ভাই, আমার ছোট ভাইকে একটা চাকরি জোগাড় করে দেন। রাহমান ভাই সাজ্জাদকে চিনতেন। ওর কবিতা খুবই পছন্দ করতেন। তিনি বললেন, আচ্ছা, চেষ্টা করব।

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে সাজ্জাদের চাকরি হয়ে গেল। পরে জেনেছি, সেখানে তিনি কবি ত্রিদিব দস্তিদারেরও চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সম্প্রতি আমাকে ‘আওয়ার টাইম’ পত্রিকার সাংবাদিক ফাকরুল চৌধুরী জানালেন, আমি বলে দেবার পরই নাকি ওরও চাকরির ব্যবস্থা হয়েছিল ‘মূলধারা’ নামের একটি সাহিত্য পত্রিকায়। রাহমান ভাই তখন সে কাগজের সম্পাদক।

রাহমান ভাই শুধু কবি ছিলেন না। তিনি ছিলেন আমাদের কাছে অভিভাবকের মতো। যে কোনো বিপদে, সমস্যায় আমরা অনেকেই তাঁর কাছে ছুটে যেতাম, তাঁর পরামর্শ নিতাম। যে কোনো তরুণকে তিনি কিভাবে এতটা প্রশ্রয় দিতে পারতেন, তা ভাবলে এখনো আমার বিস্ময়ই জাগে।

রাহমান ভাই ছিলেন তরুণদের চাইতেও তরুণ। কেমন সেটা?
১৯৮৫ সাল। কলকাতায় আবৃত্তিলোক আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী একটা কবিতা উৎসবের দাওয়াত পেয়েছি আমরা বেশ কয়েকজন। উৎসব কর্তৃপক্ষ কলকাতায় আমাদের থাকা-খাওয়া ছাড়াও বিমানে আমাদের যাতায়াতেরও ব্যবস্থা করবে। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার, আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুনসহ আমরা সড়কপথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যাতে টাকা বাঁচিয়ে সেটা দিয়ে বইপত্র কিনতে পারি। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ ও রুবী রহমানসহ অন্য কবিরা বিমানে যাবেন, তেমনই ঠিক হলো। এরই মধ্যে শামসুর রাহমান একদিন জানতে চাইলেন, আমরা কিভাবে যাচ্ছি?
আমি বললাম, রাহমান ভাই, আমরা তো বাই রোড যাচ্ছি। বেনাপোল হয়ে।
শুনে তিনি বললেন, কেন, বিমানে যাচ্ছেন না কেন?
আমি মজা করতে বললাম, বিমানে গেলে তো কিছুই দেখা হবে না। হাওয়ায় ভেসে চা খেতে খেতেই দেখব কলকাতা পৌঁছে গেছি! আমরা আসলে অনেক কিছু দেখতে দেখতে যেতে চাই।
রাহমান ভাই বললেন, বাই রোড কে কে যাচ্ছেন?
আমি নামগুলো বলতেই দেখি তাঁর চোখ চকচক করছে! তিনি প্রায় ছেলেমানুষের মতো বললেন, আমিও তবে আপনাদের সঙ্গেই যাব।
আমি বললাম, রাহমান ভাই, এ বয়সে এত লম্বা জার্নি আপনার পোষাবে না। সারা রাত বাসে বসে যাওয়া আপনার জন্য অনেক কষ্টকর হবে। আপনি প্লেনেই যান।
রাহমান ভাই বললেন, বাস জার্নি যদি আপনাদের জন্য কষ্টকর না হয়, তবে আমার জন্যও হবে না।
আমি তাঁকে অনেক বলেও নিরস্ত করতে পারলাম না। শেষ পর্যন্ত তিনি দলছুট হয়ে আমাদের সঙ্গে বাসেই কলকাতা রওনা হলেন।

তখন এত আরামদায়ক বাস যেমন ছিল না, তেমনি ভ্রমণও এত মসৃণ ছিল না। আরিচা গিয়ে আমাদেরকে লঞ্চে উঠতে হতো। তারপর ওপার গিয়ে নতুন একটা বাসে উঠতে হতো।

শামসুর রাহমান সাধারণ মানুষের কাছে কতটা প্রিয় ছিলেন তা আমাদের জানা ছিল না। বাসে-লঞ্চে সর্বত্রই আমাদের আড্ডা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। নানান শ্রেণির মানুষ এসে তাঁর সঙ্গে আলাপ জমাতে আসছিলেন। অনেকে তাঁর অটোগ্রাফ নিচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন সেলিব্রেটিও।

আরেকটা ঘটনা বলেই, এ লেখা শেষ করব।
শামসুর রাহমানকে কখনোই আমার দরিদ্র মনে হতো না। কিন্তু তিনি আদতে তেমন ধনী ছিলেন না। কিন্তু বিপদে পড়ে কেউ তাঁর কাছে একবার পৌঁছুতে পারলে তাকে ফেরাতেনও না।

১৯৮৬ সাল। আমার তখন প্রচণ্ড আর্থিক অনটন চলছে। আমার বন্ধুদের বেশিরভাগই তখন বেকার। যে দু-চারজন চাকরি করেন, তাদেরও ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা। আমার মনে পড়ল, একবার বিপদে পড়ে আমারই কবিবন্ধু তাঁর কাছ থেকে একবার ধার করেছিলেন। আমার কেন জানি মনে হলো, রাহমান ভাই আমাকে ফেরাবেন না। আমি দৈনিক বাংলা অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি তখন সম্পাদক হলেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আমাদের এপয়েন্টমেন্ট-টেপয়েন্টমেন্ট করতে হতো না। আমরা তাঁর রুম কিছুটা খালি দেখলেই দরোজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়তাম। সেদিনও তেমনভাবেই ঢুকলাম। ভেতরে বেশ কয়েকজন কবি ও সাংবাদিক বসে ছিলেন। আমি চুপ করে একপাশে বসে রইলাম। তারা চলে গেলে রাহমান ভাই আমার দিকে ফিরলেন। স্বভাবসুলভভাবেই হেসে কেমন আছি জানতে চাইলেন।
আমি বললাম, রাহমান ভাই আমি খুব বিপদে পড়েছি। আমাকে কি একটু হেল্প করা যায়?
শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন।
কী বিপদ বলেন তো? জানতে চাইলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠ বরাবর আন্তরিক।
বললাম, রাহমান ভাই, আমার কিছু টাকার দরকার।
আমি তাঁর কাছে টাকা চাইতে পারি এটা সম্ভবত তিনি আঁচ করতে পারেননি। তিনি কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়লেন। তবে মুহূর্তেই সেটা সামলে নিয়ে বললেন, কতো?
আমি বললাম, হাজার দুয়েক।
রাহমান ভাই চুপ করে থাকলেন। আমি তখন তাঁর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরেও ঘামতে শুরু করলাম টেনশনে।
রাহমান ভাই কিছুক্ষণ পর মুখ খুললেন—এখনই লাগবে?
আমি মাথা নাড়লাম। মানে, এখনই লাগবে।
তাঁর পকেটে সম্ভবত অতো টাকা ছিল না। তিনি আমাকে বললেন, এত টাকা তো আমার কাছে নেই। ঘণ্টাখানেক কোথাও থেকে ঘুরে আসেন। দেখি কী করা যায়।
আমি উঠে এলাম।
ঘণ্টাখানেক পর তাঁর রুমে আবার গেলাম। তাঁর রুমে অনেক লোকজন। রাহমান ভাই আমার দিকে একটা খাম এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, এটা রাখেন।
রাহমান ভাই সেই টাকা আমার কাছে কখনো ফেরত চাননি। কখনোই না। আর, আমারও সেই টাকা তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি।

অল্প বয়সে আমরা ভাবতাম, তিনি হয়তো বেশ পয়সাঅলা! কিন্তু পরে, ধীরে ধীরে জেনেছি, তিনি খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। পরে এও শুনেছি, তাঁর তেমন কোনো সঞ্চয়ও ছিল না! দৈনিক বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাঁর আয়ের পথ প্রায় ছিলই না। প্রকাশকরা তাঁকে ঠিকমতো টাকা-পয়সা দিত না। ‘অধুনা’ বা ‘মূলধারা’র মতো কিছু সাহিত্য পত্রিকায় তিনি কিছুদিন কাজ করেছিলেন। বাকি সময়টা তিনি প্রায় লিখেই কাটিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়টা তাঁর কেটেছে বেশ অর্থকষ্টের মধ্যেই। তবে, তাঁর সৌভাগ্য, অনেক তরুণের হৃদয়ে তিনি নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন। অনেকেই তাঁর কাছে যেতেন।

শামসুর রাহমান, সব শ্রেণির, সব বয়সের মানুষকেই গ্রহণ করতেন আন্তরিকভাবে। তাঁর মুখে লেগে থাকত তাঁর চিরপরিচিত মৃদু হাসিটুকুও।
তেমন প্রশ্রয়, তেমন হাসি এ জগতসংসারে আর দেখি না।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;